রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় গণ-আন্দোলন।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ১০৪ নম্বর কক্ষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিবার্ষিকী উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, রাবি শাখা আয়োজিত ‘ফিরে দেখা জুলাই : স্মৃতিচারণা ও আলোচনাসভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক আল মামুন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর একক এজেন্ডা ছিল না, বরং এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের একটি সর্বদলীয় গণ-আন্দোলন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রচারণায় আন্দোলনটিকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের ব্যানারে রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা দেখা গেলেও, মূল নেতৃত্বের ভাষ্য এবং মাঠের চিত্র ভিন্ন কথা বলে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাইকে অনেকেই ষড়যন্ত্র বলে। কিন্তু জুলাই কোনো মেটিকুলাস ডিজাইন কিংবা কোনো ষড়যন্ত্র নয়। এটি ছিল একটি অনিবার্য বাস্তবতা। ২০২৪ সালে না হলে ২০২৫ কিংবা ২০২৬ সালেও এমন অভ্যুত্থান ঘটত।’
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে আল-মামুন বলেন, ‘সরকার যেভাবে রাষ্ট্রকাঠামো ব্যবহার ও রাষ্ট্র পরিচালনা করছিল, তাতে একটা গণ-অভ্যুত্থান কিংবা সামরিক অভ্যুত্থান ছাড়া সরকার পরিবর্তনের আর কোনো পথ ছিল না।’
তিনি দাবি করেন, ‘জুলাই ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গণচেতনার প্রতিফলন, যেখানে দলীয় সংকীর্ণতার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধই ছিল মূল শক্তি।’
সভায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুধু কোটা সংস্কারের আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল দীর্ঘদিনের জমে থাকা অন্যায়, বঞ্চনা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তাই একে ‘কালার রেভোলিউশন’ বা বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। লক্ষ-কোটি মানুষের অংশগ্রহণেই এই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।’
ফুয়াদ রাতুলের সভাপতিত্বে আলোচনাসভা সঞ্চালনা করেন শাখা সেক্রেটারি মো. সজীব। অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ছাত্র-জনতার জবানীতে লড়াইয়ের দিনগুলি’ শীর্ষক স্মৃতিচারণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।






