• ই-পেপার

অনলাইন বাজির প্ল্যাটফর্ম কালশির কার্যক্রমে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

স্ন্যাপচ্যাট হ্যাক করে নারীদের ব্যক্তিগত ছবি চুরি, ৬ বছরের বেশি জেল

অনলাইন ডেস্ক
স্ন্যাপচ্যাট হ্যাক করে নারীদের ব্যক্তিগত ছবি চুরি, ৬ বছরের বেশি জেল
ছবি : রয়টার্স

স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে শত শত নারীর ব্যক্তিগত ছবি চুরির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ২৭ বছর বয়সী কাইল স্বারাকে ৭৬ মাস (৬ বছরের বেশি) কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

তদন্তে জানা যায়, ২০২০ সালের মে থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি স্ন্যাপচ্যাটের সাপোর্ট টিম পরিচয়ে ১ হাজার ৫০০-এর বেশি নারীকে ভুয়া বার্তা পাঠান। বার্তায় অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের কথা বলে নিরাপত্তা কোড (সিকিউরিটি কোড) চাওয়া হতো।

অনেকেই বার্তাটি সত্যি মনে করে কোড পাঠিয়ে দেন। সেই কোড ব্যবহার করে কাইল অন্তত ৫১৭ জন নারীর স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি অন্তত ৫৯ জন নারীর ব্যক্তিগত ও অর্ধনগ্ন ছবি ডাউনলোড করেন।

তদন্তে আরো জানা যায়, তিনি শুধু এসব ছবি নিজের কাছে রাখেননি। কিছু ছবি অনলাইনে বিক্রি করেছেন। আবার কিছু ছবি অন্যদের সঙ্গে আদান-প্রদানও করেছেন। এমনকি অর্থের বিনিময়ে অন্যদের জন্যও স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার কাজ করতেন।

মামলার তদন্তে আরো উঠে আসে, এক সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় কোচের অনুরোধে তিনি কয়েকজন নারীর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় সেই কোচও আগেই কারাদণ্ড পেয়েছেন।

কাইল স্বারা কম্পিউটার জালিয়াতি, পরিচয় চুরি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন। পরে আদালত তাকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। এই রায়ের মাধ্যমে অনলাইনে অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি চুরির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ব্যবহারকারীদের তথ্য কতটা নিরাপদ? কংগ্রেসে জবাব দেবে টিকটক

অনলাইন ডেস্ক
ব্যবহারকারীদের তথ্য কতটা নিরাপদ? কংগ্রেসে জবাব দেবে টিকটক
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন কংগ্রেসে জবাব দেবেন টিকটক ইউএসের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা উইল ফ্যারেল।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

উইল ফ্যারেলের কাজ হলো টিকটকের ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শুনানিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা জানতে চাইবেন, টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমে এখনো চীনের কোনো প্রভাব আছে কি না এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য কতটা নিরাপদ।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে টিকটকের চীনা মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা আলাদা করে দেয়। এরপর এই প্রথম টিকটক ইউএসের কোনো কর্মকর্তা প্রকাশ্যে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেবেন।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি আইন করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, বাইটড্যান্স টিকটকের মার্কিন ব্যবসা বিক্রি না করলে দেশটিতে অ্যাপটি নিষিদ্ধ হতে পারে। কারণ, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আশঙ্কা ছিল, চীনা সরকার টিকটকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের তথ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এরপর টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক যৌথ প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ওরাকল, সিলভার লেক ও এমজিএক্স এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিনিয়োগকারী। তবে বাইটড্যান্স এখনো প্রতিষ্ঠানটির ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ মালিকানা ধরে রেখেছে।

কংগ্রেসের শুনানিতে এই মালিকানা কাঠামো এবং টিকটকের সঙ্গে চীনের বর্তমান সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন করা হতে পারে। তবে টিকটক ইউএসের প্রধান নির্বাহী (সিইও) অ্যাডাম প্রেসার এই শুনানিতে অংশ নেবেন না।

এদিকে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে টিকটকের বৈশ্বিক প্রধান নির্বাহী শউ জি চিউকেও মার্কিন সিনেটে সাক্ষ্য দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে সেই শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

এয়ার ট্যাক্সি ও সুপারসনিক বিমান চালুতে নিয়ম বদলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
এয়ার ট্যাক্সি ও সুপারসনিক বিমান চালুতে নিয়ম বদলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : রয়টার্স

এয়ার ট্যাক্সি ও সুপারসনিক বিমান দ্রুত মানুষের ব্যবহারে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব নতুন ধরনের উড়োজাহাজের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে প্রয়োজনীয় নিয়মে পরিবর্তন আনছে দেশটির ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)।

মঙ্গলবার (২১জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফএএ এমন নিয়ম তৈরি করছে, যাতে নতুন প্রযুক্তির উড়োজাহাজ নিরাপদভাবে আকাশে চলাচল করতে পারে এবং কম্পানিগুলোও দ্রুত সেবা চালু করতে পারে।

এফএএ বর্তমানে ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং প্রযুক্তির উড়োজাহাজ নিয়ে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এই উড়োজাহাজগুলো হেলিকপ্টারের মতো সোজা ওপরে উঠতে ও নিচে নামতে পারে। এগুলোকে সাধারণভাবে এয়ার ট্যাক্সি বলা হয়। শহরের যানজট এড়িয়ে দ্রুত যাত্রী পরিবহনে এসব উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে।

এই কর্মসূচিতে আটটি কম্পানি যুক্ত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার ফলাফল ভবিষ্যতে এয়ার ট্যাক্সির অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হবে।

এদিকে শব্দের গতির চেয়েও দ্রুতগতির সুপারসনিক বিমান আবার বাণিজ্যিকভাবে চালু করার পরিকল্পনাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য ১৯৭৩ সাল থেকে স্থলভাগের ওপর সুপারসনিক বিমান চলাচলের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা তুলে নিতে দুটি নতুন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এসব নীতিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এফএএর উপপ্রশাসক ক্রিস রোশেলো বলেন, বর্তমান অনেক নিয়মই পুরোনো হয়ে গেছে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত রেখে নতুন প্রযুক্তিকে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নিয়মগুলো হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে কনকর্ড বিমান অবসরে যাওয়ার পর থেকে নিয়মিত বাণিজ্যিক সুপারসনিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে আবারও এ ধরনের বিমান আকাশে দেখা যেতে পারে।

যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি আনতে ‘থান্ডার’ উন্মোচন করল আর্চার

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি আনতে ‘থান্ডার’ উন্মোচন করল আর্চার
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ নির্মাতা আর্চার এভিয়েশন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের সঙ্গে যৌথভাবে ‘থান্ডার’ নামে নতুন একটি স্বয়ংক্রিয় সামরিক উড়োজাহাজ উন্মোচন করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উড়োজাহাজ তৈরি করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই ) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, থান্ডার একটি স্বয়ংক্রিয় উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ সক্ষম উড়োজাহাজ। এটি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পারবে। নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অন্যান্য সহায়ক মিশনে এটি ব্যবহার করা যাবে।

আর্চার ও অ্যান্ডুরিল ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতে অংশীদারি শুরু করে। নতুন এই উড়োজাহাজ সেই সহযোগিতার সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আর্চারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যাডাম গোল্ডস্টেইন বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাই সামরিক খাতকে কোম্পানির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সামরিক উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক এয়ার ট্যাক্সির মতো দীর্ঘ অনুমোদন (সার্টিফিকেশন) প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে এই প্রযুক্তি দ্রুত বাস্তব ব্যবহারে আনা সম্ভব।

উল্লেখ্য, নতুন সামরিক উড়োজাহাজ উন্মোচনের ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক সাড়ায় সোমবার আর্চার এভিয়েশনের শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়।