• ই-পেপার

সপ্তাহের ব্যবধানে ১৩০ টাকা বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম

নড়াইলে বিদ্যুৎস্পর্শে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু

নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে বিদ্যুৎস্পর্শে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু
মৃত রজিবুলের স্বজনদের আহাজারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

নড়াইলে বিদ্যুৎস্পর্শে রজিবুল ইসলাম (৩০) নামের এক ইলেকট্রনিক মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  

মৃত রজিবুল ইসলাম নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের হৈধরখোলা গ্রামের নান্নু মোল্যার ছেলে। 

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই নড়াইল পৌর এলাকার ভওয়াখালী গ্রামের কুয়েদ প্রবাসী খোকন শেখের বাড়িতে কাজ করতে যান রজিবুল। কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত রজিবুল এবং তার সহকর্মী ওমর ফারুক বিদ্যুৎস্পর্শে আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিবুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রজিবুল মারা যান। বুধবার (২২ জুলাই) রজিবুলের লাশ বাড়িতে আনেন তার স্বজনরা।

মৃত রজিবুলের বড় ভাই আশরাফুল বলেন, খোকনের বাড়ির ভেতর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ণ বিদুৎ রয়েছে, সেটি আমার ভাই জানত না। ভাই আমার খোকনের বাড়ি কাজ করতে গিয়ে গত শনিবার বিদ্যুৎস্পর্শে আহত হয়। আজ সে মারা গেল। 

নড়াইল বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু দারদা বলেন, বাড়ির মালিক এবং মিস্ত্রিকে সব ধরনের কাজ করতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তারা নিষেধ অমান্য করে ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে। পরে তারা বিদ্যুৎ তাড়িত হয়। 

নড়াইল পৌরসভা প্রশাসক মো. নাজমুল হুদা বলেন, নিয়মবহিভূতভাবে ভবন নির্মাণ করায় বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

বাউফলে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলায় কারাগারে স্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বাউফলে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলায় কারাগারে স্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর বাউফলে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা করার অভিযোগে মামলার বাদী স্ত্রী আকলিমা বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারি করেন।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে আকলিমাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অভিযুক্ত নারীর স্বামী ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন দুমকি উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, আকলিমা আনুমানিক দুই বছর আগে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা করেন আলমগীরের বিরুদ্ধে। পরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয় এবং তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ওই নারী একমাত্র সন্তানকে নিয়ে পৌর শহরের একটি বাসায় ভাড়ায় বসবাস শুরু করেন।

সম্প্রতি সন্তানের অসুস্থতার খবর জানতে পেরে ভুক্তভোগী আলমগীর বাউফলে আসেন। সন্তানের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় হঠাৎ অভিযুক্ত আকলিমার লোকজন তার ঘরে প্রবেশ করে মব সৃষ্টি করে জোরপূর্বক দ্বিতীয় দফায় আকলিমার সঙ্গে ভুক্তভোগী আলমগীরের বিয়ে সম্পন্ন করান। সেই বিয়ের কাবিননামা ব্যবহার করে আকলিমা ফের পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

আদালত সম্পূর্ণ ঘটনা শুনে আকলিমা বেগমের মামলা খারিজ করে দেন এবং মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানি করার অভিযোগে ভুক্তভোগী আলমগীর আদালতে আকলিমার বিচার দাবি করলে সংশ্লিষ্ট আইনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ওই মামলায় জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কালীগঞ্জ

জমিতে বিলুপ্তপ্রায়, তবু ধুম পাট কাটার

রিপন আনসারী, গাজীপুর
জমিতে বিলুপ্তপ্রায়, তবু ধুম পাট কাটার
পাট কাটার এক পর্যায়ে দুপুরের বিরতিতে গেছেন কৃষিশ্রমিকরা। সোমবার গাজীপুরের কালীগঞ্জের নোয়াপাড়া গ্রামের একটি ক্ষেতে। ছবি : কালের কণ্ঠ

শীতলক্ষ্যা নদীর দুই তীরে দুই জেলা গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ। একসময় জেলা দুটির সীমানা শীতলক্ষ্যা নদী ছিল পাট ব্যবসার প্রধান নৌপথ। এ অঞ্চলে বিশেষ করে গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যাপক চাষ হতো পাট। সেই দিন এখন আর না থাকলেও নতুন করে আবারও পাট চাষ করছেন কেউ কেউ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালীগঞ্জে পাটের সেই সুদিন আর নেই। সময়ের বাস্তবতায় পণ্যটির উৎপাদন আজ বিলুপ্তির পথে। তবু এ উপজেলায় সামান্য হলেও অতীত ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন কয়েকটি কৃষক পরিবার। স্বল্পপরিসরে পাট চাষ করে তারা এখন পাট কাটা শুরু করেছেন। যারা পাট চাষ করেছেন তারা এখন পাট কাটার মৌসুম পালন করছেন। 

গাজীপুর পাট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় চলতি  মৌসুমে ৩২৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাটকাটা শুরু হয়েছে। 

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে কয়েকটি পাটক্ষেত পাওয়া গেছে। এসব ক্ষেতে এখন পাট কাটা হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এটা পাট কাটার মৌসুম। আগে অনেক চাষ হতো। এখন অনেক কম চাষ হচ্ছে। তবু তারা যেটুকু জমিতে পাট চাষ করছেন- পাটের বীজে বোনা ও পাটের গাছ কাটার সময়  ধুমধাম করেই করেন। পাট কাটা ও  লাগানোর পরিমাণ কমে গেলেও তাদের আনন্দ কমনি বলে জানান তারা। 

কৃষকরা জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর গাজীপুর অংশে কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া, শ্রীপুরসহ জেলার প্রায় সব উপজেলা ও নদীর অপর পাশে নারায়াণগঞ্জের রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁওয়ে ব্যাপক পাট চাষ হতো। এই দুই জেলা পাটচাষে বিখ্যাত ছিল বলেই বড় বড় জুটমিলগুলো গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে গড়ে উঠেছিল। সময়ের পরিক্রমায় পাট চাষ কমে গেলেও পৈত্রিক পেশা হিসেবে অনেকে পাট চাষ করছেন।

কালীগঞ্জের জামালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল বাসার বলেন, পাট চাষ হারিয়ে যাচ্ছে। কালীগঞ্জ তথা গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে পাট চাষ ও ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল। কালীগঞ্জে দুটি জুট মিল রয়েছে। এর মধ্যে একটি বন্ধ ও আরেকটি আংশিক চলে। আমরা চাই, সরকার পাট চাষের দিকে নজর দিক যেন হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসে।  

কালীগঞ্জের পাটচাষী আব্দুল হাকিম (৯০) বলেন, পাট চাষ ও পাটের ব্যবসা আমার বাপ-চাচারা করতেন। তারা পাট চাষ করে পাট নিয়ে কালীগঞ্জ সদর ও নারায়াণগঞ্জে বিক্রি করতেন। ডিঙ্গি নৌকা করে বাবা-চাচাদের সঙ্গে আমিও যেতাম। এখন পাটের সেই সুদিন না থাকলেও আমি ছোট পরিসরে চাষ করে পৈত্রিক ঐতিহ্য রক্ষার চেষ্টা করছি।

পাট কাটতে কাটতে দুপুর হয়ে যাওয়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন কালীগঞ্জের নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষিশ্রমিক রিয়াদ হাসান। এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা পাট কাটার কাজ করছি। এখন দুপুরের খাবারের সময়। তাই বিশ্রাম নিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আগে অনেক পাট কাটার কাজ পেতাম। এখন পাট কম। তবু যা পাই তাই করি।’

গাজীপুর পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহবুব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার কালীগঞ্জে ৩২৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। ৩৮ হেক্টর জমিতে সাদা পাট, ১৫৫ হেক্টর জমিতে তোষা পাট ও ১৩২ হেক্টর জমিতে কেনাফ জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। আমরা চাই পাটের  ব্যাপক চাষ হোক, যেন হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারি।’

বগুড়ায় ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
বগুড়ায় ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ায় সদর উপজেলার ফাপোড় পূর্বপাড়া এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নির্যাতনের শিকার নারী প্রায় ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আটকরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোড় ইউনিয়নের ফাপোড় পূর্বপাড়া গ্রামের আজিজুল সোনারের ছেলে আলমগীর হোসেন ও মৃত আকবর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পিয়ন ও একই এলাকার মৃত লাল চান ফকিরের ছেলে মাহবুবুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী একটি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে ছিলেন। এই সুযোগে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে এই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। সম্প্রতি ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরেন। স্ত্রীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে বিষয়টি জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নারী নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে আটক করে থানা পুলিশে সংবাদ দেয়।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাৎক্ষণিকভাবে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পলাতক অপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। তবে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় কোনো দালালচক্রের খপ্পরে না পরে থানায় অভিযোগ করা মাত্রই দ্রুত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।