• ই-পেপার

মালয়েশিয়ায় ভবন থেকে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

আজ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন ‘কিং অব দ্য নর্থ’

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য
আজ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন ‘কিং অব দ্য নর্থ’
অ্যান্ডি বার্নহাম

ব্রিটেনের রাজনীতিতে শুরু হচ্ছে নতুন নেতৃত্বের অধ্যায়। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বিদায়ি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন তিনি। ব্রিটেনের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, রাজা তৃতীয় চার্লস তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন এবং সেই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়েই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন হবে।

এ জন্য কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা পরিবর্তিত হলে নতুন নেতাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে বার্নহাম আজ ব্রিটেনের নেতৃত্ব গ্রহণ করছেন।

অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রিটিশ রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত ও অভিজ্ঞ মুখ। সংসদ সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং অর্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় আসেন।

বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা ও আঞ্চলিক স্বার্থের প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যতিক্রমী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। সেই সময় থেকেই ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।

দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণের পর বার্নহাম বলেছেন, দেশের মানুষের মধ্যে আবারও আশা ফিরিয়ে আনা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই হবে তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরো বেশি ক্ষমতা ও উন্নয়নের সুযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তার সামনে অপেক্ষা করছে বেশ কয়েকটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ, অভিবাসন, আবাসন সংকট এবং জনসেবার মানোন্নয়ন—এসব ইস্যুতেই তাকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং ব্রিটেনের বিদ্যমান পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের নেতৃত্বে ব্রিটিশ রাজনীতিতে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি আরো গুরুত্ব পাবে। লন্ডনকেন্দ্রিক নীতির পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণপরিবহন, সামাজিক সেবা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকতে পারে।

আজকের দায়িত্ব গ্রহণ কেবল একজন প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন নয়, এটি ব্রিটেনের রাজনৈতিক নেতৃত্বে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন পুরো নজর থাকবে, উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই নেতা জাতীয় পর্যায়েও সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন এবং পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে কতটা সফল হন।
 

কুয়েতপ্রবাসীদের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
কুয়েতপ্রবাসীদের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি বার্তা

সম্প্রতি কুয়েতের হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের কুয়েত সরকার নিরাপত্তাজনিত কারণে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। 

আজ রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছে যে, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে কুয়েত সরকার সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে হাসাবিয়া এলাকায় অবস্থিত খাদিজা বিনতে জাবের স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে একাধিকবার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করেছেন।

কুয়েত প্রবাসীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের

অনলাইন ডেস্ক
কুয়েত প্রবাসীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের
সংগৃহীত ছবি

কুয়েতে হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহ থেকে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সরকারি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তাদের উচ্ছেদ করা হয়।

পরে তাদের জন্য হাসাবিয়া এলাকার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করে কুয়েত সরকার। সেখানে পর্যাপ্ত খাদ্য, পানীয় রাখা হয়েছে। এছাড়া সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (এয়ারকন্ডিশন) সুবিধা রাখা হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে সাময়িকভাবে স্থান পাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তারা ওইসব এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কুয়েতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে দূতাবাসের কাউন্সিলর ও মিশন প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং শ্রম কল্যাণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি আশ্রয়কেন্দ্রে যায় এবং প্রবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন।

কুয়েতি কর্মকর্তাদের মতে, অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠাতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করে অপসারণের লক্ষ্যে এই অভিযান চলছে। আগামীতে দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।

কুয়েত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ কাগজপত্রধারী প্রবাসীদের আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে অবৈধ প্রবাসীদের নির্বাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। উচ্ছেদে গৃহহীনরা বৈধ কাগজ দেখিয়ে সাময়িকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে পারলেও, সেখানে থাকাকালীন কাজ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বাইরে যেতে পারবেন না।

চলমান অভিযানের কারণে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশিদের আবাসনের বৈধতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে, বাইরে চলাচলের সময় প্রত্যেককে নিজ নিজ কুয়েতি নাগরিক পরিচয়পত্র (সিভিল আইডি) বা অন্য কোনো বৈধ নথিপত্র সবসময় সাথে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভোগান্তি কমাতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্যারিসের নতুন উদ্যোগ

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
ভোগান্তি কমাতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্যারিসের নতুন উদ্যোগ
সংগৃহীত ছবি

ইউনেসকোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ফ্রান্স ও মোনাকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কনস্যুলার সেবাবিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিসে অনুষ্ঠিত এ সভায় কনস্যুলার সেবার মানোন্নয়ন এবং পাসপোর্ট প্রদান প্রক্রিয়া আরো দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসীবান্ধবনীতির অংশ হিসেবে দূতাবাস কনস্যুলার সেবা আরো সহজ ও কার্যকর করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। চলতি বছরের ৩ জুন থেকে চালু হওয়া অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন এ ব্যবস্থা সেবাগ্রহীতাদের জন্য স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে তিনি প্রবাসীদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন থাকার এবং দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া প্রবাসীরা কনস্যুলার সেবার মান আরো উন্নত করতে বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরেন। তাদের পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত কয়েকটি বিশেষ উদ্যোগের কথা জানান।

ঘোষণা অনুযায়ী, ফ্রান্স সরকারের বৈধতাসংক্রান্ত আবেদনের জন্য যেসব বাংলাদেশি অভিবাসী ইতিমধ্যে ফরাসি প্রেফেকচুর থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী ২৫ জুলাই, ৮ এবং ২২ আগস্ট বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এসব দিনে বিনা অ্যাপয়েন্টমেন্টে সারা দিন পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হবে।

এ ছাড়া ১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের জন্য অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের নতুন স্লট প্রকাশ করা হবে। প্রতিদিনের মোট স্লটের অর্ধেক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য বরাদ্দ থাকবে এবং বাকি অর্ধেক ১৫ মের আগে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

রাষ্ট্রদূতের ঘোষিত এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানান সভায় উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন পদক্ষেপের ফলে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা গ্রহণে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমবে এবং দূতাবাসের সেবার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

মতবিনিময় সভায় দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি), মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দূতালয় প্রধান ওয়ালিদ বিন কাশেম, প্রথম সচিব শেখ মারেফাত তারিকুল ইসলাম, দ্বিতীয় সচিব কে এফ এম শারহাদ শাকিলসহ অন্য কর্মকর্তারা।