বলিউডের সুপারস্টার আমির খান। এই মি. পারফেকশনিস্টের সম্পদের পরিমাণ ১৮০০ কোটি রুপিরও বেশি। কিন্তু তার সৎভাই হায়দার আলী খানের থাকার জন্য কোনো ঘর নেই। হায়দার আলী খানের সাবেক স্ত্রী অভিনেত্রী ইভা গ্রোভার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার সাবেক স্বামীর দুঃসহ জীবনের কথা তুলে ধরেছেন।
কাতার এয়ারওয়েজের সাবেক কেবিন ক্রু হায়দারেরও একসময় সচ্ছল, আলো ঝলমলে জীবন ছিল। কিন্তু বন্ধু-বান্ধব নিয়ে উশৃঙ্খল জীবনযাপন, তীব্র অ্যালকোহল আসক্তি আর জটিল মানসিক ব্যাধি সিজোফ্রেনিয়ায় সব হারিয়েছেন হায়দার।
ইভা জানিয়েছেন, হায়দারের কোনো স্থায়ী ঘর নেই, খাবারের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। বর্তমানে তিনি একটি চালে (মুম্বাইয়ে থাকার ঘিঞ্জি ছোট ঘর) বাস করছেন। এমনও সময় গেছে যখন হায়দার না খেয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন, যা তার আর্থিক এবং ব্যক্তিগত সংকটের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে।
তাদের অশান্ত বিবাহিত জীবন সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ইভা স্মরণ করেন, মাত্র ১৮ দিনের পরিচয়ে পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ২০০০ সালে তিনি হায়দারকে বিয়ে করেছিলেন। পরিচয়ের সময় হায়দারকে অত্যন্ত ভদ্র, শান্ত এবং যত্নশীল মনে হয়েছিল ইভার। বিয়ের পরই সবকিছু বদলে যায়, যা তাকে স্তব্ধ ও বিভ্রান্ত করে দিয়েছিল। বিয়ের তৃতীয় দিনেই ইভা হায়দারের চরিত্রের অন্য একটি রূপ দেখতে পান। ইভা ভাবতেই পারেননি তাদের সম্পর্ক এতটা কঠিন মোড় নেবে। ৫ বছর পর তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বিয়ের সময় সিজোফ্রেনিয়া সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না ইভার।
হায়দারের সাথে সম্পর্কের কথা বলতে হিয়ে ইভা জানান, ‘তার সিজোফ্রেনিয়া ছিল। ওই সময়ে আমি আসলে বুঝতাম না সিজোফ্রেনিয়া মানে কী। সে কেবিন ক্রু ছিল এবং এই পেশার মানুষ সাধারণত অত্যন্ত মার্জিত আচরণের হয়। পরবর্তীতে এই রোগটি সম্পর্কে অনেক পড়ার পর আমি জানতে পারি যে, একজন ব্যক্তি বাইরে থেকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক দেখাতে পারেন, অথচ ভেতরে ভেতরে মারাত্মক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে পারেন। এটি এমন মনে হতে পারে যেন তারা নিজেদের দুটি ভিন্ন রূপ সামলাচ্ছেন। একটি যা তারা দুনিয়াকে দেখায় এবং অন্যটি যা লুকিয়ে থাকে। তার সঙ্গে কাটানো ১৮ দিনে আমি কেবল তার ভদ্র এবং ভালো আচরণটুকুই দেখেছিলাম।’
ইভা বলেন, ‘অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি আমার প্রতি তার অনুভূতি ছিল। আমি বলছি না যে ছিল না। সে হাঁটু গেঁড়ে বসে আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিল এবং বলেছিল সে আমাকে বিয়ে করতে চায়। তাই আমি মেনে নিচ্ছি, সেখানে ভালোবাসা বা অন্তত সত্যিকারের অনুভূতি ছিল। কিন্তু আমি যা কখনোই বুঝতে পারিনি তা হলো, আমাদের বিয়ের তৃতীয় দিনেই কী এমন বদলে গেল। সে হঠাৎ আমাকে মারধর এবং শারীরিক নির্যাতন করা শুরু করে। সেই সময়ে আমি বুঝতে পারছিলাম না কেন এমনটা হচ্ছিল।’
ইভা জানান, যখন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হচ্ছিল, তখনই হায়দার হিংস্র হয়ে উঠেছিল।
হায়দার আলী খান আমির খানের বাবা তাহির হুসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহনাজ খানের প্রথম পক্ষের সন্তান। শাহনাজ খান তাহির হুসেনকে বিয়ের পর হায়দার খান পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হন। তবে আমির খান তার বাবার দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। তাই সৎ ভাই হায়দার আলী খানের সঙ্গে শুরু থেকেই আমির খানের কোনো পারিবারিক যোগাযোগ নেই। বিয়ের আগে আমির খানও ইভাকে বার্তা পাঠিয়ে হায়দারকে বিয়ে করতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু প্রেমে অন্ধ ইভা কারো কথাই কানে তোলেননি।