‘এত ঘুমাও কেন?’, ‘সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে পারো না?’—এ ধরনের কথা অনেকের কাছেই পরিচিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম নিয়ে এমন মন্তব্য বা কাউকে লজ্জা দেওয়া, যাকে বলা হয় 'স্লিপ শেমিং', স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সম্প্রতি দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ভারতের অর্থোপেডিক সার্জন ডা. মানান ভোহরা বলেন, অনেক পরিবারেই পর্যাপ্ত ঘুমকে অলসতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। কেউ দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে তাকে নানা কথা শুনতে হয়। অথচ শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুম পূর্ণ না হলে কাউকে জোর করে জাগিয়ে তোলা মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, ঘুম সময় নষ্ট করার বিষয় নয়। ভালো ঘুম মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়, মন ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
পিএসআরআই হাসপাতালের ঘুম বিশেষজ্ঞ ডা. নীতু জৈন বলেন, কম ঘুমকে অনেকেই পরিশ্রম বা কর্মদক্ষতার প্রতীক মনে করেন। আবার পর্যাপ্ত ঘুমকে অলসতা বলে ভাবেন। কিন্তু বিজ্ঞান এ ধারণাকে সমর্থন করে না।
তার মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ভালো ঘুম প্রয়োজন। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং মানসিক ভারসাম্যেও প্রভাব পড়ে।
এ ছাড়া নিয়মিত কম ঘুম হলে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এমনকি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সবাই একই সময়ে ঘুমান না। কারও শরীর সকালে বেশি সক্রিয় থাকে, আবার কেউ রাতে বেশি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন। তাই শুধু ভোরে ওঠাই শৃঙ্খলার পরিচয়—এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
তাদের পরামর্শ, পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়ামের মতোই ভালো ঘুমও সমান গুরুত্বপূর্ণ।









