• ই-পেপার

সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচির অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

কফিন কিনে মৃত্যুর ভান, শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে চীনা ব্যক্তি

অনলাইন ডেস্ক
কফিন কিনে মৃত্যুর ভান, শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে চীনা ব্যক্তি
সংগৃহীত ছবি

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মামলার শাস্তি এড়াতে নিজের মৃত্যুর ভুয়া নাটক সাজিয়েছিলেন মধ্য চীনের এক ব্যক্তি। পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তিনি নিজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে শত শত কিলোমিটার দূরে পালিয়ে যান। তবে কয়েক মাসের তদন্তের পর পুলিশ তাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করেছে।

সম্প্রতি চীনের হেনান প্রদেশের আনইয়াংয়ের প্রসিকিউটররা এই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। এরপর ঘটনাটি দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ‘সি’ পদবিতে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে গত বছরের জানুয়ারিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আটক করা হয়। তদন্তে জানা যায়, এর আগেও তিনি দুবার মদ্যপ অবস্থায় এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। পরে চলমান মামলায় তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। চীনের আইনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ অপরাধে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল, সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।


প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, কারাদণ্ডের আশঙ্কায় সি আত্মগোপনের পরিকল্পনা করেন। তার ধারণা ছিল, নতুন করে দোষী সাব্যস্ত হলে আগের অপরাধের রেকর্ড এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের কারণে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা তার পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। এই কারণে গত বছরের জুনে তিনি নিজের মৃত্যুর ভুয়া নাটক সাজান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আগে থেকেই একটি কফিন কিনে রাখেন। এরপর বাড়ির চারপাশে খালি ওষুধের বোতল ছড়িয়ে দেন, যেন মনে হয় অতিরিক্ত ওষুধ খেয়ে তিনি মারা গেছেন। এরপর তিনি নিঃশ্বাস আটকে সম্পূর্ণ স্থির হয়ে শুয়ে থাকেন। শরীর ঠাণ্ডা দেখানোর জন্য শীতল করার যন্ত্রও ব্যবহার করেন।

পরে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে তিনি মারা গেছেন। তারা আরো বলেন, তার মুখ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় সেটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যা হওয়ার আগেই সির মা ও দাদি দ্রুত কফিনটি দাফন করেন। এদিকে সি গোপনে শত শত কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি নতুন করে কাজ খোঁজার চেষ্টা শুরু করেন। সির মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু ততক্ষণে কফিন দাফন করা হয়ে গিয়েছিল।

 

তবে কয়েকটি বিষয় পুলিশের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তদন্তে দেখা যায়, পরিবারের কেউ জরুরি চিকিৎসা সহায়তা চাননি। কফিন আগে থেকেই কেনা ছিল। এ ছাড়া মৃত্যুর কোনো সরকারি সনদ, দাহ বা দাফনের সরকারি নথি কিংবা পারিবারিক নিবন্ধন থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার কোনো রেকর্ডও পাওয়া যায়নি। পুলিশ আরো জানতে পারে, সির মা ও দাদি ছাড়া অন্য কেউ তার মরদেহ দেখেনি। কারণ পুরো সময় তার মুখ ঢাকা ছিল। পরে পুলিশ নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং মোবাইল ফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়, সি আসলে জীবিত। এরপর তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে ইউনান প্রদেশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরের মাসে আদালত তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ২০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানাও করা হয়। এদিকে, গত ১১ জুন সির মা ও দাদির বিরুদ্ধেও একজন অপরাধীকে লুকিয়ে রাখা এবং তাকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশের পর চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানো কি এতই কঠিন? শাস্তি এড়াতে তিনি এত বড় নাটক করলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধরা পড়তেই হলো।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘পরিবার তাকে বাঁচাতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাও আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছে।’

‘বাড়ি নেই, গাড়ি নেই, ঋণ নেই; দুশ্চিন্তাও নেই’

অনলাইন ডেস্ক
‘বাড়ি নেই, গাড়ি নেই, ঋণ নেই; দুশ্চিন্তাও নেই’
সংগৃহীত ছবি

শহরের এক ব্যবসায়ী সমুদ্র দেখতে গেছেন। গিয়ে দেখেন এক জেলে মাছ ধরা বাদ দিয়ে নৌকায় শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখছে। ব্যবসায়ী জানতে চাইলেন মাছ না ধরে শুয়ে আছো কেন? জবাবে জেলে বলল, তার যতটুকু দরকার, ততটুকু মাছ ধরা হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী বললেন, শুয়ে আরাম না করে আরো মাছ ধরলে তার আরো আয় হবে। জেলে বললেন, তারপর? ব্যবসায়ী এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে বললেন, বেশি পরিশ্রম করলে, বেশি করে মাছ ধরলে তার আয় বাড়বে, উন্নতি হবে। তিনি বড় ব্যবসায়ী হতে পারবেন। জেলে বললেন, তারপর? ব্যবসায়ী বললেন, বড় ব্যবসায়ী হতে পারলে শেষ জীবনটা তিনি কোনো সমুদ্রের পাড়ে আয়েশ করে কাটাতে পারবেন। শুনে সেই জেলে আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বললেন, আমি তো এখনই তাই করছি। তাহলে আর এত কষ্ট করবো কেন?

অনেকেই এই জেলের জীবনদর্শন পছন্দ করেন। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আয় করতে গিয়ে জীবনের আরাম নষ্ট করতে চান না। আবার অনেকের মাথায় সেই ব্যবসায়ীর মতো ব্যবসায়িক বুদ্ধি আছে। সবাই যদি জেলের মতো নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করতে চান; তাহলে অর্থনীতি স্থবির হয়ে যাবে, উদ্যোক্তা তৈরি হবে না, কর্মসংস্থান হবে না। তবে কে কেমন জীবন চান, সেটা তার স্বাধীনতা। কেউ সেই জেলের মতো জীবন চাইবেন, কেউ সেই ব্যবসায়ীর মতো।

সাধারণভাবে মানুষ একটা ভালো একাডেমিক ক্যারিয়ার শেষে একটা ভালো চাকরি চায়। তারপর বিয়ে, সংসার, সন্তান, বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স, পদ-পদবি- সাফল্যের মুকুটে যুক্ত করতে চায় একের পর এক পালক। আর এটা  পেতে তাদেরকে সামিল হতে হয় প্রতিদিনের এক বিরামহীন ইঁদুর দৌড়ে। কিন্তু সবার সাফল্যের মাপকাঠি একইরকম নাও হাতে পারে। যেমন ৩৫ বছর বয়সী আশিষ জৈনের ভাবনাটাই ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা আশিষ জৈনের জীবনদর্শন নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হচ্ছে ভারতে। 

আশীষ জৈন তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি একজন ৩৫ বছর বয়সী মানুষ যার নিজের কোনো বাড়ি নেই, নিজের কোনো গাড়ি নেই, বড় কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স নেই, স্টক বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিশাল কোনো পোর্টফোলিও নেই এবং খুব বড় কোনো চাকরিও নেই। তবে আমি একটি মার্জিত ভাড়া বাড়িতে থাকি, উবারে যাতায়াত করার সামর্থ্য রাখি এবং আমার কোনো ঋণ নেই।’ 

আশিষ লিখেছেন, ‘গত বছরের তুলনায় আমার শরীর এখন অনেক ভালো, মানসিক দিক থেকেও গত বছরের চেয়ে ভালো আছি। এক বছর পর যেগুলোর কোনো গুরুত্ব থাকবে না, এমন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মানসিক চাপ নেওয়া বন্ধ করেছি। বাড়ি বা গাড়ি কেনার জন্য নিজের ওপর জোর খাটানো বা চাপ দেওয়া বন্ধ করেছি। ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা ছেড়ে দিয়েছি। নিজের শরীর ও মনের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করেছি।’ 

ভালো থাকার রহস্যটা জানিয়েছেন, ‘এখন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছি, এবং জাঙ্ক ফুড খাওয়া বন্ধ করেছি বা কমিয়ে দিয়েছি।’ আশিষ লিখেছেন, ‘আপনার জীবনের সবকিছু গুছিয়ে বা হিসেব করে চলতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। এটা ঠিক আছে, শুধু প্রতিটি দিন যেভাবে আসে সেভাবেই যাপন করুন, নিজের দিকে মনোযোগ দিন।

রবিবার এক্স (সাবেক টু্ইটার)এ আশিষ জৈন তার জীবন দর্শন শেয়ার করার পর রীতিমত ভাইরাল সেটি, ৮৬ হাজারেরও বেশি মানুষ দেখেছেন। অধিকাংশ মানুষই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই তার নিজের মতো করে জীবনযাপন করার ইচ্ছাকে সম্মান করেছেন।

একজন মন্তব্য করেছেন, ‘কথাটি বলার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমিও একই নৌকার যাত্রী। মাঝে মাঝে আমার চারপাশের পরিবেশ আমাকে কিছুটা মানসিক চাপে ফেলে দেয়। তারপর আমি নিজেকে মনে করিয়ে দিই যে, আমি কেবল নিজের নিয়মগুলো মেনে চলার মাধ্যমেই আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি।’ 

আরেকজন লিখেছেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আপনি বাইরের অনেক মানুষের চেয়ে ভালো আছেন। ৩৫ বছর বয়সে আপনার দেরি হয়ে যায়নি; আপনি কেবল শুরু করছেন। কোনো এক কারণে আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে ৩০ বছরের আগেই জীবনকে গুছিয়ে ফেলতে হবে, হয়তো এই কারণে যে আমরা যখন বিশের কোঠায় থাকি, তখন ৩০ বছর বয়সকে অনেক বেশি মনে হয়। কিন্তু আসলে তা নয়।’

একজন এটিকে ‘জীবনযাপনের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়’ অভিহিত করে লিখেছেন, ‘জীবন হলো আপনার সঙ্গে আপনার লড়াই, কারো ইনস্টাগ্রাম লাইফস্টাইলের সঙ্গে নিজের তুলনা করা নয়।’

ঋণমুক্ত জীবন, সুস্থ শরীর ও প্রশান্ত মনকেই প্রকৃত সাফল্য হিসেবে বর্ণনা আরেক মন্তব্যকারী এটি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আশিষকে ধন্যবাদ জানান। আরেকজন লিখেছেন, ‘একটি বাঁধাধরা চেকলিস্টের পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে প্রতিদিন আমরা যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তার ওপর ফোকাস করা অনেক বেশি কার্যকরী। এভাবেই এগিয়ে যান।’

আরেকজন সাফল্যকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে, ‘সাফল্য শুধু আপনার কী আছে তা নয়। এটি হলো আপনার ভেতরের শান্তি, স্বাস্থ্য এবং বিকাশ; যা আপনি নিজে গড়ে তুলেছেন।’ আরেকজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘ঋণমুক্ত থাকার গুরুত্ব মানুষ যতটুকু বোঝে, এটি আসলে তার চেয়েও অনেক বেশি প্রশংসার যোগ্য।’

অপর মন্তব্যকারী জীবনের হিসাব মিলিয়ে দিয়েছেন, ‘শূন্য ঋণ, আগামীকালের জন্য শূন্য চাপ, ধূমপান বর্জন, তুলনার খেলা থেকে মুক্তি। আমার চেনা বেশিরভাগ ৩৫ বছর বয়সীদের চেয়ে এটি অনেক শক্তিশালী একটি ব্যালেন্স শিট। সাবাশ, আশীষ!’

সরকার রাজি না হলে আরো লাখ লাখ মানুষ আসবে : সিজেপি মুখপাত্র

অনলাইন ডেস্ক
সরকার রাজি না হলে আরো লাখ লাখ মানুষ আসবে : সিজেপি মুখপাত্র
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

যন্তর মন্তর থেকে দেওয়া এক আপডেটে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) বুধবার (২২ জুন) সকালে দাবি করেছে, বিক্ষোভস্থলে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। দলটির ভাষ্য, সেখানে বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারী অবস্থান করছেন। 

দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার যদি তাদের দাবি, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি না মানে, তাহলে আরো লাখো মানুষ দিল্লিতে আন্দোলনে যোগ দেবেন।

তিনি বলেন, ‘এটি স্বাধীনতার পর ভারতের সবচেয়ে বড় আন্দোলন। ২০ তারিখে যা হয়েছে, তা ছিল শুধু শুরু। সরকার দাবি না মানলে আরো লাখো মানুষ দিল্লিতে আসবেন। এবার আমরা চুপ করে থাকব না।’ রাঙ্কা আরো দাবি করেন, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। আন্দোলনকে অশান্ত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

সিজেপির বিক্ষোভে উত্তপ্ত দিল্লি, বন্ধ ১৬টি মেট্রো স্টেশন

এদিকে চলমান বিক্ষোভের কারণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানীজুড়ে। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, প্রথমে জনপথ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ চারটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করা হয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোট ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

চলমান প্রতিবাদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ এবং সংসদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য অতিরিক্ত ২০ কম্পানি সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সরকারি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিমানযোগে এসব সিআরপিএফ সদস্যকে দ্রুত দিল্লিতে আনা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং চলমান বিক্ষোভ মোকাবিলায় এই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।

সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও সান হোসেতে বিক্ষোভ করেছেন একদল কর্মী। নিট পরীক্ষা পরিচালনায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে সোনম ওয়াংচুক নয়াদিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের অনশন করছেন। তার প্রতি সংহতি জানিয়ে মার্কিনভিত্তিক সংগঠন ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’-এর কর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির ইউনিয়ন স্কোয়ার এবং সান হোসেতে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে তারা জড়ো হন। এ সময় তাদের হাতে ওয়াংচুকের সমর্থনে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল এবং তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীদের জন্য অনলাইনে খাবার পাঠাচ্ছেন শত শত মানুষ

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের জন্য দেশজুড়ে শত শত মানুষ অনলাইনে খাবারের অর্ডার দিচ্ছেন।

বিক্ষোভস্থলের ব্যারিকেডের বাইরে টলস্টয় মার্গ ও সংসদ মার্গের সংযোগস্থলে মঙ্গলবার সকাল থেকে খাবার পৌঁছে দিতে ব্যস্ত ছিলেন ডেলিভারি কর্মীরা। ১৮ বছর বয়সী ডেলিভারি কর্মী আয়ু জ্যাকব জানান, তিনি এদিন বহুবার ওই স্থানে খাবার পৌঁছে দিতে এসেছেন।

প্রতি কয়েক মিনিট পরপর নতুন নতুন ডেলিভারি কর্মী বিক্ষোভস্থলে খাবার নিয়ে আসছিলেন। এসব খাবার কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নয়, বরং আন্দোলনকারীদের জন্য পাঠানো হচ্ছিল। খাবারের অর্ডারের মধ্যে ছিল পিৎজা, বার্গার, মোমো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের থালি। অনলাইনে অর্ডার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

প্রশ্নফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ আখ্যা মোদির, সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রশ্নফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ আখ্যা মোদির, সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার
সংগৃহীত ছবি

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আক্রমণ আরো জোরালো হয়েছে। এর জবাবে সরকারি সূত্রগুলো দাবি করেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানে একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নৈতিক দায় স্বীকার করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি একের পর এক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিরোধীদের দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেছে সরকারি সূত্র। তাদের দাবি, এই দাবি বাস্তব সমস্যার সমাধানের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের সামনে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। 

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সরকারি সূত্র জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) এ ঘটনার তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত ১৩ জনের বেশি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে এবং যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সূত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেছে। প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে 'ঘোর পাপ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে জানানো হয়। 

দিল্লির কেন্দ্রস্থলে নিট অনিয়ম নিয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো 'ঘোর পাপ'-এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউ যেন দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কেন্দ্র ও সব রাজ্য সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, এটি দেশের স্বার্থের বিষয়। তিনি এনডিএর সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে যোগাযোগ রাখতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের অন্যায় করা যাবে না। তিনি আরো বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ভুল পথে পরিচালিত করা সহজ হলেও তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা কঠিন।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিরোধীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে নিট ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিরোধীরা সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং তাদের ব্যবহার করছে। তিনি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন।

নিট ইস্যুতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিরোধীদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধীকে আটক করে। রাহুল গান্ধীর দাবি ছিল, সংসদে নিট ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সোমবারের বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। এদিকে নিট বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও মঙ্গলবার রাতে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। তিনি লেখেন, সরকার যখন বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে, তখন কংগ্রেস গণতান্ত্রিক আলোচনার পরিবর্তে রাজনৈতিক নাটকের পথ বেছে নিয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবি, কংগ্রেসের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান নয়। বরং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা তাদের উদ্দেশ্য।