• ই-পেপার

গৃহকর্মীর মৃত্যু : স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের সাবেক নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানি পেছাল

অস্ত্র মামলায় আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
অস্ত্র মামলায় আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি পেছাল
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর বনানী থানার অস্ত্র আইনে করা এক মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের (অভিযোগ গঠন) শুনানির তারিখ পিছিয়েছে। আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ২৩ আগস্ট শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী এ আদেশ দেন।

জানা যায়, এদিন মামলার চার্জগঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সুমন হোসাইন শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মামলার মূল বা সিনিয়র আইনজীবী হঠাৎ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ অবস্থায় আসামিপক্ষের সুবিচারের স্বার্থে কিছুটা সময় প্রয়োজন, অন্যথায় আসামির অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

শুনানিকালে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নামে বনানী থানার অধীনে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইস্যু করা সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনিসুল হক তার ব্যবহৃত পিস্তলটি জমা দেননি বা এ বিষয়ে থানাকে কিছু জানাননি। অনুসন্ধানে পুলিশ আসামির ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পায়নি এবং অস্ত্র জমা বা গুলি কেনার বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীকালে এ ঘটনায় বনানী থানার উপপরিদর্শক মো. জানে আলম দুলাল বাদী হয়ে আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট বনানী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক মো. ইয়াদুল হক আদালতে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট নৌপথে পালানোর সময় রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাবশালী উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

১ মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন

অনলাইন ডেস্ক
১ মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের হবিগঞ্জে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি শেখ জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি করে এ জামিন দেন। এদিন ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার পূর্ণিমা জাহান।

জানা গেছে, সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের আরো ৪টি মামলা জামিন শুনানির অপেক্ষায় আছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের নতুন ব্রিজ গোলচত্বর এলাকায় জড়ো হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ছাত্র ও সাধারণ মানুষ জড়ো বিক্ষোভ করছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলনরত তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং গুলিবর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মো. মোস্তাফিজুর রহমান হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনসহ ৯৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওই বছর ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টায় রাজধানীর মিরপুর-৬ থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজধানীর খিলগাঁও ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিনের রুল বর্তমানে হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরো বেশ কয়েকটি মামলা চলমান থাকায় এই জামিন পাওয়ার পরও এখনই তার কারাগার থেকে মুক্তি মিলছে না।

লিগ্যাল এইডের এডিআরের মাধ্যমে ২ লাখ ১১৪৪১ মামলার নিষ্পত্তি

বাসস
লিগ্যাল এইডের এডিআরের মাধ্যমে ২ লাখ ১১৪৪১ মামলার নিষ্পত্তি

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থায় (লিগ্যাল এইড) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সেবার (এডিআর) মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪৪১টি মামলা।

২০০৯  থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সেবার (এডিআর) জন্য উদ্যোগ (প্রি ও পোস্ট-কেইস) নেওয়া হয়েছে মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪২৬ মামলায়। এর মধ্যে নিস্পত্তি হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪৪১টি মামলা। এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তিকৃত মামলা বা বিরোধে উপকারভোগী ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে সরকারি খরচে ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬৩ জনকে আইনি সেবা দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ, দেশের সব নিম্ন আদালত ও শ্রম আদালত এবং কারাগারে থাকা অসচ্ছল বন্দিরাও এ সেবার আওতায় ছিলেন।

দেশের আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসমর্থ বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা দিতে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে সরকারি খরচে এ সেবা দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

নতুন মামলায় গ্রেপ্তার নীলফামারীর সাবেক এমপি পাভেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন মামলায় গ্রেপ্তার নীলফামারীর সাবেক এমপি পাভেল
নীলফামারীর সাবেক সংসদ সদস্য সাদ্দাম হোসেন পাভেল। ছবি : কালের কণ্ঠ

জুলাই গণঅভ্যূত্থানে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় মুহাম্মদ শামীমকে হত্যাচেষ্টার মামলায় নীলফামারীর সাবেক সংসদ সদস্য সাদ্দাম হোসেন পাভেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

গত ১৫ জুলাই এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক মো. ওমর ফারুক। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আদালত আজ বুধবার দিন নির্ধারণ করেন। শুনানিকালে আসামিকে কারাগারে থেকে আদালত হাজির করা হয়।

শুনানিতে গ্রেপ্তার দেখানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে গোলাম রাব্বানীসহ কয়েকজন আইনজীবী গ্রেপ্তার না দেখানোর বিষয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন এলাকায় অংশ নেন ২০ বছরের যুবক মুহাম্মদ শামীম। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলন দমনে অস্ত্রসজ্জিত হয়ে হামলা করে। এতে  তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ১১৬ জনকে আসামি করা হয়। 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে পাঠানো হয়।