ঝিনাইদহের বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা ও অপসারণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। এর আগে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ভাস্কর্যটি বর্তমান স্থান থেকে না সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিদাতারা হলেন যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব)-এর সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী গোষ্ঠী ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, ভাস্কর্য ও স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসের ঘটনা ঘটছে। ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনাকেও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
তারা বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের আপত্তি উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসন ভাস্কর্যটি বর্তমান স্থান থেকে সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে সরকার-সমর্থিত ব্যক্তি, বিলবোর্ড ব্যবসায়ী এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী হামিদুর রহমানের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ভাস্কর্যটি বর্তমান স্থানেই সংরক্ষণ করা উচিত। মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসের সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।




