বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (২২ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনটি বৈঠকেই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, সংযোগ (কানেক্টিভিটি) এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে দেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশ বাংলাদেশ-চীন সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা আরো এগিয়ে নেওয়া এবং অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বৈঠকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন, বহুমুখী পরিবহন করিডর, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরো জোরদারে সম্মত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান লাভরভ।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন খলিলুর রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন (টিএসি)-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।




