• ই-পেপার

বজ্রপাতে মৃত তরুণের লাশ চুরি ঠেকাতে পাহারায় স্বজনরা, চলবে তিন মাস!

হালদা নদীতে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানে অবৈধ জাল ও বড়শি জব্দ

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
হালদা নদীতে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানে অবৈধ জাল ও বড়শি জব্দ
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে অভিযান চালিয়ে ছয় হাজার পাঁচ শ মিটার দৈর্ঘ্যের সাতটি অবৈধ জাল ও দুটি বড়শি জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা মৎস্য অফিস অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার ঘোষিত মৎস্য হেরিটেজ, কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র, মা মাছের প্রজনন পরিবেশ সুরক্ষা এবং হালদা নদীর অন্যান্য মাছ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

হাটহাজারী সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলীর নেতৃত্বে চালানো এ অভিযানে অত্র দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী লিংকন চৌধুরী ও হালদা প্রকল্পের পাহারাদার শহীদুল্লাহ, সেকান্দার, তানভীর, আদিল এবং আইডিএফের পাহারাদার ঝন্টু বড়ুয়া সহযোগিতা করেন। অভিযানে হালদা নদীর খলিফারগোনা অংশ থেকে ছিপাতলী পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ছয়টি অবৈধ চরঘেরা ও একটি ভাসা জাল এবং দুইটা বড়শি জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালগুলোর আনুমানিক দৈর্ঘ্য ছয় হাজার পাঁচ শ মিটার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।

হাটহাজারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলী বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ প্রতিবেদককে জানান, হালদা নদীর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বরিশালে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু এলাকায় এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া নারীর বয়স আনুমানিক ৫০ বছরের বেশি। তাকে গত কয়েকদিন ধরে মহাসড়কের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় হয়তো ওই নারী আহত হয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যান। পরে তার মৃত্যু হয়।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পুলিশের সিআইডি টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। 

এয়ারপোর্ট থানার ওসি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

শিশুকে বলাৎকার করে মাদরাসাশিক্ষক বললেন, ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’

অনলাইন ডেস্ক
শিশুকে বলাৎকার করে মাদরাসাশিক্ষক বললেন, ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে একই মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষককের নাম মো. মোস্তাফিজুর রহমান। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে ওই শিক্ষককে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি মীমাংসার উদ্দেশ্যে সালিস বৈঠকের চেষ্টা করলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

আটক মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ওই মাদরাসার শিক্ষক।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই সকালে মাদরাসাটির বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। সেদিন পাঁচ শিশু মাদরাসায় শুয়ে ছিল। সকাল ১১টার দিকে মাদরাসার বড় হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান এক মক্তব শিশুকে বলাৎকার করে। এ ঘটনা সেদিন অন্য শিশুরাও দেখে ফেলে। ভয়ে তারা সেদিন ঘটনা কাউকে বলেনি। এরপর বিষয়টা জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে এক শিশুকে মারধর করেন হুজুর। মারধরের ঘটনাটি স্থানীয়রা টের পেলে বলাৎকারের ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর দুপুর ২টার দিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাদরাসায় সালিশ বসায় কমিটি। সালিশে মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও এক বিএনপি নেতা অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। সালিশের বিষয়টি টের পেলে স্থানীয়রা মাদরাসায় ভিড় করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরেজমিন তালোয়া মাদরাসায় দেখা যায়, প্রবেশপথ ও মাদরাসা চত্বরে উৎসুক জনতার ভিড়। একটি কক্ষে চলছে বৈঠক। এ সময় প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে সালিশ কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে সালিশে বসা মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও অন্যরা কক্ষ থেকে বের হয়ে এসে বারান্দায় বসে আলোচনা শুরু করেন। সেখানে উপজেলা জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত হুজুরকে আটক করে।

পুলিশ আসার আগে ওই শিক্ষার্থী বলে, ‘১২ তারিখ সকালে ঘুমিয়ে ছিলাম। সে সময় হুজুর এসে আমার সঙ্গে জিনা (বলাৎকার) করেছে। তখন আমি চোখ খুললে হুজুর মাথায় হাত দিয়ে বলে, মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ।’

এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মাদরাসা প্রাঙ্গণে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা সালিস বৈঠক বসান। বৈঠকে মাদরাসা কমিটির সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ এবং সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল করিমসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক বৈঠকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয় এবং পরদিন আরো বড় পরিসরে সালিসের পরিকল্পনা করা হয়। তবে ফৌজদারি অপরাধে সালিস বসানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মাদরাসা সভাপতি দাবি করেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার সুযোগ রয়েছে।

সালিসের খবর পেয়ে স্থানীয় উৎসুক জনতা মাদরাসায় ভিড় জমান। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে। যদিও আটক শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীরা মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, এই ধরনের গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আইনগতভাবে সালিস বৈঠকের কোনো সুযোগ নেই। সংবাদ পেয়েই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

কানের দুলের লোভে শিশু হত্যা, আলমারিতে মিলল মরদেহ

পিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
কানের দুলের লোভে শিশু হত্যা, আলমারিতে মিলল মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে সোনার কানের দুলের লোভে ফারজানা খানম (৮) নামের তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। সে নলতা গ্রামের এনামুল ইসলামের মেয়ে।

জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) সকালে স্কুলে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় ফারজানা। পরে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে স্কুলের সামনের ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে দেখা যায়। পরে রাতে সুরাইয়ার ঘরের আলমারির ড্রয়ার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

এদিকে শিশুটিকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত সুরাইয়া আক্তারকে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং এলাকা শান্ত করে।

নিহত ফারজানার খালা মরিয়ম বেগম জানান, আমার ভাগ্নিকে সোনার দুলের জন্যই হত্যা করা হয়েছে। ৮ বছরের ফারজানা প্রতিদিনের মতো সকালে সোনার কানের দুল পরে স্কুলে গিয়েছিল। কিন্তু স্কুলের সামনের ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুরাইয়া আক্তার সোনার দুলের লোভে তাকে ডেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরের আলমারিতে মরদেহ লুকিয়ে রাখে।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানান, এরই মধ্যে শিশু ফারজানাসহ দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, কেবল এক জোড়া কানের দুলের জন্যই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণ আছে, তা তদন্ত করে দেখছে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ। মূল রহস্য উন্মোচিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বজ্রপাতে মৃত তরুণের লাশ চুরি ঠেকাতে পাহারায় স্বজনরা, চলবে তিন মাস! | কালের কণ্ঠ