• ই-পেপার

মাদুরোর বিচার ২০২৭ সালে শুরুর প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

বার্গার খেয়ে পদ খোয়ালেন সিজেপি মুখপাত্র

অনলাইন ডেস্ক
বার্গার খেয়ে পদ খোয়ালেন সিজেপি মুখপাত্র
সংগৃহীত ছবি

সোমবার উত্তাল ছিল নয়াদিল্লি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি’র ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুঁড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের হিসেবেই সোমবারের সংঘর্ষে অন্তত ১৭৮ জন আহত হয়েছেন। তবে উত্তাল আন্দোলনের সময় বার্গার খেতে দেখা গেছে সিজেপির এক শীর্ষনেতাকে। সিজেপি সাবেক মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়ার বার্গার খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন উঠেছে আন্দোলনের সময় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়েও।

আন্দোলনের সময় সংগঠনের অন্যতম মুখপাত্রের বার্গার খাওয়ার ঘটনাকে ‘চরম অসংবেদনশীল’, ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ’দায়িত্বজ্ঞানহীন’ অভিহিত করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ’এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি তার বিচারবুদ্ধির সম্পূর্ণ অভাব প্রকাশ করে এবং আমাদের আন্দোলনের মূল্যবোধ ও নীতির সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না।’ তবে বিজেতা দাহিয়া তার বিরুদ্ধে সমালোচনাকে ‘অপপ্রচার’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, আন্দোলনের প্রতি তার ত্যাগের কথা সবাই জানেন। তিনি অপপ্রচারের জন্য বিজেপির আইটি সেলকে দায়ী করেন।  

বার্গার খাওয়ার ভিডিওটি নিয়ে দাহিয়া বলেন, ক্ষুধা লাগলে খাওয়ার মধ্যে কোনো অন্যায় নেই। তিনি বলেন, ‘দেখুন, কারও ক্ষুধা লাগলে সে তো খাবেই। খাওয়ার মধ্যে তো কোনো ভুল নেই, তাই না? আমি এমন মানুষ নই যে ক্ষুধাকে মহিমান্বিত করব। ভারতের প্রতিটি নাগরিকের খাদ্যের অধিকার এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকারকে আমি সমর্থন করি। কিন্তু আমি যদি দীর্ঘ সময় ধরে কিছু না খেয়ে থাকি, এবং আমার ক্ষুধা পায় ও আমি একটি বার্গার খাই, তবে এর জন্য কেউ আমার পেছনে লাগবে, এটি আমার কাছে অদ্ভুত ঠেকে।’

বিজেতা দাবি করেন, সংসদের দিকে পদযাত্রা শেষ হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা যখন যন্তর মন্তরের দিকে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য সেখান থেকে বিদায় নেন। সন্ধ্যায় তার উপস্থিতির প্রয়োজন থাকায় পরে আবার ফিরে আসার পরিকল্পনাও ছিল তার। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক বিক্ষোভকারী জানেন যে এই পুরো আন্দোলনের জন্য আমি আমার রক্ত-ঘাম দিয়েছি। অতিথি ও প্রতিনিধি দলকে সামলাতে এবং সব ধরনের কাজ করতে আমি টানা ১২ ঘণ্টা পায়ে দাঁড়িয়ে থেকেছি। দুইরাত নির্ঘুম কাটিয়েছি। তাই বিক্ষোভকারীদের নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, এটি স্রেফ একটি অপপ্রচার।’

সিজেপি-র পক্ষ থেকে পদচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দাহিয়া বলেন, এই সিদ্ধান্ত যদি বৃহত্তর আন্দোলনের উপকারে আসে, তবে এতে তার কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, ‘যদি একটি আত্মত্যাগের মাধ্যমে আন্দোলন আরো শক্তিশালী হয়, তবে তাই হোক। এতে কোনো সমস্যা নেই। বিজেতা এত গুরুত্বপূর্ণ নয়; আন্দোলন এবং এর বৃহত্তর উদ্দেশ্যই আসল। তাই আমার কোনো আপত্তি নেই।’

সিজেপি-র সংসদ অভিযানের সময় নেতৃত্বশূন্যতা নিয়ে সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন বিজেতা। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময় দলের বাকি দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সাথে বৈঠক করতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের তৎপরতা দেখে আমরা বিক্ষোভ কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এরপর বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং তারা অধৈর্য হয়ে পড়েন। তাই আমরা পদযাত্রা শুরু করতে বাধ্য হই।’
 

মানহানির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী উইলসন

অনলাইন ডেস্ক
মানহানির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী উইলসন
ছবি: রয়টার্স

মানহানির অভিযোগে করা মামলা থেকে অস্ট্রেলিয়ার অভিনেত্রী রেবেল উইলসনকে অব্যাহতি দিয়েছেন সিডনির একটি আদালত। বুধবার আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মামলাটি করার কারণে বাদী পক্ষকে উইলসনের আইনি খরচ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলাটি করেছিলেন অস্ট্রেলীয় তরুণ অভিনেত্রী শার্লট ম্যাকইনেস। তিনি রেবেল উইলসনের চলচ্চিত্র 'দ্য ডেব'-এ অভিনয় করেছিলেন। ম্যাকইনেসের অভিযোগ ছিল, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে করা কয়েকটি পোস্টের মাধ্যমে উইলসন তার সম্মান ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। ওই পোস্টগুলোতে উইলসন অভিযোগ করেছিলেন, চলচ্চিত্র প্রযোজক আমান্ডা ঘোস্টের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির যে অভিযোগ ম্যাকইনেস করেছিলেন, পরে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সুবিধার জন্য সেই অভিযোগ থেকে সরে এসেছিলেন। তবে ম্যাকইনেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি ছিল, উইলসনের এসব বক্তব্য তার সুনাম নষ্ট করেছে এবং এগুলো মানহানিকর।

বুধবার বিচারক এলিজাবেথ রেপার মামলাটি বাতিল করে দেন। তিনি বলেন, ম্যাকইনেস ওই ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন—এমন ইঙ্গিত করাকে মানহানিকর বক্তব্য বলা যাবে না। বিচারক আরো বলেন, ঘটনাটি নিয়ে উইলসনের বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে মানহানির আইনি শর্ত পূরণ হয়নি। রায় অনুযায়ী, শার্লট ম্যাকইনেসকে রেবেল উইলসনের আইনি খরচ পরিশোধ করতে হবে। মামলাটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেদিন শার্লট ম্যাকইনেস রেবেল উইলসনের চলচ্চিত্র দ্য ডেব-এর প্রযোজক আমান্ডা ঘোস্টের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটতে যান। সাঁতার কাটার সময় ঠান্ডা পানির কারণে ঘোস্টের শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর তারা প্রযোজকের ভাড়া নেওয়া একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যান। ঘোস্ট গোসল করতে গেলে ম্যাকইনেস তার জন্য বাথটাবে পানি ভরে দেন। পরে শরীর গরম করার জন্য ম্যাকইনেস নিজেই বাথটাবে নামেন। কিছুক্ষণ পর ঘোস্টও সেখানে যান। তখন দুজনের পরনেই সাঁতারের পোশাক ছিল। রায় ঘোষণার সময় বিচারক রেপার এই ঘটনাটির কথাও উল্লেখ করেন। 

রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর রেবেল উইলসন ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দেন। তিনি বলেন, পুরো আইনি প্রক্রিয়া তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। একই সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা তাকে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

উইলসন আরো বলেন, 'এটি আমাকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে। তবে একই সঙ্গে এটি আমার দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বাসকে আরও শক্ত করেছে। আমি যা সঠিক মনে করি, তার পক্ষেই দাঁড়িয়ে জীবন কাটাতে চাই। পাশাপাশি এমন কাজ করে যেতে চাই, যা মানুষের মুখে হাসি এনে দেয়।' উইলসন তার সকল সমর্থককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'এই অধ্যায় শেষ হওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।' তিনি আরো বলেন, 'মামলার বিচারক এবং অস্ট্রেলিয়ার বিচারব্যবস্থার প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। তাদের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে।' এ ছাড়া তিনি বিচারক এলিজাবেথ রেপার এবং অস্ট্রেলিয়ার বিচারব্যবস্থার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

চলতি বছরের শুরুতে টানা তিন সপ্তাহ ধরে মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে রেবেল উইলসন দাবি করেন, বাথটাবের ঘটনার পরদিন শার্লট ম্যাকইনেস তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। উইলসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাকইনেস তাকে বলেছিলেন, আমান্ডা ঘোস্ট তাকে বাথটাবে নামতে এবং একসঙ্গে গোসল করতে বলেছিলেন, যা তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। এরপর উইলসন আবার ম্যাকইনেসকে ফোন করেন। তিনি ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। ওই ফোনালাপের পর উইলসন আমান্ডা ঘোস্টকে একটি খুদে বার্তা পাঠান। আদালতে সেই বার্তাও উপস্থাপন করা হয়। বার্তায় উইলসন লিখেছিলেন, শার্লট বলেছে সব ঠিক আছে। সে শুধু বলতে চেয়েছিল, এটি একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি ছিল। তবে সে বলেনি যে ব্যক্তিগতভাবে সে অস্বস্তি বোধ করেছে। মামলার রায়ের পর এখন পর্যন্ত শার্লট ম্যাকইনেসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনশনের ২৭ দিন

অসুস্থ সোনম ওয়াংচুককে দেখতে মাঝরাতে হাসপাতালে দুই মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অসুস্থ সোনম ওয়াংচুককে দেখতে মাঝরাতে হাসপাতালে দুই মন্ত্রী
ছবি : রয়টার্স।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং মেদান্ত মঙ্গলবার গভীর রাতে হাসপাতালে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সোনমের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তবে তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

২৬ দিন ধরে অনশনরত সোনমের সঙ্গে কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনও অনশন ভাঙেননি।

নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিন ধরে অনশন করছেন। যন্তর মন্তরে ২১ দিন অনশনের পর গত শনিবার পুলিশ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলী দিল্লি হাইকোর্টে তাকে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে মেদান্ত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংসদের চলমান অধিবেশনে বিরোধী দল পরীক্ষায় অনিয়ম ও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার সমালোচনা করেছে। সরকার জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮.৬ শতাংশ বাংলাদেশির

অনলাইন ডেস্ক
স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮.৬ শতাংশ বাংলাদেশির

বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। ২০২৫ সালে দেশের প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ এ সংকটে ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পর বাংলাদেশে এ হার সবচেয়ে বেশি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশ করা 'দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬' শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটি সম্মিলিতভাবে তৈরি করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এতে দেখা গেছে, গত বছর পাকিস্তানে ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না, যেখানে বাংলাদেশে এই হার ৩৮.৬ শতাংশ।

এ প্রতিবেদনে 'হেলদি ডায়েট বাস্কেট' বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা বলতে এমন খাবারকে বোঝানো হয়েছে, যা প্রতিদিন মাথাপিছু ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহ করে। এর মধ্যে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় উদ্ভিদ, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল, তেল-চর্বি—এই ছয়টি খাদ্যগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালে প্রায় ২.৬৯ বিলিয়ন বা ৩২.৭ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড় করতে পারেননি। এ সংকটের হার আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি (৬৬.৬ শতাংশ)। এরপরই এশিয়া (২৮.৯ শতাংশ) এবং ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের (২৫.৭ শতাংশ) অবস্থান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা এখনো সাধ্যের বাইরে। তার মতে, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস ও ফলের উচ্চমূল্যের কারণে মানুষ এগুলো সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে দ্রুত দাম বাড়ে, কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্থানীয় বাজারে তা খুব ধীরগতিতে কমে। ফলে ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও স্বাস্থ্যকর খাবার এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে একজন মানুষের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড়ের গড় খরচ ২০১৭ সালের ৩.০৯ ডলার পিপিপি (ক্রয়ক্ষমতার সমতা) থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এখানে 'পিপিপি' বা ক্রয়ক্ষমতার সমতা বলতে বোঝায়—যুক্তরাষ্ট্রে ৪.৫৯ ডলারে যে পরিমাণ পণ্য কেনা সম্ভব, বাংলাদেশে ঠিক সেই একই পরিমাণ পণ্য কিনতে প্রয়োজনীয় সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা বা টাকার হিসাব।

এ খরচের বড় অংশ ব্যয় হয় প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল এবং শাকসবজি কিনতে। সেখানে শর্করাজাতীয় খাবারগুলোর পেছনে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেকটা কম। দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাবারের খরচের দিক থেকে ভুটান (৬.১৭ ডলার) এবং শ্রীলঙ্কার (৫.২১ ডলার) পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্যহীন মানুষের হার সবচেয়ে বেশি হলেও সেখানে এর খরচ এ অঞ্চলে সবচেয়ে কম (৩.৯৪ ডলার)।

স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে এটি কেনার সামর্থ্য আগের চেয়ে বেড়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে ৬২.৮ শতাংশ বা ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না, ২০২৫ সালে তা কমে ৩৮.৬ শতাংশ বা ৬ কোটি ৭৮ লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে মানুষের খাদ্য ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ আয় খাবারের দামের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় খরচ বেড়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে এই খরচ ছিল ২.৯৪ ডলার এবং ২০২১ সালে ৩.৪৪ ডলার, তা ২০২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪.২৮ ডলারে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে এই খরচ ৪.৯১ ডলারে পৌঁছেছে। তবে একই সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে না পারা মানুষের সংখ্যা ২.৯৭ বিলিয়ন (৩৭.৪%) থেকে কিছুটা কমে ২.৬৯ বিলিয়নে (৩২.৭%) নেমে এসেছে।

পুষ্টিকর খাবারকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে এ প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পরিস্থিতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার খরচ কমিয়ে আনা। এছাড়া পরিবহন ব্যবস্থা, সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারসংক্রান্ত তথ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাদ্যের অপচয় রোধ করার ওপরও প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে।