• ই-পেপার

অনশনের ২৭ দিন

অসুস্থ সোনম ওয়াংচুককে দেখতে মাঝরাতে হাসপাতালে দুই মন্ত্রী

বার্গার খেয়ে পদ খোয়ালেন সিজেপি মুখপাত্র

অনলাইন ডেস্ক
বার্গার খেয়ে পদ খোয়ালেন সিজেপি মুখপাত্র
সংগৃহীত ছবি

সোমবার উত্তাল ছিল নয়াদিল্লি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি’র ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুঁড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের হিসেবেই সোমবারের সংঘর্ষে অন্তত ১৭৮ জন আহত হয়েছেন। তবে উত্তাল আন্দোলনের সময় বার্গার খেতে দেখা গেছে সিজেপির এক শীর্ষনেতাকে। সিজেপি সাবেক মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়ার বার্গার খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন উঠেছে আন্দোলনের সময় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়েও।

আন্দোলনের সময় সংগঠনের অন্যতম মুখপাত্রের বার্গার খাওয়ার ঘটনাকে ‘চরম অসংবেদনশীল’, ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ’দায়িত্বজ্ঞানহীন’ অভিহিত করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ’এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি তার বিচারবুদ্ধির সম্পূর্ণ অভাব প্রকাশ করে এবং আমাদের আন্দোলনের মূল্যবোধ ও নীতির সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না।’ তবে বিজেতা দাহিয়া তার বিরুদ্ধে সমালোচনাকে ‘অপপ্রচার’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, আন্দোলনের প্রতি তার ত্যাগের কথা সবাই জানেন। তিনি অপপ্রচারের জন্য বিজেপির আইটি সেলকে দায়ী করেন।  

বার্গার খাওয়ার ভিডিওটি নিয়ে দাহিয়া বলেন, ক্ষুধা লাগলে খাওয়ার মধ্যে কোনো অন্যায় নেই। তিনি বলেন, ‘দেখুন, কারও ক্ষুধা লাগলে সে তো খাবেই। খাওয়ার মধ্যে তো কোনো ভুল নেই, তাই না? আমি এমন মানুষ নই যে ক্ষুধাকে মহিমান্বিত করব। ভারতের প্রতিটি নাগরিকের খাদ্যের অধিকার এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকারকে আমি সমর্থন করি। কিন্তু আমি যদি দীর্ঘ সময় ধরে কিছু না খেয়ে থাকি, এবং আমার ক্ষুধা পায় ও আমি একটি বার্গার খাই, তবে এর জন্য কেউ আমার পেছনে লাগবে, এটি আমার কাছে অদ্ভুত ঠেকে।’

বিজেতা দাবি করেন, সংসদের দিকে পদযাত্রা শেষ হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা যখন যন্তর মন্তরের দিকে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য সেখান থেকে বিদায় নেন। সন্ধ্যায় তার উপস্থিতির প্রয়োজন থাকায় পরে আবার ফিরে আসার পরিকল্পনাও ছিল তার। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক বিক্ষোভকারী জানেন যে এই পুরো আন্দোলনের জন্য আমি আমার রক্ত-ঘাম দিয়েছি। অতিথি ও প্রতিনিধি দলকে সামলাতে এবং সব ধরনের কাজ করতে আমি টানা ১২ ঘণ্টা পায়ে দাঁড়িয়ে থেকেছি। দুইরাত নির্ঘুম কাটিয়েছি। তাই বিক্ষোভকারীদের নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, এটি স্রেফ একটি অপপ্রচার।’

সিজেপি-র পক্ষ থেকে পদচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দাহিয়া বলেন, এই সিদ্ধান্ত যদি বৃহত্তর আন্দোলনের উপকারে আসে, তবে এতে তার কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, ‘যদি একটি আত্মত্যাগের মাধ্যমে আন্দোলন আরো শক্তিশালী হয়, তবে তাই হোক। এতে কোনো সমস্যা নেই। বিজেতা এত গুরুত্বপূর্ণ নয়; আন্দোলন এবং এর বৃহত্তর উদ্দেশ্যই আসল। তাই আমার কোনো আপত্তি নেই।’

সিজেপি-র সংসদ অভিযানের সময় নেতৃত্বশূন্যতা নিয়ে সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন বিজেতা। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময় দলের বাকি দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সাথে বৈঠক করতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের তৎপরতা দেখে আমরা বিক্ষোভ কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এরপর বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং তারা অধৈর্য হয়ে পড়েন। তাই আমরা পদযাত্রা শুরু করতে বাধ্য হই।’
 

মানহানির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী উইলসন

অনলাইন ডেস্ক
মানহানির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী উইলসন
ছবি: রয়টার্স

মানহানির অভিযোগে করা মামলা থেকে অস্ট্রেলিয়ার অভিনেত্রী রেবেল উইলসনকে অব্যাহতি দিয়েছেন সিডনির একটি আদালত। বুধবার আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মামলাটি করার কারণে বাদী পক্ষকে উইলসনের আইনি খরচ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলাটি করেছিলেন অস্ট্রেলীয় তরুণ অভিনেত্রী শার্লট ম্যাকইনেস। তিনি রেবেল উইলসনের চলচ্চিত্র 'দ্য ডেব'-এ অভিনয় করেছিলেন। ম্যাকইনেসের অভিযোগ ছিল, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে করা কয়েকটি পোস্টের মাধ্যমে উইলসন তার সম্মান ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। ওই পোস্টগুলোতে উইলসন অভিযোগ করেছিলেন, চলচ্চিত্র প্রযোজক আমান্ডা ঘোস্টের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির যে অভিযোগ ম্যাকইনেস করেছিলেন, পরে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সুবিধার জন্য সেই অভিযোগ থেকে সরে এসেছিলেন। তবে ম্যাকইনেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি ছিল, উইলসনের এসব বক্তব্য তার সুনাম নষ্ট করেছে এবং এগুলো মানহানিকর।

বুধবার বিচারক এলিজাবেথ রেপার মামলাটি বাতিল করে দেন। তিনি বলেন, ম্যাকইনেস ওই ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন—এমন ইঙ্গিত করাকে মানহানিকর বক্তব্য বলা যাবে না। বিচারক আরো বলেন, ঘটনাটি নিয়ে উইলসনের বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে মানহানির আইনি শর্ত পূরণ হয়নি। রায় অনুযায়ী, শার্লট ম্যাকইনেসকে রেবেল উইলসনের আইনি খরচ পরিশোধ করতে হবে। মামলাটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেদিন শার্লট ম্যাকইনেস রেবেল উইলসনের চলচ্চিত্র দ্য ডেব-এর প্রযোজক আমান্ডা ঘোস্টের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটতে যান। সাঁতার কাটার সময় ঠান্ডা পানির কারণে ঘোস্টের শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর তারা প্রযোজকের ভাড়া নেওয়া একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যান। ঘোস্ট গোসল করতে গেলে ম্যাকইনেস তার জন্য বাথটাবে পানি ভরে দেন। পরে শরীর গরম করার জন্য ম্যাকইনেস নিজেই বাথটাবে নামেন। কিছুক্ষণ পর ঘোস্টও সেখানে যান। তখন দুজনের পরনেই সাঁতারের পোশাক ছিল। রায় ঘোষণার সময় বিচারক রেপার এই ঘটনাটির কথাও উল্লেখ করেন। 

রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর রেবেল উইলসন ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দেন। তিনি বলেন, পুরো আইনি প্রক্রিয়া তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। একই সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা তাকে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

উইলসন আরো বলেন, 'এটি আমাকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে। তবে একই সঙ্গে এটি আমার দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বাসকে আরও শক্ত করেছে। আমি যা সঠিক মনে করি, তার পক্ষেই দাঁড়িয়ে জীবন কাটাতে চাই। পাশাপাশি এমন কাজ করে যেতে চাই, যা মানুষের মুখে হাসি এনে দেয়।' উইলসন তার সকল সমর্থককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'এই অধ্যায় শেষ হওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।' তিনি আরো বলেন, 'মামলার বিচারক এবং অস্ট্রেলিয়ার বিচারব্যবস্থার প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। তাদের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে।' এ ছাড়া তিনি বিচারক এলিজাবেথ রেপার এবং অস্ট্রেলিয়ার বিচারব্যবস্থার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

চলতি বছরের শুরুতে টানা তিন সপ্তাহ ধরে মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে রেবেল উইলসন দাবি করেন, বাথটাবের ঘটনার পরদিন শার্লট ম্যাকইনেস তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। উইলসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাকইনেস তাকে বলেছিলেন, আমান্ডা ঘোস্ট তাকে বাথটাবে নামতে এবং একসঙ্গে গোসল করতে বলেছিলেন, যা তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। এরপর উইলসন আবার ম্যাকইনেসকে ফোন করেন। তিনি ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। ওই ফোনালাপের পর উইলসন আমান্ডা ঘোস্টকে একটি খুদে বার্তা পাঠান। আদালতে সেই বার্তাও উপস্থাপন করা হয়। বার্তায় উইলসন লিখেছিলেন, শার্লট বলেছে সব ঠিক আছে। সে শুধু বলতে চেয়েছিল, এটি একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি ছিল। তবে সে বলেনি যে ব্যক্তিগতভাবে সে অস্বস্তি বোধ করেছে। মামলার রায়ের পর এখন পর্যন্ত শার্লট ম্যাকইনেসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮.৬ শতাংশ বাংলাদেশির

অনলাইন ডেস্ক
স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮.৬ শতাংশ বাংলাদেশির

বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। ২০২৫ সালে দেশের প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ এ সংকটে ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পর বাংলাদেশে এ হার সবচেয়ে বেশি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশ করা 'দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬' শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটি সম্মিলিতভাবে তৈরি করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এতে দেখা গেছে, গত বছর পাকিস্তানে ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না, যেখানে বাংলাদেশে এই হার ৩৮.৬ শতাংশ।

এ প্রতিবেদনে 'হেলদি ডায়েট বাস্কেট' বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা বলতে এমন খাবারকে বোঝানো হয়েছে, যা প্রতিদিন মাথাপিছু ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহ করে। এর মধ্যে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় উদ্ভিদ, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল, তেল-চর্বি—এই ছয়টি খাদ্যগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালে প্রায় ২.৬৯ বিলিয়ন বা ৩২.৭ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড় করতে পারেননি। এ সংকটের হার আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি (৬৬.৬ শতাংশ)। এরপরই এশিয়া (২৮.৯ শতাংশ) এবং ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের (২৫.৭ শতাংশ) অবস্থান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা এখনো সাধ্যের বাইরে। তার মতে, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস ও ফলের উচ্চমূল্যের কারণে মানুষ এগুলো সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে দ্রুত দাম বাড়ে, কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্থানীয় বাজারে তা খুব ধীরগতিতে কমে। ফলে ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও স্বাস্থ্যকর খাবার এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে একজন মানুষের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড়ের গড় খরচ ২০১৭ সালের ৩.০৯ ডলার পিপিপি (ক্রয়ক্ষমতার সমতা) থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এখানে 'পিপিপি' বা ক্রয়ক্ষমতার সমতা বলতে বোঝায়—যুক্তরাষ্ট্রে ৪.৫৯ ডলারে যে পরিমাণ পণ্য কেনা সম্ভব, বাংলাদেশে ঠিক সেই একই পরিমাণ পণ্য কিনতে প্রয়োজনীয় সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা বা টাকার হিসাব।

এ খরচের বড় অংশ ব্যয় হয় প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল এবং শাকসবজি কিনতে। সেখানে শর্করাজাতীয় খাবারগুলোর পেছনে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেকটা কম। দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাবারের খরচের দিক থেকে ভুটান (৬.১৭ ডলার) এবং শ্রীলঙ্কার (৫.২১ ডলার) পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্যহীন মানুষের হার সবচেয়ে বেশি হলেও সেখানে এর খরচ এ অঞ্চলে সবচেয়ে কম (৩.৯৪ ডলার)।

স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে এটি কেনার সামর্থ্য আগের চেয়ে বেড়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে ৬২.৮ শতাংশ বা ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না, ২০২৫ সালে তা কমে ৩৮.৬ শতাংশ বা ৬ কোটি ৭৮ লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে মানুষের খাদ্য ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ আয় খাবারের দামের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় খরচ বেড়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে এই খরচ ছিল ২.৯৪ ডলার এবং ২০২১ সালে ৩.৪৪ ডলার, তা ২০২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪.২৮ ডলারে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে এই খরচ ৪.৯১ ডলারে পৌঁছেছে। তবে একই সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে না পারা মানুষের সংখ্যা ২.৯৭ বিলিয়ন (৩৭.৪%) থেকে কিছুটা কমে ২.৬৯ বিলিয়নে (৩২.৭%) নেমে এসেছে।

পুষ্টিকর খাবারকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে এ প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পরিস্থিতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার খরচ কমিয়ে আনা। এছাড়া পরিবহন ব্যবস্থা, সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারসংক্রান্ত তথ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাদ্যের অপচয় রোধ করার ওপরও প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে।

জর্দানে নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে মৃত ঘোষণা, নিহত বেড়ে ১৮

অনলাইন ডেস্ক
জর্দানে নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে মৃত ঘোষণা, নিহত বেড়ে ১৮
সংগৃহীত ছবি

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর নিখোঁজ থাকা তৃতীয় মার্কিন সেনাসদস্যও মারা গেছেন বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এ নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, নিহত বলে ধারণা করা ওই সেনাসদস্য হলেন নিউইয়র্কের ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস র‍্যাম্পারস্যাড। জর্দানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। মার্কিন সেনাবাহিনী এর আগে একই হামলায় নিহত আরো দুই সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছিল। তারা হলেন হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচ এলাকার ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ক্যারলটনের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সহায়তা করার জন্য ওই সেনাদের জর্দানে মোতায়েন করা হয়েছিল। মার্কিন সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সরাসরি হামলায় এই প্রথম মার্কিন সেনারা নিহত হলেন।

জর্দানের ঘাঁটিতে হামলার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রথমে জানিয়েছিল, দুই সেনা নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এর পরদিন মার্কিন সেনারা কিছু অজ্ঞাত মরদেহের অংশ উদ্ধার করেন। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছিল। পরে পেন্টাগন জানায়, নিখোঁজ ওই সেনাসদস্যই সম্ভবত সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল র‍্যাম্পারস্যাড। বর্তমানে সরকারি নথিতে তার অবস্থা ‘দায়িত্বকালীন অবস্থায় নিখোঁজ’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ‘মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে’ বলেও জানানো হয়েছে। র‍্যাম্পারস্যাড জার্মানির আনসবাখে অবস্থানরত দশম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের সদস্য ছিলেন। নিহত আরেক সেনা ইসাবেলা গনজালেসও একই ইউনিটে কর্মরত ছিলেন।

এদিকে ইরাকে নিহত আরেক মার্কিন সেনার পরিচয়ও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ইরাকের ইরবিল বিমানঘাঁটিতে একটি ইরানি ড্রোন নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় তিনি নিহত হন। সুইন্টন প্রায় এক দশক ধরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগভিত্তিক ৫৫তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টের ১০৮তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। সুইন্টনকে মরণোত্তর ব্রোঞ্জ স্টার, পার্পল হার্ট এবং কমব্যাট অ্যাকশন ব্যাজ দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাকে পদোন্নতি দিয়ে স্টাফ সার্জেন্ট করা হবে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। তার মা জানিয়েছেন, সুইন্টনের একটি ছেলের বয়স ছয় বছর এবং একটি মেয়ের বয়স চার বছর। সুইন্টনের স্ত্রী মিয়া গনজালেস-সুইন্টন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, এই শোক তিনি কখনো কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। তিনি বলেন, স্বামীর সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু এখন তার জীবন ভেঙে পড়েছে। সুইন্টনের মা ক্রিস্টেল সুইন্টন বলেন, তার ছেলে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তা করতেন। তিনি বলেন, যেসব মানুষের জীবনে সুইন্টন প্রভাব ফেলেছেন, তাদের স্মৃতির মধ্যেই তিনি বেঁচে থাকবেন। তার হাসি, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে। আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জন এল ডবার বলেন, সার্জেন্ট সুইন্টন ছিলেন একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নিজের দায়িত্ব ও সহকর্মীদের নিয়ে সুইন্টনের গর্ব ছিল। তিনি সাহস, সম্মান এবং নিঃস্বার্থভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে, যেখানে মার্কিন সেনারাও মোতায়েন রয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।  অন্যদিকে, দুই পক্ষের হামলায় এমন অনেক বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করেন। এই সংঘাতে জাহাজের শ্রমিক, উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিক এবং ইসরায়েল ও লেবাননের অনেক মানুষও নিহত হয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ইরান এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতেই এই যুদ্ধ প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার জন্য ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। কারণ নির্বাচনি প্রচারে তিনি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। র‍্যাম্পারস্যাডকে মৃত বলে ধারণা করা এবং ইরাকে নিহত সুইন্টনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার ঘটনা দেখাচ্ছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।