• ই-পেপার

বার্গার খেয়ে পদ খোয়ালেন সিজেপি মুখপাত্র

সরকার রাজি না হলে আরো লাখ লাখ মানুষ আসবে: সিজেপি মুখপাত্র

অনলাইন ডেস্ক
সরকার রাজি না হলে আরো লাখ লাখ মানুষ আসবে: সিজেপি মুখপাত্র
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

যন্তর মন্তর থেকে দেওয়া এক আপডেটে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) বুধবার (২২জুন) সকালে দাবি করেছে, বিক্ষোভস্থলে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। দলটির ভাষ্য, সেখানে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী অবস্থান করছেন। 

দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার যদি তাদের দাবি, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি না মানে, তাহলে আরো লাখো মানুষ দিল্লিতে আন্দোলনে যোগ দেবেন।

তিনি বলেন, ‘এটি স্বাধীনতার পর ভারতের সবচেয়ে বড় আন্দোলন। ২০ তারিখে যা হয়েছে, তা ছিল শুধু শুরু। সরকার দাবি না মানলে আরও লাখো মানুষ দিল্লিতে আসবেন। এবার আমরা চুপ করে থাকব না।’ রাঙ্কা আরো দাবি করেন, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। আন্দোলনকে অশান্ত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

সিজেপির বিক্ষোভে উত্তপ্ত দিল্লি, বন্ধ ১৬টি মেট্রো স্টেশন

এদিকে চলমান বিক্ষোভের কারণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানীজুড়ে। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, প্রথমে জনপথ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ চারটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করা হয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোট ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

চলমান প্রতিবাদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ এবং সংসদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য অতিরিক্ত ২০ কম্পানি সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সরকারি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিমানযোগে এসব সিআরপিএফ সদস্যকে দ্রুত দিল্লিতে আনা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং চলমান বিক্ষোভ মোকাবিলায় এই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।

সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও সান হোসেতে বিক্ষোভ করেছেন একদল কর্মী। নিট পরীক্ষা পরিচালনায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে সোনম ওয়াংচুক নয়াদিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের অনশন করছেন। তার প্রতি সংহতি জানিয়ে মার্কিনভিত্তিক সংগঠন ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’-এর কর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির ইউনিয়ন স্কোয়ার এবং সান হোসেতে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে তারা জড়ো হন। এ সময় তাদের হাতে ওয়াংচুকের সমর্থনে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল এবং তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীদের জন্য অনলাইনে খাবার পাঠাচ্ছেন শত শত মানুষ

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের জন্য দেশজুড়ে শত শত মানুষ অনলাইনে খাবারের অর্ডার দিচ্ছেন।

বিক্ষোভস্থলের ব্যারিকেডের বাইরে টলস্টয় মার্গ ও সংসদ মার্গের সংযোগস্থলে মঙ্গলবার সকাল থেকে খাবার পৌঁছে দিতে ব্যস্ত ছিলেন ডেলিভারি কর্মীরা। ১৮ বছর বয়সী ডেলিভারি কর্মী আয়ু জ্যাকব জানান, তিনি এদিন বহুবার ওই স্থানে খাবার পৌঁছে দিতে এসেছেন।

প্রতি কয়েক মিনিট পরপর নতুন নতুন ডেলিভারি কর্মী বিক্ষোভস্থলে খাবার নিয়ে আসছিলেন। এসব খাবার কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নয়, বরং আন্দোলনকারীদের জন্য পাঠানো হচ্ছিল। খাবারের অর্ডারের মধ্যে ছিল পিৎজা, বার্গার, মোমো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের থালি। অনলাইনে অর্ডার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

প্রশ্নফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ আখ্যা মোদির, সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রশ্নফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ আখ্যা মোদির, সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার
সংগৃহীত ছবি

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আক্রমণ আরো জোরালো হয়েছে। এর জবাবে সরকারি সূত্রগুলো দাবি করেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানে একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নৈতিক দায় স্বীকার করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি একের পর এক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিরোধীদের দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেছে সরকারি সূত্র। তাদের দাবি, এই দাবি বাস্তব সমস্যার সমাধানের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের সামনে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। 

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সরকারি সূত্র জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) এ ঘটনার তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত ১৩ জনের বেশি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে এবং যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সূত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেছে। প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে 'ঘোর পাপ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে জানানো হয়। 

দিল্লির কেন্দ্রস্থলে নিট অনিয়ম নিয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো 'ঘোর পাপ'-এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউ যেন দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কেন্দ্র ও সব রাজ্য সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, এটি দেশের স্বার্থের বিষয়। তিনি এনডিএর সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে যোগাযোগ রাখতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের অন্যায় করা যাবে না। তিনি আরো বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ভুল পথে পরিচালিত করা সহজ হলেও তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা কঠিন।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিরোধীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে নিট ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিরোধীরা সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং তাদের ব্যবহার করছে। তিনি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন।

নিট ইস্যুতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিরোধীদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধীকে আটক করে। রাহুল গান্ধীর দাবি ছিল, সংসদে নিট ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সোমবারের বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। এদিকে নিট বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও মঙ্গলবার রাতে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। তিনি লেখেন, সরকার যখন বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে, তখন কংগ্রেস গণতান্ত্রিক আলোচনার পরিবর্তে রাজনৈতিক নাটকের পথ বেছে নিয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবি, কংগ্রেসের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান নয়। বরং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা তাদের উদ্দেশ্য।


 

মানহানির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী উইলসন

অনলাইন ডেস্ক
মানহানির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী উইলসন
ছবি: রয়টার্স

মানহানির অভিযোগে করা মামলা থেকে অস্ট্রেলিয়ার অভিনেত্রী রেবেল উইলসনকে অব্যাহতি দিয়েছেন সিডনির একটি আদালত। বুধবার আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মামলাটি করার কারণে বাদী পক্ষকে উইলসনের আইনি খরচ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলাটি করেছিলেন অস্ট্রেলীয় তরুণ অভিনেত্রী শার্লট ম্যাকইনেস। তিনি রেবেল উইলসনের চলচ্চিত্র 'দ্য ডেব'-এ অভিনয় করেছিলেন। ম্যাকইনেসের অভিযোগ ছিল, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে করা কয়েকটি পোস্টের মাধ্যমে উইলসন তার সম্মান ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। ওই পোস্টগুলোতে উইলসন অভিযোগ করেছিলেন, চলচ্চিত্র প্রযোজক আমান্ডা ঘোস্টের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির যে অভিযোগ ম্যাকইনেস করেছিলেন, পরে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সুবিধার জন্য সেই অভিযোগ থেকে সরে এসেছিলেন। তবে ম্যাকইনেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি ছিল, উইলসনের এসব বক্তব্য তার সুনাম নষ্ট করেছে এবং এগুলো মানহানিকর।

বুধবার বিচারক এলিজাবেথ রেপার মামলাটি বাতিল করে দেন। তিনি বলেন, ম্যাকইনেস ওই ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন—এমন ইঙ্গিত করাকে মানহানিকর বক্তব্য বলা যাবে না। বিচারক আরো বলেন, ঘটনাটি নিয়ে উইলসনের বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে মানহানির আইনি শর্ত পূরণ হয়নি। রায় অনুযায়ী, শার্লট ম্যাকইনেসকে রেবেল উইলসনের আইনি খরচ পরিশোধ করতে হবে। মামলাটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেদিন শার্লট ম্যাকইনেস রেবেল উইলসনের চলচ্চিত্র দ্য ডেব-এর প্রযোজক আমান্ডা ঘোস্টের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটতে যান। সাঁতার কাটার সময় ঠান্ডা পানির কারণে ঘোস্টের শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর তারা প্রযোজকের ভাড়া নেওয়া একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যান। ঘোস্ট গোসল করতে গেলে ম্যাকইনেস তার জন্য বাথটাবে পানি ভরে দেন। পরে শরীর গরম করার জন্য ম্যাকইনেস নিজেই বাথটাবে নামেন। কিছুক্ষণ পর ঘোস্টও সেখানে যান। তখন দুজনের পরনেই সাঁতারের পোশাক ছিল। রায় ঘোষণার সময় বিচারক রেপার এই ঘটনাটির কথাও উল্লেখ করেন। 

রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর রেবেল উইলসন ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দেন। তিনি বলেন, পুরো আইনি প্রক্রিয়া তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। একই সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা তাকে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

উইলসন আরো বলেন, 'এটি আমাকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে। তবে একই সঙ্গে এটি আমার দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বাসকে আরও শক্ত করেছে। আমি যা সঠিক মনে করি, তার পক্ষেই দাঁড়িয়ে জীবন কাটাতে চাই। পাশাপাশি এমন কাজ করে যেতে চাই, যা মানুষের মুখে হাসি এনে দেয়।' উইলসন তার সকল সমর্থককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'এই অধ্যায় শেষ হওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।' তিনি আরো বলেন, 'মামলার বিচারক এবং অস্ট্রেলিয়ার বিচারব্যবস্থার প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। তাদের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে।' এ ছাড়া তিনি বিচারক এলিজাবেথ রেপার এবং অস্ট্রেলিয়ার বিচারব্যবস্থার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

চলতি বছরের শুরুতে টানা তিন সপ্তাহ ধরে মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে রেবেল উইলসন দাবি করেন, বাথটাবের ঘটনার পরদিন শার্লট ম্যাকইনেস তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। উইলসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাকইনেস তাকে বলেছিলেন, আমান্ডা ঘোস্ট তাকে বাথটাবে নামতে এবং একসঙ্গে গোসল করতে বলেছিলেন, যা তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। এরপর উইলসন আবার ম্যাকইনেসকে ফোন করেন। তিনি ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। ওই ফোনালাপের পর উইলসন আমান্ডা ঘোস্টকে একটি খুদে বার্তা পাঠান। আদালতে সেই বার্তাও উপস্থাপন করা হয়। বার্তায় উইলসন লিখেছিলেন, শার্লট বলেছে সব ঠিক আছে। সে শুধু বলতে চেয়েছিল, এটি একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি ছিল। তবে সে বলেনি যে ব্যক্তিগতভাবে সে অস্বস্তি বোধ করেছে। মামলার রায়ের পর এখন পর্যন্ত শার্লট ম্যাকইনেসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনশনের ২৭ দিন

অসুস্থ সোনম ওয়াংচুককে দেখতে মাঝরাতে হাসপাতালে দুই মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অসুস্থ সোনম ওয়াংচুককে দেখতে মাঝরাতে হাসপাতালে দুই মন্ত্রী
ছবি : রয়টার্স।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং মেদান্ত মঙ্গলবার গভীর রাতে হাসপাতালে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সোনমের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তবে তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

২৬ দিন ধরে অনশনরত সোনমের সঙ্গে কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনও অনশন ভাঙেননি।

নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিন ধরে অনশন করছেন। যন্তর মন্তরে ২১ দিন অনশনের পর গত শনিবার পুলিশ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলী দিল্লি হাইকোর্টে তাকে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে মেদান্ত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংসদের চলমান অধিবেশনে বিরোধী দল পরীক্ষায় অনিয়ম ও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার সমালোচনা করেছে। সরকার জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।