কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানি থেকে সুরক্ষায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এ সম্প্রতি যুক্ত নতুন অধিকারসমূহের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম অধিকার বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সলিডারিটি সেন্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এর আওতায় কর্মক্ষেত্রে অভিযোগ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার পর্যালোচনা এবাং বাাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে সুপারিশমালা’ শীর্ষক অংশীজন সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম।
তিনি বলেন, “বিধিমালা থেকে পাওয়া প্রতিকার নিশ্ছিদ্র হওয়া জরুরি। সহিংসতা ও হয়রানির সংজ্ঞায়নে ‘কর্মক্ষেত্রে যেকোনো অগ্রহণযোগ্য আচরণ’ বলে এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি করা হয়েছে। শ্রম বিধিমালাকে অবশ্যই সুস্পষ্ট প্রক্রিয়াগত নির্দেশনার মাধ্যমে শ্রম আইনে প্রদত্ত অধিকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করতে হবে।”
মূল প্রবন্ধে নবগঠিত অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির (সিআরসি) আইনগত কাঠামো পর্যালোচনা করে এর স্বাধীনতা, প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার এবং কার্যকারিতা জোরদারে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করা হয়।
এতে বলা হয়, সংশোধিত শ্রম আইন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রমিককে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিলেও সিআরসির বর্তমান কাঠামো মূলত যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রণীত উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করে গঠিত।
এ ব্যাপারে শ্রম আদালতের জেষ্ঠ্য আইনজীবী সেলিম আহসান খান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি রোধে আমাদের জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী আইন প্রণয়ন করা জরুরি। অভন্তরীণ অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই অপরাধের বিচার হলে অপরাধের শাস্তি লঘু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততার মাধ্যমে সম্পন্ন করা জরুরি।”
প্রবন্ধে সিআরসির বহিরাগত সদস্যদের যোগ্যতা, নির্বাচন ও নিয়োগের সুস্পষ্ট বিধান, শ্রম আইনের ২৩ ও ২৪ ধারার বিভাগীয় কার্যধারার সঙ্গে সিআরসির সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নির্ধারণ এবং অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ, শুনানি, গোপনীয়তা, আপিল ও প্রতিশোধমূলক আচরণ থেকে সুরক্ষাসহ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিস্তারিত প্রক্রিয়াগত বিধান প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।
এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জামিল আনসার বলেন, ‘আইএলও কনভেনশন ১৯০-এ স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক। কিন্তু এই সংশোধনে এ ব্যাপারে সঠিক দিকনির্দেশনা নেই।’
তিনি বলেন, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয়ের জন্য ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাঞ্ছনীয়।
প্রবন্ধে আরো উল্লেখ করা হয়, নিয়োগকর্তা বা ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তা—যারা শ্রম আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘শ্রমিক’ নন—তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক প্রক্রিয়া প্রণয়ন এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনায় শাস্তি-সংক্রান্ত শ্রম আইনের নতুন ৩০৭ক ধারার প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন আরো সুস্পষ্ট করার সুপারিশ করা হয়।









