• ই-পেপার

দেশে ভারতের বাণিজ্যে ধস

সাক্ষাৎকার

ভারত থেকে আমদানি করলেও লাভ রপ্তানি করলেও লাভ

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি

অনলাইন ডেস্ক
ভারত থেকে আমদানি করলেও লাভ রপ্তানি করলেও লাভ
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি করলেও লাভ, রপ্তানি করলেও লাভ। সে কারণে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখা উচিত।

গতকাল বিকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে সেলফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। বিগত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি ১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নানামাত্রিক বাধার মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব বিষয়ে সিপিডির সম্মাননীয় এই ফেলো বলেন, ২০২১ সালের দিকে নানা কারণে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে ওই সময় ভারত যে ১৬ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য করেছে বাংলাদেশে, এর পেছনে ‘প্রাইস ইফেক্ট’ কাজ করেছে। এই ‘প্রাইস ইফেক্ট’ বাদ দিলে বাংলাদেশে ভারতের বাণিজ্য কমার পেছনে অন্য যে কারণগুলো রয়েছে- তার মধ্যে ইম্পোর্ট ডাইভারসিফিকেশনের বিষয় আছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ অন্য জায়গা থেকে আমদানি করছে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভালোবেসে তো কেউ আমদানি করে না, প্রতিযোগিতার বিচারে বেসরকারি খাত পণ্য আমদানি সূত্র বেছে নেয়। ভারত সময় সময় বিভিন্ন পণ্যে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কখনো চাল, কখনো পিঁয়াজে। বাংলাদেশ ওইসব পণ্যের চাহিদা মেটাতে বিকল্প গন্তব্য থেকে আমদানির পথ বেছে নিয়েছে। আবার (ভারত থেকে) স্থলপথে সুতা আমদানিও বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ। এসব কারণেও ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য কিছুটা সক্ষমতা হারিয়েছে। অন্যদিকে তারাও (ভারতও) স্থলপথে কিছু পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে এসব কারণেই। 

রাজনৈতিক সংকটের কারণে বাণিজ্যে স্থবিরতার বিষয়ে অর্থনীতির এই অধ্যাপক বলেন, ভারত থেকে আমদানি করে বেসরকারি খাত; রপ্তানিও করে বেসরকারি খাত। দেশটি থেকে যদি প্রতিযোগিতামূলক দরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করা যায়, তবে রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকব আমরা। ভারত থেকে আমদানির ফলশ্রুতিতে ভোক্তা কল্যাণ বৃদ্ধি পায় এবং আমদানি প্রতিস্থাপন ও রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়লে ভারতেরও বাণিজ্য বাড়ে। এখন দুই পক্ষের মধ্যে এই লাভজনক বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে গেলে উভয় পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। কিছু নন-ট্যারিফ বাধা আছে সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য যত উন্মুক্তভাবে করতে পারি ততই ভালো। 

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের আলোচনা বন্ধ চার বছর ধরে। হচ্ছে না যৌথ বাণিজ্য কমিশনের বৈঠকও। এ পরিস্থিতিতে বাণিজ্য গতি আনতে- কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এত কিছুর পরও ভারত বাংলাদেশকে শূন্য শুল্ক সুবিধা (জিরো ট্যারিফ) দিচ্ছে ২০১১ সাল থেকে। এর সুফল পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে ৪০ বছর লেগেছিল। জিরো ট্যারিফ সুবিধার কারণে ২০১৭ সালে ১ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য পরবর্তী ৫ বছরে, ২০২২ সালে সেটি দ্বিগুণ বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার হয়। এ সুবিধা কীভাবে আরও কাজে লাগানো যায় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি সুবিধা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যে ভোটাভুটি হবে- সেখানে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ ভোট দেবে। আমাদের প্রয়োজনেই এ দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ভারতে আমরা যে শূন্য শুল্ক পাচ্ছি সেই সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করতে- অর্থাৎ এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তীতে শূন্য শুল্ক সুবিধা সম্প্রসারণের আলোচনায় ভারতের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করতে পারি- যেমনটা করেছি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের সঙ্গে। মর্যাদার ভিত্তিতে, উইন-উইন সিচুয়েশন থেকে ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা যদি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে পারি, সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক করতে পারি- তবে সেটিও আমাদের বাণিজ্যের জন্য লাভজনক হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে শুধু সংখ্যায়, নতুন মূলধন কম

অনলাইন ডেস্ক
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে শুধু সংখ্যায়, নতুন মূলধন কম

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০২-এ। তবে এ বিস্তারের বিপরীতে নতুন করে আসা মূলধন বিনিয়োগের গতি তুলনামূলক কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট এফডিআই প্রবাহের বড় অংশই আসছে আগের মুনাফা বা পুনর্বিনিয়োগ থেকে, নতুন বিনিয়োগ হিসেবে নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রতিদিন জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৬০২টি প্রতিষ্ঠান এফডিআই সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের আওতায় রয়েছে। গত কয়েক বছরে এ সংখ্যা বেড়েছে, যা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে বিদেশি অংশগ্রহণের বিস্তার নির্দেশ করে। তবে প্রকৃত হিসাবে নতুন বিনিয়োগের অংশ সীমিত।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে মোট বিনিয়োগের মধ্যে প্রায় ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ এসেছে পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা থেকে। অর্থাৎ, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্জিত লাভের বড় অংশ দেশে রেখে আবার বিনিয়োগ করছেন। অন্যদিকে নতুন করে আসা ইক্যুইটি মূলধনের অংশ প্রায় ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের অংশ প্রায় ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা মূলত মাতৃপ্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা হিসেবে আসে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও বিনিয়োগ প্রবাহে বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এফডিআই প্রবাহ বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে এর বড় অংশ গেছে উন্নত দেশগুলোতে, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। বিপরীতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এফডিআই প্রবাহ প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ আরও চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, দেশে বিদেশি বিনিয়োগের উপস্থিতি ও বিস্তার বাড়লেও নতুন মূলধন প্রবাহের গতি এখনো প্রত্যাশিত নয়। বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক হলেও দীর্ঘমেয়াদে বড় আকারের বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করতে নীতিগত ও কাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়া ইতিবাচক, তবে নতুন কোনো ‘ফ্রেশ টাকা’ বা মূলধন না আসা অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা। বিনিয়োগের অনেকাংশই আসছে পুরোনোদের পুনর্বিনিয়োগ থেকে। বিশ্বব্যাপী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ কমায় আমাদের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বড় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পেতে হলে শুধু পুরোনোদের ওপর ভরসা না করে, ব্যবসা সহজ করার মাধ্যমে নতুন বিদেশি কোম্পানি আকর্ষণ করতে হবে।

১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যে দেশ থেকে

অনলাইন ডেস্ক
১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যে দেশ থেকে

দেশে বিদায়ি অর্থবছরের ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি থেকে। যা মোট রেমিট্যান্স আয়ের ১৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের ১১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। 

দেশে পৃথিবীর শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬২ শতাংশ রেমিট্যান্স। দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। 

মূলত এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী অবস্থান করায় এসব দেশ থেকে প্রবাস আয়ের বড় অংশ এসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৩২২ কোটি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। 
 

৬ কৌশলে পোশাক খাতকে রূপান্তরের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ কৌশলে পোশাক খাতকে রূপান্তরের আহ্বান

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুর্বল বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা, সীমিত বাজার বৈচিত্র্য, প্রযুক্তিগত পিছিয়ে থাকা এবং এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মাসরুর রিয়াজ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্স (বায়লা) আয়োজিত ‘বায়লা ফিউচার সামিট-২০২৬’-এর এক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, চার দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে উত্তরণের পেছনে এই খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। এটি দেশের বৃহত্তম উৎপাদন খাত, সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের উৎস এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান মাধ্যম।

তবে বৈশ্বিক বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সাফল্যের ওপর নির্ভর করে থাকলে হবে না। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি গ্রহণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

ড. রিয়াজ পোশাক খাতকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিতে ছয়টি কৌশলের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য সুবিধা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, লজিস্টিকস অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ, টেকসই উন্নয়ন ও সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ গড়ে তোলা।

তার মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমানে দেশের লজিস্টিকস ও বন্দর খাতে। বিশ্বব্যাংকের লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ও ভারত এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহনে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগে, যেখানে অনেক প্রতিযোগী দেশে একই কাজ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়। বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বে টার্মিনালসহ নতুন বন্দর অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্যের অভাবকেও বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন এই অর্থনীতিবিদ। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি যায়। ফলে এসব অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তিনি জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ নতুন বাজারে প্রবেশ বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পণ্য ও ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

ড. রিয়াজ বলেন, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ পোশাক এখন ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক হলেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে এর অংশ মাত্র ২৮ শতাংশ। বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ খাতে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

এলডিসি উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না নিলে বাংলাদেশের বর্তমান রপ্তানির ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তার মতে, প্রযুক্তি, দক্ষতা, বাজার বৈচিত্র্য ও লজিস্টিকস খাতে দ্রুত সংস্কার কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আগামী দশকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হবে। তবে সেই যাত্রার প্রধান শর্ত হলো বিশ্বমানের বন্দর ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।