• ই-পেপার

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে শুধু সংখ্যায়, নতুন মূলধন কম

সাক্ষাৎকার

ভারত থেকে আমদানি করলেও লাভ রপ্তানি করলেও লাভ

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি

অনলাইন ডেস্ক
ভারত থেকে আমদানি করলেও লাভ রপ্তানি করলেও লাভ
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি করলেও লাভ, রপ্তানি করলেও লাভ। সে কারণে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখা উচিত।

গতকাল বিকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে সেলফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। বিগত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি ১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নানামাত্রিক বাধার মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব বিষয়ে সিপিডির সম্মাননীয় এই ফেলো বলেন, ২০২১ সালের দিকে নানা কারণে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে ওই সময় ভারত যে ১৬ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য করেছে বাংলাদেশে, এর পেছনে ‘প্রাইস ইফেক্ট’ কাজ করেছে। এই ‘প্রাইস ইফেক্ট’ বাদ দিলে বাংলাদেশে ভারতের বাণিজ্য কমার পেছনে অন্য যে কারণগুলো রয়েছে- তার মধ্যে ইম্পোর্ট ডাইভারসিফিকেশনের বিষয় আছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ অন্য জায়গা থেকে আমদানি করছে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভালোবেসে তো কেউ আমদানি করে না, প্রতিযোগিতার বিচারে বেসরকারি খাত পণ্য আমদানি সূত্র বেছে নেয়। ভারত সময় সময় বিভিন্ন পণ্যে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কখনো চাল, কখনো পিঁয়াজে। বাংলাদেশ ওইসব পণ্যের চাহিদা মেটাতে বিকল্প গন্তব্য থেকে আমদানির পথ বেছে নিয়েছে। আবার (ভারত থেকে) স্থলপথে সুতা আমদানিও বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ। এসব কারণেও ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য কিছুটা সক্ষমতা হারিয়েছে। অন্যদিকে তারাও (ভারতও) স্থলপথে কিছু পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে এসব কারণেই। 

রাজনৈতিক সংকটের কারণে বাণিজ্যে স্থবিরতার বিষয়ে অর্থনীতির এই অধ্যাপক বলেন, ভারত থেকে আমদানি করে বেসরকারি খাত; রপ্তানিও করে বেসরকারি খাত। দেশটি থেকে যদি প্রতিযোগিতামূলক দরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করা যায়, তবে রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকব আমরা। ভারত থেকে আমদানির ফলশ্রুতিতে ভোক্তা কল্যাণ বৃদ্ধি পায় এবং আমদানি প্রতিস্থাপন ও রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়লে ভারতেরও বাণিজ্য বাড়ে। এখন দুই পক্ষের মধ্যে এই লাভজনক বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে গেলে উভয় পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। কিছু নন-ট্যারিফ বাধা আছে সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য যত উন্মুক্তভাবে করতে পারি ততই ভালো। 

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের আলোচনা বন্ধ চার বছর ধরে। হচ্ছে না যৌথ বাণিজ্য কমিশনের বৈঠকও। এ পরিস্থিতিতে বাণিজ্য গতি আনতে- কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এত কিছুর পরও ভারত বাংলাদেশকে শূন্য শুল্ক সুবিধা (জিরো ট্যারিফ) দিচ্ছে ২০১১ সাল থেকে। এর সুফল পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে ৪০ বছর লেগেছিল। জিরো ট্যারিফ সুবিধার কারণে ২০১৭ সালে ১ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য পরবর্তী ৫ বছরে, ২০২২ সালে সেটি দ্বিগুণ বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার হয়। এ সুবিধা কীভাবে আরও কাজে লাগানো যায় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি সুবিধা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যে ভোটাভুটি হবে- সেখানে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ ভোট দেবে। আমাদের প্রয়োজনেই এ দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ভারতে আমরা যে শূন্য শুল্ক পাচ্ছি সেই সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করতে- অর্থাৎ এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তীতে শূন্য শুল্ক সুবিধা সম্প্রসারণের আলোচনায় ভারতের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করতে পারি- যেমনটা করেছি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের সঙ্গে। মর্যাদার ভিত্তিতে, উইন-উইন সিচুয়েশন থেকে ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা যদি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে পারি, সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক করতে পারি- তবে সেটিও আমাদের বাণিজ্যের জন্য লাভজনক হবে।

দেশে ভারতের বাণিজ্যে ধস

অনলাইন ডেস্ক
দেশে ভারতের বাণিজ্যে ধস

নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও স্বাভাবিক হচ্ছে না বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য। এখনো কাটছে না রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। মাঠপর্যায়ের শুল্ক স্টেশন থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী উচ্চপর্যায়-সবখানেই যেন দুই দেশের মধ্যে অনাস্থার অদৃশ্য দেয়াল! এই ‘অলিখিত’ বাধা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। বাংলাদেশে ভারতের বাণিজ্যে রীতিমতো ধস নেমেছে। গত পাঁচ বছরে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে এ বাণিজ্য ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে। বাণিজ্য কমেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। অপরদিকে শুধু গত এক বছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ২ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ১ দশমিক      ৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক এম কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দুটি দেশের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হলে যে ব্যবসাবাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার বড় প্রমাণ হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের আমদানি-রপ্তানির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। এ পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে, ভারত যেমন বাংলাদেশের মতো বড় বাজার হারাচ্ছে, তেমনই ভারতের মতো সম্ভাবনাময় বাজারে রপ্তানি কমছে বাংলাদেশের। এখানে দেখতে হবে, এ বাণিজ্য হ্রাসের কারণে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি কতটা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই চিফ ইকোনমিস্ট বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করত রাজনৈতিক দূরত্বের কারণে এখন তা বিকল্প গন্তব্য থেকে আনা হচ্ছে। বিকল্প দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে গিয়ে যদি ভারতের চেয়ে বেশি দাম দিতে হয় তবে বাংলাদেশ ক্ষতির মুখে পড়বে। দুয়েক বছরের পরিসংখ্যানে এ ক্ষতি খুব বেশি স্পষ্ট না হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি আমদানি ব্যয় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচও বাড়িয়ে দেবে। এখন পারস্পরিক স্বার্থেই রাজনীতিকে দূরে রেখে উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য ইস্যু নিয়ে গত ৪ বছর ধরে বৈঠক হয় না সচিব পর্যায়ের। সাড়ে ৩ বছর ধরে বাণিজ্য সম্পর্কিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক হচ্ছে না। দুই দেশের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) চুক্তি এবং ভারত থেকে চাল, গম, পিঁয়াজ, ডালসহ নিত্যপণ্য আমদানিতে এমওইউ স্বাক্ষরের আলোচনাও অলিখিতভাবে স্থগিত হয়ে গেছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে বর্ডার হাটের কার্যক্রম। স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে রয়েছে বিধিনিষেধ। এমনকি ভারতের বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রানশিপম্যান্ট সুবিধাও বাতিল হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ভারতের অর্থবছরের হিসাব হয় ১ এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত। ফলে দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় আমদানি-রপ্তানির যে চিত্র তা আসলে গত মার্চ পর্যন্ত এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের। বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর উভয়পক্ষ বাণিজ্য বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের রপ্তানি বেশি কমায় দুই দেশের মধ্যকার বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি আগের চেয়ে কিছুটা কমে এসেছে বলে মনে করছেন আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালউদ্দিন শিমুল বলেন, ‘দুই বছর আগেও ভারতের বন্দর ব্যবহার করে ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য রপ্তানিতে এ রুট ব্যবহার করতেন আমাদের গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ। এমনকি স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্লাস্টিক ও পাটসহ অন্যান্য দেশীয় পণ্য ভারতে রপ্তানিও নানান অজুহাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে বাংলাদেশে কিছু গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেও ভারতের সুতা ও কাঁচামালের চাহিদা কিছুটা কমেছে।’

এ বিষয়ে নিট তৈরি পোশাকশিল্পের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘গত এক বছরে দেশে প্রায় ৪০০ গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশির ভাগ কারখানাই ছিল ছোট ও মাঝারি আকারের, যাদের কাঁচামাল আমদানির প্রধান উৎস ছিল ভারত। ফলে এ কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কমেছে। এই অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে যত দ্রুত সম্ভব দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের সচিব পর্যায়ে বসে টেবিল টক শুরু করা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ককে রাজনীতির বাইরে রেখে স্বাভাবিক করা উচিত।’

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ও সাবেক উপ-উপাচার্য ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য ঘাটতি আছে-সেটি কমানোর জন্য অবশ্যই আমাদের কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে বাণিজ্যিক যে রূপান্তর ঘটেছে- সে জায়গাগুলোতে দরকষাকষি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। আমরা দেখেছি, দরকষাকষির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দুর্বলতা রয়েছে। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। এ ছাড়া বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমাদের যে অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধা সেখানেও দুর্বলতা আছে। এর ফলে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের টেস্টিংসহ ছোট ছোট নানা ইস্যুতেও বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেনাপোল দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে টেস্টিং ছাড়পত্রে অনেক সময় লাগে। এসব অশুল্ক বাধা দূরীকরণেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, অর্থাৎ দরকষাকষিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

পাঁচ বছরে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের চিত্র

                অর্থবছর            বাংলাদেশে ভারতের            ভারতে বাংলাদেশের            বাংলাদেশের বাণিজ্য

                (এপ্রিল-মার্চ)              রপ্তানি                          রপ্তানি                                    ঘাটতি      

                ২০২১-২২     ১৬১৫৬ মিলিয়ন ডলার          ১৯৭৭ মিলিয়ন ডলার            ১৪১৭৯ মিলিয়ন ডলার               

                ২০২২-২৩    ১২২১৫ মিলিয়ন ডলার           ২০২১ মিলিয়ন ডলার            ১০১৯৪ মিলিয়ন ডলার               

                ২০২৩-২৪    ১১০৬৫ মিলিয়ন ডলার           ১৮৪৪ মিলিয়ন ডলার            ৯২২১ মিলিয়ন ডলার  

                ২০২৪-২৫    ১১৪৮৫ মিলিয়ন ডলার            ২০০৫ মিলিয়ন ডলার           ৯৪৮০ মিলিয়ন ডলার

                ২০২৫-২৬    ১০৫৮৭ মিলিয়ন ডলার            ১৭৮০ মিলিয়ন ডলার           ৮৮০৭ মিলিয়ন ডলার

                তথ্য : ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর

১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যে দেশ থেকে

অনলাইন ডেস্ক
১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যে দেশ থেকে

দেশে বিদায়ি অর্থবছরের ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি থেকে। যা মোট রেমিট্যান্স আয়ের ১৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের ১১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। 

দেশে পৃথিবীর শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬২ শতাংশ রেমিট্যান্স। দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। 

মূলত এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী অবস্থান করায় এসব দেশ থেকে প্রবাস আয়ের বড় অংশ এসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৩২২ কোটি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। 
 

৬ কৌশলে পোশাক খাতকে রূপান্তরের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ কৌশলে পোশাক খাতকে রূপান্তরের আহ্বান

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুর্বল বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা, সীমিত বাজার বৈচিত্র্য, প্রযুক্তিগত পিছিয়ে থাকা এবং এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মাসরুর রিয়াজ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্স (বায়লা) আয়োজিত ‘বায়লা ফিউচার সামিট-২০২৬’-এর এক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, চার দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে উত্তরণের পেছনে এই খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। এটি দেশের বৃহত্তম উৎপাদন খাত, সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের উৎস এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান মাধ্যম।

তবে বৈশ্বিক বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সাফল্যের ওপর নির্ভর করে থাকলে হবে না। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি গ্রহণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

ড. রিয়াজ পোশাক খাতকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিতে ছয়টি কৌশলের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য সুবিধা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, লজিস্টিকস অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ, টেকসই উন্নয়ন ও সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ গড়ে তোলা।

তার মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমানে দেশের লজিস্টিকস ও বন্দর খাতে। বিশ্বব্যাংকের লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ও ভারত এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহনে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগে, যেখানে অনেক প্রতিযোগী দেশে একই কাজ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়। বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বে টার্মিনালসহ নতুন বন্দর অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্যের অভাবকেও বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন এই অর্থনীতিবিদ। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি যায়। ফলে এসব অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তিনি জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ নতুন বাজারে প্রবেশ বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পণ্য ও ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

ড. রিয়াজ বলেন, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ পোশাক এখন ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক হলেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে এর অংশ মাত্র ২৮ শতাংশ। বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ খাতে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

এলডিসি উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না নিলে বাংলাদেশের বর্তমান রপ্তানির ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তার মতে, প্রযুক্তি, দক্ষতা, বাজার বৈচিত্র্য ও লজিস্টিকস খাতে দ্রুত সংস্কার কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আগামী দশকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হবে। তবে সেই যাত্রার প্রধান শর্ত হলো বিশ্বমানের বন্দর ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।