• ই-পেপার

সাক্ষাৎকার

ভারত থেকে আমদানি করলেও লাভ রপ্তানি করলেও লাভ

  • অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি

শিল্প খাতের ৬ বছরে প্রথমবারের মতো উৎপাদন কমেছে

অনলাইন ডেস্ক
শিল্প খাতের ৬ বছরে প্রথমবারের মতো উৎপাদন কমেছে

জ্বালানি সংকট, দুর্বল রপ্তানি চাহিদা ও উচ্চ ব্যাংক ঋণের খরচের চাপে ধুঁকছে দেশের শিল্প খাত। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে উৎপাদন কমেছে কারখানাগুলোতে। ২০২০ সালের করোনাকালের পর দেশে শিল্প উৎপাদনে এমন বড় পতন এ প্রথম।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সোমবার প্রকাশিত সাময়িক উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে। অথচ এক বছর আগে একই সময়ে এ খাতে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

ডেইলি স্টার এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে, ২০২০ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশব্যাপী কোভিড লকডাউনের সময় উৎপাদন ১৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এরপর সাম্প্রতিক এ সংকোচনের আগ পর্যন্ত পরবর্তী প্রান্তিকগুলোতে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল।

অর্থনীতিবিদরা সাম্প্রতিক এ পতনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেছেন, যা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহিত করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. দ্বীন ইসলাম বলেন, এ সংকোচন কোনো সাময়িক পতন নয়, বরং এটি আমাদের অর্থনীতির গভীরে প্রোথিত কাঠামোগত দুর্বলতাকেই প্রতিফলিত করে। শিল্পের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির হার একটি স্পষ্ট সংকেত যে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতার কারণে উৎপাদন ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি সম্ভবত রপ্তানি কমার সঙ্গে সম্পর্কিত। শিল্প খাতের এ মন্দার প্রভাবে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সেবা খাত, যা জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি—সেটির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে দ্রুত কমে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ হয়েছে। এটি মূলত পুরো অর্থনীতির সর্বব্যাপী দুর্বল চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলছে।

অধ্যাপক দ্বীন ইসলাম মনে করেন, সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ ও বাজেট সুবিধা উদ্যোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে এসব উদ্যোগের যথাযথ বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় পরিপূরক সংস্কারের ওপর। ভর্তুকিযুক্ত ঋণ দেওয়া জরুরি, তবে তা যথেষ্ট নয়। জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকলে উৎপাদনকারীরা উৎপাদন বাড়াতে পারবেন না। আসল চ্যালেঞ্জ হলো আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং একটি স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন একটি ‘ধীরে চলো’ বা পর্যবেক্ষণমূলক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে বাধ্য করে। বিনিয়োগকারীরা যখন নীতিমালার বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন না, তখন স্বাভাবিকভাবেই বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যায় এবং প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে তার প্রতিফলন ঘটে।’

এর আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৬ অর্থবছরের জন্য দেশের সাময়িক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল, যা আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের চেয়ে কিছুটা বেশি।

বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে মিশ্র পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক তাদের ২০২৬ সালের জুনের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে দীর্ঘ সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হওয়ার আভাস দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) শিল্প খাতের মন্থর গতি এবং অব্যাহত অনিশ্চয়তার কারণে তাদের পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ করেছে।

দেশে ভারতের বাণিজ্যে ধস

অনলাইন ডেস্ক
দেশে ভারতের বাণিজ্যে ধস

নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও স্বাভাবিক হচ্ছে না বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য। এখনো কাটছে না রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। মাঠপর্যায়ের শুল্ক স্টেশন থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী উচ্চপর্যায়-সবখানেই যেন দুই দেশের মধ্যে অনাস্থার অদৃশ্য দেয়াল! এই ‘অলিখিত’ বাধা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। বাংলাদেশে ভারতের বাণিজ্যে রীতিমতো ধস নেমেছে। গত পাঁচ বছরে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে এ বাণিজ্য ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে। বাণিজ্য কমেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। অপরদিকে শুধু গত এক বছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ২ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ১ দশমিক      ৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক এম কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দুটি দেশের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হলে যে ব্যবসাবাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার বড় প্রমাণ হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের আমদানি-রপ্তানির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। এ পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে, ভারত যেমন বাংলাদেশের মতো বড় বাজার হারাচ্ছে, তেমনই ভারতের মতো সম্ভাবনাময় বাজারে রপ্তানি কমছে বাংলাদেশের। এখানে দেখতে হবে, এ বাণিজ্য হ্রাসের কারণে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি কতটা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই চিফ ইকোনমিস্ট বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করত রাজনৈতিক দূরত্বের কারণে এখন তা বিকল্প গন্তব্য থেকে আনা হচ্ছে। বিকল্প দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে গিয়ে যদি ভারতের চেয়ে বেশি দাম দিতে হয় তবে বাংলাদেশ ক্ষতির মুখে পড়বে। দুয়েক বছরের পরিসংখ্যানে এ ক্ষতি খুব বেশি স্পষ্ট না হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি আমদানি ব্যয় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচও বাড়িয়ে দেবে। এখন পারস্পরিক স্বার্থেই রাজনীতিকে দূরে রেখে উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য ইস্যু নিয়ে গত ৪ বছর ধরে বৈঠক হয় না সচিব পর্যায়ের। সাড়ে ৩ বছর ধরে বাণিজ্য সম্পর্কিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক হচ্ছে না। দুই দেশের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) চুক্তি এবং ভারত থেকে চাল, গম, পিঁয়াজ, ডালসহ নিত্যপণ্য আমদানিতে এমওইউ স্বাক্ষরের আলোচনাও অলিখিতভাবে স্থগিত হয়ে গেছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে বর্ডার হাটের কার্যক্রম। স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে রয়েছে বিধিনিষেধ। এমনকি ভারতের বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রানশিপম্যান্ট সুবিধাও বাতিল হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ভারতের অর্থবছরের হিসাব হয় ১ এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত। ফলে দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় আমদানি-রপ্তানির যে চিত্র তা আসলে গত মার্চ পর্যন্ত এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের। বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর উভয়পক্ষ বাণিজ্য বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের রপ্তানি বেশি কমায় দুই দেশের মধ্যকার বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি আগের চেয়ে কিছুটা কমে এসেছে বলে মনে করছেন আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালউদ্দিন শিমুল বলেন, ‘দুই বছর আগেও ভারতের বন্দর ব্যবহার করে ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য রপ্তানিতে এ রুট ব্যবহার করতেন আমাদের গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ। এমনকি স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্লাস্টিক ও পাটসহ অন্যান্য দেশীয় পণ্য ভারতে রপ্তানিও নানান অজুহাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে বাংলাদেশে কিছু গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেও ভারতের সুতা ও কাঁচামালের চাহিদা কিছুটা কমেছে।’

এ বিষয়ে নিট তৈরি পোশাকশিল্পের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘গত এক বছরে দেশে প্রায় ৪০০ গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশির ভাগ কারখানাই ছিল ছোট ও মাঝারি আকারের, যাদের কাঁচামাল আমদানির প্রধান উৎস ছিল ভারত। ফলে এ কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কমেছে। এই অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে যত দ্রুত সম্ভব দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের সচিব পর্যায়ে বসে টেবিল টক শুরু করা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ককে রাজনীতির বাইরে রেখে স্বাভাবিক করা উচিত।’

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ও সাবেক উপ-উপাচার্য ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য ঘাটতি আছে-সেটি কমানোর জন্য অবশ্যই আমাদের কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে বাণিজ্যিক যে রূপান্তর ঘটেছে- সে জায়গাগুলোতে দরকষাকষি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। আমরা দেখেছি, দরকষাকষির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দুর্বলতা রয়েছে। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। এ ছাড়া বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমাদের যে অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধা সেখানেও দুর্বলতা আছে। এর ফলে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের টেস্টিংসহ ছোট ছোট নানা ইস্যুতেও বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেনাপোল দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে টেস্টিং ছাড়পত্রে অনেক সময় লাগে। এসব অশুল্ক বাধা দূরীকরণেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, অর্থাৎ দরকষাকষিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

পাঁচ বছরে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের চিত্র

                অর্থবছর            বাংলাদেশে ভারতের            ভারতে বাংলাদেশের            বাংলাদেশের বাণিজ্য

                (এপ্রিল-মার্চ)              রপ্তানি                          রপ্তানি                                    ঘাটতি      

                ২০২১-২২     ১৬১৫৬ মিলিয়ন ডলার          ১৯৭৭ মিলিয়ন ডলার            ১৪১৭৯ মিলিয়ন ডলার               

                ২০২২-২৩    ১২২১৫ মিলিয়ন ডলার           ২০২১ মিলিয়ন ডলার            ১০১৯৪ মিলিয়ন ডলার               

                ২০২৩-২৪    ১১০৬৫ মিলিয়ন ডলার           ১৮৪৪ মিলিয়ন ডলার            ৯২২১ মিলিয়ন ডলার  

                ২০২৪-২৫    ১১৪৮৫ মিলিয়ন ডলার            ২০০৫ মিলিয়ন ডলার           ৯৪৮০ মিলিয়ন ডলার

                ২০২৫-২৬    ১০৫৮৭ মিলিয়ন ডলার            ১৭৮০ মিলিয়ন ডলার           ৮৮০৭ মিলিয়ন ডলার

                তথ্য : ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে শুধু সংখ্যায়, নতুন মূলধন কম

অনলাইন ডেস্ক
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে শুধু সংখ্যায়, নতুন মূলধন কম

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০২-এ। তবে এ বিস্তারের বিপরীতে নতুন করে আসা মূলধন বিনিয়োগের গতি তুলনামূলক কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট এফডিআই প্রবাহের বড় অংশই আসছে আগের মুনাফা বা পুনর্বিনিয়োগ থেকে, নতুন বিনিয়োগ হিসেবে নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রতিদিন জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৬০২টি প্রতিষ্ঠান এফডিআই সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের আওতায় রয়েছে। গত কয়েক বছরে এ সংখ্যা বেড়েছে, যা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে বিদেশি অংশগ্রহণের বিস্তার নির্দেশ করে। তবে প্রকৃত হিসাবে নতুন বিনিয়োগের অংশ সীমিত।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে মোট বিনিয়োগের মধ্যে প্রায় ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ এসেছে পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা থেকে। অর্থাৎ, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্জিত লাভের বড় অংশ দেশে রেখে আবার বিনিয়োগ করছেন। অন্যদিকে নতুন করে আসা ইক্যুইটি মূলধনের অংশ প্রায় ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের অংশ প্রায় ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা মূলত মাতৃপ্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা হিসেবে আসে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও বিনিয়োগ প্রবাহে বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এফডিআই প্রবাহ বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে এর বড় অংশ গেছে উন্নত দেশগুলোতে, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। বিপরীতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এফডিআই প্রবাহ প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ আরও চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, দেশে বিদেশি বিনিয়োগের উপস্থিতি ও বিস্তার বাড়লেও নতুন মূলধন প্রবাহের গতি এখনো প্রত্যাশিত নয়। বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক হলেও দীর্ঘমেয়াদে বড় আকারের বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করতে নীতিগত ও কাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়া ইতিবাচক, তবে নতুন কোনো ‘ফ্রেশ টাকা’ বা মূলধন না আসা অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা। বিনিয়োগের অনেকাংশই আসছে পুরোনোদের পুনর্বিনিয়োগ থেকে। বিশ্বব্যাপী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ কমায় আমাদের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বড় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পেতে হলে শুধু পুরোনোদের ওপর ভরসা না করে, ব্যবসা সহজ করার মাধ্যমে নতুন বিদেশি কোম্পানি আকর্ষণ করতে হবে।

১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যে দেশ থেকে

অনলাইন ডেস্ক
১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যে দেশ থেকে

দেশে বিদায়ি অর্থবছরের ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি থেকে। যা মোট রেমিট্যান্স আয়ের ১৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের ১১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। 

দেশে পৃথিবীর শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬২ শতাংশ রেমিট্যান্স। দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। 

মূলত এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী অবস্থান করায় এসব দেশ থেকে প্রবাস আয়ের বড় অংশ এসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৩২২ কোটি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।