• ই-পেপার

সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ই নেই বিশ্বকাপের একাদশের লড়াইয়ে

বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ শেষ, কবে থেকে শুরু ক্লাব ফুটবল

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ শেষ, কবে থেকে শুরু ক্লাব ফুটবল
সংগৃহীত ছবি

স্পেনের বিশ্বজয়ের মধ্য দিয়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের পর্দা নামলেও ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘশ্বাস ফেলার ফুরসত নেই। প্রাক্-মৌসুম সফর, দলবদলের উত্তাপ আর নতুন তারকাদের অভিষেকের সুবাস নিয়ে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবল আবারও ফিরছে সবুজ গালিচায়। কোন লিগ কবে মাঠে গড়াচ্ছে এবং কার প্রতিপক্ষ কে—একনজরে দেখে নেওয়া যাক ইউরোপিয়ান ফুটবলের পূর্ণাঙ্গ সূচি।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ (ইংল্যান্ড)

মিকেল আরতেতার অধীন গত মৌসুমে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ট্রফি জিতেছিল আর্সেনাল। নতুন মৌসুমে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে গানার্সরা। চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে উঠে আসা কভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে ২১ আগস্ট রাত ১টায় মাঠে গড়াবে লিগের প্রথম ম্যাচ।

কমিউনিটি শিল্ড: লিগ শুরুর আগে ১৬ আগস্ট রাত ৮টায় মুখোমুখি হবে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি।
প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচ: ২১ আগস্ট ২০২৬ (আর্সেনাল বনাম কভেন্ট্রি সিটি)

লা লিগা (স্পেন)

হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে এবারও শিরোপার মিশনে নামছে বার্সেলোনা। তবে তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ ও অন্যান্য জায়ান্টরা।

উদ্বোধনী ম্যাচ: ১৫ আগস্ট রাত ১১টা ৩০ মিনিটে আলাভেস ও হেতাফের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে লা লিগার।

লিগ আঁ (ফ্রান্স)

ফরাসি ফুটবলে পিএসজির দীর্ঘদিনের আধিপত্য বজায় থাকলেও ব্যবধান কমাতে কোমর বেঁধে নেমেছে মার্সেই, মোনাকো ও লঁসের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা। অন্যদিকে লিগ টু থেকে পদোন্নতি পেয়ে লিগ আঁ-তে জায়গা করে নিয়েছে ত্রোয়া ও লে মান।

উদ্বোধনী ম্যাচ: ২১ আগস্ট মার্সেই ও স্ট্রাসবুর্গের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ফরাসি লিগ।

সিরি ‘আ’ (ইতালি)

বুকে স্কুডেত্তোর ব্যাজ সেঁটে নতুন মৌসুমে নামছে ইন্টার মিলান। তবে মুকুট ধরে রাখা সহজ হবে না, কারণ জুভেন্টাস, এসি মিলান ও নাপোলির মতো ঐতিহ্যবাহী দলগুলো শক্তিশালী দল গড়ে প্রস্তুত। এছাড়া নতুন মৌসুমে সিরি ‘আ’-তে যোগ দিয়েছে ভেনেজিয়া, ফ্রোসিনোনে ও মোনৎসা।

উদ্বোধনী ম্যাচ: ২২ আগস্ট রাত ১০টা ৩০ মিনিটে চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান ও মোনৎসার ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে ইতালিয়ান লিগ।

বুন্দেসলিগা (জার্মানি)

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ নতুন মৌসুমেও শিরোপা ধরে রাখতে মুখিয়ে আছে, তবে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ও বায়ার লেভারকুসেন বসে নেই। এবারের বুন্দেসলিগার অন্যতম বড় আকর্ষণ এসভি এলভার্সবার্গের ঐতিহাসিক অভিষেক। ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জার্মানির শীর্ষ লিগে খেলবে তারা, সঙ্গে পদোন্নতি পেয়ে ফিরেছে শালকে ০৪ ও এসসি পাদেরবর্নও।

জার্মান সুপার কাপ: ২২ আগস্ট সুপার কাপের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুসিয়া।
উদ্বোধনী ম্যাচ: ২৮ আগস্ট বায়ার্ন মিউনিখ ও স্টুটগার্টের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বুন্দেসলিগা।

উয়েফা সুপার কাপ

তারিখ: ১২ আগস্ট ২০২৬
পিএসজি বনাম অ্যাস্টন ভিলা 
 

রোজারিওতে ফিরলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
রোজারিওতে ফিরলেন মেসি
প্রাইভেট জেটে বাসায় ফিরলেন মেসি। ছবি : রয়টার্স

মেটলাইফে হৃদয় পুড়েছে আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারায় টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতা হয়নি তাদের। ম্যাচ হেরে ভীষণ কষ্ট পাওয়ার বিষয়টি এক খোলা চিঠিতে জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। ৮ বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী বলেন, ‘কষ্টটা অনেক গভীর, ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে।’

আর্জেন্টাইনদের মুখে হাসি এনে দিতে না পারায় হয়তো সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফেরেননি মেসি। অভিমানকে বুকে পাথরচাপা দিয়ে অবশ্য গতকাল দেশে ফিরেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তবে সতীর্থদের মতো বুয়েনস অ্যাইরেসে নয়, ফিরেছেন নিজ শহর রোজারিওতে। ফ্লোরিডা থেকে নিজের প্রাইভেট জেটে রোজারিওতে ফেরেন তিনি।

ফেরার সময় মেসির সঙ্গে ছিল যথারীতি তার পরিবার। তার আসার সংবাদে অনেকে অপেক্ষায় থাকলেও কোনো পাবলিক বক্তব্য রাখেননি তিনি। প্রাইভেট জেট থেকে নেমেই সাদা এসইউভি গাড়িতে বাড়ির পথে রওনা দেন মেসি। বাসায় অপেক্ষায় ছিলেন ৬৮ বছর বয়সী তার বাবা জর্জ মেসি। বর্তমানে তিনি লক্ষণ স্পষ্ট না হওয়া এক রোগে ভুগছেন।

 

মেসির অপেক্ষায় থাকা ভক্ত-সমর্থক তার জার্সি ও প্ল্যাকার্ড হাতে এসেছিলেন। তাদের একজনের হাতে ছিল এমন বার্তা, ‘মেসি, তুমি কিংবদন্তি। আমাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। পুরো দেশ তোমাকে ভালোবাসে।’

বাড়িতে কত দিন থাকবেন মেসি তা জানা যায়নি। তবে জুলাইয়ের শেষ কিংবা আগস্টের শুরুতে ইন্টার মায়ামিতে ফিরতে পারেন ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও ক্যারিয়ারের সায়াহ্নেও দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। কিলিয়ান এমবাপ্পের (১০ গোল) পর সর্বোচ্চ ৮ গোল করেন তিনি। সঙ্গে ৮ ম্যাচে ৪ অ্যাসিস্ট।

কসমেটিক সার্জারি করে কি চেহারাই বদলে ফেললেন ভিনিসিয়ুস

ক্রীড়া ডেস্ক
কসমেটিক সার্জারি করে কি চেহারাই বদলে ফেললেন ভিনিসিয়ুস
ভিনিসিয়ুসের আগে-পরের চেহারা। ছবি : এক্স থেকে

কথায় আছে—‘আগে দর্শনধারী তারপর গুণবিচারী’। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এই প্রবাদেই যেন বিশ্বাস। তা না হলে কসমেটিক সার্জারি করাতেন না তিনি।

নিজেকে আরও সুন্দর দেখতেই কসমেটিক সার্জারি করিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। এতে করে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের মুখায়বে একটা পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন আনতে কসমেটিক সার্জারির ‘চিন হারমোনাইজেন’ চিকিৎসা করিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী তারকা। 

চিন হারমোনাইজেশন করানো হয় মুখের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে থুতনি বা চোয়ালের গঠনে কিছুটা পরিবর্তন আনা। এই চিকিৎসা নেওয়ার পর ভিনিসিয়ুসের চোয়াল এবং থুতনির গঠনেও অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। আগের থেকে তাকে বেশ সুন্দর ও আকর্ষণীয় লাগছে। অস্ত্রপচার ছাড়াই ফিলারের সহায়তায় তার এই সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। এই চিকিৎসা সাধারণত বিনোদন জগতের মানুষরাই বেশি নেন।

 

ভিনির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই তাকে কার মতো দেখাচ্ছে সেই তুলনাও শুরু হয়েছে। অনেকেই মজা করে জানাচ্ছেন, রিয়াল মাদ্রিদের তারকাকে ব্রাজিল ও চেলসির সাবেক মিডফিল্ডার রামিরেসের মতো লাগছে। এই মজায় যোগ দিয়েছেন রামিরেসও।

ব্রাজিলের গয়ইনিয়ার একটি ক্লিনিকে চিন হরমোনাইজেশন করিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। নিজ দেশে করালেও চিকিৎসক ছিলেন মায়ামির। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ আলেসান্দ্রো আলারকাওকে ব্রাজিলে নিয়ে এসে চিকিৎসা নেন তিনি। 

চিন হরমোনাইজেশন কঠিন সময়েই নিলেন ভিনিসিয়ুস। বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিল শেষ ষোলোয় বিদায় নেওয়ার পরেই। তবে দলের ব্যর্থতার মাঝে নিজে জ্বলে ওঠেন তিনি। ৫ ম্যাচে ৪ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করেন তিনি। সব কিছু ভুলে এখন ক্লাবে মনোযোগ দিতে চান তিনি। রিয়ালে ফেরার অপেক্ষায় এখন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ক্লাবের সঙ্গে এখনো এক বছরের চুক্তি থাকলেও তার সঙ্গে নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। তাতে স্বাভাবিকভাবেই সম্পর্কটা আরও দীর্ঘ হচ্ছে তাদের। 

ফাইনালে পারেদেসকে লাল কার্ড দেওয়া হয়নি : ফিফা

অনলাইন ডেস্ক
ফাইনালে পারেদেসকে লাল কার্ড দেওয়া হয়নি : ফিফা
সংগৃহীত ছবি

শেষ বাঁশি বাজিয়ে রেফারি মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিপরীতে ফাইনালে ১-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা উদযাপন শুরু করে স্পেন। কিন্তু এই মুহূর্তেই ম্যাচ হেরে হতাশ লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের দুই ফুটবলারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।

মাঠের এই নজিরবিহীন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেন রেফারি। ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

এদিকে ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের আচরণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। একই সঙ্গে ফাইনালে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানোর যে খবর ছড়িয়েছিল, সেটিও পরে আনুষ্ঠানিক নথি থেকে প্রত্যাহার করেছে সংস্থাটি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্পেন-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ রিপোর্ট পর্যালোচনার পর ডিসিপ্লিনারি কোডের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাগুলোতে শৃঙ্খলাভঙ্গের সম্ভাব্য অভিযোগ তদন্ত করবেন তিনি।

বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ রিপোর্ট মূল্যায়নের পর এবং ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের (এফডিসি) ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাগুলোতে এফডিসি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য অভিযোগ তদন্তের জন্য ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি একজন ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে। প্রসিকিউটরের তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। পাশাপাশি আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধেও আর্থিক জরিমানাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফাইনালে আগ্রাসী ফুটবলের কারণে সমালোচনায় ছিল আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেস। ম্যাচ শেষে স্পেনের উদ্‌যাপনের সময় নাউয়েল মলিনা দৌড়ে যাওয়া রদ্রির বুকে আঘাত করেন। পরে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা ও স্পেনের দানি ওলমোর মধ্যে উত্তপ্ত বাগ্‌বিতণ্ডাও হয়।

এদিকে শেষ বাঁশির পর স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরার অভিযোগে পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ফিফা নিশ্চিত করে, ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনায় পারেদেসের বিরুদ্ধে মাঠে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।