• ই-পেপার

সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে ট্রাম্পের অনুমোদন

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধে ফ্রান্সে আইন পাস

অনলাইন ডেস্ক
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধে ফ্রান্সে আইন পাস
সংগৃহীত ছবি

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট। এর ফলে ইউরোপে এ ধরনের আইন পাস করা প্রথম দেশ হলো ফ্রান্স। নতুন আইনের আওতায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু ফেসবুক, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিল ফ্রান্স। সরকার মনে করছে, কম বয়সীদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কমাতে কঠোর আইন প্রয়োজন। মঙ্গলবার ফ্রান্সের পার্লামেন্টের দুই কক্ষ—সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি—নতুন আইনটি অনুমোদন করে। আইনটি কার্যকর হলে ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন করে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। শুধু নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধ করাই নয়, বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সীদের যেসব অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলোও বন্ধ করতে হবে। এ কাজের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে। নতুন আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এজন্য ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে, ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।

ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়রমন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ সিনেটে বলেন, এই আইনের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতা নির্ধারণে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফ্রান্স। এর আগে বিশ্বের প্রথম এ ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করে অস্ট্রেলিয়া। সেখানে গত ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই পথেই এবার হাঁটছে ফ্রান্স। 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চান, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই নতুন আইন পুরোপুরি কার্যকর হোক। শিশু-কিশোরদের মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি কমাতে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।  গত এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশে ম্যাখোঁ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অনেক শিশু-কিশোর এমন একটি পরিবেশে বেড়ে উঠছে, যেখানে তাদের মনোযোগ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম কেড়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন ডিজিটাল পরিবেশ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। ম্যাখোঁ আরো বলেন, শিশু-কিশোরদের ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। তাদের বই পড়া, শেখা এবং ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এজন্যই ১৫ বছর বয়সের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের সবার জন্য একই নিয়মে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য বয়সসীমা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এরপরও সরকার যদি নতুন আইন কার্যকর করে, তাহলে তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনও শিশু ও কিশোরদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। ফ্রান্সের নতুন আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে বিষয়েও কমিশন পর্যালোচনা করবে।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ছবি : রয়টার্স

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার (৩৭৫০ কোটি ডলার) খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিনেটের বরাদ্দ কমিটির এক শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এই হিসাব তুলে ধরেন। এর আগে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসংক্রান্ত আনুমানিক খরচের পরিমাণ ধরা হয়েছিল প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার, যা থেকে বর্তমান ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুনানিতে সিনেটরদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমাদের কাছে থাকা হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।’ পেন্টাগনের সামরিক কার্যক্রম সচল রাখতে এবং বাজেট ঘাটতি মেটাতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত (সম্পূরক) তহবিলের অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাইল পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাইল পাকিস্তান
সংগৃহীত ছবি

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো, পাকিস্তানি রুপির ওপর চাপ কমানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ বা ‘বিনিময় হার স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল’ চেয়েছে পাকিস্তান। বিষয়টি জানিয়েছে একটি সূত্র। এই সহায়তা অনুমোদন পেলে অর্থসংকটে থাকা দেশটির জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা হবে।

এ তথ্য এবারই প্রথম প্রকাশ্যে এসেছে। সূত্র জানায়, ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পাকিস্তান যে কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছিল, তার পরপরই এই অনুরোধ করা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের গুরুত্ব বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য অংশীদারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পাওয়ার আশাও তৈরি হয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের কাছে পাঠানো এক আবেদনে দুই দেশের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি দ্বিপক্ষীয় বিনিময় হার স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই তহবিলের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর রাখার কথা বলা হয়েছে।

এই তহবিল অনুমোদন হলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো শক্তিশালী হবে। এতে পাকিস্তানি রুপির ওপর চাপ কমবে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার ঋণের ওপর নির্ভরতাও কিছুটা কমবে। তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি চালিয়ে যাবে ইসলামাবাদ। বর্তমানে পাকিস্তান আইএমএফের সাত বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে সরকারকে কর বাড়ানো, সরকারি ব্যয় কমানো এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় হলেও অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে এগুলো নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় এশিয়ার ব্যাবসায়িক সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো জবাব দেয়নি। একইভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের বিনিময় হার স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল খুবই বিরল। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। এর আওতায় কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ডলার, মুদ্রা অদলবদল (কারেন্সি সুয়াপ) অথবা আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে থাকা স্থায়ী ডলার অদলবদল ব্যবস্থার মতো নয়। সেই ব্যবস্থা মূলত বিশ্বব্যাপী আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডলারের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর আগে ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনা এ ধরনের সহায়তা পেয়েছিল। তার আগে ২০০২ সালে উরুগুয়ে একই ধরনের সহায়তা পেয়েছিল। তবে মেক্সিকোর দীর্ঘদিনের ডলার অদলবদল ব্যবস্থা এর বাইরে। ১৯৪০-এর দশক থেকে চালু থাকা ওই ব্যবস্থার বর্তমান আকার প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। 

২০২৩ সালে আইএমএফের ৩ বিলিয়ন ডলারের জরুরি ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে পাকিস্তান ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়। পরে দেশটি সাত বিলিয়ন ডলারের সম্প্রসারিত ঋণ সুবিধা পায়। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়াতে আরো ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের আলাদা ঋণও অনুমোদন করা হয়। তারপরও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো সরকারি অর্থায়ন, বিদেশি ঋণ নবায়ন এবং চীন ও সৌদি আরবের আমানতের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে কোনো দ্বিপক্ষীয় সহায়তা বা আইএমএফের ঋণের কিস্তি পেতে দেরি হলে দেশটি আবারও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই দুর্বলতা গত এপ্রিল মাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন পাকিস্তান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে। এই অর্থ ছিল দেশটির মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। পরে সৌদি আরব নতুন করে তিন বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটি হবে ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সহায়তা অনুমোদন করে, তাহলে তা শুধু আর্থিক নিরাপত্তাই দেবে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পাকিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমর্থনের বার্তা দেবে। এর ফলে রিজার্ভ ও পাকিস্তানি রুপির ওপর চাপ কমবে এবং আইএমএফের ঋণ বা জরুরি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতাও কমতে পারে। আইএমএফের সহায়তায় নেওয়া সংস্কার কর্মসূচির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে এর জন্য সরকারকে কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানো এবং উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণ খাতে ব্যয় সীমিত করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বিশ্বের ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ গত এপ্রিল মাসে জানায়, আইএমএফের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে পাকিস্তানের অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা বেড়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা শক্তিশালী হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবেলায় দেশটি আগের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে ফিচ সতর্ক করেছে, জ্বালানির আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে গেলে বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমে যেতে পারে। এতে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈদেশিক অর্থনৈতিক সংকট, নীতিগত অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাঝুঁকি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার অতীতের সীমাবদ্ধতা এবং সীমিত রপ্তানি বাজারের কারণে পাকিস্তানে প্রত্যাশিত হারে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না। একই সঙ্গে দেশটির ঋণ এখনো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়াও ব্যয়বহুল। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এখন পর্যন্ত দুই দেশের সহযোগিতা ক্রিপ্টোকারেন্সি, স্থাবর সম্পত্তি এবং খনি খাত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তান সীমান্তপারের অর্থ পরিশোধের জন্য ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়ালের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থিতিশীল ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহারের চুক্তি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের প্রধান ক্রিপ্টো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া নিউ ইয়র্কে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের মালিকানাধীন বন্ধ রুজভেল্ট হোটেল পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে রেকো দিকসহ বিভিন্ন খনি প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আকর্ষণেরও চেষ্টা করছে দেশটি। এর মধ্যে রেকো দিক খনির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংক ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

গুহার অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল ৩,৫০০ বছরের ইতিহাস, নাগাল্যান্ডে মিলল বিস্ময়কর নিদর্শন

অনলাইন ডেস্ক
গুহার অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল ৩,৫০০ বছরের ইতিহাস, নাগাল্যান্ডে মিলল বিস্ময়কর নিদর্শন

ভারতের নাগাল্যান্ডের নকলাক (Noklak) জেলার নাগা হিলস ওফিওলাইট বেল্ট অঞ্চলে পরিচালিত প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে প্রায় ৩,৫০০ বছর আগের মানব বসতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে। গুহা ও পাথরের আশ্রয়স্থল (রকশেল্টার) থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নিদর্শন উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই সময়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি চলতি বছরের মার্চ মাসে নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং নাগাল্যান্ড সরকারের শিল্প ও সংস্কৃতি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই অনুসন্ধান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তিয়াতোশি জামির। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গবেষক ড. হেমে লামথাইউ, ড. লিমাসানেন লংকুমের, খুমেং টি, রবিনসন হুইদ্রোম এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ভিক্টোরিয়া লেইরি।

গবেষক দল নকলাক জেলার চিফুর (Chiphur) গ্রামের চুনাপাথরের পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে পাঁচটি গুহা এবং চারটি রকশেল্টারের সন্ধান পান। পরে খননকার্যে উদ্ধার করা হয় দড়ির ছাপযুক্ত প্রাচীন মাটির পাত্র, পাথরের তৈরি হাতিয়ার, আগুন জ্বালানোর চুল্লির অবশিষ্টাংশ, পোড়া শস্যের নমুনা।

উদ্ধার হওয়া শস্যের মধ্যে ফক্সটেল মিলেট (Foxtail Millet) এবং জবস টিয়ার্স (Job's Tears)-এর কার্বনাইজড নমুনাও রয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন থেকে বোঝা যায়, সে সময়ের মানুষ কৃষিকাজের পাশাপাশি শিকারও করতেন।

নমুনাগুলোর বয়স নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অবস্থিত বেটা অ্যানালিটিক ল্যাবরেটরিতে অ্যাক্সিলারেটর মাস স্পেকট্রোমেট্রি (AMS) প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, লেইলো কা (Leilo Kaa) রকশেল্টারের বয়স প্রায় ৩,৫০০ বছর এবং কাথসো কা (Kathso Kaa) গুহার বয়স প্রায় ১,০০০ বছর।

গবেষকদের দাবি, এই আবিষ্কার শুধু নাগাল্যান্ড নয়, পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন মানব বসতি, কৃষি, মৃৎশিল্প, প্রাচীন প্রযুক্তি এবং তৎকালীন জীবনযাত্রা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য প্রদান করবে।

উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুগুলো নাগাল্যান্ড স্টেট মিউজিয়াম এবং নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বিজ্ঞানীদের আশা, এই প্রদর্শনী ভারতের হাজার হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করবে।