• ই-পেপার

সুদ অর্থনৈতিক বৈষম্য বয়ে আনে

কঠিন মুহূর্তে ‘ফিতরাত’ মানুষকে আল্লাহমুখী করে

ইসলামী জীবন ডেস্ক
কঠিন মুহূর্তে ‘ফিতরাত’ মানুষকে আল্লাহমুখী করে
সংগৃহীত ছবি

মানুষ যখন কঠিন বিপদে পড়ে, সব পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং কারো সাহায্যের আশা থাকে না, তখন তার অন্তরের সহজাত প্রবৃত্তি বা ফিতরাত জেগে ওঠে। সে তখন নিজের অজান্তেই আল্লাহর দিকে ফিরে যায়। সে ভুলে যায় তার পূর্বের সব ভরসা, মিথ্যা উপাস্য কিংবা পার্থিব নির্ভরতাকে। তখন সে দৃঢ়ভাবে উপলব্ধি করে—আল্লাহ ছাড়া উদ্ধারকারী আর কেউ নেই।

এ কারণেই ফিতরাত আল্লাহর অস্তিত্বের সর্বোত্তম সাক্ষ্য, সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ, সবচেয়ে উজ্জ্বল দলিল এবং এমন একটি যুক্তি, যার জন্য জটিল দর্শন বা বিতর্কের প্রয়োজন হয় না। এটি মানুষের হৃদয়ে স্বতঃসিদ্ধ সত্য হিসেবে বিদ্যমান; সন্দেহ, কুপ্রবৃত্তি কিংবা অপপ্রচার দ্বারা একে পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না।

আল্লাহ তাআলা মানুষের এই স্বাভাবিক প্রবৃত্তির কথা কোরআনের বহু স্থানে উল্লেখ করেছেন। এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যখন মানুষ কোনো কষ্টে পতিত হয়, তখন সে শোয়া, বসা কিংবা দাঁড়ানো—সব অবস্থায় আমাকে ডাকে। অতঃপর যখন আমি তার কষ্ট দূর করে দিই, তখন সে এমনভাবে চলে যায় যেন সে কখনো আমাকে ডাকেনি।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১২)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও অহংকার করে। কিন্তু যখন তাকে কোনো কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে দীর্ঘ প্রার্থনায় লিপ্ত হয়।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৫১)

সমুদ্রযাত্রার উদাহরণ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তিনি (আল্লাহ) তোমাদের স্থল ও সমুদ্রে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। এমনকি যখন তোমরা নৌকায় থাকো এবং অনুকূল বাতাসে আনন্দে ভেসে চলো, হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় ও চারদিক থেকে উত্তাল ঢেউ এসে তাদের ঘিরে ধরে, তখন তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডেকে বলে—আপনি যদি আমাদের এ বিপদ থেকে রক্ষা করেন, তাহলে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২২)

এসব আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি এমন যে যখন সে বিপদ, দুঃখ, সংকট বা অসহায় অবস্থায় পড়ে, তখন তার হৃদয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহান স্রষ্টার দিকে ফিরে যায়। সে বুঝতে পারে—আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত উদ্ধারকারী আর কেউ নেই।

ফিতরাত ইসলামের ডাক দিয়ে যায়
রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে ‘ফিতরাত’ বলতে ইসলামকেই বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন—‘প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান অথবা অগ্নিপূজক বানিয়ে দেয়; যেমন একটি পশু সম্পূর্ণ সুস্থ বাচ্চা প্রসব করে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৮৫)

এই হাদিস বর্ণনা করার পর আবু হুরায়রা (রা.) কোরআনের এই আয়াত তিলাওয়াত করেন—‘আল্লাহর সেই ফিতরাত, যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : আর-রুম, আয়াত : ৩০)

এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সাহাবায়ে কিরাম ‘ফিতরাত’ বলতে ইসলামের স্বাভাবিক ধর্মকেই বুঝতেন। ফিতরাত আল্লাহর সঙ্গে মানুষের আদিম অঙ্গীকারের সাক্ষ্য বহন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর স্মরণ করো, যখন তোমার রব আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা বলেছিল, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিলাম। যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পারো—আমরা তো এ বিষয়ে অজ্ঞ ছিলাম।’ (সুরা : আল-আরাফ, আয়াত : ১৭২)

মানুষের সহজাত ফিতরাত স্রষ্টা সম্পর্কে একটি মৌলিক ও সামগ্রিক জ্ঞান দান করে। সে অনুভব করে যে তার একজন প্রতিপালক আছেন, যাঁর সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর ইবাদত করা উচিত।

কিন্তু এই সহজাত প্রবৃত্তিকে সঠিকভাবে বিকশিত ও পরিশুদ্ধ করার জন্য আল্লাহর ওহি এবং নবী-রাসুলদের দিকনির্দেশনা অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শপথ মানুষের নফসের এবং যিনি তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন; অতঃপর তাকে তার পাপ ও তাকওয়ার জ্ঞান দান করেছেন। অবশ্যই সে সফল হয়েছে, যে তাকে পরিশুদ্ধ করেছে; আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তাকে কলুষিত করেছে।’ (সুরা : আশ-শামস, আয়াত : ৭-১০)

অতএব, ফিতরাত মানুষের অন্তরে সত্যের বীজ রোপণ করে; আর ওহি সেই বীজকে লালন-পালন করে পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে পরিণত করে।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২২ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২২ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ৭ সফর, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫০ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৩ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০৩ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

আবদুল্লাহ আল মামুন আশরাফী

অনলাইন ডেস্ক
কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

সাহাবায়ে কেরাম। উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশনায় সাহাবায়ে কেরামকে অনন্য অসাধারণ করে গড়ে তুলেছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি নির্দেশনা তাঁরা হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করেছেন এবং যথার্থভাবে জীবনে বাস্তবায়ন করেছেন। ফলে তাঁরা আল্লাহতায়ালা ও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় ধন্য হয়েছেন। কোরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফে সাহাবায়ে কেরামের অনেক প্রশংসার কথা বিবৃত হয়েছে। আজ আমরা কোরআন মাজিদের ভাষায় সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা নিয়ে কিছু কথা বলব ইনশাআল্লাহ।

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন মুমিন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কিছুই হতে পারে না। আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ’। (আত তাওবাহ : ৭২)

এই সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কারটি দুনিয়াতেই অর্জন করার সৌভাগ্য লাভ করেন সাহাবায়ে কেরাম।

আল্লাহ বলেন : ‘মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা ইমানে প্রথমে অগ্রগামী হয়েছে এবং যারা নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যানরাজি তৈরি করে রেখেছেন, যার তলদেশে নহর বহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা আত-তাওবা : ১০০)

২. তারা শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম

আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে অপরাপর উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে দিয়েছেন। আর এই উম্মতের মাঝে সাহাবায়ে কেরাম প্রথম সারিতে আছেন। সে সুবাদে শ্রেষ্ঠত্বের বিজয়মাল্য সর্বপ্রথম সাহাবায়ে কিরামের গলায়ই শোভা পেয়েছে। সুতরাং তারাই হচ্ছেন উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। আল্লাহ বলেন- ‘(হে মুসলিমগণ!) তোমরা সেই শ্রেষ্ঠতম দল, মানুষের কল্যাণের জন্য যাদের অস্তিত্ব দান করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করে থাক ও অন্যায় কাজে বাধা দিয়ে থাক এবং আল্লাহর প্রতি ইমান রাখ।’ (আলে ইমরান : ১১০)

৩. তারা ইমানের মানদণ্ড

সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর প্রিয়পাত্র। তাঁরা ইমানের মানদণ্ড। তাঁদের দেখানো পথে চললেই সফলতা আসবে। সঠিক পথের দিশা পাওয়া যাবে।

ইরশাদ হয়েছে- ‘অতঃপর তারাও যদি সে রকম ইমান আনে যেমন তোমরা (সাহাবায়ে কেরাম) ইমান এনেছ, তবে তারা সঠিক পথ পেয়ে যাবে। আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তারা মূলত শত্রুতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে। সুতরাং শিগগিরই আল্লাহ তোমার সাহায্যার্থে তাদের দেখে নেবেন এবং তিনি সব কথা শোনেন ও সবকিছু জানেন।’ (সুরা বাকারাহ : ১৩৭)

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা৪. তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশী

সাহাবায়ে কেরাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া লাভকেই জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ স্বয়ং তাঁদের এই পবিত্র মানসিকতার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ‘মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রসুল। তাঁর সঙ্গে যাঁরা আছেন, তাঁরা কাফেরদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং আপসের মধ্যে একে অন্যের প্রতি দয়ার্দ্র। তুমি তাঁদের দেখবে (কখনো) রুকুতে, (কখনো) সিজদায়, আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি সন্ধানে রত। তাঁদের আলামত তাঁদের চেহারায় পরিস্ফুট, সিজদার ফলে।’ (সুরা ফাতাহ : ২৯)

৫. তারা সত্যবাদী

সাহাবায়ে কেরাম সত্যবাদী। তাঁদের সততা প্রবাদতুল্য। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা সততার সৌরভ জড়িয়ে রেখেছেন। আল্লাহ তাঁদের সত্যবাদী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ বলেন- ‘(বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) সেই গরিব মুহাজিরদের প্রাপ্য, যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি ও অর্থসম্পদ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর সন্তুষ্টি সন্ধান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী।’ ( হাশর : ৮)

৬. তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত

সাহাবায়ে কেরাম সঠিক পথের ধারকবাহক। তাঁরা সত্য পথে অবিচল ছিলেন।

আল্লাহ বলেন- ‘ভালোভাবে জেনে রাখ যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসুল আছেন আর বহু বিষয়ে সে যদি তোমাদের কথা মেনে নেয়, তবে তোমরা নিজেরাই সংকটে পড়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ইমানের ভালোবাসা সঞ্চার করেছেন এবং তাঁকে তোমাদের অন্তরে করে দিয়েছেন আকর্ষণীয়। আর তোমাদের কাছে কুফর, গুনাহ ও অবাধ্যতাকে ঘৃণ্য বানিয়ে দিয়েছেন। এরূপ লোকেরাই সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়েছেন।’ (সুরা হুজুরাত : ৭)

৭. তারা চির সফল

আল্লাহ সাহাবায়ে কেরামকে চির সফল বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁরা কল্যাণের ধারকবাহক বলেও স্বীকৃতি দিয়েছেন।

ইরশাদ হয়েছে- ‘কিন্তু রসুল এবং যেসব লোক তাঁর সঙ্গে ইমান এনেছে, তারা নিজেদের জানমাল দ্বারা জিহাদ করেছে। তাদেরই জন্য সর্বপ্রকার কল্যাণ এবং তারাই কৃতকার্য।’ (সুরা তওবা : ৮৮)

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখজানুল উলুম টঙ্গী, গাজীপুর

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২১ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২১ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ৭ সফর, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫০ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৪ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০২ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।