• ই-পেপার

কঠিন মুহূর্তে ‘ফিতরাত’ মানুষকে আল্লাহমুখী করে

সুদ অর্থনৈতিক বৈষম্য বয়ে আনে

সাইয়্যিদ মুনিব মুর্শিদ
সুদ অর্থনৈতিক বৈষম্য বয়ে আনে
সংগৃহীত ছবি

মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের সঙ্গে ঋণের সম্পর্ক বহু পুরনো। সংসারের প্রয়োজন, ব্যবসার সম্প্রসারণ, কৃষিকাজের ব্যয় কিংবা অপ্রত্যাশিত কোনো বিপদ ইত্যাদি বিভিন্ন সময়ে মানুষ অন্যের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করেছে। একসময় এই সম্পর্ক গড়ে উঠত আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা পরিচিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেই পরিসর বড় হয়েছে; ব্যক্তিগত লেনদেনের জায়গা নিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মহাজনের জায়গায় এসেছে ব্যাংক, আর স্থানীয় অর্থনীতি যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার সঙ্গে।

এই দীর্ঘ যাত্রাপথে ঋণের ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে তাকে ঘিরে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও। একসময় ঋণকে শুধু প্রয়োজনের সহায়ক হিসেবে দেখা হতো; পরে তা ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

আধুনিক অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ঋণ আর শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনের বিষয় থাকেনি; রাষ্ট্র, শিল্প, বাণিজ্য, এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। তবে একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত যে সুদ শুধু একটি আর্থিক হার নয়; এটি সম্পদের প্রবাহ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং সামাজিক কাঠামোর ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

ইসলাম ঋণের প্রয়োজন অস্বীকার করে না; বরং মানুষের প্রয়োজনে সহযোগিতাকে ইবাদতের মর্যাদা দেয়। তবে সেই সহযোগিতা যেন দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মুনাফা অর্জনের অন্যায় মাধ্যমে পরিণত না হয়, সে বিষয়েও সমান গুরুত্ব আরোপ করে।

তাই কোরআন ও সুন্নাহয় সুদের আলোচনা শুধু একটি আর্থিক বিধান হিসেবে আসেনি; বরং ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক জীবনব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্থান পেয়েছে। ঋণের ইতিহাস যত পুরনো, সুদকে ঘিরে বিতর্কের ইতিহাসও প্রায় ততটাই দীর্ঘ।

প্রাচীন সভ্যতাগুলোর আইনসংহিতা, গ্রিক দর্শন, ইহুদি ও খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব, এমনকি মধ্যযুগীয় ইউরোপের অর্থনৈতিক আলোচনাতেও সুদ ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এর পক্ষে যেমন যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তেমনি এর বিরুদ্ধে নৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক আপত্তিও উত্থাপিত হয়েছে। ফলে সুদকে শুধু একটি ধর্মীয় আলোচনার বিষয় মনে করলে ইতিহাসের একটি বড় অংশই আড়ালে থেকে যাবে।

ইসলামের আবির্ভাবের সময় আরব সমাজেও সুদ ছিল পরিচিত একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতা। সে সময় ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হতো, তবে সেই সময়ের বিনিময়ে মূল ঋণের ওপর আরো অর্থ যোগ করা হতো। ঋণ পরিশোধে বিলম্ব যত বাড়ত, দেনার পরিমাণও তত বৃদ্ধি পেত। অনেক ক্ষেত্রে একটি সামান্য ঋণই বছরের পর বছর ধরে পরিবার ও গোত্রের ওপর বোঝা হয়ে থাকত। আর্থিক দুর্বলতা তখন ধীরে ধীরে সামাজিক দুর্বলতায় রূপ নিত।

এই বাস্তবতার মধ্যেই কোরআন সুদ সম্পর্কে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, কোরআন প্রথমেই সুদের কারিগরি সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করেনি; বরং মানুষের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ন্যায়, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে পুনর্গঠনের আহবান জানিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সুদকে এমন একটি লেনদেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সম্পদের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং দুর্বলকে আরো দুর্বল করে তুলতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং সদকাকে বৃদ্ধি দান করেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৬)

আয়াতটির ভাষা গভীর তাৎপর্য বহন করে। এখানে বাহ্যিক হিসাবের পরিবর্তে সম্পদের প্রকৃত কল্যাণ ও স্থায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। মানুষের দৃষ্টিতে কোনো সম্পদ বাড়তে পারে, কিন্তু সেই বৃদ্ধি যদি সমাজে বৈষম্য, শোষণ কিংবা মানুষের প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতাকে আরো কঠিন করে তোলে, তবে কোরআনের দৃষ্টিতে তাকে প্রকৃত সমৃদ্ধি বলা যায় না। বিপরীতে, মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা সম্পদ বাহ্যিক হিসাবে কমে গেলেও তার সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। কোরআনের এই দৃষ্টিভঙ্গি ইসলামী অর্থনীতির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্যকে সামনে নিয়ে আসে। এখানে অর্থের মূল্য শুধু তার পরিমাণে নির্ধারিত হয় না; বরং সে অর্থ কিভাবে অর্জিত হলো, কিভাবে ব্যবহার করা হলো এবং সমাজে তার প্রভাব কী—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্ব পায়। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের আলোচনা তাই ইসলামে সম্পদের পরিমাণ দিয়ে নয়, সম্পদের চরিত্র দিয়ে শুরু হয়।

ইসলামী অর্থনীতির আলোচনায় সুদকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিধান হিসেবে দেখা হয় না। এটি এমন একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক দর্শনের অংশ, যেখানে সম্পদের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ভারসাম্যও সমান গুরুত্ব পায়। এ কারণেই ইসলাম সুদের বিকল্প হিসেবে কেবল নিষেধাজ্ঞা দেয়নি; বরং অংশীদারত্বভিত্তিক বিনিয়োগ, ব্যবসা, জাকাত, সদকা, করজে হাসানা এবং সম্পদের সুষম সঞ্চালনের একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কাঠামো উপস্থাপন করেছে।

সমসাময়িক ইসলামী অর্থনীতির অন্যতম পথিকৃৎ ড. মুহাম্মদ ওমর চাপরা তাঁর Islam and the Economic Challenge গ্রন্থে লিখেছেন, একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাফল্য শুধু জাতীয় আয় বা উৎপাদনের পরিমাণ দিয়ে বিচার করা যায় না; বরং সেই ব্যবস্থা কতটা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে, মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করেছে এবং বৈষম্য হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে—এসবও তার মূল্যায়নের অপরিহার্য মানদণ্ড। ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক দর্শনের সঙ্গে এই দৃষ্টিভঙ্গির গভীর সামঞ্জস্য আছে।

একইভাবে বিচারপতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী An Introduction to Islamic Finance গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ইসলামে লাভের নৈতিক বৈধতা নির্ভর করে ঝুঁকি গ্রহণ ও দায়িত্ব বহনের ওপর। যে আয়ে ঝুঁকির অংশীদারত্ব নেই, অথচ লাভ পূর্বনির্ধারিত ও নিশ্চিত—ইসলাম সেই কাঠামোকে সমর্থন করে না। এখানেই সুদভিত্তিক ঋণ এবং ইসলামী অংশীদারত্বভিত্তিক অর্থায়নের মৌলিক পার্থক্য।

এ কারণেই কোরআন সুদের বিষয়ে শুধু নৈতিক উপদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং একে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা পরিত্যাগ করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। অতঃপর যদি তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো। আর যদি তাওবা করো, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৮-২৭৯)

আয়াতটির শেষাংশ—‘তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না’—এটি ইসলামী অর্থনীতির একটি চিরন্তন নীতিকে সংক্ষিপ্ত ভাষায় ধারণ করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে ন্যায়, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মর্যাদা; কোনো পক্ষের দুর্বলতা অন্য পক্ষের স্থায়ী মুনাফার উপায়ে পরিণত হবে না।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২২ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২২ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ৭ সফর, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫০ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৩ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০৩ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

আবদুল্লাহ আল মামুন আশরাফী

অনলাইন ডেস্ক
কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

সাহাবায়ে কেরাম। উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশনায় সাহাবায়ে কেরামকে অনন্য অসাধারণ করে গড়ে তুলেছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি নির্দেশনা তাঁরা হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করেছেন এবং যথার্থভাবে জীবনে বাস্তবায়ন করেছেন। ফলে তাঁরা আল্লাহতায়ালা ও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় ধন্য হয়েছেন। কোরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফে সাহাবায়ে কেরামের অনেক প্রশংসার কথা বিবৃত হয়েছে। আজ আমরা কোরআন মাজিদের ভাষায় সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা নিয়ে কিছু কথা বলব ইনশাআল্লাহ।

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন মুমিন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কিছুই হতে পারে না। আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ’। (আত তাওবাহ : ৭২)

এই সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কারটি দুনিয়াতেই অর্জন করার সৌভাগ্য লাভ করেন সাহাবায়ে কেরাম।

আল্লাহ বলেন : ‘মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা ইমানে প্রথমে অগ্রগামী হয়েছে এবং যারা নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যানরাজি তৈরি করে রেখেছেন, যার তলদেশে নহর বহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা আত-তাওবা : ১০০)

২. তারা শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম

আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে অপরাপর উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে দিয়েছেন। আর এই উম্মতের মাঝে সাহাবায়ে কেরাম প্রথম সারিতে আছেন। সে সুবাদে শ্রেষ্ঠত্বের বিজয়মাল্য সর্বপ্রথম সাহাবায়ে কিরামের গলায়ই শোভা পেয়েছে। সুতরাং তারাই হচ্ছেন উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। আল্লাহ বলেন- ‘(হে মুসলিমগণ!) তোমরা সেই শ্রেষ্ঠতম দল, মানুষের কল্যাণের জন্য যাদের অস্তিত্ব দান করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করে থাক ও অন্যায় কাজে বাধা দিয়ে থাক এবং আল্লাহর প্রতি ইমান রাখ।’ (আলে ইমরান : ১১০)

৩. তারা ইমানের মানদণ্ড

সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর প্রিয়পাত্র। তাঁরা ইমানের মানদণ্ড। তাঁদের দেখানো পথে চললেই সফলতা আসবে। সঠিক পথের দিশা পাওয়া যাবে।

ইরশাদ হয়েছে- ‘অতঃপর তারাও যদি সে রকম ইমান আনে যেমন তোমরা (সাহাবায়ে কেরাম) ইমান এনেছ, তবে তারা সঠিক পথ পেয়ে যাবে। আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তারা মূলত শত্রুতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে। সুতরাং শিগগিরই আল্লাহ তোমার সাহায্যার্থে তাদের দেখে নেবেন এবং তিনি সব কথা শোনেন ও সবকিছু জানেন।’ (সুরা বাকারাহ : ১৩৭)

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা৪. তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশী

সাহাবায়ে কেরাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া লাভকেই জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ স্বয়ং তাঁদের এই পবিত্র মানসিকতার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ‘মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রসুল। তাঁর সঙ্গে যাঁরা আছেন, তাঁরা কাফেরদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং আপসের মধ্যে একে অন্যের প্রতি দয়ার্দ্র। তুমি তাঁদের দেখবে (কখনো) রুকুতে, (কখনো) সিজদায়, আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি সন্ধানে রত। তাঁদের আলামত তাঁদের চেহারায় পরিস্ফুট, সিজদার ফলে।’ (সুরা ফাতাহ : ২৯)

৫. তারা সত্যবাদী

সাহাবায়ে কেরাম সত্যবাদী। তাঁদের সততা প্রবাদতুল্য। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা সততার সৌরভ জড়িয়ে রেখেছেন। আল্লাহ তাঁদের সত্যবাদী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ বলেন- ‘(বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) সেই গরিব মুহাজিরদের প্রাপ্য, যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি ও অর্থসম্পদ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর সন্তুষ্টি সন্ধান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী।’ ( হাশর : ৮)

৬. তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত

সাহাবায়ে কেরাম সঠিক পথের ধারকবাহক। তাঁরা সত্য পথে অবিচল ছিলেন।

আল্লাহ বলেন- ‘ভালোভাবে জেনে রাখ যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসুল আছেন আর বহু বিষয়ে সে যদি তোমাদের কথা মেনে নেয়, তবে তোমরা নিজেরাই সংকটে পড়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ইমানের ভালোবাসা সঞ্চার করেছেন এবং তাঁকে তোমাদের অন্তরে করে দিয়েছেন আকর্ষণীয়। আর তোমাদের কাছে কুফর, গুনাহ ও অবাধ্যতাকে ঘৃণ্য বানিয়ে দিয়েছেন। এরূপ লোকেরাই সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়েছেন।’ (সুরা হুজুরাত : ৭)

৭. তারা চির সফল

আল্লাহ সাহাবায়ে কেরামকে চির সফল বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁরা কল্যাণের ধারকবাহক বলেও স্বীকৃতি দিয়েছেন।

ইরশাদ হয়েছে- ‘কিন্তু রসুল এবং যেসব লোক তাঁর সঙ্গে ইমান এনেছে, তারা নিজেদের জানমাল দ্বারা জিহাদ করেছে। তাদেরই জন্য সর্বপ্রকার কল্যাণ এবং তারাই কৃতকার্য।’ (সুরা তওবা : ৮৮)

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখজানুল উলুম টঙ্গী, গাজীপুর

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২১ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২১ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ৭ সফর, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫০ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৪ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০২ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।