বরিশালের গৌরনদীতে একটি মাদরাসার আবাসিক কক্ষ থেকে ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত ১১ বছর বয়সী জান্নাতুল ফেরদাউস নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নালুয়া গ্রামের প্রবাসী মো. সান্টুর মেয়ে। সে ওই মাদরাসার নাজেরা বিভাগের আবাসিক ছাত্রী ছিল।
সোমবার রাতে কাসেমাবাদ এলাকার মিফতাহুল জান্নাহ হিফজুল কুরআন মডেল মহিলা মাদরাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল।
তিনি বলেন, জান্নাতুল ফেরদাউসের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ছাত্রীর মা সুর্বণা বলেন, তার স্বামী প্রবাসে থাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকেন। সোমবার বিকেলে মেয়ে জান্নাতুলকে মাদরাসায় দিয়ে আসেন। রাতে তিনি শুনতে পান, মাদরাসার একটি কক্ষে জানালার সঙ্গে ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বরাতে ওসি তারিক হাসান বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যার পর একটি কক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষিকার সন্দেহ হয়। পরে তারা জানালার কাচ দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে পান, ওই শিক্ষার্থী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে রয়েছে।’
‘তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও দায়িত্বরত শিক্ষিকারা গিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে জান্নাতুলকে নিচে নামিয়ে মৃত অবস্থায় পান।’
ওসি বলেন, ‘তদন্তে যতটুকু জানতে পেরেছি, ওই শিক্ষার্থী মাদরাসায় আসতে চায়নি। তাকে জোর করে মাদরাসায় রেখে আসা হয়েছিল। এ কারণে সে রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।






