• ই-পেপার

বন্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ, ববি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শিবচরে শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

মাদারীপুর প্রতিনিধি
শিবচরে শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার শিক্ষক মোস্তাক হোসেন

মাদারীপুরের শিবচরে ৮ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসার এক শিক্ষক মোস্তাক হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে ওই মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মোস্তাক হোসেনের (৩০) বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়।

শিবচর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে তিনি শিবচরের ওই মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। গত কয়েক দিন মাদরাসায় ক্লাস শেষে শিশুটিকে শিক্ষক মোস্তাক তার কক্ষে নিয়ে যান। গত রবিবার ক্লাস শেষে মোস্তাক তার কক্ষে নিয়ে তাকে বলাৎকার করার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনা জানায়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে রবিবার সন্ধ্যায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই মাদরাসায় গিয়ে মোস্তাক হোসেনকে আটক করে মারধর করেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতে মাদরাসা থেকে মোস্তাক হোসেনকে আটক করে শিবচর থানায় নিয়ে আসে।

পরে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে শিবচর থানায় মামলা করা হয়। সোমবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার দিনই অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছি। পরে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য মজুদ রেখে বিক্রির অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে জামালপুর ইউনিয়নের পূর্ব পারপুগী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- পূর্বপারপুগী গ্রামের মো. কোরবান আলী (৪১) ও তার স্ত্রী মোছা. জেসমিন খাতুন (২৭)। অভিযান কালে তাদের আধাপাকা বসতঘর তল্লাশি করে ১৮৩ বোতল ফেনসিডিল, ১৫৭ বোতল এসকাফ ও ১৩ বোতল এমকেডিলসহ মোট ৩৫৩ বোতল মদ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির নগদ ২৩ হাজার ৭ শ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৩’র মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার দুজন পেশাদার মাদক কারবারি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই গ্রামের কোরবান আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ঘরে মজুদ রাখা এসব মাদক উদ্ধার করার পর ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে মাদক এনে রেখে ঠাকুরগাঁওসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিলেন। এ ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে। আলামতসহ তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ছাতকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ২ ড্রেজার মেশিন জব্দ, আটক ২

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ছাতকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ২ ড্রেজার মেশিন জব্দ, আটক ২
ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে নৌ পুলিশ। এসময় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২ জনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে উপজেলার ১ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নের দারুগাখালী গ্রামের ফজর আলীর বাড়ির পাশের ইছামতী নদীর তীরে ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ি এ অভিযান পরিচালনা করে।

আটকরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নতুন মেঘেরগাঁও গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে খালেক (২৭) ও একই গ্রামের মো. জয়েদ আলীর ছেলে সুজন (২৫)। 

নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী কাজীরগাঁও-সোনাপুর (কলাবাগান) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীতীর, পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুইটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।

ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা জানান, সরকারি অনুমতি ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং পরিবেশ ও নদীর জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনায় আটক দুইজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলমান। পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নৌ পুলিশ জানিয়েছে।

এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা
নুরুজ্জামান কাফি। সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা ও বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহিম । মঙ্গলবার এ মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন কাফির বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং তার বড় ভাই মো. মামুন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই সকাল সোয়া ১০টার দিকে রজাপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মামুন মাটি কাটার ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল এবং খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার সংশ্লিষ্ট জমিতে প্রবেশ করে। পরে জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে চলাচলের রাস্তা তৈরির চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের ৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়ে প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে যান এবং রাস্তা তৈরিতে বাধা দেন। এতে কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুর রহিমের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে সকল শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং ধাক্কাধাক্কি করে তাদের খুন-জখমের ভয়ভীতি দেখায়। পরে কাফি, তার বাবা ও বড় ভাই ১১০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৩০ ফুট প্রস্থের প্রায় ৬ শতাংশ জমির অন্তত ১ লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলি গাড়িতে নিয়ে বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় স্তূপ করে রাখে এবং ওই জমিতে ছোট ছোট কঙ্কর পাথর ফেলে রাস্তা তৈরি করে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে আবদুর রহিম মামলায় উল্লেখ করেন।

আবদুর রহিম বলেন, কলাপাড়ায় মোট ২১.৭৬ একর জমির মালিক খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে থেকে সরকারি খাসজমিসহ নির্ধারিত সীমানায় অবস্থান করে আসছে। ঘটনার পরে আমি তাদের স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করি। কিন্তু কাফিসহ তার পরিবার আপস-মীমাংসায় রাজি হননি। পরে আমি কলাপাড়া থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আমাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে আদালতে মামলা করি। বিদ্যালয়ের জমিজমা রক্ষার্থে আমি ন্যায় বিচারের দাবি জানাচ্ছি। 

এ বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, এ জমির ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছে। তাদের কাছ থেকে আমি বায়না সূত্রে কিনি। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর আমি রাস্তা নির্মাণ করি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রহিম স্যারের সঙ্গে আমার কোনো সামনাসামনি দেখা হয়নি এবং কথাও হয়নি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলেই এর আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, মামলা হয়েছে। আদালত কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলামকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।