শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের খাবারের মান নিয়ে কথা বলায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের দুই নেতাকে ৪ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত ওই দুই শিক্ষার্থী আগামী দুই বছর ক্যাম্পাসে অবস্থান ও প্রবেশ করতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ছাত্রদল তাদের বহিষ্কার করে।
গতকাল মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাত দশটায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম।
তিনি বলেন, ‘ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে তদন্ত ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ বহাল রেখে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তাদের ৪ সেমিস্টার বহিষ্কার ও আগামী দুই বছরের জন্য ক্যাম্পাসে অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে তারা আগামী দুই বছর পর নিয়মিত শিক্ষার্থী হওয়ার পর আবাসিক হলের শিক্ষার্থী হতে পারবে না’
এ ছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার চিকিৎসার সব ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে—সিন্ডিকেটে এ রকম সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করে ছাত্রদল।
বহিষ্কৃতরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে রবিবার (১৯ জুলাই) সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতির পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষর করেন।
গত শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মারধরের এ ঘটনা ঘটে। আহত খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তিনি সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, শাহপরান হলের ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার, এমনকি পচা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে তিনি হলের ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট করেছিলেন। পরে তাকে পোস্টটি নিয়ে কথা বলতে ডাকা হয়। একই রাতে আবারও খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করার পর শনিবার রাতে প্রধান ফটকের সামনে হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান তার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে বুকে লাথি ও মাথা-মুখে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তারেক রহমান। তার দাবি, হলের খাবার নিয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে খাইরুলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় হাসিবুর রহমানও আহত হয়েছেন এবং তার চশমা ও মোবাইল ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তারেক।






