• ই-পেপার

মসজিদে নববীতে চালু হলো ভ্রাম্যমাণ ধর্মীয় সেবা কেন্দ্র

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৮৯

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

এটাই আল্লাহর বিধানপ্রাচীনকাল থেকে চলে এসেছে, তুমি আল্লাহর বিধানে কোনো পরিবর্তন পাবে না। তিনি মক্কা উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন তাদের ওপর তোমাদের বিজয়ী করার পর, তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তা দেখেন। (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ২৩-২৪)

আয়াতদ্বয়ে হুদাইবিয়ার সন্ধি সংক্রান্ত ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. আল্লাহ বিভিন্ন জাতিকে নানাভাবে শাস্তি বা পুরস্কার দেন। তবে নেককারকে পুরস্কার দান এবং পাপীদের শাস্তি প্রদানে আল্লাহর নীতিতে পরিবর্তন আসে না।

২. আনাস (রা.) বলেন, মক্কা উপত্যকা দ্বারা হুদাইবিয়া উদ্দেশ্য। আবু সুলাইমান দামেস্কি (রহ.) বলেন, এর দ্বারা তানয়িম নামক স্থান উদ্দেশ্য।

৩. মক্কার একদল মুশরিক হুদাইবিয়ায় এসে মুসলমানদের উত্ত্যক্ত করেছিল, এমনকি তারা একজন মুসলমানকে শহীদ করেছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের ক্ষমা করে দেওয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়।

৪. তোমাদের বিজয়ী করার পর বাক্য দ্বারা উদ্দেশ্য তোমাদের এতটা প্রভাবশালী করার পর যে মুশরিকরা চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে।

৫. হুদাইবিয়ার সন্ধির ধারাগুলো বাহ্যত মুসলিম স্বার্থ বিরোধী হলেও তা ছিল মুসলমানদের জন্য বড় কূটনৈতিক বিজয় ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি। (তাফসিরে শারভি, পৃষ্ঠা-২৩-২৪)

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

হারাম কারবারে লিপ্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়

প্রশ্ন : যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম হারাম বা ইসলামসিদ্ধ নয়, তাদের শেয়ার বা হালাল পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি?

ফারহান, নবাবগঞ্জ

উত্তর : যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রম হারাম, তাদের শেয়ার বা পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং তাদের ওই হারাম কাজে
সরাসরি লিপ্ত হওয়া হারাম কাজে সহায়তা করার নামান্তর। তাই তা বৈধ নয়।
(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২, জাদিদ ফিকহি মাকালাত : ১/১৫০, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১০/৪৪)

উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতি ইসলামের উৎসাহ

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতি ইসলামের উৎসাহ

ইসলাম মানুষকে ঈমান ও তাকওয়া অর্জনের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, সুচিন্তা, গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও মানবকল্যাণমূলক উদ্ভাবনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে। মানবজাতির জন্য নাজিলকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ সংবিধান মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের প্রথম আয়াত নাজিল হয় পড়ো শব্দ দিয়ে। এরপর অসংখ্য আয়াতে মানুষকে চিন্তা করতে, পর্যবেক্ষণ করতে, শিক্ষা গ্রহণ করতে এবং সৃষ্টিজগতের রহস্য অনুধাবন করতে আহবান জানানো হয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।
(সুরা : আলাক, আয়াত : ১)

কোরআন-হাদিসের মৌলিক জ্ঞানার্জন ছাড়া ইসলাম পালন করাও সম্ভব নয়। তাই ইসলামের প্রথম নির্দেশই ছিল শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের পথে অগ্রসর হওয়া। পবিত্র কোরআন-হাদিসের নির্দেশিত পদ্ধতিতে জ্ঞানার্জন ও গবেষণার মধ্যে ঈমানের পূর্ণতা আসে। তাদের মধ্যে মহান আল্লাহর বড়ত্ব, মহব্বত ও ভয়ের সৃষ্টি হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ জ্ঞানী ব্যক্তিদের ব্যাপারে বলেছেন, যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করোনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করো। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯১)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও বাস্তব জগতের গবেষণার প্রতি উৎসাহ দিতে গিয়ে বলেন, বলো তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো, অতঃপর লক্ষ করো কিভাবে আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেছেন, অতঃপর আল্লাহ সৃষ্টি করবেন পরবর্তী সৃষ্টি, আল্লাহ সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ২০)

সুবহানাল্লাহ! জ্ঞানার্জন ও গবেষণা শুধু মানুষের ঈমানই দৃঢ় করে না, বরং পৃথিবীবাসীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন নতুন উদ্ভাবনের শক্তি জোগায়, যা ঈমান-আমল ঠিক রেখে বিশুদ্ধ নিয়তে করলে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হতে পারে। পাশাপাশি তা হালাল রিজিক অর্জনেও সহায়ক হতে পারে। মহান আল্লাহর প্রেরিত অনেক নবী-রাসুলও তৎকালীন যুগের বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজে দক্ষ ছিলেন; যেমনইদ্রিস (আ.) কাপড় সেলাইয়ে দক্ষ ছিলেন। নুহ (আ.) কাঠের নিখুঁত কাজে দক্ষ ছিলেন, এমনকি তিনি তাঁর উম্মতকে মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা করতে আল্লাহর নির্দেশে বিশাল নৌকা তৈরি করেছিলেন। দাউদ (আ.) যুদ্ধাস্ত্র, লৌহবর্ম ও দেহবস্ত্র প্রস্তুত করতে দক্ষ ছিলেন, যা তৎকালীন যুগে যুদ্ধকালীন নিরাপত্তার ধারণাই পাল্টে দিয়েছিল।

এমনকি একসময় মুসলিমরাও নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে পৃথিবীর জ্ঞান-বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিল। মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগে চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, নগর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বমানের উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছিল। তাই মুমিনের উচিত, নিজের ঈমান-আমল ঠিক রাখার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করা। নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে জনকল্যাণে লিপ্ত থাকার চেষ্টা করা। তথ্য-প্রযুক্তির দুনিয়ায়ও নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে উদ্ভাবন মানে দ্বিনের মধ্যে নতুন ইবাদত প্রবর্তন (বিদআত) নয়; বরং আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান ও মেধা কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন সহজ করা, সমস্যা সমাধান করা এবং বৈধ উপায়ে সভ্যতার উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করা।

আজকের মুসলিম সমাজ যদি পবিত্র কোরআনের পড়ো, চিন্তা করো’—এই আহবানগুলোকে জীবনের কর্মসূচি বানাতে পারে, তাহলে তারা আবারও জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে, ইনশাআল্লাহ। কারণ ইসলাম শুধু অতীতের গৌরব স্মরণ করতে শেখায় না; বরং জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও শিক্ষা দেয়।

কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শনে রাজা তৃতীয় চার্লস

আবরার আবদুল্লাহ
কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শনে রাজা তৃতীয় চার্লস

কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। তিনি গত ২০ জুলাই সোমবার মসজিদ পরিদর্শনে যান। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এটাই প্রথম কোনো রাজার আনুষ্ঠানিক মসজিদ পরিদর্শন। যুক্তরাজ্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস এই সফর করলেন, যা ব্রিটিশ সমাজের প্রতি শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা প্রদান করে।

ব্রিটিশ রাজা মসজিদটির ট্রাস্টি, ইমাম ও কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব (ইকো-ফ্রেন্ডলি) মসজিদ হিসেবে পরিচিত কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ। রাজার আগমন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে তুর্কি রাষ্ট্রদূত ওসমান কোরাই এরতাশ, কেমব্রিজ মসজিদ ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য জেইনেপ চোশকুন কোচ ও সেলিম আরগুন, ব্রিটিশ লেখক আবদুল হাকিম মুরাদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মসজিদ পরিদর্শনের সময় রাজা তৃতীয় চার্লসকে সেলিমিয়ে মসজিদের গম্বুজের স্থাপত্য থেকে অনুপ্রাণিত একটি কাচের পেপারওয়েট এবং মসজিদটির নির্মাণকাজ ও অর্জিত আন্তর্জাতিক পুরস্কারগুলো নিয়ে প্রকাশিত একটি বিশেষ স্মারক গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয়।

ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য জেইনেপ চোশকুন কোচ বলেন, এই সফরটি মসজিদ ও সাধারণ মানুষের জন্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ রাজা আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদ সফর করলেন। এর আগে তাঁর মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ২০০২ সালে একটি মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন। এরপর গত ২০ বছরে এমন কোনো সফর হয়নি এবং কোনো ব্রিটিশ রাজা এর আগে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদে আসেননি।

জেইনেপ চোশকুন কোচ বলেন, ইংল্যান্ডের এই বিশ্ববিদ্যালয় শহরে মসজিদটি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের সহায়তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব, এর সম্ভাব্য অবদান এবং সমাজে এর ইতিবাচক প্রভাব প্রথম উপলব্ধি করেছিল তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন। শুরু থেকে তারাই আমাদের সবচেয়ে বড় সহায়ক। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ব্যক্তিগতভাবে নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন প্রকল্পটির জন্য সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পর ২০১৯ সালে তিনি নিজেই মসজিদটির উদ্বোধন করেন।

মসজিদটির স্থাপত্যে ইসলামী জ্যামিতিক নকশার সঙ্গে কেমব্রিজের স্থানীয় স্থাপত্য ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। মসজিদটিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ফটোভোল্টাইক প্যানেল, বায়ু-উৎসভিত্তিক হিট পাম্প এবং সবুজ উদ্ভিদে আচ্ছাদিত সেডাম ছাদ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং টেকসই উৎস থেকে সংগৃহীত কাঠ ব্যবহারের মাধ্যমে ভবনটির শূন্য-কার্বন (জিরো-কার্বন) পরিবেশগত প্রভাব বজায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে মসজিদটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করা হয়। ভবনের অভ্যন্তরে বাতাসের মান ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।

ব্রিটিশ গবেষক ও লেখক আবদুল হাকিম মুরাদ বলেন, যুক্তরাজ্যে মুসলমানদের মধ্যে যখন উদ্বেগ ও ভুল-বোঝাবুঝি বাড়ছে, তখন এই সফর ব্রিটিশ মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। তিনি জানান, সফরকালে রাজা তৃতীয় চার্লস তরুণ-তরুণী ও শিশুদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে তোলার উদ্যোগের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সূত্র : ইয়েনি সাফাক, টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও এশিয়ান ইমেজ