• ই-পেপার

শাবিপ্রবির ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ

মালয়েশিয়ায় ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
মালয়েশিয়ায় ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কাজ করার সময় একটি বহুতল ভবনের ১০ তলা থেকে নিচে পড়ে মিল্লাত হোসেন (৪২) নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিল্লাতের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ এলাকায়। 

গতকাল বুধবার নিহত মিল্লাতের বড় ভাই ও রামগঞ্জ পদ্মাবাজারে মদিনা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী শরীফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টানা বৃষ্টিতে মরিচক্ষেত নষ্ট, কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা

দিনাজপুর প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে মরিচক্ষেত নষ্ট, কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা
সংগৃহীত ছবি

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরে বিভিন্ন হাটবাজারে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ১৩০ টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বর্তমানে তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে। 

দিনাজপুরের সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজার বাহাদুর বাজারসহ জেলা-উপজেলার ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক সপ্তাহ ধরে দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে টানা বৃষ্টিতে মরিচক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে বাজারে আমদানি কমে গেছে। সে কারণে মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার, সুইহারী বাজার, রামনগর বাজার, উপশহর বাজার, পুলহাট বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির জন্য এলসি খোলা হলেও দেশে মরিচ এসে পৌঁছবে আগামী শনিবার। আবার আমদানি হলেও এর প্রভাব দিনাজপুরে মরিচের দামের ওপর প্রভাব পড়ছে না। কারণ আমদানি হওয়া কাঁচা মরিচ দিনাজপুরের বাজারে পাওয়া যায় না। সব চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে। চাহিদার তুলনায় কাঁচা মরিচ আমদানি কম হওয়ায় এবং বৃষ্টির কারণে দেশে উত্পাদন কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত সোমবার সকালে বাহাদুর বাজারে বাজার করতে আসা আতাউর রহমান বলেন, সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে।

দিনাজপুর কৃষি বিপণন সিনিয়র কর্মকর্তা রবিউল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে মরিচ চাষিদের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় ফলন কম হচ্ছে। ফলে মরিচের দাম দিন দিন বাড়ছে।
 

টিসিবির গোডাউনের আগুন নেভাতে গিয়ে আর ফেরা হলো না তরুণের

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
টিসিবির গোডাউনের আগুন নেভাতে গিয়ে আর ফেরা হলো না তরুণের
ছবি: কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে টিসিবি পণ্যের একটি তালাবদ্ধ গোডাউনের আগুন নেভাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ ও ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে নাসিম আলী ওরফে নয়ন (১৭) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাটবাকইল বাজারের শাপলা মার্কেটের নিচতলায় টিসিবি পণ্যের একটি তালাবদ্ধ গোডাউনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নয়ন উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের হাটবাকইল গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে।

ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাটবাকইল বাজারের শাপলা মার্কেটের নিচতলায় টিসিবি পণ্যের একটি তালাবদ্ধ গোডাউনে আগুন লাগে। ঘটনাটি টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করে। তারা গোডাউন ঘরের দরজা ভেঙে মার্কেটের পাম্পের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে পানি দেওয়া শুরু করে। এসময় বালুও দেয় স্থানীয়রা।

আরো জানা গেছে, আগুন নেভানোর জন্য নয়নও ওই ঘরে ঢুকে পড়ে। এক পর্য়ায়ে আগুন বাড়লে সে পাশের সিঁড়ি দিয়ে দোতলা মার্কেটের ছাদে উঠে পানির ট্যাংক থেকে বালতিতে পানি নিয়ে নিচে নামার সময় দোতলার ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার সামনে প্রচণ্ড ধোঁয়ায় আটকা পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

নাচোল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার এন্তাজুল হক বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুরো ভবন তল্লাশি শুরু করলে টিসিবি গোডাউনের ঠিক ওপরে সিঁড়ির পাশে নয়নের মরদেহ খুঁজে পায়। এসময় তার দেহের বিভিন্ন অংশ কিছুটা ফোসকা পড়ে ঝলসে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, আগুনের আঁচে এবং ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে নয়নের মৃত্যু হয়েছে।

বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ওই ঘরে আগুন লেগে থাকতে পারে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা।

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ঊর্ধ্বমুখী আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কারণেই নয়নের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

কুপি-হারিকেনের আলোয় লেখা সাফল্যের ইতিহাস, পূরণ হলো মায়ের স্বপ্ন

মির্জাপুর প্রতিনিধি
কুপি-হারিকেনের আলোয় লেখা সাফল্যের ইতিহাস, পূরণ হলো মায়ের স্বপ্ন
মোহাম্মদ সাগর খান

প্রবল ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর মায়ের স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ে দারিদ্র্যকে হার মানিয়েছেন মির্জাপুরের তরুণ মোহাম্মদ সাগর খান। ৪৬তম বিসিএসে তথ্য ক্যাডার এবং ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি এখন সবার প্রশংসায় ভাসছেন।

মোহাম্মদ সাগর খান টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের কহেলা গ্রামের অটোরিকশা চালক আকবর খান ও সেলিনা বেগমের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সাগর খান দ্বিতীয়।

পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশা চালক বাবার স্বল্প আয়ের সংসারে বেড়ে ওঠা সাগর ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। কহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে রাজাপুর কহেলা বাহরাম মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে ২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে ঢাকা সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। সংসারের অভাব-অনটন কখনোই থামাতে পারেনি তাকে। বর্তমান যুগেও এসএসসি পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছাড়াই কুপি ও হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করতে হয়েছে তাকে। অনেক সময় কেরোসিন না থাকায় দিনের আলোতেই পড়া শেষ করতে হয়েছে। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন তিনি।

এরপর ২০২৫ সালের ২ জুলাই ওয়ান ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকরি পান সাগর। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের মাত্র ৯ দিনের মাথায় মারা যান তার মমতাময়ী মা সেলিনা বেগম। শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ৪৬তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন এবং তথ্য ক্যাডারে সুপারিশ পান। মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করবেন। সেই স্বপ্ন পূরণে প্রস্তুতি চালিয়ে যান সাগর। অবশেষে ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন সাগর।

সাগর খানের বাল্যবন্ধু কল্লোল বলেন, সাগরের অধ্যবসায় ও সততা তাকে আরো অনেক দূর নিয়ে যাবে। তার এই সাফল্যে কহেলা গ্রামসহ গর্বিত পুরো এলাকার মানুষ।

বাবা আকবর খান বলেন, সাগরের এই অর্জনে আমরা গর্বিত। সাগর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের মানুষের সেবা করবে বলে বিশ্বাস। সেবার মাধ্যমে সাগর একজন আদর্শ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে এই দোয়া করি। তিনি ছেলের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

মোহাম্মদ সাগর খান বলেন, দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি এবং দারিদ্র্যতার মধ্যে বেড়ে উঠেছি। এই দারিদ্র্যতার মধ্যে আমি একটা জিনিস বেছে নিয়েছি, সেটি হচ্ছে লেখাপড়া। সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করতে হলে লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। সব সময় একটা বিষয় বিশ্বাস করতাম প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকলে দারিদ্র্যতা কখনো মানুষকে দমাতে পারে না। আমারও সেই ইচ্ছা-শক্তি থেকেই আজ এ পর্যন্ত এসেছি। মায়ের ইচ্ছা ছিল প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করে দেশ ও মানুষের সেবা করা। কিন্তু আমার ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়ার। বিভিন্ন কারণে আমি তা করতে পারিনি। এসময় তিনি তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

রাজাপুর কহেলা বাহরাম মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহম্মদ আব্দুল খালেক বলেন, সাগর শুধু আমাদের বিদ্যালয়ের নয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। দারিদ্র্যকে হারিয়ে তার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখাবে।

সংগ্রাম, অধ্যবসায় আর মায়ের স্বপ্নকে শক্তি করে দারিদ্র্যকে জয় করেছেন মোহাম্মদ সাগর খান। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে, পরিস্থিতি নয়, ইচ্ছাশক্তিই মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।