• ই-পেপার

কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শনে রাজা তৃতীয় চার্লস

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৮৯

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

এটাই আল্লাহর বিধানপ্রাচীনকাল থেকে চলে এসেছে, তুমি আল্লাহর বিধানে কোনো পরিবর্তন পাবে না। তিনি মক্কা উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন তাদের ওপর তোমাদের বিজয়ী করার পর, তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তা দেখেন। (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ২৩-২৪)

আয়াতদ্বয়ে হুদাইবিয়ার সন্ধি সংক্রান্ত ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. আল্লাহ বিভিন্ন জাতিকে নানাভাবে শাস্তি বা পুরস্কার দেন। তবে নেককারকে পুরস্কার দান এবং পাপীদের শাস্তি প্রদানে আল্লাহর নীতিতে পরিবর্তন আসে না।

২. আনাস (রা.) বলেন, মক্কা উপত্যকা দ্বারা হুদাইবিয়া উদ্দেশ্য। আবু সুলাইমান দামেস্কি (রহ.) বলেন, এর দ্বারা তানয়িম নামক স্থান উদ্দেশ্য।

৩. মক্কার একদল মুশরিক হুদাইবিয়ায় এসে মুসলমানদের উত্ত্যক্ত করেছিল, এমনকি তারা একজন মুসলমানকে শহীদ করেছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের ক্ষমা করে দেওয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়।

৪. তোমাদের বিজয়ী করার পর বাক্য দ্বারা উদ্দেশ্য তোমাদের এতটা প্রভাবশালী করার পর যে মুশরিকরা চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে।

৫. হুদাইবিয়ার সন্ধির ধারাগুলো বাহ্যত মুসলিম স্বার্থ বিরোধী হলেও তা ছিল মুসলমানদের জন্য বড় কূটনৈতিক বিজয় ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি। (তাফসিরে শারভি, পৃষ্ঠা-২৩-২৪)

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

হারাম কারবারে লিপ্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়

প্রশ্ন : যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম হারাম বা ইসলামসিদ্ধ নয়, তাদের শেয়ার বা হালাল পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি?

ফারহান, নবাবগঞ্জ

উত্তর : যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রম হারাম, তাদের শেয়ার বা পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং তাদের ওই হারাম কাজে
সরাসরি লিপ্ত হওয়া হারাম কাজে সহায়তা করার নামান্তর। তাই তা বৈধ নয়।
(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২, জাদিদ ফিকহি মাকালাত : ১/১৫০, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১০/৪৪)

উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতি ইসলামের উৎসাহ

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতি ইসলামের উৎসাহ

ইসলাম মানুষকে ঈমান ও তাকওয়া অর্জনের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, সুচিন্তা, গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও মানবকল্যাণমূলক উদ্ভাবনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে। মানবজাতির জন্য নাজিলকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ সংবিধান মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের প্রথম আয়াত নাজিল হয় পড়ো শব্দ দিয়ে। এরপর অসংখ্য আয়াতে মানুষকে চিন্তা করতে, পর্যবেক্ষণ করতে, শিক্ষা গ্রহণ করতে এবং সৃষ্টিজগতের রহস্য অনুধাবন করতে আহবান জানানো হয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।
(সুরা : আলাক, আয়াত : ১)

কোরআন-হাদিসের মৌলিক জ্ঞানার্জন ছাড়া ইসলাম পালন করাও সম্ভব নয়। তাই ইসলামের প্রথম নির্দেশই ছিল শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের পথে অগ্রসর হওয়া। পবিত্র কোরআন-হাদিসের নির্দেশিত পদ্ধতিতে জ্ঞানার্জন ও গবেষণার মধ্যে ঈমানের পূর্ণতা আসে। তাদের মধ্যে মহান আল্লাহর বড়ত্ব, মহব্বত ও ভয়ের সৃষ্টি হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ জ্ঞানী ব্যক্তিদের ব্যাপারে বলেছেন, যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করোনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করো। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯১)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও বাস্তব জগতের গবেষণার প্রতি উৎসাহ দিতে গিয়ে বলেন, বলো তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো, অতঃপর লক্ষ করো কিভাবে আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেছেন, অতঃপর আল্লাহ সৃষ্টি করবেন পরবর্তী সৃষ্টি, আল্লাহ সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ২০)

সুবহানাল্লাহ! জ্ঞানার্জন ও গবেষণা শুধু মানুষের ঈমানই দৃঢ় করে না, বরং পৃথিবীবাসীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন নতুন উদ্ভাবনের শক্তি জোগায়, যা ঈমান-আমল ঠিক রেখে বিশুদ্ধ নিয়তে করলে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হতে পারে। পাশাপাশি তা হালাল রিজিক অর্জনেও সহায়ক হতে পারে। মহান আল্লাহর প্রেরিত অনেক নবী-রাসুলও তৎকালীন যুগের বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজে দক্ষ ছিলেন; যেমনইদ্রিস (আ.) কাপড় সেলাইয়ে দক্ষ ছিলেন। নুহ (আ.) কাঠের নিখুঁত কাজে দক্ষ ছিলেন, এমনকি তিনি তাঁর উম্মতকে মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা করতে আল্লাহর নির্দেশে বিশাল নৌকা তৈরি করেছিলেন। দাউদ (আ.) যুদ্ধাস্ত্র, লৌহবর্ম ও দেহবস্ত্র প্রস্তুত করতে দক্ষ ছিলেন, যা তৎকালীন যুগে যুদ্ধকালীন নিরাপত্তার ধারণাই পাল্টে দিয়েছিল।

এমনকি একসময় মুসলিমরাও নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে পৃথিবীর জ্ঞান-বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিল। মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগে চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, নগর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বমানের উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছিল। তাই মুমিনের উচিত, নিজের ঈমান-আমল ঠিক রাখার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করা। নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে জনকল্যাণে লিপ্ত থাকার চেষ্টা করা। তথ্য-প্রযুক্তির দুনিয়ায়ও নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে উদ্ভাবন মানে দ্বিনের মধ্যে নতুন ইবাদত প্রবর্তন (বিদআত) নয়; বরং আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান ও মেধা কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন সহজ করা, সমস্যা সমাধান করা এবং বৈধ উপায়ে সভ্যতার উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করা।

আজকের মুসলিম সমাজ যদি পবিত্র কোরআনের পড়ো, চিন্তা করো’—এই আহবানগুলোকে জীবনের কর্মসূচি বানাতে পারে, তাহলে তারা আবারও জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে, ইনশাআল্লাহ। কারণ ইসলাম শুধু অতীতের গৌরব স্মরণ করতে শেখায় না; বরং জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও শিক্ষা দেয়।

মসজিদে নববীতে চালু হলো ভ্রাম্যমাণ ধর্মীয় সেবা কেন্দ্র

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মসজিদে নববীতে চালু হলো ভ্রাম্যমাণ ধর্মীয় সেবা কেন্দ্র

মসজিদে নববীতে আগত মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের ধর্মীয় সেবা আরো সহজ ও মানসম্মত করতে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববীর ধর্মবিষয়ক প্রেসিডেন্সি। গত মঙ্গলবার মসজিদে নববীতে ভ্রাম্যমাণ ধর্মীয় সেবা কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববীর ধর্মবিষয়ক সভাপতি শেখ ড. আবদুল রহমান বিন আবদুল আজিজ আস-সুদাইস।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ সুদাইস বলেন, এই ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো মাঠ পর্যায়ে ধর্মীয় সেবার পরিধি আরো বিস্তৃত করা, মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের কাছে সেবাকে সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের চাহিদার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ ধর্মীয় সেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মসজিদে নববীতে আগত আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্সি এমন একটি সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যা দর্শনার্থীদের আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি হেদায়েত, সহনশীলতা ও মধ্যপন্থার ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারের মাধ্যমে নবীর মসজিদের বিশ্বজনীন বার্তা আরো সুদৃঢ় করবে।

নতুন এই ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় ও দিকনির্দেশনামূলক সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে শরিয়াহসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান, ধর্মীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা, ইসলামী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন ভাষায় শিক্ষামূলক ও জ্ঞানবর্ধক বই-পুস্তিকা ও তথ্যসামগ্রী বিতরণ। বহুজাতিক মুসল্লিদের কথা বিবেচনায় রেখে কেন্দটি এমনভাবে পরিচালিত হবে, যাতে বিভিন্ন ভাষাভাষী দর্শনার্থীরাও সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

ধর্ম বিষয়ক প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, আল্লাহর মেহমানদের সেবাকে আরও উন্নত করা, ধর্মীয় অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করা এবং নবীর মসজিদে প্রদত্ত সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে হজ ও ওমরাহ পালনকারী এবং মসজিদে নববীর দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক, সহজলভ্য ও মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।