• ই-পেপার

শিক্ষার্থীদের আড়ালে এরা কারা?

ক্ষমা করুন, শান্তিতে বাঁচুন : প্রবীণ জীবনের এক অনিবার্য শিক্ষা

হাসান আলী
ক্ষমা করুন, শান্তিতে বাঁচুন : প্রবীণ জীবনের এক অনিবার্য শিক্ষা
হাসান আলী।

বার্ধক্য মানুষের জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়। এই সময়ে মানুষ বর্তমানের চেয়ে অতীতের সঙ্গে বেশি সময় কাটান। এই সময়ে কর্মব্যস্ততা কমে যায়, দায়িত্বের চাপ হালকা হয়, কিন্তু স্মৃতির ভাণ্ডার খুলে যায় আরো বিস্তৃতভাবে।

শৈশব, যৌবন, সংসার, কর্মজীবন, সম্পর্ক—সবকিছু যেন নতুন করে ফিরে আসে মনে। সেই স্মৃতিগুলোর মধ্যে যেমন থাকে আনন্দ ও সাফল্যের গল্প, তেমনি থাকে অপমান, অবহেলা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং কষ্টের ঘটনাও।

অনেক প্রবীণ বছরের পর বছর ধরে এসব ঘটনার ক্ষত বয়ে বেড়ান। কারো প্রতি অভিমান, কারো প্রতি রাগ, কারো প্রতি ঘৃণা তাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়ে বসে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই ক্ষোভ ও অভিমান ধরে রেখে লাভ কী?

যে ঘটনা বিশ বছর আগে ঘটেছে, যে মানুষটি দশ বছর আগে অন্যায় করেছে, কিংবা যে সম্পর্ক বহু আগেই ভেঙে গেছে, সেসব স্মৃতি আজও যদি একজন প্রবীণের মনকে অশান্ত করে রাখে, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তিনি নিজেই। অতীতের আগুনে বর্তমানকে পোড়ানো কোনো জ্ঞানীর কাজ নয়। জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মানসিক শান্তি। আর সেই শান্তির অন্যতম পথ হলো ক্ষমা।

ক্ষমার বিষয়টি বোঝার জন্য মনোবিজ্ঞানে বহুল আলোচিত REACH Model of Forgiveness গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই মডেলের মাধ্যমে ক্ষমাকে একটি সচেতন মানসিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ইংরেজি R-E-A-C-H শব্দের ৫টি অক্ষর দিয়ে এই মডেলের ৫টি মূল ধাপকে বোঝানো হয়েছে—

১. Recall the Hurt (আঘাত বা কষ্টকে স্মরণ করা)

ক্ষমা করার প্রথম ধাপ হলো নিজের সঙ্গে সৎ হওয়া এবং আঘাতটিকে স্বীকার করা। ক্ষোভ চেপে না রেখে বা এড়িয়ে না গিয়ে ঘটনাটি আসলে কী ঘটেছিল, তা শান্তভাবে মনে করা হয়। তবে এর উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নেওয়া নয়, বরং নিজের আবেগের মুখোমুখি হওয়া। 

২. Empathize with the Offender (অন্যায়কারীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ)

এই ধাপে অন্যায়কারীর জায়গায় নিজেকে বসিয়ে চিন্তা করতে হয়। তিনি কেন এমন আচরণ করলেন, সেই সময় তার পরিস্থিতি বা মানসিক অবস্থা কেমন ছিল—তা বোঝার চেষ্টা করা হয়। এটি অন্যায়কে সঠিক প্রমাণ করা নয়, বরং অপরপক্ষের দুর্বলতা বা পরিস্থিতিকে অনুধাবন করা। 

৩. Altruistic Gift of Forgiveness (পরার্থপর উপহার হিসেবে ক্ষমা)

ক্ষমা কোনো বিনিময় নয়, এটি একটি নিঃস্বার্থ বা পরার্থপর উপহার। নিজের জীবনের কোনো ভুলের জন্য অন্যের কাছ থেকে যেভাবে অতীতে ক্ষমা পাওয়া গিয়েছিল, সেই একই উদারতা দিয়ে অন্যায়কারীকে মনে মনে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। 

৪. Commit to Forgiveness (ক্ষমার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকা বা প্রতিশ্রুতি)

মন থেকে ক্ষমা করার পর সেই সিদ্ধান্তের ওপর লিখিত বা মৌখিক প্রতিজ্ঞা করা। যেমন—ডায়েরিতে লিখে রাখা, ‘আজ আমি অমুককে এই ভুলের জন্য ক্ষমা করলাম’। এই স্থায়িত্ব বা প্রতিশ্রুতি পরবর্তীতে নিজের মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। 

৫. Hold onto Forgiveness (ক্ষমার অনুভূতি ধরে রাখা)

ক্ষমা করার পরও অনেক সময় পুরনো কষ্টের স্মৃতি মনে পড়ে মনে সংশয় জাগতে পারে। এই ধাপে সেই নেতিবাচক আবেগগুলোকে আবার চাঙ্গা হতে না দিয়ে নিজের নেওয়া ক্ষমার সিদ্ধান্তকে শক্তভাবে ধরে রাখতে হয়। নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হয় যে আপনি অলরেডি ক্ষমা করে দিয়েছেন। 

এই পাঁচটি ধাপ প্রবীণদের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ অনেক সময় আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অবসরজীবনে যখন চিন্তা করার সময় বেড়ে যায়, তখন পুরনো কষ্টগুলো বারবার ফিরে আসে। ফলে অনেকে একই ঘটনা শতবার স্মরণ করেন এবং প্রতিবারই নতুন করে কষ্ট পান।

বাস্তবে দেখা যায়, যে ব্যক্তি কাউকে ঘৃণা করেন, তিনি সেই মানুষটির চেয়ে নিজেই বেশি মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করেন। রাগ, অভিমান ও প্রতিশোধের চিন্তা শরীরে ও মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। 

অন্যদিকে ক্ষমা মানুষের মনে স্বস্তি আনে, সম্পর্ককে সহজ করে এবং জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে।
ক্ষমা করার অর্থ ভুলে যাওয়া নয়। ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়ের বিচার বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং ক্ষমা হলো নিজের হৃদয়কে মুক্ত করা। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে, সে নিজের ভেতরের বিষকে বের করে দেয়। সে সিদ্ধান্ত নেয় যে, অতীতের কোনো ঘটনা আর তার বর্তমান জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করবে না।

আমাদের সমাজে অনেক প্রবীণ আছেন, যারা সন্তান, আত্মীয় কিংবা বন্ধুদের প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ পুষে রাখেন। কেউ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কথা ভুলতে পারেন না, কেউ অবহেলার স্মৃতি ভুলতে পারেন না। এমনকি মৃত্যুর আগে কেউ কেউ বলে যান—অমুক ব্যক্তি যেন তার জানাজায় না আসে বা মুখ না দেখে। এসব কথা মানুষের বেদনার বহিঃপ্রকাশ হলেও শেষ পর্যন্ত তা হৃদয়ের অশান্তিকেই প্রকাশ করে।

জীবনের শেষ সময়ে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তার উদারতা। পৃথিবী থেকে বিদায়ের সময় যদি হৃদয় ভরা থাকে ভালোবাসা, ক্ষমা ও কৃতজ্ঞতায়, তবে সেই বিদায় হয় সুন্দর। কিন্তু হৃদয় যদি ভরা থাকে ঘৃণা ও প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষায়, তবে জীবনের শেষ অধ্যায়ও হয়ে ওঠে ভারাক্রান্ত।

ক্ষমা চাওয়াও একটি মহৎ গুণ। নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতার নয়, শক্তির পরিচয়। একই ভাবে ক্ষমা করাও দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং এটি আত্মিক পরিপক্বতার প্রকাশ। সংকীর্ণ মন প্রতিশোধ চায়, কিন্তু বৃহৎ মন ক্ষমা করতে জানে।

মৃত্যু অনিবার্য। পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ মৃত্যুকে পরাজিত করতে পারেনি। তাই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষের উচিত রাগের হিসাব নয়, শান্তির হিসাব করা। কে কী করেছে তার বিচার ইতিহাস করবে, সমাজ করবে, সৃষ্টিকর্তা করবেন। কিন্তু নিজের হৃদয়ের শান্তির দায়িত্ব নিজেরই।

প্রবীণ জীবনের সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা হতে পারে এই উপলব্ধি—সবকিছু মনে রাখার প্রয়োজন নেই, কিছু কিছু বিষয় ছেড়ে দেওয়ারও প্রয়োজন আছে। ক্ষমা সেই ছেড়ে দেওয়ার শিল্প। আর যে প্রবীণ ক্ষমা করতে পারেন, তিনি শুধু অন্যকে নয়, নিজেকেও মুক্তি দেন। শান্ত বার্ধক্য, সুন্দর বিদায় এবং প্রশান্ত হৃদয়ের জন্য তাই ক্ষমার কোনো বিকল্প নেই।

কেউ রাজবন্দি নয়, সবাই ফৌজদারি আসামি

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

অনলাইন ডেস্ক
কেউ রাজবন্দি নয়, সবাই ফৌজদারি আসামি

পাকিস্তান আমলের প্রায় পুরো সময়জুড়ে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের কারাগারগুলোতে বিরোধীদলীয় অনেক নেতাকে বন্দি থাকতে হয়েছে। ওই সময়গুলোতে রাজপথে বিরোধী দলের বহুল উচ্চারিত স্লোগানের অন্যতম ছিল ‘রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’। শহরের দেয়ালেও বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকত এই স্লোগান। ব্রিটিশ আমলেও এটি ছিল জনপ্রিয় একটি স্লোগান।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই স্লোগানটি উধাও হয়ে গেছে। ১৯৭৩-৭৫ মেয়াদে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রথম সরকারের মেয়াদ ছাড়া প্রতিটি সরকারের আমলে বিরোধী দলের অস্তিত্ব ছিল এবং প্রতিটি সরকারের আমলে কমবেশি দুর্বল ও সবল বিরোধী দল মাঠে সক্রিয় ছিল। এটাও ঠিক যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারান্তরালে রাখা হয়েছে।

‘ক্রসফায়ার’-এর নামে বহু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডও সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি দাবি করে ‘রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’ স্লোগান দিয়েছে, এমন শোনা যায়নি। তবে বিভিন্ন সময়ে ‘জেলের তালা ভাঙব, অমুক ভাইকে আনব,’ স্লোগান শোনা গেছে।

পাকিস্তান আমলে তো বটেই, স্বাধীন বাংলাদেশেরও কোনো কোনো সরকারের আমলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র করা, বক্তৃতা বা লেখায় ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ উসকানি দেওয়ার অভিযোগে কোনো কোনো বিরোধী দলের নেতার বিরুদ্ধে, লেখক ও বুদ্ধিজীবীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা অবশ্যই দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তানে সামরিক শাসক আইউব খানের আমলে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সহযোগী বেশ কিছু সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ এবং আরেক সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের সময়ে শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দুটি মামলাই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তবে শেষোক্ত মামলায় সামরিক আদালত শেখ মুজিবের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। ভাগ্যের কী পরিহাস, শেখ মুজিবের প্রবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জুলফিকার আলী ভুট্টো খণ্ডিত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পর শেখ মুজিবকে মুক্তি দেন এবং ইয়াহিয়া খানকে গৃহবন্দি করেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভিধান থেকে রাজবন্দি শব্দটি কেন বা কীভাবে গায়েব হয়ে গেল? বাংলাদেশ কি রাজনীতিশূন্য বা বিরোধী দলশূন্য দেশে পরিণত হয়েছে, রাজবন্দি শব্দটি এখন আর কোনো রাজনৈতিক অর্থ বহন করে না? অতীত বিষয়ের আলোচনা দীর্ঘ না করে আমরা যদি বর্তমানে ফিরে আসি, তাহলে দেখতে পাই, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সংসদের বহুসংখ্যক সদস্য, বিচারপতি, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আমলা, শীর্ষ পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি হিসাবে দেখা যায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে আওয়ামী লীগদলীয় ১০৭ জন সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য আটক রয়েছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। কারো কারো বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা প্রায় এক শ বলে সংবাদপত্রে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তালিকা আরো দীর্ঘ হতে পারত, যদি না বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ছয় শ ব্যক্তিকে ঢাকা সেনানিবাসসহ বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় দিয়ে তাদের নিরাপদে পালিয়ে যেতে সহায়তা করত।

দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিকসংখ্যক সাংবাদিককে একই সময়ে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটক রাখার ঘটনা।

‘দ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে দুজন সম্পাদকসহ চারজন সাংবাদিক কারাগারে আটক রয়েছেন। আরো ১৪০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যাসহ গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই আত্মগোপনে রয়েছেন। অবশ্য আইন ও সালিশকেন্দ্রের হিসাবে ১৩ জন সাংবাদিক আটক রয়েছেন। তাদের রিপোর্টে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে ৩২টি ফৌজদারি মামলায় ১৩৭ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে ২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ অন্যান্য ফৌজদারি ধারায় মামলা করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ শাসনামলেও তাদের অপছন্দনীয় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের ও কারাগারে আটক রাখার ঘটনা ঘটেছে। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলাসহ ১২৪টি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে ৮টি নাশকতার মামলা, বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে দ্রেশদ্রোহের উসকানি দেওয়ার সন্দেহমূলক মামলা এবং অনুরূপ অভিযোগে সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীসহ আরো কিছু সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান সময়ে আটক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সবই অপরাধমূলক।

রাজনীতিবিদসহ যারাই জুলাই অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই ইতিমধ্যে কারাগারে দুই বছর করে কাটিয়ে দিয়েছেন। আর কত দিন তাদের কারাগারে কাটাতে হবে, সে সম্পর্কে অনুমান করে কিছু বলা কঠিন। যারা গ্রেপ্তার এড়াতে বিদেশে চলে গেছেন, বা দেশের অভ্যন্তরেই আত্মগোপনে রয়েছেন, তারা কবে আত্মনির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আসতে পারবেন অথবা আত্মগোপন অবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারবেন, তা-ও অনিশ্চিত। কারণ নির্বাসিত বা আত্মগোপনে থাকা প্রায় সবার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য মামলা রয়েছে।

বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, যাদের নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত, তাদের প্রায় সবাই রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে যারা কারাগারে আছেন, তারা রাজবন্দি নন। গ্রেপ্তার এড়িয়ে যারা দেশে বা দেশের বাইরে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এক সময়ে কমিউনিস্ট নেতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ‘আন্ডাগ্রাউন্ডে’ চলে যাওয়ার রাজনৈতিক পরিভাষাও প্রযোজ্য নয়। কারণ রাজনীতিবিদদের একজনও রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার হননি। যারা আড়ালে আছেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাও রাজনৈতিক কারণপ্রসূত নয়। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা, মানবাধিকারবিরোধী অপরাধ, গুম, অপহরণ, নির্যাতন, অর্থ পাচার, রাষ্ট্রের অর্থ আত্মাসাৎ, পরের সম্পত্তি দখল, চাঁদাবাজি ইত্যাদি ফৌজদারি মামলা রজু করা হয়েছে।

পাকিস্তানে যাদের রাজবন্দি হওয়ার কথা তারা কেন রাজবন্দি নন? রাজবন্দির সংজ্ঞা অনুযায়ী রাজবন্দি সেই ব্যক্তি, যিনি তার রাজনৈতিক বিশ্বাস বা সেই বিশ্বাস অনুযায়ী সরকারের দেশ ও গণবিরোধী ভূমিকার বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর কারণে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি হন। রাজবন্দি আইনগত পরিভাষা বলে মনে করা হলেও শব্দটির মানসম্মত আইনগত কোনো সংজ্ঞা না থাকায় এটি নানা প্রেক্ষাপটে নানা উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

১৯৬১ সালে পর্তুগালের একনায়কতান্ত্রিক সরকারপ্রধান আন্তোনিও সালাজারকে বিদ্রুপ করার অভিযোগে দুজন ছাত্রকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা পিটার বেনেনসন তাদের ক্ষেত্রে ‘প্রিজনার অব কনশেন্স’ বা ‘বিবেকের বন্দি’ শব্দটি চালু করেন। এরপর থেকে রাজবন্দি এবং বিবেকের বন্দি প্রায় সমার্থক হয়ে যায়। তবে বিবেকের বন্দির আওতা ব্যাপক, যার মধ্যে রাজনীতিতে জড়িত ব্যক্তিরা ছাড়াও ধর্ম, সংস্কৃতিসহ প্রায় সব বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তিও পড়েন, যাদের সহিংসতাকে সমর্থন বা উৎসাহিত না করলেও তাদের প্রকাশ্য ভিন্নমত সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে আশঙ্কায় সরকার তাদের বন্দি করে।

অন্যদিকে রাজবন্দিরা বিদ্যমান সরকারের অব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে সরকারের রোষানলে পড়েন। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৪-এর আগস্ট থেকে যেসব রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন বন্দি হিসেবে রয়েছেন, তারা কোনো সরকারের অব্যবস্থাপনার প্রতিকার দাবি করে সরকারের রোষানলে পড়েননি। বরং তারাই সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ছিলেন অথবা সরকারকে নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে সরকারের কাছ থেকে নানা ধরনের সুবিধা গ্রহণ করেছেন। তাদের অব্যবহিত পর যারা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তারা তাদের রাজনৈতিক কারণের চেয়ে ফৌজদারি অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে কারাগারে গিয়েছেন।

এ ধরনের গ্রেপ্তার ও কারারুদ্ধ রাখার ঘটনাই বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। প্রতিটি সরকার রাজনৈতিক কারণের চেয়ে অরাজনৈতিক ও অপরাধমূলক কারণে রাজনীতিবিদদের আটক করেছে এবং আদালতকে ব্যবহার করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করে ‘পথের কাঁটা’ সরানোর বিমলানন্দ উপভোগ করেছে। সেজন্য বাংলাদেশে কোনো রাজবন্দি নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’-এর ২০২৬ সালের রিপোর্টে বিশ্বের ২৮টি দেশে ২ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন। এ তালিকায় বাংলাদেশ না থাকার অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশে কোনো রাজবন্দি নেই। অতএব বাংলাদেশের রাজপথকাঁপানো ‘রাজবন্দিদের মুক্তি চাই,’ ‘জেলের তালা ভাঙব, অমুক অমুক আপা-ভাইকে আনব’ স্লোগানও এখন অনুপস্থিত।

সময়ের ব্যবধানে স্লোগান ও বক্তৃতা দেওয়ার জন্য রাজপথ ও পল্টন-সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্থান করে নিয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এসব প্ল্যাটফর্মে রাজবন্দিদের মুক্ত করার জন্য জেলের তালা ভাঙার কথা বলা হয় না, বরং দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এই দেখে নেওয়ার সংস্কৃতিই রাজনীতিকে কলুষিত করেছে এবং এখনো করছে, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করছে এবং গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘদিন বিনা বিচারে আটকে রাখার পর সাধারণ অপরাধী হিসেবে তাদের বিচার ও শাস্তি হচ্ছে। বিগত সাড়ে পাঁচ দশকের বাংলাদেশে আদালত সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ও রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত নামিদামি যেসব ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে শাস্তি বিধান করেছে এবং যারা প্রকৃতপক্ষে হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণের অপরাধ ঘটিয়ে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হয়েছে, তাদের সিংহভাগেরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব দণ্ডিতরাই আবার ‘ধোয়া তুলসীপাতা’র মতো বেকসুর খালাস পেয়ে গেছেন, যখন তাদের অনুকূল সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। কারাফটকে তারা বিপুলভাবে সংবর্ধিত হন, শোভাযাত্রাসহ তাদের দলীয়প্রধানের বাড়ি গিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। এক সময়ে বিচারে দোষী সাব্যস্ত অপরাধীরাই আবার অভিষিক্ত হন ‘ফুলের মতো পবিত্র’ দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদে।   

বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোনো বাছবিচার ছাড়াই প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর হামলে পড়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সব মহলে সংশয় রয়েছে। যে দলগুলো ক্ষমতায় গেছে, তারা দেশ ও জনগণের সেবা করার পরিবর্তে সব সময় তাদের নেতাকর্মীদের আখের গোছানোর সুযোগ দিয়েছে। তারা অপরাধে জড়িয়েছে, পরবর্তী দশ পুরুষকে বসে খাওয়ানো মতো দুর্নীতি করেছে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম, খুন করা ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলা ঠুকে দেওয়াসহ এমন আচরণ করেছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসার কথা ভাবতেও না পারেন। কিন্তু যেকোনো সরকার যত জনপ্রিয় হোক না কেন, যে কারো বিরুদ্ধে সরকারের একেকটি আচরণ সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতিক্রিয়ার ছাপ রাখে এবং তা পুঞ্জীভূত হয়ে বিস্ফোরিত হওয়ার অনুকূল সময়ের অপেক্ষা করে।

আওয়ামী লীগ তাদের দম্ভের কারণে কোনো কিছুকে আমলে নেয়নি, নিজেদের অন্যায়কেও সংগত এবং তাদের অধিকার বলে ভেবেছে, এমনকি জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে তাদের ‘টপ টু বটম’ একজনও অনুশোচনার প্রয়োজনও বোধ করেনি। এই আওয়ামী লীগ কীভাবে নিজেদের তৃণমূলের রাজনৈতিক দল দাবি করে, এটা কেবল দেশবাসীর বিস্ময় নয়, ‘সারা বিশ্বের বিস্ময়’! এখানেই যদি তারা থামত, কৃত অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করত, জনগণের কাছে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করত, তাহলেও কথা ছিল। কিন্তু তাদের তর্জন-গর্জন প্রমাণ করে দেশে বারবার রক্তক্ষয় ঘটানোই তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য, তাদের সত্যাগ্রহ। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস সত্যাগ্রহ তাদের কাছে কোনো সত্যাগ্রহই নয়। একটি দলের এমন মানসিকতায় তার প্রতিপক্ষ কি বসে বসে আঙুল চুষবে? কেউ তা করে না। অতএব ধরেই নেওয়া যায়, অনাদিকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ এভাবেই চলতে থাকবে। সংস্কৃত ভাষায় একটি প্রবাদ আছে : ‘সরলে সারল্যং কুর্যাৎ, শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ!’ অর্থাৎ ‘সরলের সঙ্গে সারল্য করবে, শঠের সঙ্গে শঠতাই সংগত!’

লেখক : যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে এগোতে পারে

প্রফেসর আবুল কালাম
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে এগোতে পারে
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং শুধু মর্যাদা, পরিচিতি বা প্রচারের বিষয় নয়। এর মাধ্যমে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সংযোগ, সুশাসন এবং সামাজিক অবদানের একটি সামগ্রিক চিত্র প্রকাশ পায়। একই সঙ্গে একটি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সক্ষমতা সম্পর্কেও আন্তর্জাতিক পরিসরে ধারণা তৈরি হয়।

বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান উন্নত করছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও বিষয়টি এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে অংশগ্রহণ মানে শুধু একটি আবেদনপত্র পূরণ বা নির্দিষ্ট সময়ে কিছু তথ্য জমা দেওয়া নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নপ্রক্রিয়া।

একটি বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে ভালো করতে চাইলে প্রথম কাজ র‍্যাংকিং সংস্থার ফরম সংগ্রহ করা নয়। আগে প্রতিষ্ঠানকে নিজের বর্তমান সক্ষমতা, দুর্বলতা, গবেষণার অবস্থা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানের ধরন, বয়স, শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক উপস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

সব আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ের উদ্দেশ্য ও মূল্যায়নপদ্ধতি এক নয়। QS World University Rankings একাডেমিক সুনাম, নিয়োগদাতাদের মূল্যায়ন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত, গবেষণার উদ্ধৃতি, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, গবেষণা নেটওয়ার্ক এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করে।

QS Asia Region Rankings আঞ্চলিক বাস্তবতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মূল্যায়ন করে। বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি বাস্তবসম্মত মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য হতে পারে। তবে QS Asia র‍্যাংকিংয়ে প্রবেশ স্বয়ংক্রিয় নয়। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম, স্নাতক ব্যাচ, একাডেমিক সুনাম এবং Scopus এ সূচিভুক্ত গবেষণা প্রকাশনার মতো বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

Times Higher Education World University Rankings মূলত গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার পরিবেশ, গবেষণার গুণমান, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সম্পর্ক মূল্যায়ন করে। এই র‍্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক গবেষণা প্রকাশনার শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই শুধু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যা জমা দিলেই এতে স্থান পাওয়া সম্ভব নয়।

আগে THE Impact Rankings নামে পরিচিত ব্যবস্থাটি বর্তমানে Sustainability Impact Ratings নামে নতুন কাঠামোয় পরিচালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, নীতি, অংশীদারত্ব এবং সামাজিক অবদান মূল্যায়ন করা হয়।

বাংলাদেশের যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এখনো বিপুল গবেষণা প্রকাশনার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, কিন্তু সামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ, নারী উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, শিল্প সহযোগিতা কিংবা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করছে, তাদের জন্য এই মূল্যায়ন একটি সম্ভাবনাময় প্রাথমিক ক্ষেত্র হতে পারে। তবে কার্যক্রম পরিচালনা করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি কাজের পক্ষে নীতি, প্রতিবেদন, পরিসংখ্যান, ওয়েব তথ্য এবং বাস্তব ফলাফলের প্রমাণ থাকতে হবে।

Academic Ranking of World Universities বা ARWU উচ্চপর্যায়ের গবেষণা সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক গবেষণা উৎকর্ষকে বেশি গুরুত্ব দেয়। নোবেল পুরস্কার ও ফিল্ডস মেডেলপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অত্যন্ত উদ্ধৃত গবেষক, Nature ও Science সাময়িকীতে প্রকাশনা এবং Web of Science এ সূচিভুক্ত গবেষণাপত্রের মতো সূচক এতে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শুরুতেই ARWU লক্ষ্য করা বাস্তবসম্মত নয়। শক্তিশালী গবেষণা অবকাঠামো, উচ্চমানের গবেষক, দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব তৈরি হওয়ার পর এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হতে পারে।

সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একই র‍্যাংকিং লক্ষ্য গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত নয়। একটি নতুন বা শিক্ষাকেন্দ্রিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি পুরোনো গবেষণানির্ভর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামর্থ্য, গবেষণা উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি এক নয়।

লক্ষ্য নির্ধারণের আগে বিশ্ববিদ্যালয়কে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত শিক্ষাকেন্দ্রিক, নাকি গবেষণানির্ভর? কত বছর ধরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করছে? Scopus বা Web of Science এ সূচিভুক্ত গবেষণার পরিমাণ কত? সামাজিক ও টেকসই উন্নয়নে প্রমাণযোগ্য কাজ রয়েছে কি না? আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা কতটা সক্রিয়? শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে কি না?

এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমে QS Asia, QS Subject Rankings, THE Sustainability Impact Ratings অথবা অন্য কোনো আঞ্চলিক ও বিষয়ভিত্তিক র‍্যাংকিংকে লক্ষ্য করতে পারে। গবেষণা সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সুনাম বাড়লে পরে QS World বা THE World University Rankings এর দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।

র‍্যাংকিং প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো একটি প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা ও র‍্যাংকিং সেল গঠন। ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাংকিং এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দায়িত্ব একই সেলের অধীনে রাখা যেতে পারে। বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা, মাননিয়ন্ত্রণ, র‍্যাংকিং এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য পৃথক ইউনিট থাকা বেশি কার্যকর।

এই সেলের কাজ শুধু র‍্যাংকিংয়ের তথ্য জমা দেওয়া নয়। এর দায়িত্ব হবে প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই, গবেষণা প্রকাশনা পর্যবেক্ষণ, উদ্ধৃতি বিশ্লেষণ, শিক্ষক পরিচিতি হালনাগাদ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখা।

বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং একই তথ্যের একাধিক সংস্করণ। রেজিস্ট্রার দপ্তর, মানবসম্পদ বিভাগ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর এবং ওয়েবসাইটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক সময় এক থাকে না। কোথাও মোট ভর্তি শিক্ষার্থী দেখানো হয়, কোথাও সক্রিয় শিক্ষার্থী, আবার কোথাও পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।

র‍্যাংকিং সংস্থায় তথ্য জমা দেওয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষণা প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিদেশি শিক্ষক, গবেষণা আয়, শিল্প সহযোগিতা, পেটেন্ট, কর্মসংস্থান এবং স্নাতকদের তথ্য এক জায়গায় সংগঠিত করতে হবে।

প্রতিটি তথ্যের সুস্পষ্ট সংজ্ঞাও থাকতে হবে। পূর্ণকালীন শিক্ষক বলতে কাকে বোঝানো হবে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কোন তারিখ অনুযায়ী গণনা করা হবে এবং পূর্ণকালীন সমতুল্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর হিসাব কীভাবে হবে, তা লিখিতভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত তথ্যের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি তথ্যের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর, সময়কাল, অনুমোদনকারী কর্মকর্তা এবং সমর্থনকারী নথি যুক্ত থাকতে হবে। ওয়েবসাইট, বার্ষিক প্রতিবেদন ও র‍্যাংকিংয়ে জমা দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত শিক্ষার পরিবেশ বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সাধারণভাবে কম অনুপাত শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নির্দেশনা, গবেষণা তত্ত্বাবধান এবং শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের বেশি সুযোগ নির্দেশ করতে পারে। তবে নির্দিষ্ট একটি অনুপাতকে সব বিশ্ববিদ্যালয় ও সব বিষয়ের জন্য সমানভাবে ভালো বা খারাপ বলা যুক্তিযুক্ত নয়।

চিকিৎসা, প্রকৌশল, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষাদান পদ্ধতি এক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য শুধু অনুপাত কম দেখানো হওয়া উচিত নয়। যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষক ধরে রাখা, গবেষণা তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে গবেষণার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তবে শুধু গবেষণাপত্রের সংখ্যা বাড়ালেই ভালো অবস্থান নিশ্চিত হয় না। গবেষণার গুণমান, আন্তর্জাতিক প্রভাব, উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক সহলেখক, বিষয়ভিত্তিক গবেষণা এবং শিক্ষকসংখ্যার তুলনায় গবেষণা উৎপাদন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের গবেষণার অগ্রাধিকার ক্ষেত্র নির্ধারণ করতে হবে। সব বিষয়ে বিচ্ছিন্নভাবে অল্প গবেষণা করার পরিবর্তে কয়েকটি শক্তিশালী ক্ষেত্রে গবেষণা দল, পরীক্ষাগার, তহবিল ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা বেশি কার্যকর হতে পারে।

শিক্ষকদের নাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এবং বিভাগীয় পরিচিতি সব গবেষণাপত্রে একইভাবে লেখা প্রয়োজন। বানান ও পরিচিতির ভিন্নতার কারণে Scopus বা Web of Science এ একই গবেষকের প্রকাশনা একাধিক পরিচয়ের অধীনে বিভক্ত হতে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত গবেষণা উৎপাদন ও উদ্ধৃতি যথাযথভাবে দৃশ্যমান হয় না।

প্রতিটি শিক্ষকের ORCID এবং Scopus Author ID নিয়মিত যাচাই করা দরকার। একই সঙ্গে নিম্নমানের ও সন্দেহজনক সাময়িকীতে প্রকাশনা নিরুৎসাহিত করতে হবে। গবেষণার সংখ্যা বাড়ানোর নামে মান ও নৈতিকতার সঙ্গে আপস করলে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা ভান্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দৃশ্যমানতা বাড়াতে পারে। এখানে গবেষণাপত্র, থিসিস, গবেষণা প্রতিবেদন, সম্মেলনপত্র, বইয়ের অধ্যায় এবং শিক্ষক পরিচিতি সংরক্ষণ করা যায়। তবে শুধু একটি ভান্ডার চালু করলেই হবে না। সঠিক metadata, DOI, লেখকের পরিচিতি, বিভাগ, প্রকাশনার বছর এবং নিয়মিত সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটও আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। QS World বা THE World University Rankings এ সাধারণ ওয়েবসাইট নকশা সরাসরি আলাদা সূচক না হলেও একটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গবেষণা দৃশ্যমানতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।

প্রতিটি শিক্ষকের পরিচিতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার ক্ষেত্র, নির্বাচিত প্রকাশনা, ORCID, Scopus পরিচিতি এবং গবেষণা প্রকল্পের তথ্য থাকা উচিত। চাকরি ছেড়ে যাওয়া বা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সক্রিয় শিক্ষক হিসেবে দেখানো অনুচিত। একই শিক্ষককে একাধিক বিভাগে পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

আন্তর্জাতিকীকরণ মানে শুধু বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নয়। অধিকাংশ সমঝোতা স্মারক যদি বাস্তব কার্যক্রমে রূপ না নেয়, তাহলে তার প্রাতিষ্ঠানিক মূল্য সীমিত থাকে।

সক্রিয় আন্তর্জাতিকীকরণের মধ্যে যৌথ গবেষণাপত্র, গবেষণা অনুদান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ সম্মেলন, দ্বৈত ডিগ্রি, visiting faculty এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করলে তাদের ভিসা, আবাসন, পরামর্শ, স্বাস্থ্যসেবা এবং একাডেমিক অভিযোজনের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

স্নাতকদের কর্মসংস্থান ও নিয়োগদাতাদের মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়মিত graduate tracer study পরিচালনা করতে হবে। স্নাতকেরা কোথায় কাজ করছেন, চাকরি পেতে কত সময় লাগছে, কোন খাতে যাচ্ছেন এবং নিয়োগদাতারা তাদের দক্ষতা সম্পর্কে কী ভাবছেন, তা জানা প্রয়োজন।

শুধু বছরে একটি চাকরি মেলা আয়োজন যথেষ্ট নয়। পাঠ্যক্রম উন্নয়নে শিল্পখাতের মতামত, internship, career counselling, mock interview, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং alumni network গড়ে তোলা প্রয়োজন।

টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি, নারী উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণে কাজ করছে। কিন্তু এসব কার্যক্রমের বড় অংশ নিয়মিত নথিভুক্ত হয় না।

প্রতিটি কার্যক্রম কোন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত, কতজন উপকারভোগী ছিল, কী ফলাফল পাওয়া গেছে এবং কোন নীতির অধীনে কাজটি হয়েছে, তা সংরক্ষণ করতে হবে। কয়েকটি ছবি বা সংবাদ প্রতিবেদন যথেষ্ট নয়। কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও ফলাফলের প্রমাণ প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে তিন থেকে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে।

প্রথম বছরে বর্তমান অবস্থা নির্ণয়, লক্ষ্য নির্বাচন, তথ্য যাচাই, শিক্ষক পরিচিতি হালনাগাদ, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার এবং ওয়েবসাইট উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

দ্বিতীয় বছরে গবেষণার গুণমান, গবেষণা তহবিল, আন্তর্জাতিক সহলেখক, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা ভান্ডার, শিল্প সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রমাণ উন্নয়ন করতে হবে।

তৃতীয় বছরে গবেষণার উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক, স্নাতকদের কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং সক্রিয় বিনিময় কর্মসূচির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এরপর নির্বাচিত র‍্যাংকিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জমা দেওয়া যেতে পারে।

চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে র‍্যাংকিং ফলাফল ও সূচকভিত্তিক দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে হবে। শুধু সামগ্রিক অবস্থানের দিকে তাকালে হবে না। কোন সূচকে প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে আছে এবং কোন বিনিয়োগ কার্যকর ফল দিচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।

র‍্যাংকিংয়ের জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটও এক হবে না। প্রতিষ্ঠানের আকার, প্রযুক্তি, শিক্ষকসংখ্যা, গবেষণা সক্ষমতা এবং নির্বাচিত লক্ষ্য অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারিত হবে। র‍্যাংকিং সেলের জনবল, তথ্যব্যবস্থা, গবেষণা ভান্ডার, ওয়েবসাইট, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণা তহবিল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্য নিরীক্ষায় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

তবে র‍্যাংকিংয়ে তথ্য জমা দেওয়ার ব্যয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক সক্ষমতা উন্নয়নের ব্যয়কে এক করে দেখা উচিত নয়। কিছু র‍্যাংকিংয়ে সরাসরি তথ্য জমাদানের ফি না থাকলেও গবেষণা, তথ্যব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রম গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রয়োজন।

র‍্যাংকিংয়ে উন্নতির জন্য নৈতিকতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। অকার্যকর আন্তর্জাতিক সমঝোতা স্মারক, কাগুজে বিদেশি শিক্ষক, একই শিক্ষককে একাধিক বিভাগে দেখানো, সন্দেহজনক গবেষণা প্রকাশনা, কৃত্রিম উদ্ধৃতি বৃদ্ধি এবং প্রমাণহীন সামাজিক কার্যক্রম কোনো বৈধ কৌশল নয়।

র‍্যাংকিংকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উদ্দেশ্য না বানিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ফল হিসেবে দেখা উচিত। শিক্ষা, গবেষণা, তথ্যের স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়িত্বে প্রকৃত উন্নতি হলে র‍্যাংকিংয়েও তার প্রতিফলন ঘটবে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য বিচ্ছিন্ন কিছু কার্যক্রম বা একবারের তথ্য জমাদান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সঠিক লক্ষ্য, নির্ভরযোগ্য তথ্যব্যবস্থা, মানসম্পন্ন গবেষণা, যোগ্য শিক্ষক, সক্রিয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী শিল্পসংযোগ এবং প্রমাণযোগ্য সামাজিক অবদান।

এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং শুধু একটি তালিকায় অবস্থান অর্জনের মাধ্যম হবে না। এটি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও স্বচ্ছ, গবেষণামুখী, আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত এবং শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার কার্যকর পথ হয়ে উঠতে পারে।

লেখক : ডিন, স্কুল অব বিজনেস, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি

শিশু নির্যাতন ও কটি বিষণ্নতার মহাকাব্য

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
শিশু নির্যাতন ও কটি বিষণ্নতার মহাকাব্য

অনেক মাদ্রাসায় অতিরিক্ত নিপীড়ন ঘটে বলে গুঞ্জন রয়েছে। কিছু তার অমানবিক, কিছু অনৈতিক। মাঝে মাঝে তার উন্মোচনও ঘটে। কিছুদিন আগে এরকম এক ঘটনার খবর প্রকাশ পায়। সেটা এই রাজধানীর বনশ্রী এলাকার এক মাদ্রাসায়। ছুটির পরে ভবনের তৃতীয় তলায় এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। তার শরীরে অনৈতিক নির্যাতনের ক্ষত ছিল। লেখাপড়া করতে সে ঢাকায় এসেছিল সুদূর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে।

নেত্রকোনা থেকে খবর, মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক কারাগারে। আমানুল্লাহ মাহমুদী নামের ওই শিক্ষক তার ওই ছাত্রীটিকে ছুটির পরে মাদ্রাসাসংলগ্ন মসজিদ ঝাড়ু দিতে বলেন। তারপর নিজের ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। মেয়েটি চিৎকার করে উঠলে প্রহারের ভয় দেখান। এরকম একাধিকবার ঘটেছে। ভয়ে শিশুটি কাউকে কিছু বলেনি। কিন্তু মা যখন টের পান যে তার কন্যা অন্তঃসত্ত্বা, তখন ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে যায়। থানায় গিয়ে মা নালিশ করেন। মাদ্রাসাশিক্ষককে আটক করা হয়।

শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো ছাড়া-ছাড়া, তবে সবগুলো মিলে উপাদান বিষণ্নতার এক মহাকাব্যের। ঘরের ভিতরেও শিশুরা এখন নিপীড়িত হচ্ছে। পিতা-মাতার মধ্যে বিরোধ, বিভিন্ন ধরনের পারিবারিক অশান্তি তো আছেই; রয়েছে প্রযুক্তির সংক্রমণও। যেমন একটি জরিপ জানাচ্ছে যে ঢাকার শিশুরা দিনে পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে আটক থাকে।

তাৎক্ষণিক বিচারের আরেকটি খবর : বাড়ির মালিককে গণপিটুনি; ফাঁসির দাবিতে থানা ঘেরাও। ঘটনাটি শেরপুরের। সেখানকার পৌর এলাকায় ধর্ষণের দায়ে ধৃত হয়ে গণপিটুনির প্রাথমিক শাস্তি পেয়েছেন এনামুল হক (৩৮) নামের এক ব্যক্তি। তিনি একটি বাড়ির মালিক, যে বাড়িতে পাঁচ মাস আগে এক দম্পতি ঘর ভাড়া নেন। স্বামী কাজ করেন ফার্নিচারের দোকানে। সকালে যান ফিরতে রাত হয়। স্ত্রী ঘরে থাকেন, একা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাড়ির মালিক মহিলাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। বিপদ ঘটতে পারে এই শঙ্কায় ওই দম্পতি অন্যত্র বাসা খুঁজছিলেন। শিকার হাতছাড়া হচ্ছে টের পেয়ে বাড়ির মালিক আর অপেক্ষা করেননি; এক ভরদুপুরে অসহায় মহিলাকে ধর্ষণ করেন। খবর জানাজানি হয়ে গেলে, ওই দিন রাতেই তিন-চার শ লোক জড়ো হয়। পুলিশ এসে এনামুল হককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। জনতা তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে তার ফাঁসির দাবিতে থানা ঘেরাও করে।

প্রতিবেশীরা উদ্ধার করলে অবশ্য দুর্বৃত্ত ধর্ষকের হাত থেকে বাঁচার সুযোগ থাকে। যেমনটা ঘটেছে ঢাকার কলাবাগানে। সেখানেও বাড়ির এক মালিক জড়িত। বয়স তার ৬৩। আলমগীর হুদা রুবেল নামের ওই লোকটির নিজের কোনো পরিবার নেই। থাকেন ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে। একই বাড়িতে। তার বাড়ির ভাড়াটের শিশুকন্যাটির বয়স রামিসার মতোই ৮ বছর। পড়েও সে রামিসার মতোই ক্লাস টুতেই। চকলেট দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে এনে বাবার বয়সি লোকটি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। রামিসার তুলনায় শিশুটির কপাল ভালো। চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দরজায় ধাক্কা দেন। আলমগীর হুদা রুবেল দরজা খুলতে বাধ্য হন। শিশুটি রক্ষা পায়। পুলিশ এসে রুবেলকে থানায় নিয়ে যায়। শিশুদের তো এই অবস্থা, বয়স্কদের ভিতরে নিঃসঙ্গতা ও হতাশা কীভাবে কাজ করছে তার দুটি দৃষ্টান্তের উল্লেখ করেছি। আরেকটি ঘটনারও খবর পাওয়া গেল।

সেটি এই মর্মে : ঢাকার মিরপুরে নিজের ফ্ল্যাটে সেলিনা আফরোজের মৃত্যু। তিনিও একাই থাকতেন। তাঁর স্বামী ও দুই কন্যা থাকেন কানাডায়। তিনি নিজেও সেখানে কিছুকাল ছিলেন। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে বিরোধের তাড়নায় ১০-১২ বছর হলো ঢাকায় ফিরে একাকীই থাকতেন। কারও সঙ্গে মিশতেন না। কেনাকাটা করতেন সন্ধ্যার পর। রান্নাবান্না করতেন নিজেই। খবরের শিরোনামে বলা হয়, ‘মিরপুরে আরেক নিঃসঙ্গ নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার।’ তাঁর বয়স বলা হচ্ছে ৫৫। তাঁকে তো বৃদ্ধা বলা যাবে না; আরও অনেক বছর তাঁর বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চয়ই ছিল।

ধর্ষণ এবং হতাশায় আত্মহনন তো বাড়ছেই, ছিনতাইও বসে নেই। বাড়ছেই। পেশাদার সন্ত্রাসীরা বহুদিন ধরেই ছিল। তারা নিঃশেষ হয়ে যায়নি, বরং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে প্রকাশ্যে যেমন, গুপ্তভাবেও তেমনি আগের চেয়েও বেশি তৎপর রয়েছে। ছিনতাই নতুন কোনো ব্যাপার নয়, তবে ওই কাজ এখন যে শুধু পরিমাণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে তা নয়, গুণগতভাবেও উন্নত হয়েছে। কাজটিতে রীতিমতো পেশাদারত্বই দেখা দিয়েছে। পেশাদার একটি দল শুনলাম ধরা পড়েছে।

সন্ধ্যার পরে মাইক্রোবাসে দলটি নারায়ণগঞ্জ থেকে রওনা হয়ে ঢাকায় আসত এবং বিশেষভাবে মোহাম্মদপুর এলাকার রাস্তাঘাটে রাতভর তৎপরতা চালাত। একটি দল ধরা পড়েছে, আরও দল নিশ্চয়ই আছে। শঙ্কা হয়, ছিনতাই না নতুন একটি পেশা হিসেবেই গড়ে ওঠে! বেকারের সংখ্যা তো বাড়ছেই।

গত ১৩ জুন রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সামনের সড়কে সোহেলি ইসলামের ওপর হামলা করেছিল মোটরসাইকেল আরোহী, হেলমেট-পরা যে দুই ছিনতাইকারী, তারাও তো মনে হয় পেশাদারই। সোহেলি ইসলাম তাঁর মেয়েকে নিয়ে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন দিনাজপুরে। সেখান থেকে রাতের বাসে গাবতলীতে পৌঁছেন ভোর ৫টায়। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মা ও মেয়ে অটোরিকশায় রওনা দেন ধানমন্ডিতে, নিজেদের বাসার দিকে। পথিমধ্যে ওই আক্রমণ। ছিনতাইকারীরা তাঁর হাতের ব্যাগ ধরে টান দেয়; ব্যাগের ফিতা জড়ানো ছিল হাতে; আচমকা টানে তিনি ছিটকে পড়েন সড়কে। মাথায় আঘাত পান। আর্তনাদ করেছেন। সড়কে লোকজন ছিল, কেউ সাড়া দেয়নি। মহিলার মেয়ে এবং অটোরিবশার ড্রাইভার মিলে তাঁকে পাশের হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরপর অন্য দুটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।

ওই যে কেউ সাড়া দিল না, তার ব্যাখ্যা কী? ব্যাখ্যা এই যে, একাকী মানুষ এগোতে ভয় পায়। কারণ ভয়ের একটি আবহ দেশব্যাপী এখন দাপটের সঙ্গে বিরাজমান। সমবেত হতে পারলে সেই ভয় কেটে যায়। সড়কের ওই মানুষগুলোই ছিনতাইকারীদের পাকড়াও করত, আটক করে গণপিটুনি দিত, যদি তারা একত্র হতে পারত। একত্র হলে মানুষ সাহসী হয়, যার অবিস্মরণীয় নিদর্শন আমরা একাত্তরে দেখেছি। দেখেছি নব্বই এবং চব্বিশেও।

বাংলাদেশের অর্থনীতির নির্ভরতা তো এখনো কৃষির ওপরেই। কৃষক কীভাবে বাঁচে সে খবর সচরাচর অজ্ঞাতই থাকে। মাঝেমধ্যে খবর যা পাওয়া যায় তা উৎফুল্ল করে না, দুশ্চিন্তাগ্রস্তই করে। যেমন এই সংবাদ-শিরোনামটি : ‘ধানের হাটে আরও অসহায় কৃষক।’ ভিতরের খবর : ১. এক মণ ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিকের মজুরি। ২. কষ্টের ধানে দুঃখ বাড়ছে কৃষকের সংসারে। ৩. বৃষ্টিতে ভেজা ধান সংরক্ষণ করতে পারছেন না কৃষক। ৪. উৎপাদনের খরচই উঠছে না। ৫. খরচের ভারে নুইয়ে পড়ছেন প্রান্তিক কৃষক। হাওড় এলাকায় বর্ষা এলে প্রতি বছরই চাষির মুখ শুকায়, উৎকণ্ঠায় প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়। ভালো খবর কখনই পাওয়া যায় না। এবারের খবর আরও খারাপ। দুটি খবর বিপন্ন কৃষকের দুর্দশার ভয়াবহতার কিছুটা আভাস দেয়। ১. তলিয়ে যাওয়া ধান দেখে ঢলে পড়লেন কৃষক, জমিতেই মৃত্যু। ২. স্ট্রোকে হাসপাতালে আরও দুজন।

হাওড়ে বন্যার সময় ফসল উদ্ধারে পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েরাও কাজ করেছেন, সমান মাত্রায়। কিন্তু মজুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা গেছে সেই পুরোনো বৈষম্য। লিচুর  মৌসুমে ঈশ্বরদীতে শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েরাও কাজ করেছেন। কিন্তু মেয়েরা পেয়েছেন পুরুষদের অর্ধেক। পুরুষদের ৭০০-৮০০ টাকার জায়গায় মেয়েদের প্রাপ্তি ৩০০-৪০০ টাকা। ভালো কথা, ওই কর্মক্ষেত্রে কিন্তু মেয়েদের বোরখা-হিজাব পরে যেতে হয়নি। বিশেষ পর্দার কোনো বালাই ছিল না। অথচ নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠেনি। হিজাব-বোরখা পরে গেলেও কেউ তাকে বাধা দিত না।

হাওড়ে বন্যার ব্যাপারে স্মরণীয় এটাও যে সবটাই যে প্রাকৃতিক তা নয়, পেছনে মানুষের হাতও রয়েছে। অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ এবং দুর্নীতির দায়িত্ব কম নয়।

স্থানীয় সরকারের অকার্যকারিতাও দায়ী। সর্বোপরি ওপর থেকে যে পানি প্লাবনের মতো নেমে আসে, তার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের রাজনৈতিক সমঝোতার দিকটাও রয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ খবর অবশ্য এটি যে কোথাও কোথাও স্থানীয় লোকেরা ভাঙা বাঁধ নিজেরাই মেরামত করে পানির প্রবাহ ঠেকিয়েছেন, সরকারি উদ্যোগের জন্য অপেক্ষা করেনি।

লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়​​​​​​​