দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে গঠিত দেশের বৃহত্তম পাহাড়ি অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রাম। দেশের মোট আয়তনের প্রায় এক-দশমাংশ জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চল ভৌগোলিক, কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাহাড়, বনভূমি, বহমান নদী ও ঝরনার সমন্বয়ে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক রূপ যেন এক অনন্য সৃষ্টি। পার্বত্য চট্টগ্রামে নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে, যাদের মধ্যে চাকমা, মারমা, ম্রো, বম, ত্রিপুরা, লুসাই, খুমি, খিয়াং, পাংখোয়া, তঞ্চঙ্গ্যা ও কুকি উল্লেখযোগ্য। সবাই তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখে একসঙ্গে বসবাস করে এলেও জীবনমান উন্নয়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তারা সর্বদাই সোচ্চার।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সাল থেকে এই অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। পাশাপাশি এই এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১৯৭৬ সাল থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স এর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
সাঙ্গু নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত বান্দরবান জেলায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ৩৪৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১০৫ কিলোমিটারের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৪৪ কিলোমিটারের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী থানচি-আলীকদম, থানচি-চিম্বুক, থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি ও বান্দরবান-রুমা সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড নিয়োজিত রয়েছে।
উল্লেখিত প্রকল্পসমূহের কাজ অনেকাংশে সাঙ্গু নদীর পানি ও বালি সরবরাহের উপর নির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন ও নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য সাঙ্গু নদী এবং এর সঙ্গে যুক্ত ঝিরিসমূহ প্রধান ভরসা। এছাড়াও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় এই নদীর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।
সাঙ্গু নদীর তীর ঘেঁষে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে রয়েছে বিজিবির গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত চৌকি। এই নদী ও আশেপাশের ঝিরি ব্যবহার করে বিজিবি গহীন জঙ্গলে দ্রুত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলশ্রুতিতে সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ অন্যান্য সকল কার্যক্রম রোধ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল বান্দরবান জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চল মদকসংলগ্ন আরাকান পাহাড় থেকে। নদীটি বান্দরবানের থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি, বান্দরবান সদর হয়ে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। সাঙ্গু নদীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর প্রবাহপথ, যা পূর্ব দিক হতে পশ্চিম দিকে প্রবাহমান। সাধারণত দেশের অধিকাংশ নদীর প্রবাহ উত্তর থেকে দক্ষিণ বা উত্তর-পূর্ব দিক হতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হলেও সাঙ্গু নদী এর ব্যতিক্রম। এই কারণে নদীটির প্রবাহপথ এবং ভৌগোলিক চরিত্র বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও এর আশেপাশের মানুষের জন্য প্রকৃতির এক আশীর্বাদ, পাহাড় কেন্দ্রিক অর্থনীতির প্রাণভোমরা। নদীর তীরবর্তী জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশই মারমা এবং জীবন-জীবিকাসহ দৈনন্দিন কাজে এরা এই নদীর ওপর নির্ভরশীল।
সাঙ্গু নদীর পানি স্বচ্ছ এবং শীতল, যা পাহাড়ি পরিবেশে অপরূপ সৌন্দর্য এনে দিয়েছে। এই নদীর তীরবর্তী এলাকা বনজ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। নদীর তীরবর্তী এলাকায় পাহাড় ও সবুজ বন ঘেরা ছোট গ্রাম এবং বাঁশের তৈরি ঘরগুলো মিলে একটি স্বতন্ত্র ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে। এই নদীর সঙ্গে বান্দরবান জেলা এবং এর আশেপাশের এলাকার বহু মানুষের জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস জড়িত।
সাঙ্গু নদী সংলগ্ন অধিকাংশ পাহাড়ি মানুষের জীবিকা জুম চাষের উপর নির্ভরশীল। পাহাড়ের ঢালে তারা জঙ্গল পরিষ্কার করে ধান, ভুট্টা, আদা, হলুদ ও মরিচ ইত্যাদি চাষাবাদ করে থাকে। বর্ষা মৌসুমে জুম চাষের জন্য এই নদী সংলগ্ন পাহাড়ি ঝিরি ও নদীর পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবার শীতকালেও সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক হারে শাকসবজি ফলন হতে দেখা যায়। লাউ, কুমড়া, শসা, বেগুন, বরবটি ও টমেটোসহ নানা ধরনের মৌসুমি সবজি সাঙ্গু নদীর পানি ব্যবহার করে চাষ করা হয়। এই কৃষিপণ্য শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ফলে সাঙ্গু নদী এক কথায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অর্থনীতির চালিকা শক্তি। এ ছাড়া এই নদীর পানি তীরবর্তী মানুষের জন্য রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া এবং পানীয় জল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
পাহাড়ের অনেক পাড়ায় ও গ্রামে এখনো বিশুদ্ধ পানির আলাদা কোনো উৎস না থাকায় সাঙ্গু নদীই তাদের নির্ভরতার একমাত্র উৎস। নদী থেকে সহজেই পানি সংগ্রহ করা যায় বলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী নদীর কাছাকাছি বসতি গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি নদীটি পাহাড়িদের সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ত্রিপুরা, ম্রো, বম, মারমা ও চাকমা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নদীকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে, যা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থায় যুগ যুগ ধরেই বান্দরবান ও এর আশেপাশের মানুষের জন্য সাঙ্গু নদী একটি সহজ ও কার্যকর বিকল্প পরিবহন পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
থানচি থেকে মদক পর্যন্ত নৌকা চলাচল এই অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। নদীপথে মালামাল পরিবহন সহজ, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব বিধায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন মাধ্যম। একই সঙ্গে নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দেশের অনেক জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা।
থানচি, রিমাকরি, নাফাখুম ও আমিয়াখুম জলপ্রপাত, তিন্দু সংলগ্ন বড় পাথরের মতো দর্শনীয় স্থানগুলো এই নদীর তীরবর্তী সৌন্দর্যের বিস্ময়ে আঁকা। নদী পথে নৌকা ভ্রমণ, ক্যাম্পিং এবং স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি পর্যটকদের জন্য রোমাঞ্চকর এবং আনন্দময় অভিজ্ঞতা।
পানির উপর দিয়ে চলা বাঁশের ভেলা, দুই পাশের সবুজ পাহাড়, ঝিরিপথ ও ঝরনার কলকল ধ্বনি তৈরি করে এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
সাঙ্গু নদীকে ঘেরা অপরূপ বৈচিত্র্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের মাধ্যমে স্থানীয় হোটেল, রিসোর্ট, গাইড (নির্দেশিকা), নৌকা চালক ও দোকানিরা সরাসরি আর্থিকভাবে উপকৃত হন এবং এর মাধ্যমে পাহাড় কেন্দ্রিক অর্থনীতি আরো গতিশীল হয়ে ওঠে।
সাঙ্গু নদী বর্ষাকালে শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত থাকলেও শীতকালে এই নদীর পানি প্রবাহ অনেকটাই কমে যায়। অনেক স্থানে নদীর তলদেশ প্রায় শুকিয়ে যায়, যা প্রাকৃতিক কারণের চেয়ে মূলত মানবসৃষ্ট কারণেই হয়ে থাকে। এই পানি সংকটের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে, যার মধ্যে অপরিকল্পিত জুম চাষ, বনভূমি ধ্বংস এবং পানি সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকাই উল্লেখযোগ্য।
অপরিকল্পিত জুম চাষের কারণে নদী সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকার মাটি ক্ষয় হয়ে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে নদীর স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে সাঙ্গু নদীর পাহাড়ি মাটিযুক্ত পানির প্রবাহ বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলিত হওয়ার ফলে সমুদ্রের তলদেশও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ পাহাড়ি ঝিরি শুকনা মৌসুমে পানির প্রবাহের জন্য আশেপাশের বনভূমির উপর নির্ভরশীল। পরিলক্ষিত হয় যে, যেসব ঝিরির পাশে বনভূমির পরিমাণ বেশি থাকে, সেইসব ঝিরির পানি প্রবাহ শুকনা মৌসুমেও চলমান থাকে। এ ক্ষেত্রে আশেপাশের বনভূমি প্রত্যেকটি ঝিরির জন্য প্রাকৃতিক পানির সংরক্ষণাগার হিসেবে কাজ করে এবং বছর জুড়ে পানি নির্গমনের মাধ্যমে ঝিরিতে পানির প্রবাহ সচল রাখে। ঝিরির পানি প্রবাহের সঙ্গে সাঙ্গু নদীর পানি প্রবাহ জড়িত।
অপরিকল্পিত জুম চাষের ফলে সাঙ্গু সংলগ্ন ঝিরিসমূহ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এর প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়াও বর্জ্য ফেলা, পাথর ও বালি উত্তোলন এবং বসতবাড়ির সম্প্রসারণ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বিঘ্নিত করছে। বলা যায়, সাঙ্গু নদীতে শীতকালে পানি সংকট মূলত মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের ফলাফল।
বন ধ্বংস, অপরিকল্পিত কৃষি ও অব্যবস্থাপনার কারণে নদীর উৎস ও পরিবেশের উপর চাপ পড়ছে। এই সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে সাঙ্গু নদীর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীতকালে সাঙ্গু নদীর পানি স্বল্পতা পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক জীবন ব্যবস্থায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। পানির অভাবে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হয় না, ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং কৃষকের আয়ের পথ সংকুচিত হয়। গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ অনেকটা সীমিত হয়ে পড়ে, যার কারণে পানি সংগ্রহের জন্য নারী ও শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।
পাহাড়ি এলাকার সরু ও কঠিন সড়ক পথে সব সময় যাতায়াত সম্ভব হয় না বিধায় নদীপথ অচল হলে বাণিজ্য ও পরিবহন থমকে যায়। অন্যদিকে, নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পর্যটন খাত ক্ষতির সম্মুখীন হয়। পরিশেষে, নদীর পানি কমে যাওয়ায় সামাজিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে; যেমন বিজিবির সীমান্ত নজরদারি ও দ্রুত টহল কার্যক্রমের সক্ষমতা হ্রাস পায় এবং সীমান্তে চোরাচালান বা অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সাঙ্গু নদীকে টিকিয়ে রাখা এবং শীতকালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পদক্ষেপ।
পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সবই সাঙ্গু নদীর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই সাঙ্গু নদীকে বাঁচানো মানে পাহাড়কে বাঁচানো। নদীতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার জন্য কয়েকটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করে রাবার ড্যাম নির্মাণের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা, নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত জুমচাষ হতে বিরত থাকার ব্যাপারে স্থানীয় জনগণকে উৎসাহিত করা ও বিকল্প জীবিকা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া, নদী সংলগ্ন ঝিরির দুই পার্শ্বের বনভূমি সংরক্ষণের ব্যাপারে নদীর তীরবর্তী ও এর আশেপাশের মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রেষণা প্রদান করা এবং নদী হতে অবৈধভাবে পাথর ও বালি উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সাঙ্গু নদী শুধু একটি প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ নয়, বরং এটি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের প্রাণ। এই নদী পাহাড়কেন্দ্রিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড, সেনাবাহিনী কর্তৃক পাহাড়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের নির্ভরতা এবং বান্দরবান জেলার দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত নিরাপত্তার অবলম্বন।
নদীর প্রবাহে বহমান শুধু পানি নয়, বহমান পাহাড়ি মানুষের ইতিহাস, জীবন, সংস্কৃতি ও উন্নয়নের ধারা। কিন্তু আজ বিভিন্ন কারণে সাঙ্গু নদী বেঁচে থাকার লড়াইয়ে শ্রান্ত।
নদীর ক্ষুরধারা ক্রমেই নিম্নগামী হওয়ার কারণে এর স্বাভাবিক ছন্দে ভাটা পড়েছে। যে নদীর প্রবাহ একসময় বছর জুড়ে ছিল প্রাণবন্ত, আজ সে নিজেই প্রকৃতির কাছে বাঁচার আর্তনাদ করছে।
সাঙ্গু নদীকে বাঁচানোর দায়িত্ব শুধু পাহাড়িদের নয়, বরং এ দায়িত্ব আমাদের সকলের। এ নদী বাঁচলে নদীর তীরবর্তী মানুষ বাঁচবে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হবে, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং দেশের অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি ঘটবে।
সাঙ্গু নদীর স্রোত প্রবাহিত থাকলে পাহাড়ে বয়ে যাবে উন্নয়নের জোয়ার, পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বাঁচবে, বাংলাদেশ অগ্রসর হবে তার স্বপ্নের গন্তব্যে। এখন এ সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে, আমরা সাঙ্গুর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলতে চাই কিনা?
লেখক : অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক, সীমান্ত সড়ক (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য এলাকা) নির্মাণ প্রকল্প ও প্রকল্প পরিচালক, থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প এবং অধিনায়ক, ১৭ ইসিবি।










