সংসদ থেকে প্যারিস: দৃশ্যমান মুখ, অদৃশ্য ভিত্তি
রাজনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনা, কূটনীতি কিংবা ব্যক্তিজীবন- সব ক্ষেত্রেই আমরা সাধারণত দৃশ্যমান সাফল্যটুকুই দেখি। কে নির্বাচনে জিতলেন, কে সংসদে সামনের সারিতে বসলেন, কে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন, কোন নেতা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে করমর্দন করলেন- এসবই শিরোনাম হয়। কিন্তু দৃশ্যমান সাফল্যের নিচে যে অদৃশ্য ভিত্তি থাকে, সেটি সচরাচর আলোচনায় আসে না।
একটি সংসদের শক্তি শুধু আসনসংখ্যায় নয়, সদস্যদের প্রস্তুতি, জ্ঞান ও দায়িত্ববোধে। একটি রাষ্ট্রের সাফল্য শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, বাস্তবায়নের ক্ষমতায়। একটি কূটনৈতিক সম্পর্ক শুধু যৌথ বিবৃতি বা রাষ্ট্রীয় সফরে নয়, সেই সম্পর্ক থেকে কী বাস্তব সুফল পাওয়া গেল, তার ওপর নির্ভর করে। একইভাবে একজন মানুষের সাফল্যও শুধু তাঁর প্রতিভা বা নেতৃত্বের ফল নয়; এর পেছনে থাকে বহু মানুষের শ্রম, ত্যাগ ও নীরব সহযোগিতা। এই সপ্তাহের চারটি প্রসঙ্গ আপাতদৃষ্টিতে আলাদা। কিন্তু তাদের ভিতরের প্রশ্নটি এক, দৃশ্যমান মুখের পেছনের অদৃশ্য ভিত্তি কতটা শক্ত?
১. সংসদে সংখ্যার জোর, প্রস্তুতির ঘাটতি
নতুন সংসদে সরকারি দল বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বসেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও একটি বড় বিরোধী শক্তি হিসেবে সংসদে প্রবেশ করেছে। নির্বাচনের ফল রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে দিয়েছে। কিন্তু সংসদীয় কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরপরই বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচনে জয়ী হওয়া আর সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখা এক কথা নয়।
সরকারি দল সংখ্যায় শক্তিশালী, কিন্তু সংসদ পরিচালনা, বাজেট আলোচনা এবং নীতিনির্ধারণী বিতর্কে তাদের অনেক সদস্যের প্রস্তুতির ঘাটতি চোখে পড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাজেটের আয়, ব্যয়, ঘাটতি, বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতি কিংবা কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক প্রশ্ন অনেক সময় আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনেকটা বড় মাইক্রোফোনের মতো। সেটি কণ্ঠস্বরকে জোরালো করতে পারে, কিন্তু বক্তব্যের ভিতরে জ্ঞান ঢুকিয়ে দিতে পারে না। দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য হাত তুললে আইন পাস হয়ে যাবে, কিন্তু আইনটি ভালো কি না, সেটি নির্ভর করবে প্রস্তুতি, পর্যালোচনা ও যুক্তির ওপর। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের কাজ শুধু মন্ত্রীদের প্রশংসা করা নয়। তাঁদের দায়িত্ব সরকারকে প্রশ্ন করা, ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং জনগণের স্বার্থে নীতিকে সংশোধনের চাপ সৃষ্টি করা। দলীয় আনুগত্য যদি প্রশ্ন করার ক্ষমতাকে গ্রাস করে, তাহলে সংসদ দুর্বল হয়। আর দুর্বল সংসদ শেষ পর্যন্ত সরকারকেও দুর্বল করে।
জামায়াতের সমস্যাটি আবার অন্য ধরনের। দলটি দীর্ঘদিন ধরে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং বিকল্প রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছে। কিন্তু সংসদে এসে কয়েকজন সদস্যের বক্তব্য ও কর্মকান্ড দলটির সেই ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কেউ বাজেটের অঙ্ক নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন, কেউ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রসঙ্গ তুলে বিতর্কে জড়িয়েছেন, আবার কেউ জনস্বার্থের বদলে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত সুবিধার কথা সামনে এনেছেন। সরকারি অনুদান বা প্রকল্পে আত্মীয়স্বজনের নাম আসার অভিযোগও দলটির ঘোষিত নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে যায় না। নতুন সংসদ সদস্যদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকতেই পারে। কিন্তু নতুন হওয়া ভুলের ব্যাখ্যা হতে পারে, স্থায়ী অজুহাত নয়। ভোট একটি দরজা খুলে দেয়। সেই দরজা দিয়ে কীভাবে হাঁটতে হয়, তা শিখতে হয়। নির্বাচনে জয়ী হলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দক্ষ আইনপ্রণেতা হয়ে যান না। সংসদে যাওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সদস্যদের বাজেট, আইন, নীতি ও সংসদীয় আচরণ সম্পর্কে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া।
২. প্রতিশ্রুতির রাষ্ট্র নয়, দরকার কাজের রাষ্ট্র
সংসদের এই প্রস্তুতিহীনতা আসলে রাষ্ট্রের আরও বড় সমস্যারই প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশে প্রতিশ্রুতির অভাব নেই। আমাদের আছে রূপকল্প, মহাপরিকল্পনা, কমিশন, টাস্কফোর্স, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অসংখ্য ঘোষণা।
কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা দ্রুত একটি কমিটি করি। কমিটি প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদন আলমারিতে যায়। এরপর নতুন সমস্যা এলে নতুন কমিটি হয়। আমাদের প্রশাসনিক কল্পনাশক্তি প্রশংসনীয়; বাস্তবায়নশক্তি তুলনায় দুর্বল।
বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন একটি কার্যকর ‘ডেলিভারি স্টেট’- যে রাষ্ট্র শুধু পরিকল্পনা তৈরি করবে না, ফলাফলও দেবে। নাগরিকের কাছে উন্নয়ন মানে সংবাদ সম্মেলনের ভাষণ নয়। তার কাছে উন্নয়ন হলো হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া, সড়ক সময়মতো শেষ হওয়া, বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন থাকা, বিনিয়োগের অনুমোদন দ্রুত পাওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হওয়া।
একজন বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে একটি কারখানা করতে চাইলে তাঁকে বহু দপ্তর, অনুমোদন ও বিধির ভিতর দিয়ে যেতে হয়। প্রকল্প একটি, কিন্তু সরকারের দরজা অনেক। প্রতিটি দরজার আলাদা নিয়ম, আলাদা ফাইল এবং আলাদা সময়। ফলে অনেক সময় মনে হয়, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মূলধন অর্থ নয়, ধৈর্য।
একটি কার্যকর রাষ্ট্র গড়তে অগ্রাধিকার পরিষ্কার করতে হবে। কে কোন কাজের জন্য দায়ী, কত দিনের মধ্যে ফল দিতে হবে এবং ব্যর্থ হলে কার জবাবদিহি হবে- এসব নির্ধারণ করতে হবে। শুধু ফাইল নিষ্পত্তির সংখ্যা দিয়ে প্রশাসনের সাফল্য মাপা যাবে না। মানুষের সমস্যার সমাধানই হতে হবে প্রকৃত মানদন্ড।
এখানেই সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ যদি বাজেট না বোঝে, প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন না তোলে এবং মন্ত্রণালয়কে জবাবদিহির মধ্যে না আনে, তাহলে উন্নয়ন পরিকল্পনা কাগজেই থেকে যাবে। রাজনৈতিক সরকার জনগণের ম্যান্ডেট পায়। কিন্তু ফলাফল তৈরি করে প্রতিষ্ঠান। এই দুইয়ের মধ্যে সেতুটির নাম বাস্তবায়ন।
৩. প্যারিসের সঙ্গে সম্পর্ক, সম্ভাবনার নতুন দরজা
১৪ জুলাই ফ্রান্সের বাস্তিল দিবস। ফরাসি বিপ্লব স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শকে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন অর্থ দিয়েছিল। কিন্তু আজকের বাংলাদেশের কাছে ফ্রান্স শুধু বিপ্লব, সাহিত্য, শিল্প কিংবা ফুটবলের দেশ নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত অংশীদার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্যের গন্ডি পেরিয়ে জলবায়ু, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বিমান ও মহাকাশ প্রযুক্তি, অবকাঠামো, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং কৌশলগত সহযোগিতার দিকে এগিয়েছে।
বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ফ্রান্স নিজেকে একটি ইন্দো-প্যাসিফিক শক্তি হিসেবে দেখে। বাংলাদেশও এমন এক সময়ে বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তে চাইছে, যখন একক কোনো শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ।
দিল্লি, বেইজিং, ওয়াশিংটন, ব্রাসেলস, টোকিও ও প্যারিস- সবার সঙ্গেই বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রয়োজন। একজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব মানেই আরেকজনের সঙ্গে বৈরিতা নয়। পররাষ্ট্রনীতি স্কুলের বন্ধুত্বের রাজনীতি নয়, যেখানে একজনের পাশে বসলে অন্যজন অভিমান করবে।
পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্য জাতীয় স্বার্থ, ভারসাম্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা। তবে এখানেও প্রশ্নটি একই, ঘোষণা থেকে বাস্তবায়ন। কৌশলগত অংশীদারত্ব, যৌথ বিবৃতি এবং উচ্চপর্যায়ের সফর শুনতে আকর্ষণীয়। কিন্তু এগুলোকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং যৌথ উৎপাদনে রূপ দিতে না পারলে সম্পর্ক কাগজেই সুন্দর থাকবে। শুধু পণ্য কেনা বা ঋণ নেওয়া নয়, সক্ষমতা অর্জনই হওয়া উচিত কূটনৈতিক সম্পর্কের লক্ষ্য। বাংলাদেশ যদি ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ককে শুধু বিমান, স্যাটেলাইট কিংবা বড় প্রকল্প কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে, তাহলে সম্পর্কটি ক্রেতাবিক্রেতার সম্পর্ক হয়েই থাকবে। বাস্তব অংশীদারত্ব তখনই তৈরি হবে, যখন দুই দেশ জ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও দক্ষতা একসঙ্গে গড়ে তুলবে।
৪. সাফল্যের মুখগুলো দৃশ্যমান, হাতগুলো নয়
সংসদ, রাষ্ট্র ও কূটনীতি- সব ক্ষেত্রেই আমরা সাধারণত দৃশ্যমান মুখগুলো দেখি। বিজয়ী নেতা সংসদের সামনের সারিতে বসেন, মন্ত্রী প্রকল্প উদ্বোধন করেন, সরকারপ্রধান চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ তাঁদের দিকেই পড়ে। কিন্তু প্রতিটি দৃশ্যমান সাফল্যের পেছনে অসংখ্য অদৃশ্য হাত থাকে।
একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনে জয়ী হলে আমরা তাঁর বক্তৃতা শুনি। কিন্তু যে কর্মী রাত জেগে পোস্টার লাগিয়েছেন, যে নারী নিজের উঠানে নির্বাচনি বৈঠক করেছেন, যে তরুণ অপমান সহ্য করেও ভোটারদের কাছে গেছেন- তাঁদের নাম সংবাদে থাকে না।
একটি সরকারি নীতি সফল হলে মন্ত্রী কৃতিত্ব পান। কিন্তু যে কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ করেছেন, যে প্রকৌশলী মাঠে কাজ করেছেন, যে শিক্ষক বা স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যন্ত এলাকায় বাস্তবায়ন করেছেন, তাঁরা অনেক সময় বিস্মৃত হন।
কূটনীতিতেও একই সত্য। রাষ্ট্রপ্রধানের সফর চোখে পড়ে, কিন্তু একটি সফরের পেছনে মাসের পর মাস কাজ করা কূটনীতিক, গবেষক, অনুবাদক, নিরাপত্তাকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কথা কেউ মনে রাখে না। ইতিহাস প্রায়ই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী কলমটির নাম মনে রাখে; কাগজটি তৈরি করা হাতগুলোর নাম ভুলে যায়। সাফল্যের সবচেয়ে বড় বিপদ ব্যর্থতা নয়, স্মৃতিভ্রংশ। মানুষ যত ওপরে ওঠে, নিচের সিঁড়িটি তত সহজে ভুলে যায়। সে ভাবতে শুরু করে, দরজাটি নিজের বুদ্ধিতে খুলেছে। ভুলে যায়, কেউ হয়তো দরজার কবজা ঠিক করেছিল, কেউ আলো জ্বালিয়েছিল, কেউ পথ দেখিয়েছিল, কেউ ব্যর্থতার দিনে পাশে দাঁড়িয়েছিল। বুদ্ধিমত্তা দরজা খুলতে পারে। প্রতিভা সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু কৃতজ্ঞতা নির্ধারণ করে মানুষ কতদিন আপনার পাশে হাঁটবে।
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কৃতজ্ঞতা অনেক সময় ব্যক্তিপূজায় পরিণত হয়। নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা হয়, আবার সাধারণ কর্মীর অবদান সুবিধামতো ভুলে যাওয়া হয়। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে কর্মীদের বলা হয়, আপনারাই দলের প্রাণ। ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাঁদের অনেককে বলা হয়, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আসুন।
কৃতজ্ঞতা মানে পদ বা সুবিধা বিলানো নয়। কৃতজ্ঞতা মানে অবদান স্বীকার করা, সম্মান দেওয়া এবং সাফল্যের মালিকানা ভাগ করে নেওয়া। নেতা যদি প্রতিটি অর্জন নিজের নামে লিখে নেন, তবে তিনি অনুসারী তৈরি করতে পারেন, সহযাত্রী তৈরি করতে পারেন না।
শেষ কথা
সংসদ থেকে প্যারিস, প্রতিটি ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান সাফল্যের চেয়ে অদৃশ্য ভিত্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি ও জামায়াত সংসদে কত আসন পেয়েছে, সেটি ইতিহাসের একটি তথ্য। তারা কতটা দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও শৃঙ্খলা দেখাতে পারবে, সেটিই ভবিষ্যতের বিচার। বাংলাদেশেরও পরিকল্পনা, সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক অংশীদার আছে। এখন প্রয়োজন কাজের রাষ্ট্র, জবাবদিহির সংসদ এবং ফলাফলমুখী কূটনীতি। পরিকল্পনাকে কাজে এবং সম্পর্ককে বাস্তব সুফলে পরিণত করার সক্ষমতা না থাকলে আমরা উদ্বোধনী ফলক পাব, পরিবর্তন পাব না।
আর কোনো রাজনৈতিক দল, সরকার কিংবা নেতা যেন ভুলে না যান- তাঁদের প্রতিটি সাফল্যের নিচে অসংখ্য মানুষের কাঁধ রয়েছে। নির্বাচনি কর্মী থেকে সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক থেকে শ্রমিক, শিক্ষক থেকে করদাতা- এঁদের শ্রমেই রাষ্ট্রের মঞ্চ তৈরি হয়। প্রকৃত সাফল্যের পরীক্ষা কত মানুষ আপনার নাম জানে, তা নয়। সাফল্য আপনার নাম জানার পরও আপনি কতজনের নাম মনে রেখেছেন, সেটিই আসল পরীক্ষা। কারণ কেউ একা শিখরে ওঠে না। প্রতিটি শিখরের নিচে বহু মানুষের হাতে তৈরি একটি অদৃশ্য সিঁড়ি থাকে।
লেখক : প্রেসিডেন্ট, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ






