নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে ৩ মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পরিবারের ৩ সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। পারিবারিক বিরোধের জেরে আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার চাঁনগাও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে মাধবদী থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিশুর মা-বাবার বরাত দিয়ে বলেন, ‘প্রায় ৫ দিন আগের এ ঘটনার একটি ভিডিও আজ মঙ্গলবার দুপুরে ভাইরাল হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মূল ঘটনা উদঘাটন করা হয়।’
ওসি জানান, গত ৫ দিন আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে রাগের বশে চাচি লতা বেগম ঘরে এসে শিশু সন্তান রিজিকের পা মুচড়ে দেন। তবে শিশুটির পা ভেঙে যায়নি বলে জানান তিনি। বাড়িতে ঝামেলা চলছিল, এ কারণে শিশুর মা গোপনে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে গত ১১ তারিখে তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। ভিডিওটি কারা কীভাবে ভাইরাল করলো, এ বিষয়ে পুলিশ আরো তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় কারও কোনো অভিযোগ নেই। ওসি বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুর মা-বাবার বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি। তারা দাবি করেছেন, শিশুর পা ভাঙেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত নারী লতা বেগম (৩২)-এর স্বামী কাউছার আহমেদ ও তার বাবা আলমাছ মিয়া, মা শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে জানান ওসি।
শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি পারিবারিক বিষয়। ৩ দিন আগেই বিষয়টির মীমাংসা হয়ে গেছে। তার ছেলে সুস্থ রয়েছে, তাদের পা ব্যান্ডেস বা চিকিসা দিতেও নেওয়া হয়নি, তাই তাদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে ভিডিওগুলো ফেসবুকে মনগড়া তথ্য দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




