• ই-পেপার

বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফুলেল অভ্যর্থনায় ১২ নবনিযুক্ত শিক্ষক

  • মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার ঘোষণা

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ‘মৎস্য ও পোনার ভাণ্ডার’

পটিয়ায় বন্যার তাণ্ডবে ভেসে গেছে ১৪০০ পুকুরের মাছ

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
পটিয়ায় বন্যার তাণ্ডবে ভেসে গেছে ১৪০০ পুকুরের মাছ
ছবি: কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম মৎস্য ও পোনা উৎপাদনের কেন্দ্র পটিয়া উপজেলা। উপজেলার শত শত বাণিজ্যিক মাছের খামার ও রেণু উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার মাছ ও পোনা সরবরাহ হয় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এই খাতকে ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন হাজারো পরিবার। কিন্তু এবারের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় সেই সম্ভাবনাময় মৎস্য খাত নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রাথমিক হিসাব বলছে, বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব। ইউনিয়নভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুকুরের পানি উপচে পড়ে মাছ ও পোনা পাশের খাল, বিল ও নদীতে চলে গেছে। কোথাও বাঁধ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে কয়েক মাসের লালন-পালন করা বাজারজাত মাছ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন রেণু উৎপাদনকারী খামারিরা।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাইদগাঁও, কেলিশহর, দক্ষিণ ভূর্ষি ও ধলঘাট ইউনিয়নে রেণু উৎপাদনকারী খামারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে খরনা, শোভনদণ্ডী, কচুয়াই, ছনহরা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, কুসুমপুরা ও পটিয়া পৌরসভা এলাকায় বাণিজ্যিক মাছচাষিদের অধিকাংশ পুকুর পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। শুধু মাছ হারানোই নয়, পুকুরের বাঁধ, স্লুইস, জাল, পাম্প, খাদ্য ও অন্যান্য অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে উৎপাদন পুনরায় শুরু করতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বহু চাষি এক মৌসুমের পুরো বিনিয়োগ হারিয়েছেন। পটিয়ায় মোট পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০, পুরো চট্টগ্রামের দুই-তৃতীয়াংশ নার্সারি পটিয়াতে। পটিয়া থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মাছ চাষিরা পোনা নিয়ে যায়।

00

পটিয়া পৌরসভার হক ফিশারিজের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘এক রাতের বন্যায় আমার কয়েকটি পুকুরের প্রায় সব মাছ বেরিয়ে গেছে। শুধু মাছ নয়, পুকুরের অবকাঠামোও নষ্ট হয়েছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারি সহযোগিতা ছাড়া নতুন করে উৎপাদনে ফেরা কঠিন।’

মৎস্যচাষি রকিব হাসান বলেন, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। বিক্রির সময় ঘনিয়ে এসেছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি দেব কিভাবে, সংসার চালাব কিভাবে—সেটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

খামারিদের অভিযোগ, বন্যার আগাম সতর্কতা থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় মাছ রক্ষায় কোনো কার্যকর কারিগরি সহায়তা বা জরুরি প্রস্তুতি ছিল না। ফলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ পুকুরের মাছ বেরিয়ে যায়। তবে উপজেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, এবারের পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রম।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে এমন অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ঘটনা ঘটেনি। ফলে অনেক চাষির পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। যেসব পুকুর এখনো পুরোপুরি তলিয়ে যায়নি, সেখানে জাল বা বাঁশের বানা দিয়ে মাছ আটকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পর পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় মাছের রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রতি শতাংশে ১ থেকে ১.৫ কেজি চুন প্রয়োগ এবং আপাতত সম্পূরক খাদ্য ও সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রকৃত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।’

মৎস্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘পটিয়ার রেণু উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর প্রভাব শুধু উপজেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী মৌসুমে পোনার সংকট দেখা দিলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের জেলার মাছচাষও ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন কমে গেলে বাজারে মাছের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয় চাষিদের দাবি, ক্ষতির তালিকা তৈরির পাশাপাশি দ্রুত আর্থিক অনুদান, বিনা মূল্যে পোনা ও মাছের খাদ্য বিতরণ, সহজ শর্তে পুনর্বাসন ঋণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর সংস্কারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। অন্যথায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ‘মৎস্য ও পোনার ভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত পটিয়ার এই সম্ভাবনাময় খাত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়ে যেতে পারে।11এদিকে পটিয়ার মৎস্য খাত শুধু মাছ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রেণু উৎপাদন, মাছের খাদ্য ব্যবসা, পরিবহন, বরফকল, আড়ত, খুচরা বিক্রেতা এবং হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। ফলে এই বন্যার প্রভাব পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন করা না গেলে আগামী মৌসুমে মাছ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দামও বাড়তে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের দাবি, শুধু ক্ষতির তালিকা করলেই হবে না জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক অনুদান, বিনা মূল্যে পোনা বিতরণ, মাছের খাদ্য সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এবারের বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠা অনেক খামারির পক্ষেই সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদের পর এবার মৎস্য খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে পটিয়ায়। প্রাথমিক ক্ষতির অঙ্ক ৩ কোটি টাকা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, ইউনিয়নভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পর ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বাড়তে পারে। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং কার্যকর পুনর্বাসনই এখন পটিয়ার মৎস্য খাতকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

লালমাইয়ে বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

লালমাই-সদর দক্ষিণ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লালমাইয়ে বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার লালমাইয়ে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা করায় এক বিধবার বসতঘর ভাঙচুর করছে প্রতিপক্ষ। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা করায় এক বিধবার বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ৩ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মিতল্লা গ্রামে মরহুম আবদুস সাত্তারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি বসতঘরের টিনের বেড়া খুলে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখছেন। এ সময় বিধবা পেয়ারা বেগম ও তাঁর ছেলেরা কান্নাকাটি করে ঘর ভাঙচুর বন্ধের অনুরোধ করছেন এবং আশপাশের লোকজনকে ঘটনাটি দেখতে ডাকছেন। তবে ভিডিওতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়নি।

পুলিশ, ভূমি অফিস ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মিতল্লা গ্রামের মরহুম আবদুস সাত্তারের স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬০) তাঁর তিন ছেলে শহিদুল ইসলাম, সুজন ও ইসমাইলকে নিয়ে স্বামীর বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন। কিছুদিন আগে আবদুস সাত্তারের একটি খালি ভিটি জমি তাঁর ভাই আবদুল মান্নান জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ করেন পেয়ারা বেগম। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় লালমাই উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি)। তদন্তের অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহ আগে লালমাই থানার এএসআই নজরুল ইসলাম উভয় পক্ষকে শান্তি ভঙ্গ না করার নোটিশ দেন। মঙ্গলবার উপজেলা সার্ভেয়ার আবু হানিফ সরেজমিন তদন্ত শেষে ফিরে গেলে, অভিযোগ অনুযায়ী, আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে তাঁর ভাই আবুল কালাম ও আবু তাহেরসহ কয়েকজন গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে পেয়ারা বেগমের বসতঘর ভেঙে ফেলা হয়।

ভুক্তভোগী পেয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার দেবর আবদুল মান্নান আমার স্বামীর রেখে যাওয়া জমি দখল করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। তাই আদালতে মামলা করেছি। তদন্ত শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর তারা আমাদের বসতঘর ভেঙে দেয়। এ সময় আমার ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, ছেলের একটি রেডমি মোবাইল ফোন এবং কিছু নগদ টাকা নিয়ে যায়। আমরা অনেক অনুরোধ করলেও তারা ঘর ভাঙা বন্ধ করেনি।’

লালমাই থানার এএসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৪৫ ধারার মামলার নোটিশ উভয় পক্ষকে দিয়েছি, যাতে কেউ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে। পরে কিভাবে ঘর ভাঙচুর হয়েছে, সেটি আমার দায়িত্বের বিষয় নয়।

ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘর ভাঙচুরের ভিডিও দেখে ওসির নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মান্নানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজীপুরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানিকে গণপিটুনি

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানিকে গণপিটুনি
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম (৫০) নামের এক মুদি দোকানিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার বিশ্বাস পাড়া এলাকায় একটি মার্কেটে মুদি দোকানের ব্যবসা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় দিকে বিস্কিট কেনার জন্য বাড়ির পাশের শরিফুলের দোকানে যায় ভুক্তভোগী ওই শিশু। এ সময় ওই দোকানদার কৌশলে বিস্কুটের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তাকে দোকানের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ওই কক্ষের দরজা ভেঙে বস্তার ভেতর লুকানো অবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর বিষয়টি দামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করলে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই দোকানদারকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মুদির দোকানদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

২৪ ঘণ্টা পর রাজশাহীতে বাস চলাচল শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ ঘণ্টা পর রাজশাহীতে বাস চলাচল শুরু
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধ থাকার ২৪ ঘণ্টা পর অবশেষে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সোয়া ৯টা থেকে রাজশাহীর সব রুটে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়।

এর আগে সন্ধ্যায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ডিসি (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে বাস শ্রমিকদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচন কমিটিতে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল থাকবেন না। এই সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকেরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন। তবে নির্বাচনকালীন আহ্বায়ক কমিটিতে ‘পাখি গ্রুপ’ ও ‘মোমিন গ্রুপ’ থেকে চারজন করে মোট আটজন সদস্য থাকবেন।

বাস শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যরা বেশ কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকেরা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। নির্বাচন দাবিকারী শ্রমিকদের ওপর গত ২৩ এপ্রিল হামলার ঘটনাও ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পাখিসহ তার অনুসারীরা সেদিন বাস টার্মিনাল এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি করেন।

পরবর্তী সময়ে এই রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি করে ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন। সাধারণ শ্রমিকেরা এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে গত মে মাসে কয়েক দফা ধর্মঘট ডাকেন। তখন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হস্তক্ষেপ করে ঈদের পর নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছিল।

তবে নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম শ্রমিকদের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘আমি নিজেই নির্বাচনী কমিটি করার প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু সেই প্রস্তাব না মেনে শ্রমিকেরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন, যা তারা করতে পারেন না। তার পরেও বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ৮টা থেকে রাজশাহী থেকে আন্তজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ওই দিন রাতে দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যেতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

শ্রমিকদের দাবি, নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সোমবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। ওই সভায় শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখির অনুসারী নজরুল ইসলাম হেলালও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিরোধী পক্ষের শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেন, সংগঠনের সাধারণ সভা ডেকে যেন নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়।

কিন্তু জেলা প্রশাসক জানান, এই মুহূর্তে সাধারণ সভা করা সম্ভব নয়। এরপর তিনি নজরুল ইসলাম হেলাল ও পুলিশ-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেন। হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিকেরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের শ্রমিক নেতাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিকেরা ডিসির সামনেই বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। এরপর রাত থেকেই বাস বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে সোমবার রাতে ডিসির কার্যালয় থেকে দুই পক্ষের নেতারা শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ফিরলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক নজরুল ইসলাম হেলালের ব্যক্তিগত চেম্বার ভাঙচুর করেন। চেম্বারে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম হেলাল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিক নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, ‘ডিসি স্যার একটি পক্ষের অবস্থান নিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমরা সাধারণ সভা করে নির্বাচনী কমিটি করার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি নজরুল ইসলাম হেলালকে কমিটিতে রেখে দিতে চান। হেলাল কমিটিতে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই সাধারণ শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাস বন্ধ করে দিয়েছিলেন।’

অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘মিটিংয়ে কথা-কাটাকাটি হতেই পারে। কিন্তু তার জেরে বাস বন্ধ করে দেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত চেম্বারে হামলা চালানো কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। তারা বাস বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও আমরা মালিকপক্ষ থেকে বাস চালু রাখার পক্ষে ছিলাম।’