• ই-পেপার

দল গোছানোর উদ্যোগ বিএনপির

  • ৮২ কমিটির ৭২টিই মেয়াদোত্তীর্ণ
  • সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও মেয়াদোত্তীর্ণ
  • স্থানীয় নির্বাচনে গুরুত্ব
  • চলতি বছরই দলীয় কাউন্সিলের তোড়জোড়

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট
ফাইল ছবি

জুলাই জাতীয় সনদ ও উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৭ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। তবে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি সদস্যপদ শূন্য রাখা হয়েছে।

এদিকে জনরায়কে উপেক্ষা করে এই বিশেষ কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। এ সময় নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়া নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (১৩ জুলাই) ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।

কমিটির সদস্যরা হলেন সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ (কক্সবাজার-১), সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (বরগুনা-২), মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (ঝিনাইদহ-১), জয়নাল আবেদিন (বরিশাল-৩), মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), হাবিবুর রহমান (ভোলা-১), মোহাম্মদ নুরুল হক (পটুয়াখালী-৩), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), ফারজানা শারমিন (নাটোর-১), সাকিলা ফারজানা (মহিলা আসন-১), মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল (শেরপুর-৩) ও মোহাম্মদ অলিউল্লাহ (বরগুনা-১)।

প্রস্তাবিত কমিটি উত্থাপনের পর সংসদে ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি প্রথম অধিবেশনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্থাপন করেছিলেন এবং সেই দিনই বিরোধী দল অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েক দফায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠক করলেও বিরোধী দল কমিটির জন্য কোনো সদস্যের নাম দেয়নি। কারণ বিরোধী দল নীতিগতভাবে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তারা জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ, যেমনটি বর্তমান সরকারি দলও নির্বাচনের আগে ওয়াদাবদ্ধ ছিল।

ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে সব দলই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান জানিয়েছিল এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে। এরই প্রেক্ষিতে তারা দুটি শপথ নিয়েছেন— একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বিরোধী দল মনে করে তাদের দুটি শপথই বহাল ও কার্যকর আছে। সুতরাং, সেই সংস্কার পরিষদকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যদি এই সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়, তবে তারা এই প্রস্তাব সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছেন।

তিনি আরো বলেন, তারা আগের অবস্থানেই অনড় আছেন। গণতন্ত্রের মূল দাবিই হচ্ছে জনগণের মতামতকে মেনে নেওয়া, যা এই ক্ষেত্রে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের রায়। এই বিপুল জনমতকে অবলীলায় শেষ করে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে এবং বিদ্রোহী হয়ে উঠবে।

জনগণের এই মতামতকে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করা উচিত হবে না উল্লেখ করে ড. শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, জনগণের রায়কে সম্মান না জানানোর প্রতিবাদে তারা শুধু এই কমিটিতে অংশগ্রহণ থেকেই বিরত থাকবেন না, বরং সংসদ থেকে ওয়াকআউট করবেন। এই বক্তব্য শেষ করেই তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে এর কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যে পয়েন্টে ওয়াকআউট করছেন তা তাদের বিবেচনায় সঠিক হতে পারে, তবে গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের মূল প্রত্যাশা হলো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা। এই লেজিসলেচারে যদি পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা না হয়, তবে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট রায় দিলেও দেশকে ওই বিতর্কিত সংশোধনীর ওপর ভিত্তি করেই চলতে হবে। সুতরাং, সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন ও সংবিধান সংশোধন ছাড়া জাতিকে নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

বিরোধীদলীয় নেতার দুটি শপথের দাবির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুটি শপথ নিলে প্রথম শপথটিই তো অবৈধ হয়ে যায়। কারণ বর্তমান সংবিধান অনুসারেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন এবং সেই সংবিধান অনুযায়ীই সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সরকারি ও বিরোধী উভয় দল আলোচনা করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানে কোথায় আছে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেওয়া যাবে? তিনি একে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তে আইনি উপদেষ্টার নথিতে পাস করে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছিল, যা প্রথম দিন থেকেই অবৈধ। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ এবং তৃতীয় তফসিল লঙ্ঘন করে ব্লু পেপারে সংসদ সদস্যদের জন্য আরেকটি শপথের যে ফর্ম ছাপানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ‘নাল অ্যান্ড ভয়েড’ বা বাতিল এবং এর কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।

গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের যে আদেশ, যেটিকে ‘জুলাই আদেশ’ বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংস্কার আদেশ’ নাম দেওয়া হয়েছে, সেটি প্রথম দিন থেকেই এখতিয়ারবহির্ভূত ও সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা ছিল, যা রাষ্ট্রপতি করতে পারেন না। রাজনৈতিক সমঝোতার জুলাই সনদের কোথাও এমন কিছু ছিল না যেখানে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, জুলাই জাতীয় সনদে যে সমঝোতা হয়েছে তার চার ভাগের সাড়ে তিন ভাগ তারা মানেন, কিন্তু বাকি আধা খানি অংশ সংবিধানের ওপর অবৈধ হাত বাড়িয়েছে। বিরোধী দলকে সংসদে এসে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় রাস্তায় গিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কমিটি করলে সংবিধান সংশোধন না করে তারা বসে থাকতে পারবেন না। আর সংবিধান সংশোধন না করলে জাতিকে শেখ হাসিনার দেওয়া পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়েই চলতে হবে, যা কেউ চায় না।

অবিলম্বে এই সংবিধান সংশোধনী কমিটি কাজ শুরু করবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জুডিশিয়ারি, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ডিজিটাল ও প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংসদ ও সংসদের বাইরে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। এরপর সব স্টেকহোল্ডারদের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সংসদে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বিরোধীদলীয় সদস্যরা আবেগসর্বস্ব রাজনীতি পরিহার করে একটি শক্তিশালী সংবিধান সংশোধনী বিল আনার স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করবেন।

বিএনপি জুলাই সনদ না মানলে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসবে : গোলাম পরওয়ার

ফেনী প্রতিনিধি
বিএনপি জুলাই সনদ না মানলে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসবে : গোলাম পরওয়ার
সোমবার ফেনীতে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে বক্তব্যে দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘বিএনপি জুলাই সনদ না মানলে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসবে। তারা ক্ষমতায় এসে দেশের জনগণের সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভুলে গেছে। তাদের কারণে একটি সন্ত্রাস চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তারা গণভোটের আগে জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে ছিল, ভোটের পর তারা ইউটার্ন নিয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো তাহলে কেন গণভোট অনুষ্ঠিত হলো?

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ফেনী ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির ষড়যন্ত্রের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হয়নি। এজন্য স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে তারা নিজেদের লোক বসাচ্ছে। আমরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য চেয়েছি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের সভা আহ্বান করার কথা থাকলেও তারা সভা আহ্বান করলেন না, তারা ইচ্ছে করে এসব করছে। তারা সংবিধান সংশোধন চায়, সংস্কার চায় না। এজন্যই কি ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে? তাদের মুখে এক অন্তরে আরেক। তারা মুখে বললেও অন্তরে জুলাই সনদ মানেনি এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে সব অস্বীকার করছে। এ জন্য তারা গণভোটের গণরায় মানেনি অথচ তারা জাতির সঙ্গে আগে অক্ষরে অক্ষরে মানার ওয়াদা করেছিল। এখন ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদ ও গণভোটকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তারা আমাদের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনে একমত ছিল এখন ক্ষমতায় গিয়ে অস্বীকার করে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি জনগণকে বিভক্ত করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। বিএনপি যদি জুলাই সনদের ভিত্তিতে দেশ গঠন না করে তাহলে রাজপথে দাবি আদায় করা হবে।’

জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া ও কুমিল্লা জেলার সাবেক আমির আবদুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এ কে এম সামছুদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর এর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরউদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, এবি পার্টির জেলা সভাপতি মাষ্টার আহছান উল্লাহ, এনসিপির জেলা সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিকসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেই বন্যায় এত প্রাণহানি : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেই বন্যায় এত প্রাণহানি : রিজভী
ফাইল ছবি

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রকৃতিবিরোধী অবকাঠামো নির্মাণের কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে এবং এত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার্থে হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে হাওরের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় দলীয় নেতাকর্মীদের ঠিকাদারি সুবিধা দিতে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটি বিশেষ দেশকে খুশি করার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা সরকার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছিল। এর ফলে সুন্দরবনসংলগ্ন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।’
 
সাবেক রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বিএনপি সারা দেশে শোক পালন করছে জানিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘এ উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন এবং দলীয় পতাকার পাশাপাশি কালো পতাকা উত্তোলন করেছেন।’
 
এ সময় বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী।

বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির
সংগৃহীত ছবি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভয়াবহ বন্যা, টানা অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়েছে এনসিপির ভাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি।

সোমবার জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার সাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে জীবনে ঝুঁকি নিয়ে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আজকের পরীক্ষা চলমান রাখায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোর রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। বহু পরীক্ষা কেন্দ্র এখন বন্যার পানিতে প্লাবিত অথবা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় বুক সমান পানি ও তীব্র স্রোত পেরিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চারদিকে যখন একের পর এক মৃত্যুর খবর আসছে, তখন পরীক্ষা চালু রাখা অত্যন্ত অমানবিক। পাশাপাশি, যেসব পরীক্ষার্থীর ঘরবাড়ি ও বইখাতা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে, তাদের পক্ষে এই মুহূর্তে পরীক্ষায় বসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। গ্রাম এলাকায় দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট না থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে। এই অবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া মেধা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য তৈরি করবে।

অতএব, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা ও সমতা নিশ্চিত করতে জাতীয় ছাত্রশক্তি চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেশব্যাপী অবিলম্বে স্থগিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন সময়সূচি ঘোষণা করাই হবে এই মুহূর্তের সবচেয়ে প্রাজ্ঞ ও মানবিক সিদ্ধান্ত।