• ই-পেপার

অতিমাত্রায় সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি ইবাদতে বিঘ্নতা সৃষ্টি করছে

বৃষ্টির দিনে রাস্তায় গাড়ি চালানোর চার আদব

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
বৃষ্টির দিনে রাস্তায় গাড়ি চালানোর চার আদব
সংগৃহীত ছবি

বর্ষাকালের টানা বৃষ্টিতে সাময়িকভাবে শহরের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় একজন চালকের সামান্য অসচেতনতা যেমন দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তেমনি পথচারী, দোকানদার ও অন্যান্য মানুষের দুর্ভোগও বাড়িয়ে দিতে পারে। অতএব সে সময় একজন মুমিন যখন চালকের ভূমিকায় থাকবেন, তখন জনদুর্ভোগ লাঘব ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় ইসলামের দৃষ্টিতে তাঁর কিছু করণীয় থাকে। নিম্নে সে করণীয়গুলো তুলে ধরা হলো—

১. ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট না দেওয়া : পানিবন্দি রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে কাদা ও নোংরা পানি ছিটকে পথচারী, দোকানদার বা অন্য যানবাহনের আরোহীদের গায়ে পড়ে, যা খুবই বিরক্তিকর বিষয়। এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তির মন থেকে না চাইতেও বদদোয়া এসে যায়। অতএব, মুমিন চালকদের উচিত এ রকম পরিস্থিতিতে যেন অন্যের কষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ অন্যায়ভাবে অন্যকে কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের তাদের কৃত কোনো অন্যায় ছাড়াই কষ্ট দেয়, নিশ্চয়ই তারা বহন করবে অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপ।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৮)

এলোমেলো গাড়ি চালিয়ে ইচ্ছাকৃত যানজট সৃষ্টি করে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলাও অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়ার শামিল। আর মানুষকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া ইসলামবিরোধী কাজ। রাসুল (সা.)  বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলিম সেই, তার জিহ্বা ও হাত থেকে অপর মুসলমান নিরাপদে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ১০)

২. ধীরে ও সতর্কভাবে গাড়ি চালানো : বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানির নিচে গর্ত, খোলা ম্যানহোল বা ভাঙা রাস্তা থাকতে পারে। তাই দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো নিজের ও অন্যের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আর পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ কোরো না।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯৫)

৩. রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া : বন্যা বা ভারি বৃষ্টিতে গাছের ডাল, ইট, বাঁশ বা অন্যান্য প্রতিবন্ধক পড়ে থাকতে পারে। সাধ্য থাকলে সেগুলো সরিয়ে দেওয়াও একটি সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ঈমানের স্তর সত্তরের অধিক। তার সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬১৪)

৪. বিপদে পড়া মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া : কোনো গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে, বৃদ্ধ, নারী বা শিশু পানিতে আটকে গেলে কিংবা কেউ দুর্ঘটনায় পড়লে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করা একজন মুমিনের দায়িত্ব। এতে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য মেলে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য করে, আল্লাহও ততক্ষণ তাঁর বান্দার সাহায্য করেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৬)

মনে রাখা উচিত বর্ষাকালে পানিবন্দি সড়কে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো শুধু ট্রাফিক আইন মানার বিষয় নয়, এটি ইসলামী নৈতিকতারও অংশ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় মানুষের কল্যাণকামী হয়ে ধীরগতিতে চলা, অন্যকে কষ্ট না দেওয়া, যানজট না বাড়ানো, রাস্তার প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এসব কাজ আল্লাহর কাছে ইবাদত ও সওয়াবের মাধ্যম হতে পারে। একজন সচেতন মুসলিমের পরিচয় হলো তার উপস্থিতিতে মানুষ নিরাপদ থাকে এবং তার আচরণ মানুষের জন্য রহমত হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মুমিনের দ্বিন ও দুনিয়ার মধ্যে ভারসাম্য জরুরি

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মুমিনের দ্বিন ও দুনিয়ার মধ্যে ভারসাম্য জরুরি
সংগৃহীত ছবি

মুসলিম সমাজে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হয়েছে, যারা আল্লাহর দ্বিনের বিধানকে দুনিয়ার বিষয় থেকে আলাদা করতে চায়। তারা দাবি করে—ধর্মের জন্য আইন প্রণয়ন করবেন আল্লাহ, আর দুনিয়ার জন্য আইন প্রণয়ন করবে মানুষ। এটি সুস্পষ্ট ভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা। কারণ তারা আইন প্রণয়নের অধিকার একাধিক সত্তার হাতে তুলে দিয়েছে, অথচ আইন প্রণয়নের একচ্ছত্র অধিকার শুধু আল্লাহরই। ইসলামের মূল কথা দুটি—১. একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা। ২. দ্বিন ও দুনিয়ার সব ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধানকে মান্য করা। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ এ সত্য জানে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বিধান দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। তিনি আদেশ দিয়েছেন, তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করো। এটাই সরল ও সঠিক দ্বিন; কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ তা জানে না।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৪০)

যেমন আল্লাহ তাঁর ইবাদতে কাউকে শরিক করা পছন্দ করেন না, তেমনি তিনি তাঁর বিধানের পরিবর্তে অন্য কারো বিধান মান্য করাও পছন্দ করেন না। কোরআনে এসেছে, ‘তিনি (আল্লাহ) তাঁর বিধান ও কর্তৃত্বে কাউকে শরিক করেন না।’ (সুরা : আল-কাহফ, আয়াত : ২৬)

আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন—দ্বিন বা দুনিয়ার যেকোনো মতবিরোধের সমাধান তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর কাছে ফিরিয়ে নিতে। তিনি বলেন, ‘যদি তোমরা কোনো বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের কাছে প্রত্যাবর্তন করো—যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকে সর্বোত্তম।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৯)

ইসলামী শরিয়তের অপব্যাখ্যা ও আধুনিক বিভ্রান্তি
মুসলিম সমাজে এমন বহু চিন্তাধারার উদ্ভব হয়েছে, যারা শরিয়তের দলিলগুলো শরিয়তের বিশেষজ্ঞ আলেমদের ব্যাখ্যা ছাড়াই বোঝার আহ্বান জানায়। তারা কোরআন ও সুন্নাহকে সালাফে সালেহিন, তাফসিরবিদ, মুহাদ্দিস ও ফকিহদের বোঝার পদ্ধতি অনুসরণ করে না; বরং তারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণে কোরআন ও সুন্নাহর অর্থ বিকৃত করে। তারা যাকে ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ বলে, তার নামে চিন্তার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। তারা প্রত্যেক মানুষকে—যোগ্যতা থাকুক বা না থাকুক, সব বিষয়ে মতামত দেওয়ার উৎসাহ দেয়। এমনকি তারা বিশ্বাসের স্বাধীনতার নামে কোরআন-সুন্নাহ অস্বীকার করা কিংবা শরিয়তের বিধান প্রত্যাখ্যান করার স্বাধীনতার কথাও বলে।

এসব লোক ইসলামী শরিয়তের দলিল নিয়ে খেলছে। তাদের অনেক বক্তব্য বিচ্ছিন্ন, অস্বাভাবিক ও বিভ্রান্তিকর। তারা সাহাবা ও তাবেঈনদের পথের বিরোধিতা করছে, অথচ আল্লাহ আমাদেরকে তাদের অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা কোরআনের দ্ব্যর্থবোধক আয়াত নিয়ে মানুষের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করতে চায় এবং আল্লাহর শরিয়ত বিকৃত করার চেষ্টা করে। এমনকি তাদের কেউ কেউ স্বাধীনতার নামে নাস্তিকতা, শরিয়তবিরোধিতা এবং ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর্যায়েও পৌঁছে গেছে। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যাকে আলো দেন না, তার জন্য কোনো আলো নেই।’ (সুরা : আন-নুর, আয়াত : ৪০)

‘তোমরাই তোমাদের দুনিয়ার বিষয় বেশি জানো’ হাদিসের সঠিক অর্থ কিছু লোক দ্বিনকে দুনিয়া থেকে পৃথক করার পক্ষে দলিল হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই হাদিস পেশ করে—‘তোমরাই তোমাদের দুনিয়ার বিষয় বেশি জানো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩৬৩)

কিন্তু এরা হাদিসটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট গোপন করে। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) কিছু লোককে খেজুরগাছে পরাগায়ণ (পুরুষ গাছের রেণু স্ত্রী গাছে দেওয়া) করতে দেখলেন। তিনি বললেন, ‘আমার মনে হয়, এটি না করলেও চলবে।’ লোকেরা ভেবেছিল এটি নবী (সা.)-এর নির্দেশ, তাই তারা পরাগায়ণ বন্ধ করে দিল। ফলে সে বছর ফলন কমে গেল। পরে বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানানো হলে তিনি বললেন, ‘যদি এতে তাদের উপকার হয়, তবে তারা তা করুক। আমি তো শুধু একটি ধারণা প্রকাশ করেছিলাম। তাই আমার অনুমানের জন্য আমাকে দোষারোপ কোরো না। কিন্তু আমি যখন তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিষয় বলি, তখন অবশ্যই তা গ্রহণ করবে। কারণ আমি কখনো আল্লাহর নামে মিথ্যা বলি না।’ (সহিহ মুসলিম)

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের পরাগায়ণ করতে নিষেধ করেননি; বরং তারা ভুলবশত মনে করেছিল যে তিনি নিষেধ করেছেন।’ (মাজমুউল ফাতাওয়া : ১৮/১২)

অতএব, শরিয়ত মানুষের দ্বিন ও দুনিয়া—উভয়ের কল্যাণ সাধনের জন্য এসেছে। দুনিয়াবি বিষয়ে অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উন্নতি করতে ইসলাম উৎসাহিত করেছে। যেমন—নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ করা, উপযোগী কৃষিপদ্ধতি গ্রহণ করা, নতুন শিল্প ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা, মানুষের উপকারে আসে এমন আবিষ্কার করা, খাদ্য প্রস্তুতের নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করা, উপকারী সব বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন সাধন করা। এসব ক্ষেত্রে শরিয়ত বাধা দেয় না; বরং উপকার হলে উৎসাহিত করে।

দুনিয়াবি লেনদেন ও ইবাদতের মূলনীতি

ইসলামে মূলনীতি হলো দুনিয়াবি লেনদেন (মুয়ামালাত) মূলত বৈধ, যতক্ষণ না আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তা হারাম ঘোষণা করেন। ইবাদত সম্পূর্ণরূপে শরিয়তনির্ভর; শরিয়তের অনুমতি ছাড়া নতুন কোনো ইবাদত প্রবর্তন করা বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বিনের মধ্যে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

এখানে ‘আমাদের এই বিষয়’ বলতে দ্বিন বোঝানো হয়েছে, দুনিয়ার উপকারী বিষয় নয়। সুতরাং দুনিয়াবি এমন সব কাজ যা শরিয়তের নীতিবিরোধী নয়, সেগুলো গ্রহণে কোনো বাধা নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি দুনিয়ার নামে শরিয়তের বিরোধিতা বৈধ মনে করে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করে। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করে, সে তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়েছে।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩৬)

আলেমদের ব্যাখ্যা
সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড (আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ) বলেছে, ‘তোমরাই তোমাদের দুনিয়ার বিষয় বেশি জানো’ হাদিসটি সহিহ। এর অর্থ হলো কৃষি, শিল্প, সেলাই, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এ ধরনের দুনিয়াবি বিষয়ে মানুষ অভিজ্ঞ। তবে প্রত্যেক ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান মেনে চলতে হবে।’ (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ : ১(১৮/২৭)

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু উসাইমিন (রহ.) বলেন, ‘নবীরা মানুষের জন্য রেখে গেছেন শরিয়তের জ্ঞান; শিল্প, প্রযুক্তি বা কারিগরি বিদ্যা নয়।’ দুনিয়াবি যেসব বিষয়ে শরিয়তের বিধান আছে। কোরআনের দীর্ঘতম আয়াতই হলো ঋণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কিত। (সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ২৮২)

এটি প্রমাণ করে, ইসলাম দুনিয়ার বিষয়ও সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছে। দুনিয়াবি যেসব বিষয় শরিয়ত হারাম করেছে, তার মধ্যে আছে—সুদ, জুয়া, ব্যভিচার, বেপর্দা ও অশালীনতা, ব্যবসায় প্রতারণা, ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুতাকারীদের প্রতি অবৈধ আনুগত্য। এসব ক্ষেত্রে ‘আমরাই আমাদের দুনিয়ার বিষয় বেশি জানি’ এই অজুহাতে শরিয়ত অমান্য করা বৈধ নয়। আবার দুনিয়ার যেসব বিষয়ে শরিয়ত বিধান দিয়েছে, যেমন বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার, ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, খাদ্য, বিচারব্যবস্থা—এসব ক্ষেত্রেও শরিয়তের পরিবর্তে মানুষের বানানো বিধান গ্রহণ করা বৈধ নয়।

যেসব দুনিয়াবি বিষয়ে মানুষ স্বাধীনভাবে উন্নয়ন করতে পারে
অন্যদিকে যেসব বিষয় শরিয়তের বিরোধী নয়, যেমন—শিল্প-কারখানা, কৃষি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও তথ্য-প্রযুক্তি, বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, সড়ক পরিবহন ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, বিমান ও নৌপরিবহন এবং এ ধরনের অন্যান্য দুনিয়াবি উন্নয়নমূলক কাজ—এসব ক্ষেত্রে মানুষকে চিন্তা-গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পর সহযোগিতা করো; পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা কোরো না।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২)

পরিশেষে ইসলাম কখনো দ্বিন ও দুনিয়াকে পরস্পর বিচ্ছিন্ন করে না; বরং ইসলাম মানুষের আধ্যাত্মিক, নৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানকে অনুসরণ করার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প ও মানবকল্যাণমূলক সব দুনিয়াবি বিষয়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নয়নকে উৎসাহিত করে।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৪ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৪ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৯ মহররম, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৩ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৭ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৭ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৯ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

বারবার একই গুনাহ হয়ে গেলে করণীয় কী?

অনলাইন ডেস্ক
বারবার একই গুনাহ হয়ে গেলে করণীয় কী?
সংগৃহীত ছবি

গুনাহ শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত হলেও এটি মূলত ফার্সি শব্দ। সাধারণভাবে যার অর্থ দ্বারায় পাপ বা অন্যায়। মহান রাব্বুল আলামিনের নির্দেশের পরিপন্থী সব কাজই গুনাহ বা পাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ক্ষেত্রে গুনাহ বা পাপ মূলত ২ ধরনের হয়ে থাকে- ‘সগিরা’ বা ছোট গুনাহ এবং ‘কবিরা’ বা বড় গুনাহ।

বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে সগিরা বা ছোট গুনাহ মাফ হলেও তওবা ছাড়া কবিরা গুনাহ মাফ হয় না। এমনকি কোনো কোনো কবিরা গুনাহের ক্ষেত্রে তওবা না করে মারা গেলে নিশ্চিত জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথাও হাদিসে এসেছে। এজন্য পাপ বা গুনাহ হয়ে গেলে পবিত্র হতে মহান রবের কাছে খাঁটি তওবার বিকল্প নেই।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ইমানদারেরা, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো, আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে ঝর্ণাসমূহ প্রবহমান।’ (সুরা আত-তাহরীম, আয়াত: ৮)

তবে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে প্রায়সময়ই অনেকে গুনাহ ছেড়ে তওবা করার পর আবারও গুনাহে লিপ্ত হন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একবার তওবার পরও অনেকে একই গুনাহে লিপ্ত হন। বিশেষ করে গোপনে গুনাহ বা প্রকাশ্যে যেসব গুনাহের কাজ রয়েছে, বারবার সেসব গুনাহে লিপ্ত হন। এমন হলে সঠিক পথে ফিরে আসতে করণীয় কি?

এ বিষয়ে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মত, একই গুনাহ বারবার হয়ে গেলে বারবার তওবা করতে হবে। মহান আল্লাহ তা’য়ালার গুণবাচক নামগুলোর একটি হলো ‘তাওয়াব’। এর অর্থ যিনি বারবার তওবা কবুল করেন বা বারবার তওবা কবুলকারী। এজন্য যতবার গুনাহ হবে, ততবার মহান রবের কাছে তওবা করতে হবে এবং গুনাহের মাফ চাইতে হবে।

এ ক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি যে, গুনাহ হয়ে গেলে যদি কেউ খাঁটি তওবা করে, তবে মহান রাব্বুল আলামিন অত্যন্ত খুশি হন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তা’য়ালা বান্দার তওবার কারণে সেই লোকটির চাইতেও বেশি খুশি হন, যে লোকটি মরুভূমিতে তার উট হারিয়ে পরে তা আবারও পেয়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৭০)

এছাড়াও মহান আল্লাহর গুণবাচক ৯৯টি নামের মধ্যে ‘তাওয়াব’ (التواب) বা তওবা কবুলকারী, ‘আল-আফুর’ (الْعَفُوُّ) বা গুনাহ ক্ষমাকারী এবং ‘আল-গাফুর’ (الْغَفُورُ) বা পরম ক্ষমাশীল ইত্যাদি নাম রয়েছে। সুতরাং, তওবার পরও বারবার একই গুনাহ হয়ে গেলে কোনোভাবেই নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বরং, খাঁটি তওবা করে আল্লাহর কাছে গুনাহের ক্ষমা চেয়ে সেই গুনাহ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

মনে রাখতে হবে, পবিত্র কোরআনে খোদ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দিয়েছেন, ‘বলো, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)। অপর আয়াতে এসেছে, ‘আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৭)