• ই-পেপার

আর নৌকা চালাতে হবে না সেই প্রধান শিক্ষককে

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার আশঙ্কা
সংগৃহীত ছবি

টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। টানা ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকায় চতুর্থবারের মতো বন্যা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুদিন রংপুর বিভাগের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে নদীভাঙন ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাউবো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং পর্যাপ্ত বালির বস্তা ও জিও ব্যাগ মজুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা

অনলাইন ডেস্ক
নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা
সংগৃহীত ছবি

মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারকে তার সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নতুন জেলা সেক্রেটারি হিসেবে শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক‌ নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন।

জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো পুরুষ সদস্য কর্মরত থাকলে দলের সদস্য (রুকন) হিসেবে তিনি দায়িত্বশীল কোনো পদে থাকতে পারবেন না। এই সাংগঠনিক নীতির আলোকেই কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারির দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এনামুল হককে নতুন জেলা সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পদ হারানোর বিষয়ে সদ্যঃসাবেক জেলা সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার জানান, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত রুকনরা দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারবেন না। সারা দেশের জন্য এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সে কারণেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের এই সিদ্ধান্তের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা কষ্ট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।’

তিনি জানান, জেলা সেক্রেটারি হওয়ার আগেই তিনি বাগোয়ান ডক্টর ফজলুল হক গার্লস কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তখন গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট বিধানটি শিথিল ছিল এবং দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা ছিল না। ভবিষ্যতে চাকরি ছেড়ে দিলে আবারও সাংগঠনিক দায়িত্বে তাকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শুধু কুষ্টিয়ায় নয়, সারা দেশে নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাতজন দায়িত্বশীল নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের শূন্যস্থান পূরণে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে নতুন দায়িত্বশীলদের নির্বাচন করা হচ্ছে।

নবনিযুক্ত জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, ‘জেলা কর্মপরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব।’

নেত্রকোনায় বজ্রাঘাতে ৭ মাসে প্রাণ হারাল ১৩ জন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় বজ্রাঘাতে ৭ মাসে প্রাণ হারাল ১৩ জন
সংগৃহীত ছবি

বর্ষার সময় এলেই নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলজুড়ে নেমে আসে বজ্রপাতের আতঙ্ক। ভয়ে দিন পার করে এই অঞ্চলের প্রান্তিক জনপদের মানুষ। গত ৭ মাসে অঞ্চলটিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন। 

এ ছাড়া গত সাড়ে পাঁচ বছরে বজ্রপাতের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬০ জন। জেলা পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বজ্রপাতে ১৫ জন, ২০২২ সালে ৩ জন, ২০২৩ সালে ১২ জন, ২০২৪ সালে ৫ জন, ২০২৫ সালে ১২ জন এবং চলতি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বজ্রঘাতে নিহতদের বেশির ভাগই কৃষক, জেলে ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিনই তাদের বাধ্য হয়ে বজ্রপাত আতঙ্ক মাথায় নিয়েই নামতে হয় খোলা মাঠ, বিল ও হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের সবচেয়ে বড় শিকারও হচ্ছেন তারাই। জেলার খালিয়াজুরী, মদন, মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া, পূর্বধলা ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের বৃষ্টিতে বাড়ির পাশের জমিতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন মদন উপজেলার জয়পাশা গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক রাজিব মিয়া (২৪)। পরিবারের জন্য মাছ নিয়ে ফিরবেন এমন আশা ছিল তার। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হয়নি। হঠাৎ আকাশ চিরে নেমে আসা বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। ১৮ জুন একই দিনে কেন্দুয়া উপজেলার মোড়াইল বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান শামসুল হুদা (৫৫) এবং সান্দিকোনা এলাকায় প্রাণ হারান আশরাফুল ইসলাম (২৫)। এক দিনে তিনজনের মৃত্যুতে শোক নেমে আসে পরিবারগুলোতে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে এলাকা।

খালিয়াজুরীর মেন্দিপুর গ্রামের কৃষক সামছুল হক বলেন, ‘হাওরে কাজ করতে গেলে আকাশের অবস্থা সব সময় বোঝা যায় না। অনেক সময় হঠাৎ মেঘ করে বজ্রপাত শুরু হয়। আশপাশে কোনো ঘর বা নিরাপদ জায়গা না থাকায় আতঙ্কের মধ্যেই থাকতে হয়।’

এ ছাড়া জেলেদেরও একই অভিজ্ঞতা। মাছ ধরার সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে নৌকা নিয়েই ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয় তাদের।

নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ মো. মামুন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে এবং বজ্রমেঘ সৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর প্রভাব রয়েছে। বজ্রপাত মূলত ‘কিউমুলোনিম্বাস’ বা সিবি মেঘ থেকে সৃষ্টি হয়। এখন নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে প্রাকৃতিক সুরক্ষা কমে গেছে। তাই হাওর এলাকায় তালগাছসহ উঁচু গাছ লাগানোর উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, হাওরের বিশাল এলাকায় শুধু বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। খোলা মাঠে কৃষক ও জেলেদের জন্য বিশেষ শেল্টার জোন বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র প্রয়োজন যেখানে আকস্মিক দুর্যোগের সময় কৃষক ও জেলেরা দ্রুত নিরাপদে যেতে পারবেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আশ্রয়কেন্দ্রে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা ছাড়াও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর কারিগরি দিক ও স্থান নির্বাচন করতে মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদল সরেজমিন পরিদর্শন করবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শফিক ডাকাত’ গ্রেপ্তার, এলাকায় স্বস্তি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শফিক ডাকাত’ গ্রেপ্তার, এলাকায় স্বস্তি
সংগৃহীত ছবি

সম্প্রতি তিন র‍্যাব সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দেশে-বিদেশে আলোচনার ঝড় তোলা জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও মাদকসহ অন্তত ১৫টিরও বেশি মামলার আসামি শফিক ডাকাতকে (শফিক উদ্দিন) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯ ও র‍্যাব-১০। 

রবিবার (১২ জুলাই) মধ্যরাতে র‍্যাব-৯ ও র‍্যাব-১০-এর যৌথ একটি দল রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থানার রসুলবাগ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা কুখ্যাত শফিক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

সোমবার দুপুরে (১৩ জুলাই) সিপিসি-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুন্নবী ব্রাহ্মণবাড়িয়া র‍্যাব কার্যালয়ে এক প্রেস বিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

এদিকে শফিক ডাকাত গ্রেপ্তারের খবরে তার নিজ গ্রাম জেলার নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়াসহ আশ পাশের গ্রামগুলোতে আনন্দ ও স্বস্তি বিরাজ করছে।

সূত্র জানায়, নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামের খাগাতুয়া গ্রামের কুখ্যাত ডাকাত শফিক মিয়া ওরফে চোরা শফিকের বিষয়ে র‌্যাব-৯ এর গোয়েন্দা সংস্থার তিন সদস্য সিভিল পোশাকে গত ১১ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে খাগাতুয়া গ্রামে যান।

এলাকাবাসী জানায়, ওই গ্রামে র‌্যাবের সদস্যরা এসেছে, এ তথ্য গোপন সূত্রে জানতে পরে কুখ্যাত শফিক ডাকাত ও তার বাহিনী ওই তিন র‌্যাব সদস্যের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।

এসময় শফিক ডাকাতের লোকজন র‌্যাবের সদস্যদের কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এরপর শফিকের লোকজন আহত র‌্যাব সদস্যদের গ্রামের একটি বাড়িতে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখে।

পরে খবর পেয়ে র‌্যাবের অন্য একটি গোয়েন্দা টিমের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত র‍্যাবের সদস্যদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে। পরে আহতদের ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে র‍্যাব। প্রথম দফায় পাঁচজন এবং পরে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতার একপর্যায়ে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা শফিক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া র‌্যাব-৯ এর কমান্ডার এডিশনাল এসপি মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী শফিক ডাকাত দীর্ঘদিন ধরে তার এলাকায় চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, হত্যা ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে নবীনগর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ১৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে। দেরি হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।’

তিনি আরো জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।