• ই-পেপার

নিষিদ্ধ করতে চাওয়া জাপা নেতার বাড়িতে খাওয়া শেষে রাত্রিযাপন নাহিদ-হাসনাতের

হরিদাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
হরিদাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ির হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সচেতন নাগরিক ফোরাম গাইবান্ধা জেলা শাখা। সোমবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা শহরের বড় মসজিদ সংলগ্ন এলাকার একটি কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সচেতন নাগরিক ফোরাম গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক মুফতি মাহমুদুল হাসান কাসেমী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, ‘গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে কথিত রামমূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং দেশবিরোধী যড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধায় সচেতন নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা হচ্ছে। এই আন্দোলনে একটি দাবি ছিল ধর্মকে পুঁজি করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনে জড়িত এই প্রতারক হরিদাসকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা এবং কথিত রামমূর্তি অপসারণ করা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হরিদাস গ্রেপ্তার হলেও তাদের এই আন্দোলন এখনই শেষ হয়ে যায়নি। এই ষড়যন্ত্রের শিকর উপড়ে ফেলতে তারা সরকারের কাছে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে- রামমূর্তি দ্রুত অপসারণ করে ধর্মের আড়ালে এবং উসকানিমূলক উদ্দেশ্যে মন্দিরের বাইরে রামমূর্তিসহ খোলা আকাশের নিচে স্থাপিত সব মূর্তি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। হরিদাসের অর্থায়নের উৎস অসুন্ধান করে ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার যে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য ওঠে এসেছে তা তদন্ত করতে হবে। এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের পেছনে কোন বিদেশি রাষ্ট্র বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর মদদ ও অর্থায়ন রয়েছে কিনা, তা খুঁজে বের করতে হবে। সেইসঙ্গে হরিদাসসহ তার সব সহযোগীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। হরিদাসের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অন্যান্য কুশীলব ও সব সহযোগীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দেশদ্রোহী ও মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে হরিদাসসহ তার সব সহযোগীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সদস্য সচিব অধ্যাপক আব্দুল মাজেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. আবুল বাশার, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম মনিরুজ্জামান সবুজ, প্রচার সম্পাদক মুফতি মো. হেলাল উদ্দিনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, রবিবার মধ্য রাতে ঢাকা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বহুল আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে মানি লন্ডারিং মামলায় পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তার নামে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা রয়েছে।

গাজীপুরে লাইসেন্সবিহীন দুই ফিড কারখানাকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরে লাইসেন্সবিহীন দুই ফিড কারখানাকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে পোলট্রি ও ফিশ ফিড (মাছ ও মুরগির খাদ্য) উৎপাদন ও বিক্রি করার অপরাধে গাজীপুরে দুটি প্রতিষ্ঠানকে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিরচালা ও ভান্নারা এলাকায় বিএসটিআইয়ের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানম।

কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিরচালা এলাকার ‘কমফিড বাংলাদেশ পিইটি লিমিটেড’ নামের একটি কারখানায় তল্লাশি চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ও পণ্য মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ছাড়াই পোলট্রি ফিড বিক্রি ও বিতরণ করছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এই অপরাধে বিএসটিআই আইন-২০১৮ এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে উপজেলার ভান্নারা এলাকায় অবস্থিত ‘কৃষিপণ্য ফিডস লিমিটেড’ নামের আরেকটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানেও বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ও নিবন্ধন ছাড়া পোলট্রি ও ফিশ ফিড উৎপাদন ও বাজারজাত করার প্রমাণ মেলে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি অন্য নামি প্রতিষ্ঠানের বস্তা ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করছিল। এসব অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানকালে বিএসটিআই গাজীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অফিসপ্রধান এস এম তালাত মাহমুদ এবং সহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের ভেজাল ও অবৈধ বিরোধী অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ২ ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ২ ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
বহিষ্কৃত দুই ইউপি চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক ও মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা। সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানরা হলেন কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা এবং মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক।

তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুই চেয়ারম্যান।

রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা জানান, মামার মৃত্যুর কারণে চাল বিতরণের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না। সরকারি তদারকি কর্মকর্তা আফরোজা চৌধুরী ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রবিউল ইসলাম উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘চাল বিতরণের সময় অনিয়মের অভিযোগে ৯৭টি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাকে দায়ী করা হয়েছে, যা অন্যায়।’

অন্যদিকে মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক জানান, সেদিন তিনি পূজার জন্য উপবাসে ছিলেন। তদারকি কর্মকর্তা আতাহার আলী ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদের কাছে চাল বুঝিয়ে দিয়ে তিনি বাড়ি চলে যান। চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই দায়ী।

এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে সোমবার মন্ত্রণালয় দুই চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ জারি করেছে।’

পার্বতীপুরে ঘর থেকে মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
পার্বতীপুরে ঘর থেকে মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মা ও তার কিশোরী মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট ছোট চন্ডিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

নিহতরা হলেন উপজেলার ছোট চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা রিপেন চন্দ্রের স্ত্রী ছবি রানী (৪০) এবং মেয়ে পল্লবী রানী (১৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলের দিকে দীর্ঘ সময় ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে রিপেন চন্দ্র স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের কাঠের বর্গায় লাগানো সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মা ও মেয়েকে ঝুলতে দেখা যায়। তাঁদের দ্রুত নিচে নামানো হলেও ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা নিশ্চিত হন। খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।  পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীদের অনেকেই ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয় বিদারক বলে মন্তব্য করেছেন।