• ই-পেপার

পার্বতীপুরে ঘর থেকে মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

শাহ আমানতে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার স্বর্ণসহ যাত্রী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
শাহ আমানতে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার স্বর্ণসহ যাত্রী গ্রেপ্তার
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও আটক যাত্রী

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে আনুমানিক ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা মূল্যের ২ কেজি ১৬০ গ্রাম (২.১৬ কেজি) স্বর্ণালংকার ও গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে এই স্বর্ণ জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া যাত্রীর নাম মোহাম্মদ শহীদুল আলম চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকার বাসিন্দা এবং তার পাসপোর্ট নম্বর-A13908810।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, দুবাই থেকে আসা ফ্লাইদুবাইয়ের ‘এফজেড-৪৬৩’ ফ্লাইটের ওই যাত্রী তার ব্যাগেজ নিয়ে কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করছিলেন। এসময় বিমানবন্দরে দায়িত্বরত গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এবং ডিজিএফআই-এর প্রতিনিধি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে চ্যালেঞ্জ করে। পরে তাকে তল্লাশি করা হলে তার পায়জামার বেল্টের অংশ এবং আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ২.১৬ কেজি স্বর্ণের বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, উদ্ধারকৃত স্বর্ণের চালানটি বিমানবন্দর কাস্টমসের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত থাকার অপরাধে আটককৃত যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, যেকোনো ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধ এবং স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, বিমানবন্দর কাস্টমস এবং সর্বোপরি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর সর্বোচ্চ নজরদারি ও চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রংপুরে ভুয়া পরিচয়ে দাঁতের চিকিৎসা, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুরে ভুয়া পরিচয়ে দাঁতের চিকিৎসা, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টকে জরিমানা
ছবি: কালের কণ্ঠ

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগের এক মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে দাঁতের চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তার চেম্বারের কার্যক্রম বন্ধ করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন না এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামাও নিয়েছে প্রশাসন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরীর চেকপোস্ট এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান। অভিযানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগের টেকনোলজিস্ট রবিউল ইসলামের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন প্রদান এবং নিজেকে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া চেম্বারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা, রোগ নির্ণয় বা প্রেসক্রিপশন দেওয়ার সুযোগ পান না। কিন্তু অভিযানে দেখা গেছে, রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দন্ত চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখে আসছিলেন এবং প্রেসক্রিপশন দিচ্ছিলেন। এটি আইনের পরিপন্থী।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় তার চেম্বারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং চেম্বারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘তিনি লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছেন যে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন না। এরপরও যদি একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের উদ্দেশে কাজী মো. শাহান বলেন, ‘কেউ যদি তার চিকিৎসাসেবার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসা পেশায় নির্ধারিত যোগ্যতা ও নিবন্ধনের বাইরে গিয়ে রোগী দেখা বা প্রেসক্রিপশন দেওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ভুল চিকিৎসার আশঙ্কা যেমন থাকে, তেমনি রোগীর জীবনও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই এ ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগ জরুরি।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। চিকিৎসক পরিচয়ে অবৈধভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান, অনুমোদনহীন চেম্বার পরিচালনা কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের মতো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ডিগ্রি, নিবন্ধন ও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম চোখে পড়লে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঠিকাদারি কাজের জন্য ব্যবসায়ীকে হুমকি, যুবদল নেতাকে শোকজ

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
ঠিকাদারি কাজের জন্য ব্যবসায়ীকে হুমকি, যুবদল নেতাকে শোকজ
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ। সংগৃহীত ছবি

ঠিকাদারি কাজকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।

সোমবার (১৩ জুলাই) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

চিঠিতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদল যখন বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তা, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যস্ত, তখন সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থেকে সাহেদ আহমেদের এমন আচরণ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। আদমজী ইপিজেড এলাকার এক ব্যবসায়ীকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে এসেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

এ কারণে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির কাছে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংগঠনের দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে এই ধরনের ব্যবহার কাম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এগুলো ভাইরাল হলে সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। তাই সংগঠন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আমার জানা নেই, তবে তাকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে কারণ দর্শানোর জন্য।’ 

প্রসঙ্গত, আদমজী ইপিজেডে একটি ঠিকাদারি কাজকে কেন্দ্র করে সানজিদা গ্রুপের প্রতিনিধি ফরহাদের সঙ্গে সাহেদ আহমেদের হোয়াটসঅ্যাপ কলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করতে শোনা যায়। এরই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় যুবদল তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে।

হবিগঞ্জে বিজিবির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ড্রোনে দুর্গম এলাকায় বন্যার্তদের কাছে পৌঁছাল ত্রাণ ও পশু চিকিৎসা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ড্রোনে দুর্গম এলাকায় বন্যার্তদের কাছে পৌঁছাল ত্রাণ ও পশু চিকিৎসা
সংগৃহীত ছবি

বন্যাকবলিত দুর্গম ও জলাবদ্ধ এলাকায় আটকে পড়া মানুষের সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটাল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। হবিগঞ্জে বন্যাদুর্গত এলাকায় ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসহায় মানুষের কাছে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ পৌঁছে দিয়েছে বিজিবির হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)।

প্রযুক্তিনির্ভর এই মানবিক সেবার পাশাপাশি দিনভর ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, রান্না করা খাবার বিতরণ ও গবাদি পশুর চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বাহিনীটি।

সোমবার (১৩ জুলাই) হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত বিভিন্ন গ্রামে দিনব্যাপী এই ব্যাপক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সমগ্র কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।

BGB

জানা গেছে, সোমবারের এই বিশেষ কার্যক্রমে বন্যাকবলিত এলাকার প্রায় ৪০০টি পরিবারের সদস্যদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী এবং আরও ২০০টি পরিবারের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। বন্যার কারণে মানুষ যেমন সংকটে পড়েছেন, তেমনি সংকটে পড়েছে গৃহপালিত পশুপাখিও। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি পৃথক মেডিক্যাল টিম প্রায় ১৫০টি গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করে।

তবে দিনব্যাপী এই মানবিক কার্যক্রমের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার। নৌকায় বা হেঁটে যেসব দুর্গম ও জলাবদ্ধ এলাকায় পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব, সেখানে ড্রোনের মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ উপায়ে শুকনো খাদ্যসামগ্রী এবং নগদ আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। বিজিবির এমন সময়োপযোগী ও আধুনিক পদক্ষেপ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

বিজিবির এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ। বিজিবির কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘৫৫ বিজিবির এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন, পশু চিকিৎসা এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে অসহায় মানুষ একাধারে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ, খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবির এ মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

BGB

হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, ‘টানা বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গত মানুষের উদ্ধার, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠপর্যায়ে বিজিবি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

মানবিক এই কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক ক্যাপ্টেন সাফায়েত হোসেন, ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।