সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও পলাতক আসামিদের ধরতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত আড়াই মাসে প্রায় ৩৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। একই সময়ে নিয়মিত অভিযান ও বিভিন্ন মামলায় আরো প্রায় ৮৪ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে ৩২ হাজার ৯০৮ জন এবং অন্যান্য মামলা ও নিয়মিত অভিযানে ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযান চলার সময় সারা দেশ থেকে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি ককটেল, ২ কেজি গানপাউডার, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র, ১৮টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ১৭টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকলেট বাজি উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৭৬টি পিস্তল, ৫০টি বন্দুক, ৩৩টি এলজি, ৩০টি শুটারগান, ১৮টি রিভলভার, ১৫টি পাইপগান, ১২টি এয়ারগান, ৪টি শটগান, ২টি রাইফেল, ২টি সাবমেশিনগান (এসএমজি) এবং একটি পেনগান।
এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ২৭৬ পিস ইয়াবা, ৮ হাজার ২৮৪ পুরিয়া হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশি মদ এবং ৫ হাজার ৩৩৬ পুরিয়া গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় মোট ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা করা হয়েছে এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিস্তার রোধ এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশব্যাপী এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ, রেঞ্জ, বিশেষায়িত ইউনিট ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।









