• ই-পেপার

মুমিনের দ্বিন ও দুনিয়ার মধ্যে ভারসাম্য জরুরি

বৃষ্টির দিনে রাস্তায় গাড়ি চালানোর চার আদব

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
বৃষ্টির দিনে রাস্তায় গাড়ি চালানোর চার আদব
সংগৃহীত ছবি

বর্ষাকালের টানা বৃষ্টিতে সাময়িকভাবে শহরের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় একজন চালকের সামান্য অসচেতনতা যেমন দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তেমনি পথচারী, দোকানদার ও অন্যান্য মানুষের দুর্ভোগও বাড়িয়ে দিতে পারে। অতএব সে সময় একজন মুমিন যখন চালকের ভূমিকায় থাকবেন, তখন জনদুর্ভোগ লাঘব ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় ইসলামের দৃষ্টিতে তার কিছু করণীয় থাকে। নিম্নে সে করণীয়গুলো তুলে ধরা হলো—

১. ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট না দেওয়া : পানিবন্দি রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে কাদা ও নোংরা পানি ছিটকে পথচারী, দোকানদার বা অন্য যানবাহনের আরোহীদের গায়ে পড়ে, যা খুবই বিরক্তিকর বিষয়। এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তির মন থেকে না চাইতেও বদদোয়া এসে যায়। অতএব, মুমিন চালকদের উচিত এ রকম পরিস্থিতিতে যেন অন্যের কষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ অন্যায়ভাবে অন্যকে কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের তাদের কৃত কোনো অন্যায় ছাড়াই কষ্ট দেয়, নিশ্চয়ই তারা বহন করবে অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপ।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৮)

এলোমেলো গাড়ি চালিয়ে ইচ্ছাকৃত যানজট সৃষ্টি করে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলাও অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়ার শামিল। আর মানুষকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া ইসলামবিরোধী কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলিম সেই, তার জিহ্বা ও হাত থেকে অপর মুসলমান নিরাপদে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ১০)

২. ধীরে ও সতর্কভাবে গাড়ি চালানো : বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানির নিচে গর্ত, খোলা ম্যানহোল বা ভাঙা রাস্তা থাকতে পারে। তাই দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো নিজের ও অন্যের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আর পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ কোরো না।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯৫)

৩. রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া : বন্যা বা ভারি বৃষ্টিতে গাছের ডাল, ইট, বাঁশ বা অন্যান্য প্রতিবন্ধক পড়ে থাকতে পারে। সাধ্য থাকলে সেগুলো সরিয়ে দেওয়াও একটি সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ঈমানের স্তর সত্তরের অধিক। তার সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬১৪)

৪. বিপদে পড়া মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া : কোনো গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে, বৃদ্ধ, নারী বা শিশু পানিতে আটকে গেলে কিংবা কেউ দুর্ঘটনায় পড়লে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করা একজন মুমিনের দায়িত্ব। এতে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য মেলে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য করে, আল্লাহও ততক্ষণ তাঁর বান্দার সাহায্য করেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৬)

মনে রাখা উচিত বর্ষাকালে পানিবন্দি সড়কে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো শুধু ট্রাফিক আইন মানার বিষয় নয়, এটি ইসলামী নৈতিকতারও অংশ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় মানুষের কল্যাণকামী হয়ে ধীরগতিতে চলা, অন্যকে কষ্ট না দেওয়া, যানজট না বাড়ানো, রাস্তার প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এসব কাজ আল্লাহর কাছে ইবাদত ও সওয়াবের মাধ্যম হতে পারে। একজন সচেতন মুসলিমের পরিচয় হলো তার উপস্থিতিতে মানুষ নিরাপদ থাকে এবং তার আচরণ মানুষের জন্য রহমত হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

অতিমাত্রায় সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি ইবাদতে বিঘ্নতা সৃষ্টি করছে

ইসলামী জীবন ডেস্ক
অতিমাত্রায় সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি ইবাদতে বিঘ্নতা সৃষ্টি করছে
সংগৃহীত ছবি

প্রযুক্তি আজ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। কিন্তু যে প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করেছে, সেই প্রযুক্তিই নীরবে আমাদের হৃদয়ের সবচেয়ে মূল্যবান ইবাদত নামাজের একাগ্রতা কেড়ে নিচ্ছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই নামাজে দাঁড়িয়েও কাজের চিন্তা, মেসেজ, নোটিফিকেশন, ফেসবুক, ভিডিও বা ফোনকলের কথা ভাবতে থাকেন। নামাজে দাঁড়ানোর পর মনে আসে, আমাকে কেউ ফোন দিচ্ছে কি না বা কেউ আমাকে মেসেজ দিচ্ছে কি না, অথবা নামাজ শেষ করেই দ্রুত কাউকে মেসেজ দিতে হবে। বারবার চেষ্টা করেও আমরা নামাজে মনোযোগ বসাতে পারি না, নামাজের মধ্যে একাগ্রতা সৃষ্টি করতে পারি না। এখন আমরা দুই রাকাত নামাজও পূর্ণ মনোযোগ সহকারে আদায় করতে পারি না।

ফলে দাঁড়িয়ে থাকে শুধু আমাদের শরীর; অথচ মন ঘুরে বেড়ায় কর্মস্থলে, মোবাইলের পর্দায়, অপঠিত বার্তায় কিংবা দুনিয়ার অগণিত ব্যস্ততায়। আমরা আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েও যেন দুনিয়ার সামনেই দাঁড়িয়ে থাকি। তাই নামাজ আদায় করা হলেও তার প্রকৃত স্বাদ ও খুশু (একাগ্রতা) হারিয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সফল মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে, যারা তাদের সালাতে বিনয়ী ও একাগ্র।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১-২)

এই আয়াত স্পষ্ট করে যে শুধু নামাজ পড়াই যথেষ্ট নয়; বরং নামাজে মনোযোগ ও বিনয় অর্জন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন, ‘ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর এটি অবশ্যই কঠিন, তবে খুশুসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নয়।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৪৫)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেছেন, যে নামাজে পরিপূর্ণ মনোযোগ থাকে না, সে নামাজ আদায় হলেও তার প্রকৃত স্বাদ থাকে না এবং পরিপূর্ণ সওয়াবও পাওয়া যায় না। (মাআরিফুল কুরআন : ১/২২১)
নামাজের মর্যাদা অনেকাংশেই নির্ভর করে আমাদের উপস্থিত হৃদয়ের ওপর, আমাদের মনোযোগের ওপর। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা নামাজ আদায় করে, অথচ তার জন্য কখনো ১০ ভাগের এক ভাগ, কখনো ৯ ভাগের এক ভাগ, কখনো আট ভাগের এক ভাগ—এভাবে যতটুকু মনোযোগ ছিল, ততটুকুই সওয়াব লেখা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭৯৬)

অন্য একটা হাদিস এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যতক্ষণ বান্দা সালাতে এদিক-সেদিক না তাকায়, ততক্ষণ আল্লাহ তার দিকে মনোযোগ রাখেন। আর যখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আল্লাহও তার থেকে মনোযোগ ফিরিয়ে নেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮৬৩)

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি আমাদের মনকে সব সময় ব্যস্ত রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, বারবার স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন মানুষের মনোযোগ ভেঙে দেয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে গভীরভাবে কোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন করে তোলে। এই অভ্যাস নামাজেও প্রভাব ফেলে। নামাজের আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটানোর পর হঠাৎ সম্পূর্ণ মনোযোগ নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো সহজ হয় না। অনেকেই নামাজ শুরু করার আগমুহূর্ত পর্যন্ত ফোন ব্যবহার করেন। আবার আরো ফোন সাইলেন্ট না থাকায় নামাজের মাঝেই রিংটোন বা নোটিফিকেশনের শব্দে মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের আগে এমন সব বিষয় দূরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, যা মনোযোগ নষ্ট করে। তিনি বলেছেন, যখন খাবার উপস্থিত থাকে এবং পেশাব-পায়খানার চাপ থাকে, তখন নামাজ নয়। (মুসলিম, হাদিস : ৫৬০)

এ থেকে বোঝা যায়, মনোযোগ নষ্ট করে এমন বিষয় থেকে নিজেকে মুক্ত করে নামাজে দাঁড়ানো উচিত। তাই সম্ভব হলে নামাজের সময় মোবাইল দূরে রাখা, অন্তত কয়েক মিনিট আগে ফোন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, রিংটোন ও নোটিফিকেশন বন্ধ করা এবং অজুর সময় থেকেই আল্লাহর স্মরণে মনকে প্রস্তুত করা—এসব ছোট অভ্যাস একাগ্রতা অর্জনে সহায়ক। পাশাপাশি তিলাওয়াতের অর্থ বোঝার চেষ্টা, সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা। আজানের ধ্বনি শোনা মাত্রই দুনিয়ার সব ব্যস্ততা পেছনে ফেলে এমনভাবে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো উচিত, যেন এটাই জীবনের শেষ সালাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এমনভাবে সালাত আদায় করো, যেন এটি তোমার জীবনের শেষ সালাত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১৭১)

আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিটি সালাত হৃদয়ের প্রশান্তি, ঈমানের শক্তি ও আখিরাতের সফলতার পাথেয় হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৪ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৪ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৯ মহররম, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৩ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৭ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৭ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৯ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

বারবার একই গুনাহ হয়ে গেলে করণীয় কী?

অনলাইন ডেস্ক
বারবার একই গুনাহ হয়ে গেলে করণীয় কী?
সংগৃহীত ছবি

গুনাহ শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত হলেও এটি মূলত ফার্সি শব্দ। সাধারণভাবে যার অর্থ দ্বারায় পাপ বা অন্যায়। মহান রাব্বুল আলামিনের নির্দেশের পরিপন্থী সব কাজই গুনাহ বা পাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ক্ষেত্রে গুনাহ বা পাপ মূলত ২ ধরনের হয়ে থাকে- ‘সগিরা’ বা ছোট গুনাহ এবং ‘কবিরা’ বা বড় গুনাহ।

বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে সগিরা বা ছোট গুনাহ মাফ হলেও তওবা ছাড়া কবিরা গুনাহ মাফ হয় না। এমনকি কোনো কোনো কবিরা গুনাহের ক্ষেত্রে তওবা না করে মারা গেলে নিশ্চিত জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথাও হাদিসে এসেছে। এজন্য পাপ বা গুনাহ হয়ে গেলে পবিত্র হতে মহান রবের কাছে খাঁটি তওবার বিকল্প নেই।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ইমানদারেরা, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো, আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে ঝর্ণাসমূহ প্রবহমান।’ (সুরা আত-তাহরীম, আয়াত: ৮)

তবে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে প্রায়সময়ই অনেকে গুনাহ ছেড়ে তওবা করার পর আবারও গুনাহে লিপ্ত হন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একবার তওবার পরও অনেকে একই গুনাহে লিপ্ত হন। বিশেষ করে গোপনে গুনাহ বা প্রকাশ্যে যেসব গুনাহের কাজ রয়েছে, বারবার সেসব গুনাহে লিপ্ত হন। এমন হলে সঠিক পথে ফিরে আসতে করণীয় কি?

এ বিষয়ে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মত, একই গুনাহ বারবার হয়ে গেলে বারবার তওবা করতে হবে। মহান আল্লাহ তা’য়ালার গুণবাচক নামগুলোর একটি হলো ‘তাওয়াব’। এর অর্থ যিনি বারবার তওবা কবুল করেন বা বারবার তওবা কবুলকারী। এজন্য যতবার গুনাহ হবে, ততবার মহান রবের কাছে তওবা করতে হবে এবং গুনাহের মাফ চাইতে হবে।

এ ক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি যে, গুনাহ হয়ে গেলে যদি কেউ খাঁটি তওবা করে, তবে মহান রাব্বুল আলামিন অত্যন্ত খুশি হন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তা’য়ালা বান্দার তওবার কারণে সেই লোকটির চাইতেও বেশি খুশি হন, যে লোকটি মরুভূমিতে তার উট হারিয়ে পরে তা আবারও পেয়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৭০)

এছাড়াও মহান আল্লাহর গুণবাচক ৯৯টি নামের মধ্যে ‘তাওয়াব’ (التواب) বা তওবা কবুলকারী, ‘আল-আফুর’ (الْعَفُوُّ) বা গুনাহ ক্ষমাকারী এবং ‘আল-গাফুর’ (الْغَفُورُ) বা পরম ক্ষমাশীল ইত্যাদি নাম রয়েছে। সুতরাং, তওবার পরও বারবার একই গুনাহ হয়ে গেলে কোনোভাবেই নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বরং, খাঁটি তওবা করে আল্লাহর কাছে গুনাহের ক্ষমা চেয়ে সেই গুনাহ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

মনে রাখতে হবে, পবিত্র কোরআনে খোদ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দিয়েছেন, ‘বলো, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)। অপর আয়াতে এসেছে, ‘আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৭)