• ই-পেপার

জ্বালানিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার

এমপি গাজীর বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন : ইসি সচিব

অনলাইন ডেস্ক
এমপি গাজীর বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন : ইসি সচিব

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। আখতার আহমেদ বলেন, ‘সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপির বিষয়ে ইসিতে এখনো কোনো নোটিশ আসেনি। এলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে কমিশন।’

এর আগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

পরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রিহ্যাব প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রিহ্যাব প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একটি প্রতিনিধিদল।

বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দেশের আবাসন শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিকল্পিত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ, ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (DAP) বাস্তবায়নের ফলে উদ্ভূত বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা এবং এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রিহ্যাবের প্রতিনিধিদল জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আবেদন জানায়। পাশাপাশি আবাসন খাত-সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবাসমূহ সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে। রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে যৌক্তিকভাবে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) বৃদ্ধি এবং উল্লম্ব (Vertical) নগরায়ণের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত।

তিনি বলেন, কেউ যেন আবাসন খাতে অনিয়ম করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং আরো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না; দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অর্থমন্ত্রী

পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো জুলাই থেকে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখা কেমন হবে, তা নিয়ে চলছে পর্যালোচনা। প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এটি ধাপে ধাপে বা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। সম্প্রতি তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়াতে সাবেক সচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে নবম পে কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় ছয় মাসের পর্যালোচনার পর প্রতিবেদন জমা দেয় ২১ সদস্যের কমিটি। যেখানে কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।

পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। যার চাপ এখন বিএনপি সরকারের ঘাড়ে। এরই মধ্যে যা পর্যালোচনা করা হচ্ছে সচিব কমিটির মাধ্যমে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা দেন।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ‘নতুন পে স্কেল দেওয়ার তো সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা আমরা গ্রহণ করেছি এবং এটার বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমান আর্থিক প্রেক্ষাপটের কঠিন সময় আমরা অতিক্রম করছি। এটাকে মাথায় নিয়ে পে স্কেল ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’

কমিশনের সুপারিশে কোনো কাটছাঁট হবে কি না তার সরাসরি জবাব দেননি অর্থমন্ত্রী। পে স্কেল বাস্তবায়নসহ সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায়ে জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

কর্মকর্তারা জানান, পর্যালোচনা শেষ করতে আরো কয়েকটি বৈঠক করবে সচিব কমিটি।

জুলাই অভ্যুত্থানের ২ বছরেও শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি : সাইফুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই অভ্যুত্থানের ২ বছরেও শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি : সাইফুল হক
সংগৃহীত ছবি

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করলেও গত দুই বছরে তাদের বাঁচার অধিকার নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, ছাত্রদের মতো শ্রমিকরা ক্ষমতার ভাগ দাবি করেনি, তারা শুধু অধিকার ও মর্যাদা চেয়েছে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি আয়োজিত ‘২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান ও শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে সভায় তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্যও অবিলম্বে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

সভায় বিএনপির সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, দেশে প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লাখ শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণ হবে না।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিভিন্ন সনদে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার নৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সরকারের রয়েছে। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শ্রমিকদের অধিকারের পক্ষে সংসদে ভূমিকা রাখারও আশ্বাস দেন তিনি।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শ্রমিকরা হয়তো ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন, কিন্তু গত দুই বছরে শোষণ-বৈষম্য আরো বেড়েছে। শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ নারী। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে অভ্যুত্থান, ভোট ও গণতন্ত্র, সবই অর্থহীন হয়ে পড়বে।

শ্রমিক নেতা মাহমুদ হোসেন শ্রমিকদের অধিকারসংক্রান্ত ১৫ দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, এসব ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা আরও সংকটের মুখে পড়বে।

শ্রমিকনেতা ফিরোজ আলীর সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, বিএনপির সহ-শ্রমবিষয়ক সহসম্পাদক ফিরোজ আল মামুন মোল্লা, নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মাস্টার, সরকারি প্রিন্টিং শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি লোকমান হোসেন, শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ আলী, চুন্নু সিকদার প্রমুখ।