পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শিগগির তিনি পদত্যাগ করবেন বলে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একজন কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘নিশ্চিত তিনি যাচ্ছেন, সময় কম।’
বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের পোস্ট ঘিরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন চলছে। তবে ভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি।
ওই পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।’
বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে তার সুবিধাজনক সময়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। পদত্যাগের জন্য তার হাতে সময়ও খুব কম বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।
সূত্র আরো জানায়, পদত্যাগের পর তিনি কিছু দিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন। রাষ্ট্রতি পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি প্রায়ই বলেন, ‘শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, যে কোনো সময় যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারি।’
আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘পদত্যাগের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। তবে এখনও পদত্যাগের তারিখ ঠিক হয়নি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে পদত্যাগপত্র যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমা দেবেন।’
জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার পতনের সময় থেকে জামায়াত-এনসিপি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতাও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পক্ষে ছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া না চালিয়ে সম্মানজনকভাবে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ ছিল।
২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণ, রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে অভিভাবকত্ব প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী দেশে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন এবং নতুন সরকারকে শপথ পাঠ করান।










