ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, সৌদি আরবের ওপর ঘোষিত নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে তারা দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় তেল পরিবহন ইতিমধ্যে চাপের মুখে রয়েছে।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তারা বুধবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালিয়েছে। এটি টানা ১২তম রাতের মার্কিন হামলা। ইয়েমেনভিত্তিক হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। সোমবার তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের পক্ষ থেকে চলমান সংকটে চাপ বাড়ানো ও দর কষাকষির কৌশলের অংশ হতে পারে। লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের ওপর নতুন হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই ইরানের হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
এমন পরিস্থিতিতে এই সংঘাত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
বুধবার বাব এল-মানদেব প্রণালি এড়াতে লোহিত সাগরে চলাচলরত পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার তাদের রুট পরিবর্তন করেছে। এর আগে মঙ্গলবার চীন ও ভারতের উদ্দেশে সৌদি তেল বহনকারী তিনটি ট্যাংকারও মাঝপথ থেকে ফিরে যায়।
হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরে এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি সৌদি তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, এনসেলিয়া ট্যাংকারটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। তবে লায়লা ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এনসেলিয়া বুধবার গভীর রাতে বিপদ সংকেত পাঠিয়ে জানায় যে সৌদি বন্দর জিজানের কাছে লোহিত সাগরে এটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল সৌদি তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে। তবে বাব এল-মানদেব প্রণালিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে সুয়েজ খালের উত্তর দিকের রুটই একমাত্র বিকল্প থাকবে, যা পরিবহন সময় কয়েক সপ্তাহ এবং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।





