• ই-পেপার

প্রতিশোধের আগুন ২৩ বছরেও নেভে না!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বিল পাস

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বিল পাস
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বুধবার অল্প ব্যবধানে একটি বড় প্রতিরক্ষা নীতি বিল পাস করেছে। ডেমোক্র্যাটরা বিলটির বিপুল ব্যয়, ইরান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে পেন্টাগনের সম্পর্ক আরো জোরদারের কিছু বিধান নিয়ে আপত্তি জানালেও বিলটি অনুমোদন পেয়েছে।

২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (এনডিএএ) অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য রেকর্ড ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২১৬-২১২ ভোটে পাস হয়। ভোটাভুটি মূলত দলীয় লাইনে হয়েছে। সাতজন রিপাবলিকান ছাড়া বাকি সবাই বিলটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ছয়জন ডেমোক্র্যাট ছাড়া দলের প্রায় সবাই বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন।

ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর সময় পেন্টাগনের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ যৌক্তিক নয়। তারা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধেরও বিরোধিতা করছেন। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

রিপাবলিকানদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনা এবং সেনাসদস্যদের বেতন বাড়ানোর জন্য এই বিপুল ব্যয় প্রয়োজন। বিলটিতে সৈন্যদের জন্য সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, নতুন ব্যারাক এবং পারিবারিক আবাসন নির্মাণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তবে ডেমোক্র্যাটরা বিলটির একটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করবে।

তাদের মতে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার কারণে অনেক মার্কিন নাগরিক, বিশেষ করে বামপন্থীরা, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমানোর দাবি জানাচ্ছেন। 

এদিকে কংগ্রেসে দীর্ঘদিন ধরে সহজেই পাস হওয়া এই ‘অবশ্যই পাসযোগ্য’ প্রতিরক্ষা বিলটি ২০২৬ সালে অনুমোদন পেতে আগের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মার্কিন জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (এনডিএএ) দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসে ‘অবশ্যই পাসযোগ্য’ বিল হিসেবে পরিচিত। গত ৬৫ বছর ধরে এটি নিয়মিতভাবে কংগ্রেসে পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে।

তবে এবার বিলটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সামরিক বাজেটের বিশাল আকার, ইরান যুদ্ধ, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা এবং ট্রান্সজেন্ডার সেনাসদস্যদের অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে। পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে, কারণ রিপাবলিকানরা বিলটির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ যুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। 

এই আইনটি ভোটদানের নিয়ম আরো কঠোর করার প্রস্তাব দেয়। তবে সিনেটে এটি পাসের জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন না থাকায় এনডিএএ-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা এনডিএএ-এর সিনেট সংস্করণ আটকে দেন। তবে রিপাবলিকান নেতারা আগস্টের বিরতির আগে বিলটি আবারও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার অঙ্গীকার করেছেন।

এনডিএএ পাসের প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি বছর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট আলাদাভাবে নিজেদের সংস্করণ পাস করে। এরপর উভয় কক্ষের আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা সংস্করণ তৈরি করা হয়, যা আবার প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ভোটের জন্য তোলা হয়। চূড়ান্ত বিলটি কংগ্রেসে পাস হলে তা অনুমোদন বা ভেটোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হবে।

থাইল্যান্ডে সশস্ত্র হামলায় ৫ নিরাপত্তা সদস্য নিহত, আহত ৬ বেসামরিক

অনলাইন ডেস্ক
থাইল্যান্ডে সশস্ত্র হামলায় ৫ নিরাপত্তা সদস্য নিহত, আহত ৬ বেসামরিক
ছবি : রয়টার্স।

থাইল্যান্ডের অশান্ত দক্ষিণাঞ্চলে এক সশস্ত্র হামলায় পাঁচজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত এবং দুই শিশুসহ ছয়জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে নারাথিওয়াত প্রদেশের একটি রাস্তার পাশের চেকপয়েন্টে প্রায় ১০ জন হামলাকারী হামলা চালায়। 

তারা পিকআপ ট্রাক ও মোটরসাইকেলে করে এসে সামরিক অস্ত্র ও পাইপ বোমা ব্যবহার করে আক্রমণ করে। হামলায় পাঁচজন আধাসামরিক সেনা নিহত হন। আহতদের মধ্যে তিন বছর বয়সী এক মেয়ে ও ১০ বছর বয়সী এক ছেলেও রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারীরা পালানোর আগে চেকপয়েন্ট থেকে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, তিনটি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে হামলাস্থল থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে হামলায় ব্যবহৃত পিকআপ ট্রাকটি পুড়িয়ে ফেলা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে থাই সরকার ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে নিন্দা করেছে। 

সরকারের মতে, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি এবং চলমান শান্তি প্রচেষ্টার জন্য বাধা। মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ চলছে। প্রধানত মুসলিম মালয় অধ্যুষিত পাতানি, ইয়ালা, নারাথিওয়াত এবং সোংখলার কিছু অংশে এই সংঘাত কেন্দ্রীভূত।

সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা ডিপ সাউথ ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে চলমান সহিংসতায় সাত হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় ২০১৩ সালে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

তবে থাই সরকার সম্প্রতি প্রধান বিদ্রোহী গোষ্ঠী বারিসান রেভোলুসি ন্যাসিওনাল (বিআরএন)-এর সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার অঙ্গীকার করেছে। বিআরএনও সম্প্রতি জানিয়েছে, সংঘাত সমাধানের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো সংলাপ।


 

লোহিত সাগরে ২ সৌদি তেল ট্যাংকারে হামলা, দাবি হুতিদের

অনলাইন ডেস্ক
লোহিত সাগরে ২ সৌদি তেল ট্যাংকারে হামলা, দাবি হুতিদের
ছবি : রয়টার্স

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, সৌদি আরবের ওপর ঘোষিত নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে তারা দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় তেল পরিবহন ইতিমধ্যে চাপের মুখে রয়েছে।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তারা বুধবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালিয়েছে। এটি টানা ১২তম রাতের মার্কিন হামলা। ইয়েমেনভিত্তিক হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। সোমবার তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের পক্ষ থেকে চলমান সংকটে চাপ বাড়ানো ও দর কষাকষির কৌশলের অংশ হতে পারে। লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের ওপর নতুন হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই ইরানের হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

এমন পরিস্থিতিতে এই সংঘাত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

বুধবার বাব এল-মানদেব প্রণালি এড়াতে লোহিত সাগরে চলাচলরত পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার তাদের রুট পরিবর্তন করেছে। এর আগে মঙ্গলবার চীন ও ভারতের উদ্দেশে সৌদি তেল বহনকারী তিনটি ট্যাংকারও মাঝপথ থেকে ফিরে যায়।

হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরে এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি সৌদি তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, এনসেলিয়া ট্যাংকারটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। তবে লায়লা ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এনসেলিয়া বুধবার গভীর রাতে বিপদ সংকেত পাঠিয়ে জানায় যে সৌদি বন্দর জিজানের কাছে লোহিত সাগরে এটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল সৌদি তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে। তবে বাব এল-মানদেব প্রণালিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে সুয়েজ খালের উত্তর দিকের রুটই একমাত্র বিকল্প থাকবে, যা পরিবহন সময় কয়েক সপ্তাহ এবং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।
 

সামাজিক মাধ্যম আসক্তি

মেটার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করল কিশোর

অনলাইন ডেস্ক
মেটার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করল কিশোর
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আসক্তি ও ক্ষতির অভিযোগ তুলে মেটার বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিয়েছে ফ্লোরিডার এক কিশোর। ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর দাবি করেছিল, ইনস্টাগ্রামসহ মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে গিয়ে সে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং এর কারণে তার মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি হয়েছে।

আদালতের নথিতে ওই কিশোরের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাকে আর.কে.সি. নামে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে একই ধরনের অভিযোগে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের বিরুদ্ধেও করা মামলা মীমাংসা করে সে। শিশুদের জন্য ক্ষতিকর ও অতিরিক্ত আসক্তি তৈরি করে—এমন অভিযোগে বড় একটি মামলার অংশ হিসেবেই এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। আর.কে.সি.-র মামলার শুনানি আগামী সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জুরির সামনে শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর আগে একই ধরনের একটি বিচার প্রক্রিয়ায় মেটা ও ইউটিউব পরাজিত হয়েছিল। মেটার এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি ছিল না। তিনি বলেন, এই ফলাফল দেখিয়েছে যে ভিত্তিহীন মামলার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে মেটা পিছিয়ে যাবে না।

অন্যদিকে, আর.কে.সি.-র আইনজীবী এমিলি জেফকট ও রাহুল রাভিপুদি বলেন, এই মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং তরুণদের সুরক্ষায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা। তারা বলেন, আর.কে.সি. সেই লক্ষ্য অর্জন করেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে এমন জুরি বিচারের চাপের কারণে সে এখন এই অধ্যায় শেষ করতে চায়। নিজের সুস্থতার দিকে মনোযোগ দিতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সে চিকিৎসা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। মেটার মুখপাত্র জানান, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আর.কে.সি.-কে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি।

আর.কে.সি.-র অভিযোগ ছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু জনপ্রিয় ফিচার—যেমন শেষ না হওয়া স্ক্রল ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট চালু হওয়া—ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখে। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী বারবার ফিরে আসতে বাধ্য হন এবং একপর্যায়ে তা আসক্তিতে পরিণত হতে পারে। সে আরো দাবি করেছিল, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কারণে তার উদ্বেগ বেড়েছে, ঘুমের সমস্যা হয়েছে এবং আরো নানা মানসিক ও ব্যক্তিগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে এক তরুণী মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার প্রাথমিক বিচারে জুরি সিদ্ধান্ত দেয়, তার মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানই দায়ী।

ওই রায়ে মেটা ও ইউটিউবকে ৬০ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪৪ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কারণে ক্ষতির জন্য কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করার ক্ষেত্রে এটি ছিল প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ রায়গুলোর একটি। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে মেটা ও ইউটিউব আপিল করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আসক্তি ও ক্ষতির অভিযোগে করা শত শত মামলা চলছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি বেছে নিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, পরবর্তী একটি মামলার বিচার আগামী অক্টোবর মাসে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেটা ও অন্যান্য বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কম্পানিগুলোর প্ল্যাটফর্ম শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। গত মে মাসে শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার অভিযোগে করা একটি মামলায় একটি স্কুল জেলার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায় মেটা। ওই স্কুল জেলার অভিযোগ ছিল, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে। তারা ৬ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তবে সমঝোতার অর্থ প্রকাশ করা হয়নি। এর কিছুদিন আগে নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক শিশুদের জন্য নিজেদের প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেন।