• ই-পেপার

থাইল্যান্ডে সশস্ত্র হামলায় ৫ নিরাপত্তা সদস্য নিহত, আহত ৬ বেসামরিক

ভারতে টানেলে বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে টানেলে বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২
ছবি : এক্স থেকে নেওয়া।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিকিম রাজ্যে নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে আরো সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাজ্য সরকার জানিয়েছে।

সোমবার সামারদুং গ্রামের তিস্তা নদীর ওপর রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন (এনএইচপিসি)-এর নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে উদ্ধারকারীরা ১৩  এবং পরে ২০ জনের নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিল। 

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে শিলার মধ্যে আটকে থাকা বা সেখান থেকে নির্গত মিথেন গ্যাসের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর সুড়ঙ্গটি ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে ভরে যায়, ফলে এনএইচপিসির ২৫ জন কর্মী ও কর্মকর্তা সেখানে আটকা পড়েন। 

সিকিম রাজ্য সরকার এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, ‘উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। বিশেষজ্ঞ দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে বাকি নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’ কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল, সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। 

সপ্তাহের শুরুতে কর্মকর্তারা জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে জমে থাকা কাদা ও পানি এবং সম্ভাব্য গ্যাস লিকের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে এনএইচপিসি বুধবার ঘোষণা করেছে, এই দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ ভারতীয় রুপি (প্রায় ৫১৭৮ মার্কিন ডলার) আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে
 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বিল পাস

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বিল পাস
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বুধবার অল্প ব্যবধানে একটি বড় প্রতিরক্ষানীতি বিল পাস করেছে। ডেমোক্র্যাটরা বিলটির বিপুল ব্যয়, ইরান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে পেন্টাগনের সম্পর্ক আরো জোরদারের কিছু বিধান নিয়ে আপত্তি জানালেও বিলটি অনুমোদন পেয়েছে।

২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (এনডিএএ) অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য রেকর্ড ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২১৬-২১২ ভোটে পাস হয়। ভোটাভুটি মূলত দলীয় লাইনে হয়েছে। সাতজন রিপাবলিকান ছাড়া বাকি সবাই বিলটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ছয়জন ডেমোক্র্যাট ছাড়া দলের প্রায় সবাই বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন।

ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর সময় পেন্টাগনের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ যৌক্তিক নয়। তারা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধেরও বিরোধিতা করছেন। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

রিপাবলিকানদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনা এবং সেনাসদস্যদের বেতন বাড়ানোর জন্য এই বিপুল ব্যয় প্রয়োজন। বিলটিতে সৈন্যদের জন্য সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, নতুন ব্যারাক এবং পারিবারিক আবাসন নির্মাণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তবে ডেমোক্র্যাটরা বিলটির একটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করবে।

তাদের মতে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার কারণে অনেক মার্কিন নাগরিক, বিশেষ করে বামপন্থীরা, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমানোর দাবি জানাচ্ছেন। 

এদিকে কংগ্রেসে দীর্ঘদিন ধরে সহজেই পাস হওয়া এই ‘অবশ্যই পাসযোগ্য’ প্রতিরক্ষা বিলটি ২০২৬ সালে অনুমোদন পেতে আগের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মার্কিন জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (এনডিএএ) দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসে ‘অবশ্যই পাসযোগ্য’ বিল হিসেবে পরিচিত। গত ৬৫ বছর ধরে এটি নিয়মিতভাবে কংগ্রেসে পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে।

তবে এবার বিলটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সামরিক বাজেটের বিশাল আকার, ইরান যুদ্ধ, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা এবং ট্রান্সজেন্ডার সেনাসদস্যদের অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে। পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে, কারণ রিপাবলিকানরা বিলটির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ যুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। 

এই আইনটি ভোটদানের নিয়ম আরো কঠোর করার প্রস্তাব দেয়। তবে সিনেটে এটি পাসের জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন না থাকায় এনডিএএ-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা এনডিএএ-এর সিনেট সংস্করণ আটকে দেন। তবে রিপাবলিকান নেতারা আগস্টের বিরতির আগে বিলটি আবারও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার অঙ্গীকার করেছেন।

এনডিএএ পাসের প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবছর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট আলাদাভাবে নিজেদের সংস্করণ পাস করে। এরপর উভয় কক্ষের আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা সংস্করণ তৈরি করা হয়, যা আবার প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ভোটের জন্য তোলা হয়। চূড়ান্ত বিলটি কংগ্রেসে পাস হলে তা অনুমোদন বা ভেটোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হবে।

লোহিত সাগরে ২ সৌদি তেল ট্যাংকারে হামলা, দাবি হুতিদের

অনলাইন ডেস্ক
লোহিত সাগরে ২ সৌদি তেল ট্যাংকারে হামলা, দাবি হুতিদের
ছবি : রয়টার্স

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, সৌদি আরবের ওপর ঘোষিত নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে তারা দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় তেল পরিবহন ইতিমধ্যে চাপের মুখে রয়েছে।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তারা বুধবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালিয়েছে। এটি টানা ১২তম রাতের মার্কিন হামলা। ইয়েমেনভিত্তিক হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। সোমবার তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের পক্ষ থেকে চলমান সংকটে চাপ বাড়ানো ও দর কষাকষির কৌশলের অংশ হতে পারে। লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের ওপর নতুন হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই ইরানের হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

এমন পরিস্থিতিতে এই সংঘাত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

বুধবার বাব এল-মানদেব প্রণালি এড়াতে লোহিত সাগরে চলাচলরত পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার তাদের রুট পরিবর্তন করেছে। এর আগে মঙ্গলবার চীন ও ভারতের উদ্দেশে সৌদি তেল বহনকারী তিনটি ট্যাংকারও মাঝপথ থেকে ফিরে যায়।

হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরে এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি সৌদি তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, এনসেলিয়া ট্যাংকারটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। তবে লায়লা ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এনসেলিয়া বুধবার গভীর রাতে বিপদ সংকেত পাঠিয়ে জানায় যে সৌদি বন্দর জিজানের কাছে লোহিত সাগরে এটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল সৌদি তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে। তবে বাব এল-মানদেব প্রণালিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে সুয়েজ খালের উত্তর দিকের রুটই একমাত্র বিকল্প থাকবে, যা পরিবহন সময় কয়েক সপ্তাহ এবং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।
 

প্রতিশোধের আগুন ২৩ বছরেও নেভে না!

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিশোধের আগুন ২৩ বছরেও নেভে না!
সংগৃহীত ছবি

এ যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। ছেলেবেলায় বাবাকে খুন হতে দেখা বা শোনার স্মৃতি মাথায় নিয়েই বড় হয় কেউ কেউ। বুকে জ্বালিয়ে রাখে প্রতিশোধের আগুন। বড় হয়ে পিতার খুনিকে খুঁজে বের করে প্রতিশোধ নেয়। সিনেমার খুব চেনা গল্প। সিনেমা নয়, বাস্তবে তেমনই এক প্রতিশোধের গল্পের মঞ্চায়ন হলো ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে জেলায়।

পুলিশ গত ১১ জুলাই পুনে জেলার ভোর তহসিলের পুরোনো কাটরাজ সুড়ঙ্গের কাছে সঞ্জয় বাবুরাও কাডু-দেশমুখ নামে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুনে গ্রামীণ পুলিশের লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ প্রযুক্তিগত প্রমাণ ব্যবহার করে মন্থন বৈদ্য এবং সৌরভ পরদেশীকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেন। সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর প্রমোদ ক্ষীরসাগর সোমবার বলেন, ‘উভয়কেই ১৪ জুলাই আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা স্বীকার করেছেন যে মিজান শেখ এবং সন্দীপ কোরি নামে আরো দুই সহযোগীর সাহায্যে তারা কাডু-দেশমুখকে হত্যা করেছেন।’

তবে এমনি এমনি তারা কাডু-দেশমুখকে খুন করেননি। এর কারণ লুকিয়ে আছে ২৩ বছর আগে। ২০০৩ সালে তুচ্ছ বিবাদের জেরে কাডু-দেশমুখ মন্থনের বাবা দিনেশ বৈদ্যকে হত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন মন্থনের বয়স ছিল মাত্র ছয় মাস। অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর চেতন মাচালে জানান, মন্থন বছরের পর বছর ধরে তার বাবা হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন এবং কাডু-দেশমুখকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য অন্য আসামিদের সাথে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তিনি আরো জানান, কাডু-দেশমুখ যখন খুন হন, তখন তিনি অন্য একটি ফৌজদারি মামলায় জামিনে মুক্ত ছিলেন।