• ই-পেপার

বালাইনাশক খাত আধুনিকায়নে ১৯ সদস্যের কমিটি

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো : ডিএমপি কমিশনার

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো : ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই মাসের পর্যবেক্ষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি রাজধানীর অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের নিজস্ব তথ্য-উপাত্তের মিল নেই বলে জানান।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে শাহবাগ থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, টিআইবির প্রতিবেদনে রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা পুলিশের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পুলিশের নিয়মিত অপরাধ পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, অপরাধ দমনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ ও মানসিক সুস্থতার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের চাপ কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের কেউ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে মানসিক চাপে থাকলে তা গোপন না রেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সহায়তা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি পুলিশ সদস্যদের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সমস্যাও অনেক সময় মানসিক চাপের কারণ হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন থানার অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, থানাগুলোর অফিসার্স মেস ও ফোর্স ব্যারাক আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে পুলিশ সদস্যদের জন্য আরও উন্নত কর্মপরিবেশ ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।

শাহবাগ থানা পরিদর্শনের সময় তিনি থানার সার্বিক কার্যক্রম, সেবার মান এবং সদস্যদের কর্মপরিবেশ সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন এবং জনসেবামুখী পুলিশিং আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি চাইলে সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে পারেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি চাইলে সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে পারেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি চাইলে সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে পারেন। স্বাস্থ্যগত অথবা যেকোনো কারণে সেটা করার অপশন আছে। তবে আমরা সেটা জানি না।’

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, ‘গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। ঘটনা যদি হয়, তাহলে আমরা দেখব।’

এ সময় সাংবাদিকরা বলেন, ‘বিষয়টি গুঞ্জন নয়, গণমাধ্যমে এসেছে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাহলে আপনারা রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। আর সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন এবং গুঞ্জন শুনছেন, সেটা আমিও শুনেছি।’

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদ চারণ সাংস্কৃতিককেন্দ্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদ চারণ সাংস্কৃতিককেন্দ্রের
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহের প্রবেশমুখে স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল দাস ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবার এবং ঝিনাইদহের প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে ভাস্কর্য অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকেই উৎসাহিত করবে।

তারা আরো বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন ও ভাস্কর্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে জেলা প্রশাসনের প্রতি ভাস্কর্য অপসারণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বর্তমান স্থানে যানজট ও জনদুর্ভোগ নিরসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে যথাযথ সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

স্পিকারের চিঠি পাওয়ার পর গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা : ইসি

অনলাইন ডেস্ক
স্পিকারের চিঠি পাওয়ার পর গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা : ইসি

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, ‘শুধু রাজনৈতিক দলের চিঠির ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। জাতীয় সংসদের স্পিকারের রেফারেন্স বা আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া গেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানিয়েছেন 

তিনি বলেন, ‘দলের চিঠির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি বিতর্কিত বিষয়। স্পিকার আমাদের কাছে বিষয়টি রেফার করলে বিরোধ (ডিসপিউট) পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এ ধরনের ঘটনায় আইনি দিক ব্যাখ্যা করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, 'দল থেকে বহিষ্কার করলে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার সুযোগ নেই। তবে কোনো সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়। স্পিকার আমাদের রেফার করলে বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া গেলে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, দুপুর পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের বিষয়ে কোনো চিঠি ইসিতে পৌঁছেনি। শুধু দলের বহিষ্কারের চিঠির ভিত্তিতে সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। স্পিকার বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স বা চিঠি পাওয়া গেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের অযোগ্যতার বিষয়ে স্পিকারের রেফারেন্সের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তাই কমিশন স্পিকারের আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে।’

সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন।

এরপর বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় মজলিসে শূরার সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম।