• ই-পেপার

আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রধানের ফোন জব্দ করে এফবিআই-এর তদন্তের গুঞ্জন, যা বলছে এএফএ

পাঁজরের হাড়ে চিড় ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিশ্বকাপে খেলেছেন পারেদেস

ক্রীড়া ডেস্ক
পাঁজরের হাড়ে চিড় ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিশ্বকাপে খেলেছেন পারেদেস
আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ছবি: ফিফা

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে বিতর্কিত নাম লিয়ান্দ্রো পারেদেস। আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফাইনাল শেষে স্পেনের গাভির এক মন্তব্য শুনে মেজাজ হারিয়ে তাকে ধাক্কা মেরে মাঠে ফেলে দেন। সেই ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এখনো চলছে। 

তবে এবার অন্য এক কারণে খবরের শিরোনামে পারেদেস। তিনি নাকি পাঁজরের হাড়ে চিড় ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলেছেন। ইএসপিএনের আর্জেন্টাইন ক্রীড়া সাংবাদিক মার্তিন আরেভালো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। পরে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ ষোলো থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত পারেদেস পাঁজরের চোট নিয়েই মাঠে নামেন। কিছু সময় তার শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। তবে বিশ্বকাপ চলাকালে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। কারণ, প্রতিপক্ষ তার এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারত।

গুরুতর চোট নিয়েও পারেদেস ছিলেন আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের অন্যতম সেরা পারফর্মার। বিশ্বকাপের শুরুতে তিনি একাদশে নিয়মিত ছিলেন না। কিন্তু দলে ভারসাম্য আনতে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে শুরুর একাদশে সুযোগ দেন। তিনিও কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দেন।

Paredes REUTERS
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন পারেদেস। ছবি: রয়টার্স

বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে মোট ৪৭৫ মিনিট খেলেছেন পারেদেস। তার ৫০৯টি পাসের মধ্যে ৪৭৭টি ছিল সফল। সাফল্যের হার ৯৩%। 

এ ছাড়া চারটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন পারেদেস। রক্ষণে ৯টি ট্যাকলের মধ্যে ৮টিতে সফল হন,  ৮টি ইন্টারসেপশন ও ১৩টি ক্লিয়ারেন্স (বল বিপদমুক্ত) করেন। চোটের কারণে মাঝে মাঝে শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও তার পারফরম্যান্সে সেটির কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, পাঁজরের হাড়ে চিড় পুরোপুরি সেরে উঠতে সাধারণত ৩ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগে। এ ধরনের চোটে প্লাস্টার করা যায় না; ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিকভাবে হাড় জোড়া লাগার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। 

ফলে বিশ্বকাপ শেষে নিজ ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের হয়ে কয়েকটি ম্যাচে পারেদেস খেলতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা
ছবি : রয়টার্স

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন জাতীয় দল এবং ফুটবলারদের লক্ষ্য করে চালানো নানামুখী অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর খবরের বিরুদ্ধে অবশেষে চরম কঠোর অবস্থানের কথা জানাল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। খেলোয়াড়দের সুনাম ও সম্মান ক্ষুণ্ন করতে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন তথ্যের বিরুদ্ধে বড় আকারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

প্রখ্যাত ফুটবল দলবদল বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, জাতীয় দল ও ফুটবলের শীর্ষ তারকাদের বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা অভিযোগ, বিকৃত ছবি এবং প্রমানহীন বিভিন্ন দাবির বিরুদ্ধে শিগগিরই মানহানির মামলা ঠুকতে যাচ্ছে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন।

এএফএ জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কেবল মূলধারার বড় বড় সংবাদমাধ্যম বা মিডিয়া আউটলেটই নয়; বরং এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যেসব ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক অ্যাকাউন্ট থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোকে সমানভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই এএফএ-র আইনি দল বিতর্কিত পোস্ট চিহ্নিতকরণ, প্রমান সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নথিবদ্ধ করার কাজ পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে। ফুটবলারদের সম্মানহানি করে বা জাতীয় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আদালতের দরজায় কঠোর আইনি লড়াই চালানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবলের এই সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে যে জার্সি পরে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশের বিপক্ষে যে জার্সি পরে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া দলের নতুন জার্সিতে মিচেল স্টার্ক ও এলিসি পেরি। ছবি: সিএ

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। আগামী আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকেই পুরুষ-নারী উভয় দলের জার্সির পেছনে প্রথমবারের মতো দেখা যাবে স্পন্সর বা পৃষ্ঠপোষকের লোগো। 

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) নতুন স্পন্সরশিপ চুক্তির মাধ্যমে এই পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে, যা দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সিএর সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি আরো সম্প্রসারণ করেছে হোলা হেলথ। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের স্পন্সরশিপ উন্নীত করে ‘গোল্ড পার্টনার’ হয়েছে।

এই চুক্তির ফলে হোলা হেলথের নতুন নকশার লোগো অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়দের জার্সি নম্বরের নিচে থাকবে। এর আগে ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ টি-টোয়েন্টি দলে জার্সির পেছনে পৃষ্ঠপোষকের লোগো দেখা গেলেও এবারই প্রথম টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। 
২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে ক্রিকেট বোর্ডগুলোর আয় কমে গেলে আইসিসি জার্সিতে অতিরিক্ত স্পন্সর প্রদর্শনের অনুমতি দেয়।

প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও একই বছরের শেষ দিকে এটি স্থায়ী করা হয়। এরপর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট জার্সির বুকের অংশে পৃষ্ঠপোষকের লোগো ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে সেই জায়গায় রয়েছে ওয়েস্টপ্যাক

বিশ্ব ক্রিকেটের বেশিরভাগ দেশ জার্সির পেছনে কাঁধের নিচে পৃষ্ঠপোষকের লোগো বসিয়ে তার নিচে খেলোয়াড়ের নাম রাখে। তবে এবার ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশকে অনুসরণ করে খেলোয়াড়ের নম্বরের নিচে স্পন্সরের লোগো রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আন্তর্জাতিক মৌসুম শুরু হবে। এ ম্যাচ দিয়েই মিচেল স্টার্ক-প্যাট কামিন্স-স্টিভেন স্মিথদের নতুন জার্সিতে দেখা যাবে। 

বাংলাদেশ দলের অস্ট্রেলিয়া সফরের সূচি

প্রথম টেস্ট: ১৩-১১৭ আগস্ট, ডারউইন
দ্বিতীয় টেস্ট: ২২-২৬ আগস্ট, ম্যাকাই

অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড

প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), জেক ওয়েদারাল্ড, বিউ ওয়েবস্টার, স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটকিপার), ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, ।

মেসির বক্তব্য ও ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির বক্তব্য ও ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার কোচ
ছবি : রয়টার্স

টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সোনালী সুযোগ একদম হাতের নাগালেই ছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ন্যূনতম লড়াইটুকুও করতে পারেনি আলবিসেলেস্তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি লিওনেল মেসির দল। অতিরিক্ত সময়ে দুটি শট নিলেও তার একটিও অন-টার্গেটে ছিল না। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এমন বিপর্যস্ত পারফরম্যান্সের পর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নানা ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’।

ফাইনালের পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ড্রেসিংরুমের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায়, মাঠে নামার আগে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে মেসি বলছেন, ‘সবাই শান্ত হও। চলো আমরা শান্ত থাকি। শুধু খেলার কথা ভাবি, ঠিক আছে? চলো আমরা অন্য সবকিছু ভুলে যাই, শুধু খেলায় মনোযোগ দিই।’

মেসির এই ‘সবকিছু ভুলে যাই’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় নানামুখী বিতর্ক। কেউ দাবি করছেন, ম্যাচে নামার আগেই দলের ভেতর কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল। আবার কেউ বলছেন, এনজো ফার্নান্দেজের অযথা রেফারির সঙ্গে কথা বলে প্রথম হলুদ কার্ড পাওয়া কিংবা খেলোয়াড়দের গম্ভীর মুখ সবই ছিল এক রহস্যজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত।

তবে এসব জল্পনা-কল্পনা ও ষড়যন্ত্রের গল্পকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো ফ্যাবিয়ান আয়ালা। আর্জেন্টিনাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘এসব কথা আমরা শুনি আর ভাবি—মানুষ কীভাবে এসব বলতে পারে? কারণ এসবের কিছুই ঘটেনি। বরং ঘটেছে ঠিক উল্টোটা।’ 

স্পেনের আধিপত্য স্বীকার করে আয়ালা যোগ করেন, ‘একটি দল আমাদের ছাড়িয়ে গেছে, বিষয়টি এতটুকুই। এর বাইরে কিছু খোঁজার দরকার নেই। আমাদের শুধু মাঠের ফুটবল নিয়েই কথা বলা উচিত, যা সত্যিই ঘটেছে।’

একই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও। নিজ শহর পুজাতোতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব খবরের কোনো অস্তিত্ব নেই। ‘আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখি না। এসব সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই’, বলেন স্কালোনি।

কিন্তু স্কোয়াডের মধ্যে একতা ছিল কি না কিংবা কোনো অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছিল কি না—এমন প্রশ্নে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এই সফল কোচ। লাফিয়ে গাড়ি থেকে বের হয়ে দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না আপনারা কী বলছেন! আমরা একেবারে ভিন্ন পথে হাঁটছি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই ছেলেরা তাদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে, এই জার্সিতে তারা জাত চিনিয়েছে এবং আমাদের সেদিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।’