• ই-পেপার

গরমের অস্বস্তি থেকে বাঁচতে পঠিতব্য দোয়া

পরকালে যে সাত শ্রেণীর মানুষের দিকে আল্লাহ তাকাবেন না

ইসলামী জীবন ডেস্ক
পরকালে যে সাত শ্রেণীর মানুষের দিকে আল্লাহ তাকাবেন না
সংগৃহীত ছবি

এমন কিছু মানুষ আছে, যারা কিয়ামত দিবসে দয়াময় আল্লাহর সুদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে, তিনি তাদের দিকে তাকাবেন না। বরং তিনি তাদের প্রতি রাগান্মিত থাকবেন। ফলে তারা ক্ষমাপ্রপ্তও হবে না। তাদের সংখ্যা অনেক।

১. যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ও শপথকে তুচ্ছ বিনিময়ে বিক্রয় করে : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের কোনো অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুত তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৭৭)

২. উপকার করে খোঁটা দানকারী : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, তিন ধরনের লোক এমন আছে, মহান আল্লাহ যাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, কিয়ামতের দিন তাদের দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আমি (আবু হুরাইরা) বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? ওরা তো ক্ষতিগ্রস্ত! তিনি বলেন, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, ব্যবসার সামগ্রী মিথ্যা শপথ দিয়ে বিক্রয়কারী এবং কাউকে কিছু দান করার পর তার খোঁটা দাতা।’ (মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, হাদিস নম্বর : ২৯৪)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘লুঙ্গির যে পরিমাণ অংশ টাখনুর নিচে থাকবে, ওই পরিমাণ জাহান্নামে যাবে।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৭৮৭)

৩. পোশাকের মাধ্যমে অহংকার ও বড়ত্ব প্রকাশকারী : আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, যে অহংকারবশত পোশাক প্রলম্বিত (ও প্রদর্শিত) করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৮৫৬)

৪. বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক ও অহংকারী দরিদ্র : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণির লোকের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেবেন না। তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তারা হলো, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক ও অহংকারী দরিদ্র।’ (মুসলিম শরিফ, ঈমান অধ্যায়, হাদিস নম্বর : ২৯৬)

বিশেষভাবে তাদের ব্যাপারে উপরোক্ত শাস্তি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করার কারণ সম্পর্কে কাজি ইয়াজ বলেন, ‘তাদের প্রত্যেকের পাপমুক্ত থাকার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। যদিও কোনো পাপীর পাপের অজুহাত গ্রহণীয় নয়; কিন্তু এ কথা বলা যেতে পারে যে ওই পাপ করার ক্ষেত্রে তাদের অতীব প্রয়োজন ছিল না। তা সত্ত্বেও তাদের ওই পাপে লিপ্ত হওয়া আল্লাহর অধিকারকে তুচ্ছ মনে করার শামিল। তাই তাদের জন্য এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

৫. রুকু ও সিজদার মাঝখানে যারা মেরুদণ্ড সোজা করে না : ত্বলাক বিন আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন ওই নামাজির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, যে রুকু ও সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে দাঁড়ায় না।’  (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৫)

৬. মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান, নারী হয়ে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী ও দাইয়ুস : আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তিন ধরনের মানুষের দিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন দৃষ্টিপাত করবেন না। মাতা-পিতার অবাধ্য, পুরুষের সদৃশ অবলম্বনকারী নারী এবং দাইয়ুস। আর তিন প্রকার লোক জান্নাতে যাবে না। মাতা-পিতার অবাধ্য, মদ পানে আসক্ত এবং অনুদানের পর খোঁটাদাতা।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস নম্বর : ৬১১)

মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তানের বিষয়টি স্পষ্ট। কারণ আল্লাহ তাআলা মাতা-পিতার অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি নিজ অধিকারকে তাদের অধিকারের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন এবং তাদের উভয়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার আদেশ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার রব তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ বোলো না এবং তাদের ধমক দিয়ো না। তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বোলো।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)

নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মাতা-পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁদের অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস নং ১৯৬২)

পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী বলতে ওই নারীকে বোঝায়, পোশাক-পরিধানে, চালচলনে, কাজে-কর্মে এবং কথার স্বরে যারা পুরুষের অনুকরণ করে।

আর দাইয়ুস হচ্ছে, যে নিজ পরিবারে অশ্লীলতা প্রশ্রয় দেয়, তাদের সম্ভ্রম রক্ষায় আত্মসম্মানী নয়, সে মানবিকতাহীন, অপুরুষত্ব, অসুস্থ মস্তিষ্ক এবং দুর্বল ঈমানের অধিকারী।

দাইয়ুস ওই ব্যক্তি, যার স্ত্রীর কাছে পর-পুরুষ প্রবেশ করে, অথচ সে কিছুই মনে করে না; বরং চুপ থাকে। ইমাম জাহাবি (রহ.) বলেছেন, ‘দাইয়ুস’ ওই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর অশ্লীল কাজ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু তার প্রতি ভালোবাসার কারণে সে ব্যাপারে উদাসীন থাকে। অথবা তার ওপর তার স্ত্রীর বৃহৎ ঋণ বা অন্য কোনো দুর্বলতার কারণে সে স্ত্রীকে কিছুই বলে না। প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তির আত্মসম্মানবোধ বলতে কিছুই নেই। (ইমাম জাহাবি, কিতাবুল কাবায়ের : ১/৫০)

দাইয়ুস ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দাইয়ুস কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (নাসাঈ, হাদিস : ২৫৬২)

৭. সমকামী : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না, যে ব্যক্তি পুরুষের সঙ্গে কিংবা স্ত্রীর সঙ্গে পায়ুপথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।’ (তিরিমিজি, হাদিস নম্বর : ১১৭৬)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।

যে পাঁচ শ্রেণির মানুষকে কবরে প্রশ্ন করা হবে না

মুফতি ওমর বিন নাছির
যে পাঁচ শ্রেণির মানুষকে কবরে প্রশ্ন করা হবে না
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনের সবচেয়ে নিশ্চিত সত্য হলো মৃত্যু। কিন্তু মৃত্যু কোনো সমাপ্তি নয়; বরং এটি এক নতুন জীবনের সূচনা। দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যবর্তী যে জীবন, তাকে বলা হয় আলমে বরজখ। এখানেই শুরু হবে মানুষের প্রথম হিসাব। কবর হবে হয় জান্নাতের বাগান, নয়তো জাহান্নামের একটি গর্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অতঃপর তোমাদেরকে আমাদের কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৫৭)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কবর হয় জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান, অথবা জাহান্নামের গর্তসমূহের একটি গর্ত।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৬০)
কবরের প্রশ্ন, কবরের নেয়ামত ও শাস্তি—সবই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার অন্তর্ভুক্ত। তবে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহে কবরে কয়েক শ্রেণির সৌভাগ্যবান মানুষকে প্রশ্ন করা হবে না। তারা হলেন— 

১. সীমান্ত পাহারাদার (মুরাবিত)
রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। তিনি মৃত্যুর পরও তার নেক আমলের সওয়াব পেতে থাকেন এবং কবরের পরীক্ষার সম্মুখীন হন না। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সীমান্ত পাহারা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে যে আমল করছিল তা কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য অব্যাহত থাকবে। তার রিজিকও জারি থাকবে, সে কবরের পরীক্ষার ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে এবং কিয়ামতের ভয় থেকেও নিরাপদ অবস্থায় উঠবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৭৬৭)

২. শহিদ
শহিদের মর্যাদা ইসলামে অতুলনীয়। তিনি মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর বিশেষ রহমতের অন্তর্ভুক্ত হন। কবরের প্রশ্ন ও আজাব থেকেও তিনি নিরাপদ থাকবেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘শহিদের মাথার উপর তরবারির ঝলকই তার জন্য কবরের ফিতনা থেকে মুক্তির জন্য যথেষ্ট।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২০৫৩)

৩. পেটের রোগে মৃত্যুবরণকারী
যারা দীর্ঘদিন পেটের কঠিন রোগে ধৈর্যসহকারে কষ্ট ভোগ করে মৃত্যুবরণ করেন, তাদের জন্যও সুসংবাদ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পেটের রোগে মৃত্যুবরণ করবে, তাকে কবরে আজাব দেওয়া হবে না।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১০৬৪)

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) আরো বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া ছাড়াও আরো সাত ধরনের শহিদ রয়েছে—মহামারিতে মৃত্যুবরণকারী, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি, পার্শ্বব্যাধিতে মৃত ব্যক্তি, পেটের রোগে মৃত ব্যক্তি, আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণকারী নারী।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩১১১)
এটি আল্লাহর অসীম দয়ারই প্রকাশ যে, কঠিন রোগে ধৈর্যধারণকারীদের তিনি বিশেষ প্রতিদান দান করেন।

৪. নিয়মিত সুরা মুলক তিলাওয়াতকারী
সুরা মুলককে হাদিসে কবরের শাস্তি থেকে রক্ষাকারী সূরা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সেটি হলো 'তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক'।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৮৯১)

তাই প্রতিদিন বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে সুরা আল-মুলক তিলাওয়াত করার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।

৫. জুমার দিন বা রাতে মৃত্যুবরণকারী
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বরকতময় দিন। এ দিনে মৃত্যুবরণকারীদের ব্যাপারেও বিশেষ সুসংবাদ এসেছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান জুমার দিন অথবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখবেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১০৭৪)

তবে মনে রাখতে হবে, এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের সুসংবাদ। কারো জন্য গুনাহ করার অবকাশ বা নিশ্চিন্ত থাকার কারণ নয়। একজন মুমিনের উচিত সর্বদা তাকওয়া ও নেক আমলের ওপর অবিচল থাকা।

আরো যাদের সম্পর্কে উল্লেখ পাওয়া যায়
আলেমদের আলোচনা ও বিভিন্ন বর্ণনায় নবী-রাসুলগণ, সিদ্দীকগণ, নাবালেগ শিশু এবং শরিয়তের দায়িত্বমুক্ত (যেমন মানসিক ভারসাম্যহীন) ব্যক্তিদের ব্যাপারে কবরের আজাব বা প্রশ্ন থেকে অব্যাহতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সব বর্ণনার মান সমান নয়। তাই এ ক্ষেত্রে সহিহ বর্ণনাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে কথা বলা উচিত।

আমাদের করণীয়

কবরের প্রশ্ন থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা লাভের জন্য শুধু কোনো একটি আমলের ওপর নির্ভর না করে একজন মুসলমানের উচিত—
১. বিশুদ্ধ আকিদা ধারণ করা।
২. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথভাবে আদায় করা।
৩. কোরআন তিলাওয়াত ও আমল করা।
৪. নিয়মিত তাওবা ও ইস্তিগফার করা।
৫. সুরা মুলক পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা।
৬. মানুষের হক আদায় করা।
৭. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নেক আমলে অবিচল থাকা।

কবরের জীবন আখিরাতের প্রথম ধাপ। সেখানে সফলতা অর্জন করতে পারলে পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হবে, আর সেখানে ব্যর্থ হলে পরবর্তী পথ আরো কঠিন হয়ে উঠবে। তাই একজন মুমিনের প্রকৃত প্রস্তুতি হওয়া উচিত দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবন নয়, বরং কবর ও আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের ঈমানের ওপর অটল রাখেন, কবরের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার তাওফিক দান করেন, কবরের শাস্তি থেকে হেফাজত করেন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন। আমিন।

মসজিদে নববীতে চালু হলো ভ্রাম্যমাণ ধর্মীয় সেবাকেন্দ্র

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মসজিদে নববীতে চালু হলো ভ্রাম্যমাণ ধর্মীয় সেবাকেন্দ্র
সংগৃহীত ছবি

মসজিদে নববীতে আগত মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের ধর্মীয় সেবা আরো সহজ ও মানসম্মত করতে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববীর ধর্মবিষয়ক প্রেসিডেন্সি। গত মঙ্গলবার মসজিদে নববীতে ভ্রাম্যমাণ ধর্মীয় সেবাকেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববীর ধর্মবিষয়ক সভাপতি শেখ ড. আবদুল রহমান বিন আবদুল আজিজ আস-সুদাইস।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ সুদাইস বলেন, এই ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ে ধর্মীয় সেবার পরিধি আরো বিস্তৃত করা, মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের কাছে সেবাকে সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের চাহিদার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ ধর্মীয় সেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মসজিদে নববীতে আগত আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্সি এমন একটি সমন্বিত সেবাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যা দর্শনার্থীদের আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি হেদায়েত, সহনশীলতা ও মধ্যপন্থার ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারের মাধ্যমে নবীর মসজিদের বিশ্বজনীন বার্তা আরো সুদৃঢ় করবে।

নতুন এই ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় ও দিকনির্দেশনামূলক সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে শরিয়াহসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান, ধর্মীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা, ইসলামী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন ভাষায় শিক্ষামূলক ও জ্ঞানবর্ধক বই-পুস্তিকা ও তথ্যসামগ্রী বিতরণ। বহুজাতিক মুসল্লিদের কথা বিবেচনায় রেখে কেন্দটি এমনভাবে পরিচালিত হবে, যাতে বিভিন্ন ভাষাভাষী দর্শনার্থীরাও সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

ধর্মবিষয়ক প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, আল্লাহর মেহমানদের সেবাকে আরো উন্নত করা, ধর্মীয় অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করা এবং নবীর মসজিদে প্রদত্ত সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে এটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে হজ ও ওমরাহ পালনকারী এবং মসজিদে নববীর দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক, সহজলভ্য ও মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সমাজে ভারসাম্য বজায় রাখার ৮ নীতিমালা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সমাজে ভারসাম্য বজায় রাখার ৮ নীতিমালা
সংগৃহীত ছবি

পৃথিবীতে মানুষ পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল। পারস্পরিক স্নেহ, মমতা ও সহযোগিতা ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। তাই মানুষের সঙ্গে মানুষের বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ও আচরণই পারস্পরিক এই সম্পর্ক ও তার সৌন্দর্য রক্ষা করে। ইসলাম মানুষকে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় যে নির্দেশনা দিয়েছে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো—

১. নিজের মূল্য ও সীমা জানুন : মুমিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে মূল্যায়ন করবে এবং নিজের সীমা সম্পর্কেও সচেতন থাকবে। সে অন্যকে খুশি করতে নিজের অসম্মান করবে না। আবার নিজের মূল্য রক্ষা করতে গিয়ে অন্যের অসম্মানও করবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুমিনের উচিত নয় নিজেকে অসম্মান করা। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২২৫৪)
অন্য হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, মানুষকে তার মর্যাদা অনুযায়ী স্থান দাও। (রিয়াজুস সালিহিন, হাদিস : ৩৫৬)

২. বিনয়ী হোন, দুর্বল নয় : সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুমিন পরস্পরের প্রতি বিনয়ী আচরণ করবে। এটাই ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহ বলেছেন, ‘রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে।’
(সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৩)
তবে নিজের ক্ষতি ও অসম্মান মেনে নেওয়া বিনয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ক্ষতি কোরো না নিজের বা অন্যের। (বায়হাকি, হাদিস : ১১৭১৭)

৩. প্রয়োজনে ‘না’ বলুন : যে কাজে আপনি সক্ষম নন, যে কাজ আপনার জন্য শোভন নয়, তাতে ‘না’ বলতে শিখুন। যেখানে আল্লাহ আপনাকে সাধ্যাতীত কাজের নির্দেশ দেননি, সেখানে কেন আপনি অন্যের কথায় সাধ্যাতীত বোঝা নিজের ওপর চাপিয়ে নেবেন? ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কারো ওপর এমন কোনো কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না, যা তার সাধ্যাতীত। সে ভালো যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই এবং সে মন্দ যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৮৬)

বিশেষত যখন মানুষের সন্তুষ্টি আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়, তখন কোনো সংকোচ ছাড়াই ‘না’ করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা করে তা মানুষের অসন্তুষ্টি হলেও, মানুষের দুঃখ-কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি মানুষের সন্তুষ্টি আশা করে আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে হলেও, আল্লাহ তাআলা তাকে মানুষের দায়িত্বে ছেড়ে দেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৪)

৪. সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয় : মুমিনকে অবশ্যই একটি বাস্তবতা মনে রাখতে হবে যে সব মানুষকে খুশি করা সম্ভব নয়। বরং সবাইকে খুশি করার মনোভাব মানুষকে বিভ্রান্ত করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তুমি দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষের কথামতো চলো তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা শুধু অনুমানের অনুসরণ করে, আর তারা শুধু অনুমানভিত্তিক কথা বলে।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১১৬)

৫. অপছন্দ হলেই বিরোধিতা নয় : সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও জরুরি। তাই কোনো কিছু অপছন্দ হলে তার বিরোধিতা করা কিংবা কেউ কষ্ট দিলেই প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠা বুদ্ধিমানের কাজ নয়; বরং কখনো কখনো ধৈর্য, সহনশীলতা ও ক্ষমা সম্পর্কের ধরন পাল্টে দেয় এবং সুফল বয়ে আনে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত করো উত্কৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সঙ্গে যার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো।’ (সুরা : হা-মিম-সাজদা, আয়াত : ৩৪)

৬. সুধারণা রাখুন, অন্ধবিশ্বাস নয় : ইসলাম মানুষের প্রতি সুধারণা রাখতে বলে এবং অহেতুক মন্দ ধারণা পোষণ করতে নিষেধ করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা অধিক পরিমাণ ধারণা পোষণ থেকে দূরে থাকো। কেননা ধারণা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)

তবে সুধারণার কারণে মুমিন কারো প্রতি অন্ধবিশ্বাস পোষণ করবে না; বিশেষত কারো থেকে মন্দ প্রবণতা প্রকাশের পর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিন একই গর্তে দুইবার দংশিত হয় না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১৩৩)

৭. সম্পর্ক অনিবার্য নয় : আল্লাহ যে সম্পর্ক রক্ষা করা আবশ্যক করেননি, এমন কোনো সম্পর্ক অনিবার্য নয়। তাই যখন কোনো সঙ্গী থেকে মন্দ কথা, কাজ ও প্রবণতা প্রকাশ পাবে, তখন তাকে পরিহার করতে বিলম্ব করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ তার বন্ধুর আদর্শে পরিচালিত হয়, সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন ভেবে দেখে কাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করছে।
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৩৩)

৮. সম্পর্কে মধ্যপন্থা অবলম্বন : সম্পর্ক ও ব্যক্তিত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সবকিছুতে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। সম্পর্ক, সম্মান, আবেগ, প্রত্যাশা, হতাশা, এমনকি বিরোধিতার ক্ষেত্রেও মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, যেন প্রয়োজনে সম্পর্কের ডানে বা বাঁয়ে মোড় নেওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি চলাফেরায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো। নিশ্চয়ই সুরের মধ্যে গাধার সুরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর।’
(সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৯)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।