• ই-পেপার

বগুড়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

  • পুলিশ হেফাজতে ১ নারী

নারায়ণগঞ্জে বাস থামিয়ে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৪

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে বাস থামিয়ে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৪
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে পরিবহন থামিয়ে চালক-হেলপারদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান।

এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড ও মিজমিজি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন,- সাখাওয়াত হোসেন সৈকত (৪০), সেন্টু (৪০), রবিন (৩৫) ও ইউসুফ (২৬)। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গত ২৬ মে সকালে জামালপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাস সানারপাড় ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা ৭ থেকে ৮ জন দুর্বৃত্ত বাসের গতিরোধ করে। পরে চালক আমিনুল ইসলাম ও হেলপার নজরুল ইসলামকে মারধর করে নগদ ৯ হাজার ৫০০ টাকা, প্রায় ২৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্পেয়ার চাকা, গাড়ির কাগজপত্র এবং একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে কাগজপত্র ফেরত দেওয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে আরো ৬ হাজার টাকা আদায় করে। এ ঘটনায় মালঞ্চ পরিবহনের পরিচালক গোলাম মোস্তফা রানা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ পরিবহন চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জসহ আশপাশের সড়ক ও মহাসড়কে পরিবহন থামিয়ে চালক-হেলপারদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

শিক্ষিকার বাবার বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, চুপ থাকতে ৫০০ টাকা!

পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
শিক্ষিকার বাবার বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, চুপ থাকতে ৫০০ টাকা!
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৩) প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পর তাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষিকার বাবা কামাল উদ্দিনের (৫৫) বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে পিটুনি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) রাতে চরজব্বর থানায় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন। ওই দিন সকালে উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক কামালকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। অভিযুক্ত উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইলিয়াছ সওদাগরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে ভুক্তভোগী তার শিক্ষিকার বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। ছাত্রী শিক্ষিকার ঘরে গিয়ে দেখে তিনি ঘরে নেই। এ সময় শিক্ষিকার বাবা কামাল দরজা খুলে ওই ছাত্রীকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি কাউকে না জানাতে ৫০০ টাকা দিয়ে ওই ছাত্রীকে বিদায় করে দেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাড়ি গিয়ে বিষয়টি স্বজনদের জানায়। একপর্যায়ে একই দিন সন্ধ্যায় এলাকাবাসী কামালকে আটক করে পিটুনি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

চরজব্বর থানার ওসি রফিকুল হাসান বলেন, ‘নির্যাতিত ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। শারীরিক ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট আটক, ল্যাপটপ-স্মার্টফোন জব্দ

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট আটক, ল্যাপটপ-স্মার্টফোন জব্দ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার নওপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আরিফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১২।

বুধবার রাত ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, দুটি স্মার্টফোন, চারটি সিমকার্ড এবং নগদ ১ হাজার ৯৭০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

র‍্যাব-১২, সিপিসি-৩, মেহেরপুর ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ওয়ান এক্স বেট, ওয়ান এক্স পার্টনারস, মেইলবেটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রলোভনমূলক প্রচারণা ও রেফারেল লিংকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাব আরো জানায়, অভিযান চলার সময় তার শয়নকক্ষ থেকে জুয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, দুটি স্মার্টফোন, চারটি সিমকার্ড এবং নগদ ১ হাজার ৯৭০ টাকা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অনলাইন জুয়া পরিচালনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানায় র‍্যাব।

এ ঘটনায় গাংনী থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৬, ১৭, ১৯ (১) ও ২৫ ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে।

অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে তা আরো জোরদার করা হবে বলেও র‌্যাব ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান ভ্রমণে ৮ নির্দেশনা

আঞ্চলিক (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান ভ্রমণে ৮ নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

পিরোজপুরের নেছারাবাদে ঐতিহ্যবাহী আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য ৮ নির্দেশনা দেওয়া হয়ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনগণের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান একটি প্রাকৃতিক ও পরিবেশ-সংবেদনশীল এলাকা। তাই এই এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটন পরিবেশ সুরক্ষায় সকল পর্যটককে নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাগান এলাকায় কোনো ধরনের লাউড স্পিকার, সাউন্ড সিস্টেম বা উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উচ্চ শব্দ পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয় জনজীবন ও বন্যপ্রাণীর জন্যও ক্ষতিকর বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সী পর্যটক এই এলাকায় ভ্রমণে আসেন। তাই সবাইকে শালীনতা বজায় রেখে চলাফেরা করতে হবে। অনুমতি ছাড়া বাগানে প্রবেশ, পেয়ারা, আমড়া বা গাছের পাতা ছেঁড়া এবং যত্রতত্র নৌযান ভিড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বড় আকারের ট্রলার বা উচ্চ শব্দযুক্ত ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে বাগানে প্রবেশ করা যাবে না। এর পরিবর্তে ছোট বা মাঝারি আকারের নৌযান ব্যবহার করতে পর্যটকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে পানিপথে ভিড় কমে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।

পরিবেশ দূষণ রোধে পর্যটকদের সঙ্গে আনা খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ, পলিথিন, প্লাস্টিক কিংবা অন্য কোনো বর্জ্য পানিতে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি নৌযানে অন্তত একটি করে ডাস্টবিন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রতিটি ট্রলার বা নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র। এর পরিবেশ, সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক, নৌযান চালক এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকলের সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই এই প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব।