• ই-পেপার

পিএসজির বড় তারকাকে চায় সৌদি

স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবি, অনলাইনে হাজারো ভক্তের স্বাক্ষর

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবি, অনলাইনে হাজারো ভক্তের স্বাক্ষর
ছবি : রয়টার্স

গত ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইনদের স্তব্ধ করে ১-০ গোলের জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরে স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী মহারণে জয়ী দলের নাম চূড়ান্ত হয়ে গেলেও ফাইনাল ম্যাচটি ঘিরে আর্জেন্টিনা ভক্তদের হতাশা কমছে না। বিশেষ করে রেফারিংয়ের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবি তুলেছেন হাজার হাজার সমর্থক। এই লক্ষ্যে চালু হওয়া এক অনলাইন পিটিশনে ইতোমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন ৬১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফুটবলপ্রেমী।

‘চেঞ্জ ডট ওআরজি’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই আবেদনটি শুরু করেছেন গিসেলা সানচেজ নামে এক আর্জেন্টাইন সমর্থক। সেখানে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে ফাইনাল পরিচালনা করা স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিস ও ভিএআরের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানানো হয়।

আবেদনকারীর মতে, ম্যাচের গতিপ্রকৃতি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিতে কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত বেশ প্রভাব ফেলেছিল। যদিও এসব দাবির পক্ষে শক্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। তারপরও নিরপেক্ষতার স্বার্থে ফিফাকে ম্যাচটি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ভক্তরা।

তবে আইনি ও বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ মানুষের এমন ক্যাম্পেইনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কার্যকারিতা নেই। খেলা পুনরায় আয়োজনের মতো বিরল ঘটনা কেবল ক্রীড়া আদালতের সুনির্দিষ্ট আইন বা আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে।

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে অবশ্য এ ধরনের কান্ড এবারই প্রথম নয়। এর আগে সেমিফাইনালে স্পেনের একটি পেনাল্টি পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফ্রান্সের প্রায় ৮২ হাজার সমর্থক ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবিতে অনলাইনে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন। তবে ফিফার কাছ থেকে সেটিরও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, ১৯ জুলাইয়ের টানটান উত্তেজনার ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিট আর্জেন্টিনা অগোছালো খেলার পর অতিরিক্ত সময়ের গোলে জয় পায় স্পেন। তোরেসের সেই এক গোলেই নিশ্চিত হয় স্প্যানিশদের সোনালী ট্রফি। পরাজয়ের পর বুয়েন্স আয়ার্সের রাস্তায় রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের হাতাহাতির অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও, প্রিয় দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলে উপহার দেওয়ায় লিওনেল মেসিদের ভালোবাসায় ভাসাতে ভুলেননি সাধারণ আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্তরা। 
 

সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন না ইবাদত

ক্রীড়া ডেস্ক
সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন না ইবাদত
বাংলাদেশ দলের পেসার ইবাদত হোসেন। ছবি: ফেসবুক

অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য বাংলাদেশ দলকে ব্যাকুলভাবে অপেক্ষা করতে হয়। সেই সুযোগটা অবশেষে আবার আসতে চলেছে।

সব ঠিক থাকলে আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ। প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্ক-স্টিভেন স্মিথদের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ।

তবে দলে জায়গা পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত হলেও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন না ইবাদত হোসেন। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ চলাকালে প্রথমবারের মতো বাবা হবেন ইবাদত। সন্তান জন্মদানের সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে অস্ট্রেলিয়ায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের এই দীর্ঘদেহী পেসার। 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক কর্মকর্তা ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানকে বলেছেন, ‘তাকে (ইবাদত) অস্ট্রেলিয়া সফরে পাওয়া যাবে না। তিনি ইতিমধ্যেই ছুটির আবেদন করেছেন।’

Ebadot
বোলিং অনুশীলনে ইবাদত হোসেন। ছবি: ফেসবুক 

এ ছাড়া বাংলাদেশ দলের আলোচিত ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার চোটের সর্বশেষ অবস্থা জানার অপেক্ষায় আছে বিসিবি। জিম্বাবুয়ে সফরে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বোলিংয়ের সময় পেশিতে টান পড়লে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন নাহিদ। শেষ টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারেননি তিনি। 

গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) নাহিদের স্ক্যান করানো হয়েছে। বিসিবির চিকিৎসা বিভাগ স্ক্যান রিপোর্ট আজই হাতে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 
বোর্ড কর্মকর্তা ডেইলি সানকে বলেছেন, ‘সাধারণত এ ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে। আশা করছি সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাকে (নাহিদ) পাওয়া যাবে।’

আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের সিরিজ। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল।

পাঁজরের হাড়ে চিড় ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিশ্বকাপে খেলেছেন পারেদেস

ক্রীড়া ডেস্ক
পাঁজরের হাড়ে চিড় ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিশ্বকাপে খেলেছেন পারেদেস
আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ছবি: ফিফা

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে বিতর্কিত নাম লিয়ান্দ্রো পারেদেস। আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফাইনাল শেষে স্পেনের গাভির এক মন্তব্য শুনে মেজাজ হারিয়ে তাকে ধাক্কা মেরে মাঠে ফেলে দেন। সেই ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এখনো চলছে। 

তবে এবার অন্য এক কারণে খবরের শিরোনামে পারেদেস। তিনি নাকি পাঁজরের হাড়ে চিড় ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলেছেন। ইএসপিএনের আর্জেন্টাইন ক্রীড়া সাংবাদিক মার্তিন আরেভালো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। পরে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ ষোলো থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত পারেদেস পাঁজরের চোট নিয়েই মাঠে নামেন। কিছু সময় তার শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। তবে বিশ্বকাপ চলাকালে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। কারণ, প্রতিপক্ষ তার এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারত।

গুরুতর চোট নিয়েও পারেদেস ছিলেন আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের অন্যতম সেরা পারফর্মার। বিশ্বকাপের শুরুতে তিনি একাদশে নিয়মিত ছিলেন না। কিন্তু দলে ভারসাম্য আনতে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে শুরুর একাদশে সুযোগ দেন। তিনিও কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দেন।

Paredes REUTERS
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন পারেদেস। ছবি: রয়টার্স

বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে মোট ৪৭৫ মিনিট খেলেছেন পারেদেস। তার ৫০৯টি পাসের মধ্যে ৪৭৭টি ছিল সফল। সাফল্যের হার ৯৩%। 

এ ছাড়া চারটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন পারেদেস। রক্ষণে ৯টি ট্যাকলের মধ্যে ৮টিতে সফল হন,  ৮টি ইন্টারসেপশন ও ১৩টি ক্লিয়ারেন্স (বল বিপদমুক্ত) করেন। চোটের কারণে মাঝে মাঝে শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও তার পারফরম্যান্সে সেটির কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, পাঁজরের হাড়ে চিড় পুরোপুরি সেরে উঠতে সাধারণত ৩ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগে। এ ধরনের চোটে প্লাস্টার করা যায় না; ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিকভাবে হাড় জোড়া লাগার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। 

ফলে বিশ্বকাপ শেষে নিজ ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের হয়ে কয়েকটি ম্যাচে পারেদেস খেলতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা
ছবি : রয়টার্স

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন জাতীয় দল এবং ফুটবলারদের লক্ষ্য করে চালানো নানামুখী অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর খবরের বিরুদ্ধে অবশেষে চরম কঠোর অবস্থানের কথা জানাল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। খেলোয়াড়দের সুনাম ও সম্মান ক্ষুণ্ন করতে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন তথ্যের বিরুদ্ধে বড় আকারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

প্রখ্যাত ফুটবল দলবদল বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, জাতীয় দল ও ফুটবলের শীর্ষ তারকাদের বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা অভিযোগ, বিকৃত ছবি এবং প্রমানহীন বিভিন্ন দাবির বিরুদ্ধে শিগগিরই মানহানির মামলা ঠুকতে যাচ্ছে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন।

এএফএ জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কেবল মূলধারার বড় বড় সংবাদমাধ্যম বা মিডিয়া আউটলেটই নয়; বরং এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যেসব ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক অ্যাকাউন্ট থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোকে সমানভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই এএফএ-র আইনি দল বিতর্কিত পোস্ট চিহ্নিতকরণ, প্রমান সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নথিবদ্ধ করার কাজ পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে। ফুটবলারদের সম্মানহানি করে বা জাতীয় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আদালতের দরজায় কঠোর আইনি লড়াই চালানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবলের এই সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা।